ব্যর্থতার কারণ উদ্ঘাটন করে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিন
jugantor
ব্যর্থতার কারণ উদ্ঘাটন করে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

  ওসমান এহতেসাম  

৩০ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমানে ডেঙ্গি বাংলাদেশের অন্যতম এক আতঙ্কের নাম। সরকার করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে যতটা সফল, বিপরীতে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে ততটাই ব্যর্থ। বলা যায়, করোনার কান্নায় ডেঙ্গির গর্জন। প্রতিদিনই খবরে শুনি-ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের অভিযান চলছে। কোথায় চলছে সেসব অভিযান? মশক নিধন কর্মীদের তো দেখাই মেলে না। অবস্থা এমন হয়েছে যে, ঘরে ঘরে ডেঙ্গি রোগী। মনে প্রশ্ন জাগে-তাহলে সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম কি কেবলই লোক দেখানো? বাসা-বাড়ি, শিক্ষা-ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে মশার কামড় থেকে কেউই রক্ষা পাচ্ছেন না। এদিকে বস্তি, আবাসিক কিংবা বাণিজ্যিক এলাকা-সবখানেই মিলছে এডিস মশার লার্ভা। মশার জ্বালায় অতিষ্ঠ শিশু থেকে বৃদ্ধরাও।

ডেঙ্গি মোকাবিলায় সব সিটি করপোরেশনের মেয়র গণমাধ্যমে যতটা সরব, কাজে ততটাই ব্যর্থ। ডেঙ্গি মোকাবিলায় সরকার ও জনগণের সমন্বিত প্রয়াস জরুরি হলেও সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের অবহেলার কারণে এটি এখন দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। জনগণ নিয়মিত ট্যাক্স পরিশোধ করলেও সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবা থেকে বরাবরই জনগণ বঞ্চিত। অভিযোগ রয়েছে-রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সব এলাকায় নিয়মিত মশার ওষুধ না ছিটানো, গলির মধ্যে না গিয়ে প্রধান সড়কে ‘ফগিং’ করাসহ লোকদেখানো অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। মূলত ডোবা-নালা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম কোনো কাজে আসছে না। এ কারণেই ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে স্পষ্ট হচ্ছে ব্যর্থতার পরিসংখ্যান। এ ব্যর্থতার দায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিন মেয়র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিছুতেই এড়াতে পারে না।

ডেঙ্গি সংক্রমণের দায় নাগরিক সমাজ ও সিটি করপোরেশনের। তবে ঘরে ঘরে প্রবেশ করে মশা মারা যেমন সিটি করপোরেশনের কাজ নয়, তেমনি ঘরের বাইরে এডিস মশার ডিম পাড়া ও বংশবৃদ্ধি রোধ করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। যেখানে সেখানে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত পাত্র, মাটির হাঁড়ি, টায়ার, ক্যান-যার মধ্যে জমা পানি থাকে বা কোনো গর্ত, যেখানে বৃষ্টি হলেই পানি জমতে পারে; সেসব নির্মূলের ব্যবস্থা করতে হবে।

ডেঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্যে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব কার্যকর রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে মশার লার্ভা ধ্বংস করার পাশাপাশি উড়ন্ত মশা মারার ব্যবস্থা করতে হবে। এডিস মশার প্রজনন, বিস্তার, প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিয়ে নিয়মিত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার বিকল্প নেই। মশকনিধন কার্যক্রম শুধু নির্দিষ্ট একটি সময়ে সীমাবদ্ধ না রেখে বছরব্যাপী নিয়মিতভাবে পরিচালনা করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা ও তা মোকাবিলার পথ খুঁজে বের করাও জরুরি। আমরা মেয়রত্রয়ের বক্তব্যের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কাজের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট, বাকলিয়া, চট্টগ্রাম

osmangonistudent5@gmail.com

ব্যর্থতার কারণ উদ্ঘাটন করে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

 ওসমান এহতেসাম 
৩০ নভেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমানে ডেঙ্গি বাংলাদেশের অন্যতম এক আতঙ্কের নাম। সরকার করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে যতটা সফল, বিপরীতে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে ততটাই ব্যর্থ। বলা যায়, করোনার কান্নায় ডেঙ্গির গর্জন। প্রতিদিনই খবরে শুনি-ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের অভিযান চলছে। কোথায় চলছে সেসব অভিযান? মশক নিধন কর্মীদের তো দেখাই মেলে না। অবস্থা এমন হয়েছে যে, ঘরে ঘরে ডেঙ্গি রোগী। মনে প্রশ্ন জাগে-তাহলে সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম কি কেবলই লোক দেখানো? বাসা-বাড়ি, শিক্ষা-ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে মশার কামড় থেকে কেউই রক্ষা পাচ্ছেন না। এদিকে বস্তি, আবাসিক কিংবা বাণিজ্যিক এলাকা-সবখানেই মিলছে এডিস মশার লার্ভা। মশার জ্বালায় অতিষ্ঠ শিশু থেকে বৃদ্ধরাও।

ডেঙ্গি মোকাবিলায় সব সিটি করপোরেশনের মেয়র গণমাধ্যমে যতটা সরব, কাজে ততটাই ব্যর্থ। ডেঙ্গি মোকাবিলায় সরকার ও জনগণের সমন্বিত প্রয়াস জরুরি হলেও সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের অবহেলার কারণে এটি এখন দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। জনগণ নিয়মিত ট্যাক্স পরিশোধ করলেও সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবা থেকে বরাবরই জনগণ বঞ্চিত। অভিযোগ রয়েছে-রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সব এলাকায় নিয়মিত মশার ওষুধ না ছিটানো, গলির মধ্যে না গিয়ে প্রধান সড়কে ‘ফগিং’ করাসহ লোকদেখানো অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। মূলত ডোবা-নালা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম কোনো কাজে আসছে না। এ কারণেই ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে স্পষ্ট হচ্ছে ব্যর্থতার পরিসংখ্যান। এ ব্যর্থতার দায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিন মেয়র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিছুতেই এড়াতে পারে না।

ডেঙ্গি সংক্রমণের দায় নাগরিক সমাজ ও সিটি করপোরেশনের। তবে ঘরে ঘরে প্রবেশ করে মশা মারা যেমন সিটি করপোরেশনের কাজ নয়, তেমনি ঘরের বাইরে এডিস মশার ডিম পাড়া ও বংশবৃদ্ধি রোধ করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। যেখানে সেখানে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত পাত্র, মাটির হাঁড়ি, টায়ার, ক্যান-যার মধ্যে জমা পানি থাকে বা কোনো গর্ত, যেখানে বৃষ্টি হলেই পানি জমতে পারে; সেসব নির্মূলের ব্যবস্থা করতে হবে।

ডেঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্যে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব কার্যকর রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে মশার লার্ভা ধ্বংস করার পাশাপাশি উড়ন্ত মশা মারার ব্যবস্থা করতে হবে। এডিস মশার প্রজনন, বিস্তার, প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিয়ে নিয়মিত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার বিকল্প নেই। মশকনিধন কার্যক্রম শুধু নির্দিষ্ট একটি সময়ে সীমাবদ্ধ না রেখে বছরব্যাপী নিয়মিতভাবে পরিচালনা করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা ও তা মোকাবিলার পথ খুঁজে বের করাও জরুরি। আমরা মেয়রত্রয়ের বক্তব্যের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কাজের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট, বাকলিয়া, চট্টগ্রাম

osmangonistudent5@gmail.com

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন