তুমিই বাংলাদেশ...

  রাবাত রেজা ০৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তুমিই বাংলাদেশ

‘তুমি যদি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ; যদি তুমি রুখে দাঁড়াও, তবে তুমিই বাংলাদেশ।’ আমাদের নতুন প্রজন্মকে নিয়ে কয়েকদিন আগেও সবাই হতাশ ছিল। এই প্রজন্ম শুধু ফেসবুক আর সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে পড়ে থাকে, বাস্তবতা বোঝে না।

দেশের কোনো কিছু নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা নেই। আরও অনেক অভিযোগ নতুন প্রজন্মের বিরুদ্ধে। কিন্তু না, দেখা গেল- কিশোররা শিকল ভাঙার গান গাইতে শুরু করছে। দু’জন কিশোর শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা জেগে উঠেছে। রাজধানীসহ সারা বাংলাদেশের পরিবহন খাতে যে পচন ধরেছে, কিশোররা সেখানে মলম না লাগিয়ে সমূলে উৎপাটন করতে চেয়েছে।

এ লেখার প্রথম লাইনটা একজন কিশোরের হাতে থাকা ব্যানার থেকে নেয়া। কী শিহরণ জাগানিয়া কথা! ঘুণেধরা এ সমাজকে পরিবর্তন করতে তারা গাইছে ঘুম ভাঙার গান। ‘আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে’- এ প্ল্যাকার্ড আরেক কিশোরের হাতে। সন্দেহ নেই, কিশোররা জেগে উঠেছে।

ট্রাফিক আইন না মানতে মানতে এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল- আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম, ট্রাফিক আইন মানার কথা। কিশোর-তরুণরা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে আইন সবার জন্য সমান।

পত্রিকার পাতা ওল্টালেই দেখা যায়, এমন কোনোদিন বাদ নেই- যেদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে না। সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামে না; স্বজন হারানোর কান্না শেষ হয় না। প্রতিদিন কোনো না কোনো মায়ের বুক খালি হয়। আমরা শুধু দেখি আর হা-হুতাশ করি। অপেক্ষা করি, কবে আমার পালা আসবে। কিন্তু এই কিশোররা ভয় না পেয়ে প্রতিবাদ করেছে। বলেছে- এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে এ আন্দোলন ছিল বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে হিংসামুক্ত আন্দোলন। শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনে এসেছে। তারা এসেছে তাদের ন্যায্য দাবি আদায় করতে। সাধারণ মানুষও তাদের নৈতিক সমর্থন দিয়েছে। ঢাকা শহরে আমরা দেখেছি, রোগী পরিবহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকে কেউ রাস্তা ছেড়ে দেয় না; বরং সিগন্যাল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গগনবিদারী চিৎকারে ছুটে যায় বাস, ট্রাক ইত্যাদি।

মনে হয়, অ্যাম্বুলেন্সের চেয়ে তাদের আগে যাওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই তরুণ-কিশোররা কিছু সময়ের জন্য ইতিহাস তৈরি করেছিল; ঢাকা শহরের বুকে হয়েছিল অ্যাম্বুলেন্স চলার জন্য ইমার্জেন্সি লেন। রিকশার জন্য আলাদা লেন, প্রাইভেট কারের জন্য আলাদা লেন তারাই তৈরি করেছিল।

মন্ত্রী, এমপি, সচিবদের গাড়ির ড্রাইভারদেরও যে লাইসেন্স থাকে না, এটা আমরা জানতাম না। শত শত ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে তারা মামলা করতে পুলিশকে বাধ্য করেছে।

এই কিশোর-কিশোরীরা ভয় পায় না। তারা জানে- ভয় পেলেই সব শেষ। পোকায় খাওয়া সমাজকে, ঘুণেধরা দেশকে তারাই পাল্টাতে পারে। তারা প্রতিবাদ করতে জানে, মানুষকে ভালোবাসতে জানে।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঘটনাপ্রবাহ : বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter