ওষুধের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতা দুর্ভোগ চরমে
jugantor
ওষুধের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতা দুর্ভোগ চরমে

  উম্মে কুলসুম কাইফা  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ওষুধ কোনো বিলাসী পণ্য নয়; এটা জীবন রক্ষাকারী উপকরণ। এর ওপর মানুষের জীবন-মরণ নির্ভর করে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতার স্বার্থ রক্ষা করা জরুরি; কিন্তু ২০টি জেনেরিকের মধ্যে ৫৬টি ব্র্যান্ডের ওষুধের দাম বাড়ানোর সংবাদ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। এ দেশের কিছু মানুষের কাছে টাকা উপার্জন এতটাই মুখ্য যে, তারা এর বাইরে আর কিছু ভাবার প্রয়োজন বোধ করে না।

১৯৯৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় বলা হয়, অত্যাবশ্যকীয় তালিকাবহির্ভূত ওষুধের দাম উৎপাদক প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করবে। সে নির্দেশনার বলে ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানগুলো। অথচ ১৯৮২ সালের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশে যে কোনো ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সরকারের ছিল। ৯৪-এর অধ্যাদেশের পর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো ওষুধের দাম ঠিক করে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে জানায়। ওই দাম নির্ধারণ করার যুক্তিও তারা তুলে ধরে। এত বছর ধরে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো যে দাম চাইছে, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর সেই দামেই বিক্রির অনুমতি দিচ্ছে। এ কারণে ওষুধের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি থেকে যাচ্ছে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য তালিকাভুক্ত ১১৭টি ওষুধের দাম বাড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে সরকারের। তার মধ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বহুল ব্যবহৃত ২০টি জেনেরিকের মধ্যে পূর্বঘোষণা ছাড়া শুধু সুপারিশের ভিত্তিতে ৫৬টি ওষুধের দাম বাড়িয়েছে ওষুধ কোম্পানি। উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়াল, পরিবহণ ও ডিস্ট্রিবিউশন ব্যয়, ডলারের বিনিময় মূল্য, মুদ্রাস্ফীতিসহ নানা কারণেই ওষুধ উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। এসব কারণে ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে। দেশে যে কোনো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অতিসাধারণ ও স্বাভাবিক একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোনো বিশেষ কারণে যদি কোনো একটা পণ্যের দাম বাড়ে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেন সব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হতেই হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। এর মধ্যে ওষুধের দাম বাড়ায় সাধারণ রোগীরা বিপাকে পড়েছেন, তা বলাই বাহুল্য। অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে যদি দাম বাড়ে, তবে চাহিদা কমিয়ে দিয়ে কোনোভাবে দিনাতিপাত করা যায়; কিন্তু ওষুধের দাম বাড়লেও সে সুযোগ নেই। দাম যতই হোক, জীবন বাঁচানোর তাগিদে ওষুধ কিনতেই হবে। যেহেতু ওষুধ কিনতেই হবে, তাই এ সুযোগ নেন অসাধু মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। বস্তুত আইনের দুর্বলতার কারণেই ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য আইন সংশোধন করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ওষুধের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতা দুর্ভোগ চরমে

 উম্মে কুলসুম কাইফা 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ওষুধ কোনো বিলাসী পণ্য নয়; এটা জীবন রক্ষাকারী উপকরণ। এর ওপর মানুষের জীবন-মরণ নির্ভর করে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতার স্বার্থ রক্ষা করা জরুরি; কিন্তু ২০টি জেনেরিকের মধ্যে ৫৬টি ব্র্যান্ডের ওষুধের দাম বাড়ানোর সংবাদ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। এ দেশের কিছু মানুষের কাছে টাকা উপার্জন এতটাই মুখ্য যে, তারা এর বাইরে আর কিছু ভাবার প্রয়োজন বোধ করে না।

১৯৯৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় বলা হয়, অত্যাবশ্যকীয় তালিকাবহির্ভূত ওষুধের দাম উৎপাদক প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করবে। সে নির্দেশনার বলে ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানগুলো। অথচ ১৯৮২ সালের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশে যে কোনো ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সরকারের ছিল। ৯৪-এর অধ্যাদেশের পর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো ওষুধের দাম ঠিক করে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে জানায়। ওই দাম নির্ধারণ করার যুক্তিও তারা তুলে ধরে। এত বছর ধরে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো যে দাম চাইছে, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর সেই দামেই বিক্রির অনুমতি দিচ্ছে। এ কারণে ওষুধের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি থেকে যাচ্ছে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য তালিকাভুক্ত ১১৭টি ওষুধের দাম বাড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে সরকারের। তার মধ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বহুল ব্যবহৃত ২০টি জেনেরিকের মধ্যে পূর্বঘোষণা ছাড়া শুধু সুপারিশের ভিত্তিতে ৫৬টি ওষুধের দাম বাড়িয়েছে ওষুধ কোম্পানি। উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়াল, পরিবহণ ও ডিস্ট্রিবিউশন ব্যয়, ডলারের বিনিময় মূল্য, মুদ্রাস্ফীতিসহ নানা কারণেই ওষুধ উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। এসব কারণে ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে। দেশে যে কোনো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অতিসাধারণ ও স্বাভাবিক একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোনো বিশেষ কারণে যদি কোনো একটা পণ্যের দাম বাড়ে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেন সব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হতেই হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। এর মধ্যে ওষুধের দাম বাড়ায় সাধারণ রোগীরা বিপাকে পড়েছেন, তা বলাই বাহুল্য। অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে যদি দাম বাড়ে, তবে চাহিদা কমিয়ে দিয়ে কোনোভাবে দিনাতিপাত করা যায়; কিন্তু ওষুধের দাম বাড়লেও সে সুযোগ নেই। দাম যতই হোক, জীবন বাঁচানোর তাগিদে ওষুধ কিনতেই হবে। যেহেতু ওষুধ কিনতেই হবে, তাই এ সুযোগ নেন অসাধু মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। বস্তুত আইনের দুর্বলতার কারণেই ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য আইন সংশোধন করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন