এনআইডিসহ সব সনদ সংশোধন প্রক্রিয়া সহজ করুন
jugantor
এনআইডিসহ সব সনদ সংশোধন প্রক্রিয়া সহজ করুন

  কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম  

৩০ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথমবার জাতীয় পরিচয়পত্র/ভোটার আইডি কার্ড করার সময় দেওয়া তথ্যের সঙ্গে, নামের সঙ্গে হাতে প্রাপ্ত কার্ডের মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি অনেকের। নাম, জন্ম তারিখ কিংবা ঠিকানা ভুল হয়নি-এমন মানুষ বোধহয় নেই। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার প্রয়োজন পড়েনি, এমন ব্যক্তিও নেই। কাজকর্মে যখন এনআইডি প্রয়োজন হচ্ছে, তখনই সেসব ভুল ধরা পড়ছে। প্রশ্ন হলো, এ ভুলের দায় কি সাধারণ মানুষের? অথচ ভুলে ভরা সেই আইডি কার্ড সংশোধন করতে গিয়ে মানুষের শ্রম ও অর্থ নষ্ট হয়েছে, হচ্ছে। হয়রানির কথা বাদই দিলাম। দরকার ছিল কোনো ধরনের হয়রানি ও অর্থব্যয় ছাড়া ভুলগুলো সংশোধন করে দেওয়া। অনেককে দেখেছি, বিপুল অর্থ খরচ করে এ কার্ড সংশোধন করতে হয়েছে। এভাবে জন্মনিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অভিজ্ঞতার সনদসহ যাবতীয় সনদ সংশোধন করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কোনো না কোনোভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

কিছুদিন আগে ছাত্রছাত্রীদের ইউনিক আইডির জন্য জন্মনিবন্ধন সনদের অনলাইন কপি সংগ্রহ করতে গিয়ে যা অবস্থা হয়েছিল, তা ছিল রীতিমতো ভয়ংকর। চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভিড় সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। আমি নিজেও প্রত্যক্ষদর্শী। অনুরূপভাবে দেশের সব ইউপি/সিটি করপোরেশন/পৌরসভায়ও একই অবস্থা হয়েছিল। এর ওপর অতিরিক্ত টাকা আদায়, সময়মতো কপি না পাওয়ারও অভিযোগও ছিল বিভিন্ন এলাকায়। যদিও পরে সময় বাড়ানো হয়েছিল।

আইনে সাধারণ মানুষের হয়রানিমুক্তভাবে সহজে সেবা পাওয়ার কথা বলা আছে; কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সব ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তি সহজ করতে হবে। সনদপত্রের বিষয়টি সেনসেটিভ। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভর্তি, চাকরিসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়। সনদে ত্রুটির কারণে অনেককে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সেজন্য আবেদন করা থেকে শুরু করে সনদ সংশোধনের সব পর্যায়কে সহজ করা দরকার। সেবার ডিজিটাল কার্যক্রম গতিশীল ও ত্রুটিমুক্ত করা দরকার। অল্প সময়েই যেন সংশ্লিষ্ট সবাই সনদ সংশোধনের কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন, সে ব্যবস্থা থাকা চাই। যার ভুলেই সনদে ত্রুটি থাকুক, সেবাটি সবার জন্য সহজীকরণের দাবি জানাই।

শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে নাম কিংবা অন্যান্য সাধারণ ভুলের কারণে চাকরি ও ভর্তির ক্ষেত্রে জটিলতায় পড়তে হয় অনেককে। আগেকার সময়ে অভিভাবক ও বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসচেতনতার কারণেও সনদে ভুল হয়েছে, যেটা সংশোধন করতে গিয়ে গলদঘর্ম হতে হয়েছে ভুক্তভোগীদের। এর আগে সব ধরনের সনদ সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ঢাকা কিংবা কুমিল্লায় যেতে হয়েছে কয়েকবার। অর্থব্যয় তো হয়েছেই! এখন অবশ্য প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ফলে ভোগান্তি কিছুটা কমলেও বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। অপেক্ষা ও ক্ষেত্রবিশেষে অর্থব্যয়ের বিষয় রয়ে গেছে। পরিচয় কিংবা আর্থিক সুবিধাদি না দিলে কাজ থমকে থাকছে বেশকিছু ক্ষেত্রে। এসবের অবসান ঘটিয়ে সব ধরনের সনদ সংশোধনের কাজকে সহজ করার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি সনদ সংশোধনের জন্য চাওয়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সংখ্যা যেন বেশি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা দরকার। এমনসব তথ্য-উপাত্ত চাওয়া উচিত হবে না, যা কিনা দেওয়া আদৌ সম্ভব নয়। তাই যে কয়টা কাগজ/তথ্য না দিলেই নয়, সে কয়টা কাগজ কিংবা প্রমাণাদিই নেওয়া সঠিক হবে বলে মনে করি।

সনদ সংশোধনসহ যে কোনো ধরনের সেবা হতে হবে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত এবং একেবারেই সহজ পন্থায়। হ্যাঁ, ব্যতিক্রম কিছু ক্ষেত্রে, যা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে; সেসবে অবশ্যই কঠোরতার প্রয়োজন রয়েছে, যেটি অবশ্যই ন্যূনতম সংখ্যা হবে। সাধারণ মানুষ যেন প্রয়োজনীয় সেবাপ্রাপ্তির ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হতে পারে, সে ধরনের ব্যবস্থা থাকা উচিত। এ লক্ষ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সব ধরনের সনদ সংশোধন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানাই।

শিক্ষক ও কলামিস্ট

khalednizamt@gmail.com

এনআইডিসহ সব সনদ সংশোধন প্রক্রিয়া সহজ করুন

 কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম 
৩০ নভেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথমবার জাতীয় পরিচয়পত্র/ভোটার আইডি কার্ড করার সময় দেওয়া তথ্যের সঙ্গে, নামের সঙ্গে হাতে প্রাপ্ত কার্ডের মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি অনেকের। নাম, জন্ম তারিখ কিংবা ঠিকানা ভুল হয়নি-এমন মানুষ বোধহয় নেই। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার প্রয়োজন পড়েনি, এমন ব্যক্তিও নেই। কাজকর্মে যখন এনআইডি প্রয়োজন হচ্ছে, তখনই সেসব ভুল ধরা পড়ছে। প্রশ্ন হলো, এ ভুলের দায় কি সাধারণ মানুষের? অথচ ভুলে ভরা সেই আইডি কার্ড সংশোধন করতে গিয়ে মানুষের শ্রম ও অর্থ নষ্ট হয়েছে, হচ্ছে। হয়রানির কথা বাদই দিলাম। দরকার ছিল কোনো ধরনের হয়রানি ও অর্থব্যয় ছাড়া ভুলগুলো সংশোধন করে দেওয়া। অনেককে দেখেছি, বিপুল অর্থ খরচ করে এ কার্ড সংশোধন করতে হয়েছে। এভাবে জন্মনিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অভিজ্ঞতার সনদসহ যাবতীয় সনদ সংশোধন করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কোনো না কোনোভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

কিছুদিন আগে ছাত্রছাত্রীদের ইউনিক আইডির জন্য জন্মনিবন্ধন সনদের অনলাইন কপি সংগ্রহ করতে গিয়ে যা অবস্থা হয়েছিল, তা ছিল রীতিমতো ভয়ংকর। চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভিড় সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। আমি নিজেও প্রত্যক্ষদর্শী। অনুরূপভাবে দেশের সব ইউপি/সিটি করপোরেশন/পৌরসভায়ও একই অবস্থা হয়েছিল। এর ওপর অতিরিক্ত টাকা আদায়, সময়মতো কপি না পাওয়ারও অভিযোগও ছিল বিভিন্ন এলাকায়। যদিও পরে সময় বাড়ানো হয়েছিল।

আইনে সাধারণ মানুষের হয়রানিমুক্তভাবে সহজে সেবা পাওয়ার কথা বলা আছে; কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সব ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তি সহজ করতে হবে। সনদপত্রের বিষয়টি সেনসেটিভ। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভর্তি, চাকরিসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়। সনদে ত্রুটির কারণে অনেককে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সেজন্য আবেদন করা থেকে শুরু করে সনদ সংশোধনের সব পর্যায়কে সহজ করা দরকার। সেবার ডিজিটাল কার্যক্রম গতিশীল ও ত্রুটিমুক্ত করা দরকার। অল্প সময়েই যেন সংশ্লিষ্ট সবাই সনদ সংশোধনের কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন, সে ব্যবস্থা থাকা চাই। যার ভুলেই সনদে ত্রুটি থাকুক, সেবাটি সবার জন্য সহজীকরণের দাবি জানাই।

শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে নাম কিংবা অন্যান্য সাধারণ ভুলের কারণে চাকরি ও ভর্তির ক্ষেত্রে জটিলতায় পড়তে হয় অনেককে। আগেকার সময়ে অভিভাবক ও বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসচেতনতার কারণেও সনদে ভুল হয়েছে, যেটা সংশোধন করতে গিয়ে গলদঘর্ম হতে হয়েছে ভুক্তভোগীদের। এর আগে সব ধরনের সনদ সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ঢাকা কিংবা কুমিল্লায় যেতে হয়েছে কয়েকবার। অর্থব্যয় তো হয়েছেই! এখন অবশ্য প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ফলে ভোগান্তি কিছুটা কমলেও বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। অপেক্ষা ও ক্ষেত্রবিশেষে অর্থব্যয়ের বিষয় রয়ে গেছে। পরিচয় কিংবা আর্থিক সুবিধাদি না দিলে কাজ থমকে থাকছে বেশকিছু ক্ষেত্রে। এসবের অবসান ঘটিয়ে সব ধরনের সনদ সংশোধনের কাজকে সহজ করার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি সনদ সংশোধনের জন্য চাওয়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সংখ্যা যেন বেশি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা দরকার। এমনসব তথ্য-উপাত্ত চাওয়া উচিত হবে না, যা কিনা দেওয়া আদৌ সম্ভব নয়। তাই যে কয়টা কাগজ/তথ্য না দিলেই নয়, সে কয়টা কাগজ কিংবা প্রমাণাদিই নেওয়া সঠিক হবে বলে মনে করি।

সনদ সংশোধনসহ যে কোনো ধরনের সেবা হতে হবে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত এবং একেবারেই সহজ পন্থায়। হ্যাঁ, ব্যতিক্রম কিছু ক্ষেত্রে, যা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে; সেসবে অবশ্যই কঠোরতার প্রয়োজন রয়েছে, যেটি অবশ্যই ন্যূনতম সংখ্যা হবে। সাধারণ মানুষ যেন প্রয়োজনীয় সেবাপ্রাপ্তির ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হতে পারে, সে ধরনের ব্যবস্থা থাকা উচিত। এ লক্ষ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সব ধরনের সনদ সংশোধন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানাই।

শিক্ষক ও কলামিস্ট

khalednizamt@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন