সাক্ষ্য আইনের সংশোধনী প্রশংসনীয়
jugantor
সাক্ষ্য আইনের সংশোধনী প্রশংসনীয়

  মেশকাতুন নাহার  

২৩ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সম্প্রতি ঔপনিবেশিক আমলের সাক্ষ্য আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। এ আইনটি ভুক্তভোগী জনসাধারণের কল্যাণে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস।

আমাদের সমাজে আজও ধর্ষণের শিকার হয়ে নারীদের হেয়প্রতিপন্ন হতে হয়। কে ধর্ষণের জন্য দায়ী, তা উপস্থাপন না করে বরং ধর্ষিতাকে যৌন আচরণ নিয়ে জেরার সম্মুখীন হতে হয়; এ ধরনের ভুক্তভোগীকে তার চরিত্র নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নে জর্জরিত করা হয়ে থাকে।

আইনটির সংশোধনী পাশ হওয়ায় নারীর মানমর্যাদা সমুন্নত হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যখন ধর্ষণ কিংবা শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন, তখন আদালতে ভুক্তভোগীর নৈতিক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না। যার ফলে ভুক্তভোগীরা মানসিক যন্ত্রণা থেকে অনেকাংশে মুক্তি লাভ করবেন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় আজও আমাদের সমাজে নারীদের যৌন হয়রানি, বৈষম্য ইত্যাদি নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেই লড়াই করে বাঁচতে হয়। কর্মক্ষেত্রে, পরিবারে, পথে-ঘাটে, বাসে, লঞ্চে, রেলস্টেশনে, ফেসবুকে-কোথায় নেই নারীর অবমাননা। এমনকি আজকাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। গায়ে ধাক্কা, কুরুচিপূর্ণ বাক্যবাণে আঘাত করা, কুদৃষ্টি, ফেসবুকে অশ্লীল মন্তব্য করা ছাড়াও ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াট অ্যাপসে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবাদ করলে উলটো বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।

ধর্ষণের শিকার হয়েও উলটো ধর্ষিতাকে অপরাধীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। সংবাদমাধ্যম, ইউটিউবসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয় ধর্ষিতার খবর; অথচ প্রকৃত আসামি থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। লোকলজ্জা আর ভীতির কারণে অনেক ধর্ষণের ঘটনা থেকে যায় লোকচক্ষুর আড়ালে। অনেকে নীরবে নিভৃতে কাঁদে, অনেকে আত্মহত্যা পর্যন্ত করে। সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে কেউ যদি মামলার মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল করে, সেখানে ভুক্তভোগীর চরিত্র নিয়ে জেরার সম্মুখীন হতে হয়। শ্লীলতাহানির শিকার হওয়া এমন অনেক নারী রয়েছেন, যারা চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সংকোচে মামলায় যান না। এভাবে তারা ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। আইনটি সংশোধনীর ফলে নারীরা এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠবেন বলে আমার ধারণা।

ব্রিটিশদের করা ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনটির সংশোধনী পাশ হওয়ায় স্বাধীনতার ৫১ বছরে এসে এদেশের নারীরা আরেকবার মুক্তি পেয়েছে। পেয়েছে তাদের অধিকার, পেয়েছে নতুন করে স্বাধীনতার স্বাদ। অভিবাদন জানাই চমৎকার উদ্যোগকে। এ আইনের সুফল ভোগ করবে দেশের অধিকারবঞ্চিত, লাঞ্ছিত, নির্যাতিত আপামরসাধারণ। এ আইন ডিজিটাল তথ্যকেও সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করার সুযোগ করে দিয়েছে। ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত সঠিক কি না, তাও প্রমাণের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। তবে ডিজিটাল তথ্য-উপাত্তের যেন কিছুতেই অপব্যবহার না হয়, সেদিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে। নারী কল্যাণে এ আইন বিশেষ ভূমিকা পালন করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে আইনটি কার্যকর ও এর বাস্তব প্রয়োগ করতে হবে। আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের পাশাপাশি আইনের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করা জরুরি।

প্রভাষক, সমাজকর্ম

কচুয়া বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ

সাক্ষ্য আইনের সংশোধনী প্রশংসনীয়

 মেশকাতুন নাহার 
২৩ নভেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সম্প্রতি ঔপনিবেশিক আমলের সাক্ষ্য আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। এ আইনটি ভুক্তভোগী জনসাধারণের কল্যাণে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস।

আমাদের সমাজে আজও ধর্ষণের শিকার হয়ে নারীদের হেয়প্রতিপন্ন হতে হয়। কে ধর্ষণের জন্য দায়ী, তা উপস্থাপন না করে বরং ধর্ষিতাকে যৌন আচরণ নিয়ে জেরার সম্মুখীন হতে হয়; এ ধরনের ভুক্তভোগীকে তার চরিত্র নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নে জর্জরিত করা হয়ে থাকে।

আইনটির সংশোধনী পাশ হওয়ায় নারীর মানমর্যাদা সমুন্নত হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যখন ধর্ষণ কিংবা শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন, তখন আদালতে ভুক্তভোগীর নৈতিক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না। যার ফলে ভুক্তভোগীরা মানসিক যন্ত্রণা থেকে অনেকাংশে মুক্তি লাভ করবেন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় আজও আমাদের সমাজে নারীদের যৌন হয়রানি, বৈষম্য ইত্যাদি নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেই লড়াই করে বাঁচতে হয়। কর্মক্ষেত্রে, পরিবারে, পথে-ঘাটে, বাসে, লঞ্চে, রেলস্টেশনে, ফেসবুকে-কোথায় নেই নারীর অবমাননা। এমনকি আজকাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। গায়ে ধাক্কা, কুরুচিপূর্ণ বাক্যবাণে আঘাত করা, কুদৃষ্টি, ফেসবুকে অশ্লীল মন্তব্য করা ছাড়াও ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াট অ্যাপসে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবাদ করলে উলটো বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।

ধর্ষণের শিকার হয়েও উলটো ধর্ষিতাকে অপরাধীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। সংবাদমাধ্যম, ইউটিউবসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয় ধর্ষিতার খবর; অথচ প্রকৃত আসামি থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। লোকলজ্জা আর ভীতির কারণে অনেক ধর্ষণের ঘটনা থেকে যায় লোকচক্ষুর আড়ালে। অনেকে নীরবে নিভৃতে কাঁদে, অনেকে আত্মহত্যা পর্যন্ত করে। সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে কেউ যদি মামলার মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল করে, সেখানে ভুক্তভোগীর চরিত্র নিয়ে জেরার সম্মুখীন হতে হয়। শ্লীলতাহানির শিকার হওয়া এমন অনেক নারী রয়েছেন, যারা চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সংকোচে মামলায় যান না। এভাবে তারা ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। আইনটি সংশোধনীর ফলে নারীরা এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠবেন বলে আমার ধারণা।

ব্রিটিশদের করা ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনটির সংশোধনী পাশ হওয়ায় স্বাধীনতার ৫১ বছরে এসে এদেশের নারীরা আরেকবার মুক্তি পেয়েছে। পেয়েছে তাদের অধিকার, পেয়েছে নতুন করে স্বাধীনতার স্বাদ। অভিবাদন জানাই চমৎকার উদ্যোগকে। এ আইনের সুফল ভোগ করবে দেশের অধিকারবঞ্চিত, লাঞ্ছিত, নির্যাতিত আপামরসাধারণ। এ আইন ডিজিটাল তথ্যকেও সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করার সুযোগ করে দিয়েছে। ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত সঠিক কি না, তাও প্রমাণের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। তবে ডিজিটাল তথ্য-উপাত্তের যেন কিছুতেই অপব্যবহার না হয়, সেদিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে। নারী কল্যাণে এ আইন বিশেষ ভূমিকা পালন করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে আইনটি কার্যকর ও এর বাস্তব প্রয়োগ করতে হবে। আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের পাশাপাশি আইনের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করা জরুরি।

প্রভাষক, সমাজকর্ম

কচুয়া বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন