শিক্ষার্থীদের সব দাবিই যৌক্তিক

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মো. ইয়াছিন মজুমদার

ছবি: সংগৃহীত

সড়ক দুর্ঘটনায় দু’জন শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে ছাত্ররা আন্দোলনে নেমেছিল। প্রতিদিন দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে। দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ চালকদের অদক্ষতা, ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালক, ট্রাফিক সিস্টেমের ত্রুটি, ট্রাফিক আইন না জানা, ট্রাফিক আইন মেনে না চলা, সঠিক পরীক্ষা না নিয়ে অর্থের বিনিময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, জাল ও ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স, সিএনজি অটোরিকশাসহ কম গতির যানবাহনের জন্য মহাসড়কে লেন না থাকা, জনগণের অসচেতনতা, মাদকসেবী চালক, সার্জেন্ট ও ট্রাফিক পুলিশের রাস্তার শৃঙ্খলা রক্ষার চেয়ে অবৈধ অর্থ আদায়ের দিকে বেশি মনোযোগী হওয়া ইত্যাদি।

পত্রিকায় পড়েছি, ১৯৭৯ সাল থেকে কম্বোডিয়া শাসন করছে কম্বোডিয়ান পিপলস পার্টি। সে পার্টি থেকে নির্বাচিত দেশের প্রধানমন্ত্রী একটি এলাকা পরিদর্শনে যান। সেখানে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার মতো রাস্তা না থাকায় তিনি মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন, কিন্তু হেলমেট পরে না যাওয়ায় ট্রাফিক পুলিশ কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুনসেনের মোটরসাইকেল বহর আটকে দেয় এবং পনেরো হাজার রিয়েল জরিমানা করে। জাপানে একজন মন্ত্রীর কারণে ট্রেন ছাড়তে কয়েক মিনিট দেরি হলে এ নিয়ে সমালোচনা হয়। পরে দায় স্বীকার করে ওই মন্ত্রী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।

আমাদের দেশে ছাত্ররা কাগজপত্র যাচাইকালে দেখা যায়, সরকারি আমলা, মন্ত্রণালয়ের গাড়ি, পুলিশের গাড়ি, মন্ত্রীর গাড়িসহ দায়িত্বশীল লোকের গাড়ি চালকদের কাগজপত্র ঠিক নেই। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা ছাড়া পেয়ে যায়। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। ছাত্ররা আমাদের শিখিয়েছে- কিভাবে একটি জরুরি লেন রেখে জ্যামের মধ্যে ও অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবা প্রদানকারী গাড়িগুলোকে চলাচলের সুযোগ করে দেয়া যায়, যা আমাদের ট্রাফিক পুলিশ পারেনি।

যৌক্তিক কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে ছাত্রদল, ছাত্র শিবিরের উস্কানির কথা সরকার বলছে। যে কোনো আন্দোলন থেকে সরকার বিরোধীরা সুবিধা নিতে চাইবে, এটা অস্বাভাবিক নয়। তাই বলে আন্দোলনকারীদের যৌক্তিক দাবিগুলো অস্বীকার করা চলে না। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। সরকারও তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আশা করি, সরকার দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করবে।

অধ্যক্ষ, শ্রীরামপুর, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা