রেলওয়ের দুর্দশা ঘুচবে কবে?

  মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী ২৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঝামেলামুক্ত, আরামদায়ক ও তুলনামূলক নিরাপদ হওয়ায় রেল ভ্রমণে যাত্রীদের আগ্রহ শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর সব দেশেই বেশি। সড়কপথে যানজট ও পথে পথে বিড়ম্বনার কারণে মানুষ ট্রেনে যাতায়াত পছন্দ করে। তবে যাত্রীদের আগ্রহের বিপরীতে রেলওয়ে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে পারছে না। রেলওয়ে লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের দাবি করে থাকে। মূলত অনিয়ম, দুর্নীতি, চুরি, লুটপাট, জালিয়াতি ও প্রতারণার কারণে রেলওয়ের সম্পদ হাতছাড়া হচ্ছে।

পৃথিবীর সব দেশে, এমনকি প্রতিবেশী ভারতেও রেলওয়ে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য। বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর সব দেশে রেলওয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ট্রেন ভ্রমণের সময় দেখা যায়, টিকিটবিহীন অসংখ্য যাত্রী। অথচ দেখার কেউ নেই। নিয়োগ থেকে শুরু করে রেলওয়ের নির্মাণ ও মেরামতসহ নানা কাজে জেকে বসেছে ভয়াবহ দুর্নীতি। আমাদের এখানে রেললাইন নির্মাণে কিলোমিটার প্রতি গড়ে ২৬০ কোটি টাকা ব্যয় হয়, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে এ কাজে গড়ে যথাক্রমে ১২ ও ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়ে থাকে। দুর্নীতি-অনিয়ম রোধ ও তেলের পরিবর্তে ইলেকট্রিক ট্রেন চালু করার উদ্যোগ নেয়া জরুরি। তাহলে রেলওয়েকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।

কমলাপুর রেলস্টেশনের দুরবস্থার কথা লিখে শেষ করা যাবে না। খুব সকালে ও রাতে যাত্রীদের পক্ষে স্টেশনের অভ্যন্তরে ঢুকে ট্রেন ধরা বড়ই কষ্টকর। কারণ গোটা কমলাপুরজুড়ে দরিদ্র লোকজন ও হিরোইনসেবীদের যত্রতত্র ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায়। টিকিটের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পরও রেলওয়ের সেবার মান সামান্য বাড়েনি। ইতিমধ্যে যাত্রীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। সে ক্ষেত্রে রেলওয়ের গুণগত মান একটুও বৃদ্ধি পায়নি। কমলাপুর রেলস্টেশনের চারপাশ সংরক্ষিত না থাকার কারণে হকার, ভিক্ষুক, ফেরিওয়ালা, ছিঁচকে চোর ও হিরোইনসেবীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

নিরাপত্তার দিক থেকে কমলাপুর স্টেশনের সামগ্রিক চিত্র খুবই হতাশাজনক। এ ক্ষেত্রে রেলওয়ে পুলিশের ভূমিকা নীরব ও নির্বিকার। গোটা কমলাপুর রেলওয়ে কর্মচারীদের কাছে জিম্মি। একটি সংঘবদ্ধ দল কমলাপুর স্টেশনে টিকিট বিক্রির অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত। লম্বা লাইন পার হয়ে টিকিট ক্রয়ের সময় ঠিক কাউন্টারের সামনে যাওয়া মাত্র বলা হয়ে থাকে, টিকিট নেই। এ দুর্ভোগ কোনোভাবেই কি কমানো যায় না? যে কোনো দিন টিকিট চাইলে বলা হয়, টিকিট নেই। অথচ কালোবাজারিদের কাছে সব ট্রেনের টিকিট অতিরিক্ত মূল্যে সহজেই পাওয়া যায়। স্টেশন মাস্টার টিকিট কাউন্টারে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র কখনও দেখতে আসেন না।

নোংরা, অপরিচ্ছন্ন এবং দুর্গন্ধে ভরা গোটা কমলাপুর স্টেশন। যাত্রীদের সুবিধার্থে এর পরিধি আরও বাড়ানো দরকার। টিকিট কাউন্টারের স্বল্পতায় যাত্রীদের দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা বেড়েই চলেছে। টিকিট বিক্রির স্থানে পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা করা দরকার। বসার জন্য চেয়ার ও টয়লেটের ব্যবস্থা করা দরকার। টিকিট ক্রয়-বিক্রয়ের সম্পর্কিত কোনো অভিযোগ কেন্দ্র না থাকায় যাত্রীরা ক্ষুব্ধ। ট্রেনে বিনা টিকিটে প্রচুর যাত্রী ভ্রমণ করে থাকে। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোয় বিনা টিকিটের যাত্রী ওঠানো নিয়ে অ্যাটেনডেন্টদের অহরহ যাত্রীদের সঙ্গে ঝগড়া করতে দেখা যায়। টিকিট চেকার বা টিটিরা বিনা টিকিটের যাত্রীদের প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন।

ট্রেনে ওঠানামা করতে বয়স্ক বা অসুস্থ এবং প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য কোনো কার বা ছোট গাড়ি নেই। কমলাপুর ছাড়াও বনানী, গেণ্ডারিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও বিমানবন্দর স্টেশনে ঢাকা-কলকাতা-ঢাকার টিকিট ক্রয় করার সুযোগ দেয়া হলে শুধু দুর্ভোগ নয়, সময় বাঁচবে এবং বিড়ম্বনা কমবে। কলকাতা-ঢাকা ফিরতি টিকিট বিক্রির ব্যাপারে যথেষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া একত্রে ৪ পাসপোর্টের অধিক টিকিট বিক্রির ব্যাপারে বিধিনিষেধ একেবারেই অযৌক্তিক। যে পরিবারে ৬ জন সদস্য, তাদের দু’বার টিকিট সংগ্রহের সময় দেখা যায়- আগের বগিতে আর টিকিট নেই। এ ক্ষেত্রে অযথা বিড়ম্বনা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমাদের দাবি হল, পর্যাপ্ত ট্রেন ও ট্রেনের টিকিট চাই। সেবামূলক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবার মান বাড়ানো খুবই জরুরি।

সংবাদকর্মী, ঢাকা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter