নন্দকুজা নামে একটা নদী ছিল

 ফাত্তাহ তানভীর রানা 
২৪ মে ২০২৩, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নন্দকুজা প্রমত্তা নদী না হলেও এর গতিপথ স্বাভাবিক ছিল। নন্দকুজাকে ঘিরেই একসময় গড়ে উঠেছিল আহমেদপুর, হালসা, হোলাইগারি, নাজিরপুর, গুরুদাসপুর, চাঁচকৈড়ের মতো বড় বড় হাটবাজার। বাজারগুলোয় ব্যবসা-বাণিজ্য বেশ ভালোই চলত। সেসময় নন্দকুজা নদীতে বছরজুড়েই পানি থাকত। বছরের পর বছর পলি পড়ে আর ড্রেজিং না করার কারণে এ নদী এখন খালে পরিণত হওয়ার পথে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদী হারিয়েছে তার সৌন্দর্য আর জৌলুস। এখন বর্ষাকালে নদী পানিতে ভরে থাকলেও বর্ষা শেষ হলে পানির দেখা মেলে না। নদীতে অনেক আগেই নৌ চলাচল বন্ধ হয়েছে। দখল আর বর্জ্য ফেলে ভরাট করার কারণে নদী সংকুচিত হয়েছে। নদীকেন্দ্রিক কর্মজীবী মানুষ হয়েছে বেকার, তারা পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। প্রভাবিত হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি জমিতে সেচকাজ ব্যাহত হয়েছে। প্রতিবেশ ব্যবস্থা, জলজ প্রাণী আর মৎস্যসম্পদ পড়েছে হুমকির মুখে। গভীর নলকূপের উত্তোলিত পানিই এখন এ অঞ্চলের কৃষকের ভরসা। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানি দিনের পর দিন নেমে যাচ্ছে।

নাটোর চিনিকলের বর্জ্যে দূষিত নন্দকুজার পানি বিষিয়ে ওঠায় নদী তীরবর্তী জনপদের মানুষ সেচ, স্নানসহ ঘরবাড়ির কাজে এখন তা ব্যবহার করতে পারছে না। দূষিত পানি ভুল করে কেউ ব্যবহার করলে আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। শুধু মাছই নয়, মারা যাচ্ছে নদীতে থাকা অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীও।

দুই বছর পূর্বে নন্দকুজা নদীর খননকাজ শুরু হলেও অদৃশ্য কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। নদী আমাদের সভ্যতার বিকাশে অনেক অবদান রেখেছে। নদীকে নদীর মতো বাঁচতে দেওয়া উচিত। নন্দকুজা নদীর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে দূষণ-দখল প্রতিরোধ করাসহ চিনিকলের বর্জ্য যেন নদীর পানিতে না মিশতে পারে, এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তবেই নন্দকুজা পারের মানুষের জীবন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে এবং নন্দকুজা নদী ফিরে পাবে তার প্রাণশক্তি।

গল্পকার ও কবি

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন