বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রতিবন্ধকতা ও সমাধানের উপায়
jugantor
বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রতিবন্ধকতা ও সমাধানের উপায়

  রাশেদুল ইসলাম  

১৭ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, যে দেশে প্রায় ২৬ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করছেন। বিগত অর্থবছরে বিদেশ থেকে দেশে রেমিট্যান্স গেছে প্রায় ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে সৌদি প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে অবস্থানরত সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশির তুলনায় এই রেমিট্যান্স খুবই নগণ্য।

সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স কম আসার পেছনে মূলত কারণ হচ্ছে, সৌদি প্রবাসীদের আয়ের একটা বিশাল অংশ যায় অবৈধ পথে বা হুন্ডির মাধ্যমে, যা রেমিট্যান্স হিসাবে গণ্য হয় না। সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংখ্যা ২৬ লাখ হলেও এর মধ্যে রয়েছে বিপুলসংখ্যক অসচেতন প্রবাসী, যারা দীর্ঘ সময় ধরে প্রবাসে অবস্থান করলেও বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণ ও অবৈধ পথে অর্থ প্রেরণের পার্থক্য বুঝেন না। অন্যভাবে বলতে গেলে বলা যায়, প্রবাসীদের এ পার্থক্য বোঝাতে সংশ্লিষ্টরা ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে হুন্ডি কিংবা অবৈধ পথে অর্থ প্রেরণ সহজ মনে করায় তারা অবৈধ পথে অর্থ প্রেরণের দিকেই ঝুঁকছে।

প্রধান কারণ হলো, প্রবাসীরা ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণে ভয় পান। এছাড়া আমাদের দেশের ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা না থাকায় অনেক প্রবাসী সরাসরি ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে জড়িত নন। প্রবাসীদের অবশ্যই বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেবার অওতায় আনতে হবে এবং তাদের জন্য ব্যাংকিং সেবা সহজ করে দিতে হবে। এ ছাড়া বিদেশ আসার আগে যে তিন দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, সেখানে ব্যাংকিং সেবা নিয়ে আলোচনা এবং সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া যেতে পারে।

এর বাইরে অন্য একটি সমস্যা হচ্ছে, সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে একটা বিরাট অংশ বৈধ কাগজপত্র করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে চাইলেও তারা বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণ করতে পারে না। কারণ, বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণ করতে বৈধভাবে থাকার কাগজপত্র বাধ্যতামূলক। আর তাই অবৈধভাবে অবস্থানরত প্রবাসীদের বৈধ কাগজপত্র তৈরির জন্য দূতাবাসকে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা ও সহযোগিতামূলক কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রবাসীদের মধ্যে এই বার্তা সুন্দরভাবে পৌঁছাতে হবে, বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণে সুবিধা কী? এ বার্তা পৌঁছানোর জন্য সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আমাদের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় দায়িত্ব নিয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাতে পারে।

রিয়াদ সিটি, সৌদি আরব

বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রতিবন্ধকতা ও সমাধানের উপায়

 রাশেদুল ইসলাম 
১৭ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, যে দেশে প্রায় ২৬ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করছেন। বিগত অর্থবছরে বিদেশ থেকে দেশে রেমিট্যান্স গেছে প্রায় ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে সৌদি প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে অবস্থানরত সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশির তুলনায় এই রেমিট্যান্স খুবই নগণ্য।

সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স কম আসার পেছনে মূলত কারণ হচ্ছে, সৌদি প্রবাসীদের আয়ের একটা বিশাল অংশ যায় অবৈধ পথে বা হুন্ডির মাধ্যমে, যা রেমিট্যান্স হিসাবে গণ্য হয় না। সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংখ্যা ২৬ লাখ হলেও এর মধ্যে রয়েছে বিপুলসংখ্যক অসচেতন প্রবাসী, যারা দীর্ঘ সময় ধরে প্রবাসে অবস্থান করলেও বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণ ও অবৈধ পথে অর্থ প্রেরণের পার্থক্য বুঝেন না। অন্যভাবে বলতে গেলে বলা যায়, প্রবাসীদের এ পার্থক্য বোঝাতে সংশ্লিষ্টরা ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে হুন্ডি কিংবা অবৈধ পথে অর্থ প্রেরণ সহজ মনে করায় তারা অবৈধ পথে অর্থ প্রেরণের দিকেই ঝুঁকছে।

প্রধান কারণ হলো, প্রবাসীরা ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণে ভয় পান। এছাড়া আমাদের দেশের ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা না থাকায় অনেক প্রবাসী সরাসরি ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে জড়িত নন। প্রবাসীদের অবশ্যই বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেবার অওতায় আনতে হবে এবং তাদের জন্য ব্যাংকিং সেবা সহজ করে দিতে হবে। এ ছাড়া বিদেশ আসার আগে যে তিন দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, সেখানে ব্যাংকিং সেবা নিয়ে আলোচনা এবং সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া যেতে পারে।

এর বাইরে অন্য একটি সমস্যা হচ্ছে, সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে একটা বিরাট অংশ বৈধ কাগজপত্র করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে চাইলেও তারা বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণ করতে পারে না। কারণ, বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণ করতে বৈধভাবে থাকার কাগজপত্র বাধ্যতামূলক। আর তাই অবৈধভাবে অবস্থানরত প্রবাসীদের বৈধ কাগজপত্র তৈরির জন্য দূতাবাসকে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা ও সহযোগিতামূলক কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রবাসীদের মধ্যে এই বার্তা সুন্দরভাবে পৌঁছাতে হবে, বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণে সুবিধা কী? এ বার্তা পৌঁছানোর জন্য সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আমাদের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় দায়িত্ব নিয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাতে পারে।

রিয়াদ সিটি, সৌদি আরব

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন