বাল্যবিবাহ, মাদক ও যৌন হয়রানিমুক্ত সুস্থ-মানবিক সমাজ চাই
jugantor
বাল্যবিবাহ, মাদক ও যৌন হয়রানিমুক্ত সুস্থ-মানবিক সমাজ চাই

  মোহেনূর আহমেদ  

৩০ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিরাপদে মা হওয়া প্রত্যেক নারীর ন্যায়সংগত অধিকার। এর সঙ্গে সভ্য দেশ ও উন্নত জাতি গঠনের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে সবার আগে বাল্যবিবাহ তথা অপরিণত বয়সে বিয়ের হার রোধ করতে হবে। উদ্বেগজনক হলো, বাল্যবিবাহের শিকার ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সের কিশোরীদের এক-তৃতীয়াংশ এবং ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সের তিন-চতুর্থাংশই সন্তানের জন্ম দিচ্ছে। সব মিলিয়ে ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ কিশোরী কৈশোরেই গর্ভধারণ করছে। কিশোরী মায়ের পরিপূর্ণ মানসিক গঠন না হওয়ায় গর্ভস্থ সন্তানের পাশাপাশি সে নিজেও বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা ও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। বস্তুত মায়ের বয়সের সঙ্গে মা ও শিশুমৃত্যুর হার বৃদ্ধির প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। বাল্যবিবাহের শিকার মা ও তার গর্ভস্থ শিশু নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত জটিলতার সম্মুখীন হয়, এমনকি উভয়ের মৃত্যুর মতো বেদনাদায়ক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে অবশ্যই অপরিণত বয়সে বিয়ে তথা বাল্যবিবাহ রোধ করতে হবে। এজন্য পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। অন্যদিকে, মাদকের বিষাক্ত দংশনে অধঃপতিত হচ্ছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। এতে অন্ধকারাচ্ছন্ন হচ্ছে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। দেশে বর্তমানে নেশার উপকরণ হিসাবে কমপক্ষে ৩২ ধরনের মাদকদ্রব্য ব্যবহৃত হচ্ছে। সব ধরনের মাদক পাচার ও এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে শুধু আইন করে মাদকের ব্যবহার ও বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। শিশু-কিশোরদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা, আদর্শ জীবনবোধ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি। এছাড়া আমাদের দেশে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ঘটনা দিনদিন বেড়েই চলেছে। এসব ঘটনার বিচারও হচ্ছে। তারপরও অপরাধ কমছে না। আসলে এ ধরনের অপরাধ কমানোর জন্য প্রয়োজন সুস্থ-মানবিক সমাজ বিনির্মাণ।

আশার কথা, নারীর ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠা, মাদকমুক্ত দেশ; সর্বোপরি মানবিক ও সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সম্প্রতি ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছিল অনুকরণীয় এক উদ্যোগ। যেমন-গত ২৩ নভেম্বর অন্যচিত্র উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী বাল্যবিবাহবিরোধী শপথ নিয়েছে, যার প্রতিপাদ্য ছিল-‘বাল্যবিবাহকে না বলি, সম্মুখপানে এগিয়ে চলি।’ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হক। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোসা. নিকহাত আরা। সমাবেশে বাল্যবিবাহের কুফল নিয়ে আলোচনা করেন অন্যচিত্রের কোষাধ্যক্ষ নাজিম উদ্দিন, গৌরীপুর থানার পরিদর্শক তদন্ত মো. মনিরুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার আব্দুর রহিম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম, একাডেমিক সুপারভাইজার কমল রায়, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী। এসময় শিক্ষার্থীদের মাঝে বাল্যবিবাহবিরোধী ‘তথ্য কার্ড’ বিতরণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৪ নভেম্বর গৌরীপুর পৌরসভাস্থ নুরুল আমিন খান উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা শপথগ্রহণ করে বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও মাদককে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছে। এ দিনের প্রতিপাদ্য ছিল-‘বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও মাদককে না বলি, সম্মুখপানে আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে চলি।’ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত এ দিনের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুল হক। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও মাদকের কুফল নিয়ে আলোচনা করেন গৌরীপুর থানার ওসি খান আবদুল হালিম সিদ্দিকীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও মাদকবিরোধী তথ্য কার্ড বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির জন্য ছাত্রছাত্রীদের কাজ করার আহ্বান জানান ইউএনও। এরপর ২৭ নভেম্বর ডৌহাখলা ইউনিয়নের ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা শপথ গ্রহণ করে বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও মাদককে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছে। এ দিনের প্রতিপাদ্যও ছিল-‘বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও মাদককে না বলি, সম্মুখপানে আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে চলি।’ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু নরোত্তম রায়। প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ ছাড়াও সমাবেশে বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও মাদকের কুফল নিয়ে আলোচনা করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু রতন চন্দ্র সরকার ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী। আগের দুটি সমাবেশের মতো এদিনও ছাত্র-ছাত্রীদের বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও মাদকসহ অন্যান্য সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির জন্য কাজ করার আহ্বান জানান ইউএনও।

গণমাধ্যমকর্মী, ময়মনসিংহ

বাল্যবিবাহ, মাদক ও যৌন হয়রানিমুক্ত সুস্থ-মানবিক সমাজ চাই

 মোহেনূর আহমেদ 
৩০ নভেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিরাপদে মা হওয়া প্রত্যেক নারীর ন্যায়সংগত অধিকার। এর সঙ্গে সভ্য দেশ ও উন্নত জাতি গঠনের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে সবার আগে বাল্যবিবাহ তথা অপরিণত বয়সে বিয়ের হার রোধ করতে হবে। উদ্বেগজনক হলো, বাল্যবিবাহের শিকার ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সের কিশোরীদের এক-তৃতীয়াংশ এবং ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সের তিন-চতুর্থাংশই সন্তানের জন্ম দিচ্ছে। সব মিলিয়ে ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ কিশোরী কৈশোরেই গর্ভধারণ করছে। কিশোরী মায়ের পরিপূর্ণ মানসিক গঠন না হওয়ায় গর্ভস্থ সন্তানের পাশাপাশি সে নিজেও বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা ও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। বস্তুত মায়ের বয়সের সঙ্গে মা ও শিশুমৃত্যুর হার বৃদ্ধির প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। বাল্যবিবাহের শিকার মা ও তার গর্ভস্থ শিশু নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত জটিলতার সম্মুখীন হয়, এমনকি উভয়ের মৃত্যুর মতো বেদনাদায়ক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে অবশ্যই অপরিণত বয়সে বিয়ে তথা বাল্যবিবাহ রোধ করতে হবে। এজন্য পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। অন্যদিকে, মাদকের বিষাক্ত দংশনে অধঃপতিত হচ্ছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। এতে অন্ধকারাচ্ছন্ন হচ্ছে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। দেশে বর্তমানে নেশার উপকরণ হিসাবে কমপক্ষে ৩২ ধরনের মাদকদ্রব্য ব্যবহৃত হচ্ছে। সব ধরনের মাদক পাচার ও এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে শুধু আইন করে মাদকের ব্যবহার ও বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। শিশু-কিশোরদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা, আদর্শ জীবনবোধ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি। এছাড়া আমাদের দেশে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ঘটনা দিনদিন বেড়েই চলেছে। এসব ঘটনার বিচারও হচ্ছে। তারপরও অপরাধ কমছে না। আসলে এ ধরনের অপরাধ কমানোর জন্য প্রয়োজন সুস্থ-মানবিক সমাজ বিনির্মাণ।

আশার কথা, নারীর ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠা, মাদকমুক্ত দেশ; সর্বোপরি মানবিক ও সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সম্প্রতি ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছিল অনুকরণীয় এক উদ্যোগ। যেমন-গত ২৩ নভেম্বর অন্যচিত্র উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী বাল্যবিবাহবিরোধী শপথ নিয়েছে, যার প্রতিপাদ্য ছিল-‘বাল্যবিবাহকে না বলি, সম্মুখপানে এগিয়ে চলি।’ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হক। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোসা. নিকহাত আরা। সমাবেশে বাল্যবিবাহের কুফল নিয়ে আলোচনা করেন অন্যচিত্রের কোষাধ্যক্ষ নাজিম উদ্দিন, গৌরীপুর থানার পরিদর্শক তদন্ত মো. মনিরুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার আব্দুর রহিম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম, একাডেমিক সুপারভাইজার কমল রায়, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী। এসময় শিক্ষার্থীদের মাঝে বাল্যবিবাহবিরোধী ‘তথ্য কার্ড’ বিতরণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৪ নভেম্বর গৌরীপুর পৌরসভাস্থ নুরুল আমিন খান উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা শপথগ্রহণ করে বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও মাদককে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছে। এ দিনের প্রতিপাদ্য ছিল-‘বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও মাদককে না বলি, সম্মুখপানে আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে চলি।’ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত এ দিনের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুল হক। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও মাদকের কুফল নিয়ে আলোচনা করেন গৌরীপুর থানার ওসি খান আবদুল হালিম সিদ্দিকীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও মাদকবিরোধী তথ্য কার্ড বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির জন্য ছাত্রছাত্রীদের কাজ করার আহ্বান জানান ইউএনও। এরপর ২৭ নভেম্বর ডৌহাখলা ইউনিয়নের ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা শপথ গ্রহণ করে বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও মাদককে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছে। এ দিনের প্রতিপাদ্যও ছিল-‘বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও মাদককে না বলি, সম্মুখপানে আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে চলি।’ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু নরোত্তম রায়। প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ ছাড়াও সমাবেশে বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও মাদকের কুফল নিয়ে আলোচনা করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু রতন চন্দ্র সরকার ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী। আগের দুটি সমাবেশের মতো এদিনও ছাত্র-ছাত্রীদের বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও মাদকসহ অন্যান্য সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির জন্য কাজ করার আহ্বান জানান ইউএনও।

গণমাধ্যমকর্মী, ময়মনসিংহ

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন