ভেজাল ওষুধ

  ইফতেখার আহমেদ টিপু ২০ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভেজাল ওষুধ

নকল ও নিম্নমানের ওষুধে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। পাশাপাশি রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ। মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করে দেশের বিপুলসংখ্যক রোগী নিরাময় হওয়ার বদলে স্বাস্থ্যগত নানা জটিলতার শিকার হচ্ছে।

মূলত ওষুধের বাজারে পর্যাপ্ত তদারকি ও নজরদারি না থাকার কারণেই এক শ্রেণীর অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ী ভেজাল, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মফস্বলে নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাত করা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। সরকারি হাসপাতালের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবাধে বিক্রি হচ্ছে, যা দেখার কেউ নেই।

মিটফোর্ডসহ সারা দেশের পাইকারি ওষুধ মার্কেটে ভেজাল ওষুধের কারবার বহুদিন ধরে চললেও দেখার কেউ নেই। মাঝেমধ্যে হঠাৎ করে অভিযান পরিচালনা ও জরিমানা করা হলেও লাভ কিছু হয় না।

এর ফলে কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আবারও তাদের কার্যক্রম শুরু হয়। আমরা মনে করি, অভিযান কিংবা জরিমানা করে এ সমস্যার সমাধান হবে না। ভেজালবিরোধী আইন আরও কঠোর ও যুগোপযোগী করতে হবে। ভেজালকারীদের সঙ্গে বিভিন্ন মহলের যে সখ্য রয়েছে, সেটা ভাঙতে হবে।

সারা দেশে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ ছড়িয়ে দেয়ার মূলহোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। যেসব দোকানের ব্যবসায়িক লাইসেন্স নেই, সেগুলো সিলগালা করতে হবে। মিটফোর্ড ওষুধ ব্যবসায়ী সংগঠন কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতিও যাতে ভেজাল ওষুধবিরোধী ভূমিকা রাখতে পারে, সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে।

জীবন রক্ষা ও অসুখে-বিসুখে ওষুধ ছাড়া উপায় নেই। বাংলাদেশেই এখন মানসম্মত অনেক ওষুধ তৈরি ও ইউরোপ-আমেরিকায় রফতানি হচ্ছে।

তবে হতাশার দিক হল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধও এ দেশে প্রচুর তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ওষুধে বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। ওষুধ বিপণনের ক্ষেত্রেও চলছে যাচ্ছেতাই অবস্থা। ওষুধের ট্রায়াল নিয়ে বিরাজ করছে বিপজ্জনক বিশৃঙ্খলা। এর ফলে ক্রেতারা আছে ত্রিশঙ্কু অবস্থায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ওষুধ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার আগে সেটির কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল দেয়া প্রয়োজন।

কিন্তু বাংলাদেশে বেশির ভাগ ওষুধের ক্ষেত্রেই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল দেয়া হয় না। ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ রোধ করার ব্যাপারে কোনো ধরনের অবহেলা বাঞ্ছনীয় নয়। প্রতিটি ওষুধ বাজারে ছাড়ার আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী যাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়, তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

[email protected]

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.