কোচিং ও নোটবইয়ের কাছে আত্মসমর্পণ
jugantor
কোচিং ও নোটবইয়ের কাছে আত্মসমর্পণ

  আবু আফজাল সালেহ  

১৭ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ ১১ বছর টানাহেঁচড়ার পর কোচিং ও নোটবই ব্যবসায়ীদের কাছে নতি স্বীকার করে শিক্ষা আইন জারির প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের খসড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের বাইরে শিক্ষকদের কোচিং-প্রাইভেটের সুযোগ রাখা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট টিউশনের মাধ্যমে পাঠদানের জন্য কোচিং সেন্টার পরিচালনা বা কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করা নিষিদ্ধ বলে গণ্য হবে না। তবে কোচিং সেন্টারে কোনো শিক্ষক তার নিজ প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীকে পাঠদান করতে পারবে না। এমনকি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। অপরদিকে কোচিং চালাতে গেলে সেই প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন নিতে হবে। তবে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে ও অভিভাবকদের সম্মতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রমের বাইরের সময় অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা যাবে। অবশ্য এ বিষয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশ রয়েছে। ২০১১ সাল থেকে শিক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে আলোচন চলছে। অভিযোগ আছে, নোট-গাইড বা সহায়ক বই এবং কোচিং-প্রাইভেটের মতো কিছু রাখা-না-রাখা নিয়েই আইনের খসড়াটি বছরের পর বছর ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে। অবশেষে শিক্ষা আইনের খসড়া প্রণয়ন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যারা প্রাইভেট-কোচিং ও নোটবইয়ের ভূত শিক্ষার্থীদের ঘাড় থেকে নামানোর পক্ষে তারা প্রস্তাবিত আইনকে অগ্রহণযোগ্য বলেই মনে করবেন। কারণ শিক্ষা আইন নামক অশ্বডিম্ব প্রসবের মাধ্যমে বছরের পর বছর শিক্ষার্থীদের উপর চেপে বসা প্রাইভেট-কোচিং ও নোট বইয়ের কালচারকে প্রকারান্তরে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। কোচিং ও প্রাইভেটের রাজত্ব বহাল থাকবে নতুন ঢঙে। শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের এসবের যন্ত্রণা থেকে কখনো রেহাই পাবে না।

গৌরীপুর, ময়মনসিংহ

abuafzalsaleh@gmail.com

কোচিং ও নোটবইয়ের কাছে আত্মসমর্পণ

 আবু আফজাল সালেহ 
১৭ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ ১১ বছর টানাহেঁচড়ার পর কোচিং ও নোটবই ব্যবসায়ীদের কাছে নতি স্বীকার করে শিক্ষা আইন জারির প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের খসড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের বাইরে শিক্ষকদের কোচিং-প্রাইভেটের সুযোগ রাখা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট টিউশনের মাধ্যমে পাঠদানের জন্য কোচিং সেন্টার পরিচালনা বা কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করা নিষিদ্ধ বলে গণ্য হবে না। তবে কোচিং সেন্টারে কোনো শিক্ষক তার নিজ প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীকে পাঠদান করতে পারবে না। এমনকি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। অপরদিকে কোচিং চালাতে গেলে সেই প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন নিতে হবে। তবে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে ও অভিভাবকদের সম্মতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রমের বাইরের সময় অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা যাবে। অবশ্য এ বিষয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশ রয়েছে। ২০১১ সাল থেকে শিক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে আলোচন চলছে। অভিযোগ আছে, নোট-গাইড বা সহায়ক বই এবং কোচিং-প্রাইভেটের মতো কিছু রাখা-না-রাখা নিয়েই আইনের খসড়াটি বছরের পর বছর ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে। অবশেষে শিক্ষা আইনের খসড়া প্রণয়ন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যারা প্রাইভেট-কোচিং ও নোটবইয়ের ভূত শিক্ষার্থীদের ঘাড় থেকে নামানোর পক্ষে তারা প্রস্তাবিত আইনকে অগ্রহণযোগ্য বলেই মনে করবেন। কারণ শিক্ষা আইন নামক অশ্বডিম্ব প্রসবের মাধ্যমে বছরের পর বছর শিক্ষার্থীদের উপর চেপে বসা প্রাইভেট-কোচিং ও নোট বইয়ের কালচারকে প্রকারান্তরে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। কোচিং ও প্রাইভেটের রাজত্ব বহাল থাকবে নতুন ঢঙে। শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের এসবের যন্ত্রণা থেকে কখনো রেহাই পাবে না।

গৌরীপুর, ময়মনসিংহ

abuafzalsaleh@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন