শিক্ষার্থীরা আমাদের কী শিক্ষা দিয়েছে?

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  শরীফুর রহমান আদিল

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে কত আন্দোলনই না হল, কিন্তু কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিস্ময়কর আন্দোলন বাংলাদেশে এই প্রথম। এই আন্দোলনের সূত্রপাত শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর বাসচাপায় নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার প্রতিবাদে হলেও তারা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছিল নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তার জন্য। তাদের এই আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে অভিভাবকরা। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি এ আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে গণমাধ্যমগুলো।

শুরুতে ২ দিন রাজধানীতে আন্দোলন সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। দুর্বল আইনের অজুহাতে প্রতিদিন রাস্তায় মানুষ হত্যা করা হবে, এটি দেশের জনগণ কিভাবে মেনে নেবে? তাই আইন পরির্বতনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের রাজপথে নেমে আসাকে অনেকে বাহবা দিয়েছেন।

কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যে পদ্ধতিতে আন্দোলন করেছে, তা নিঃসন্দেহে অহিংস আন্দোলন। শিক্ষার্থীরা যেভাবে তাদের রাগ, ক্ষোভ কিংবা আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে আন্দোলন করেছে, তা ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। মহাত্মা গান্ধী যে অহিংস আন্দোলন শিখিয়ে গিয়েছিলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তার আধুনিক সংস্করণ বলা যেতে পারে। আন্দোলনের পাশাপাশি তাদের মানবিকতা ও বিবেকবোধ দেখে সত্যিই যে কারও মুগ্ধ হওয়ার কথা।

আন্দোলন করে দিন শেষে রাস্তা পরিষ্কার করার মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের শুধু পরিচ্ছন্ন আন্দোলনকারী হিসেবে পরিচিত করায়নি, বরং নতুন পৃথিবীর জন্য অনুকরণীয় এক পদ্ধতি শিখিয়ে গেছে। স্কুলে শিক্ষকের বেতের মার নিষিদ্ধ হলে রাজপথে পুলিশের মার শিক্ষার্থীদের গায়ে কেন- শিক্ষার্থীদের বহন করা প্ল্যাকার্ডের এ প্রশ্নের উত্তর কে দেবে?

কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের এ আন্দোলনের মাধ্যমে পুলিশ, এমপি, মন্ত্রী, রাষ্ট্র, এমনকি দেশের জনগণকে কতগুলো শিক্ষা দিয়ে গেছে। তারা জানিয়ে দিয়েছে, আগামীর বাংলাদেশ সুন্দর, স্বচ্ছ আর নৈতিকতায় ভরপুর হবে। ধানমণ্ডিতে ট্রাফিকরা রিকশার লেন কিংবা অন্যান্য সড়কে গাড়ির লেন ঠিক না করতে পারলেও দায়িত্ব কিংবা কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই শিক্ষার্থীরা পুরো সড়কে লেন পদ্ধতির ব্যবহার দেখিয়ে দিয়েছে।

সড়কে রিকশা ও গাড়ি কবে এভাবে লাইনবদ্ধভাবে চলাচল করেছে, তা কেউ মনে হয় বলতে পারবে না। ইর্মাজেন্সি লেনের ব্যবস্থা না বাংলাদেশের ইতিহাসে না থাকলেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রোগীসহ জরুরি সেবা যাতে যানজটে আটকে থেকে কষ্ট না করে, সেজন্য রোগী, ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবা নিশ্চিতের জন্য ইর্মাজেন্সি লেনের ব্যবস্থা করে রাষ্টকে উন্নত ও সভ্য দেশের কাতারে নিয়ে গেছে শিক্ষার্থীরা।

বলার অপেক্ষা রাখে না, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের নতুন ধারার অহিংস আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের সুশীল সমাজ, মন্ত্রী, এমপি, পেশাজীবী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সর্বোপরি রাষ্ট্রের সামনে শিক্ষণীয় উদাহরণ তৈরি করেছে। স্বাধীনতার এত বছরেও আমরা যা করতে পারিনি, শিক্ষার্থীরা মাত্র কয়েকদিনে সেটি করে দেখিয়ে দিয়েছে এবং জানান দিয়েছে- আগামীর বাংলাদেশ হবে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ।

প্রভাষক, ফেনী সাউথ-ইস্ট ডিগ্রি কলেজ

[email protected]