অনলাইন শপিংয়ে প্রতারণা

  খালিদ জামান সেজান ২৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অনলাইন শপিংয়ে প্রতারণা
প্র্রতীকী ছবি

ইন্টারনেটের আবিষ্কার এবং এর প্রসার ব্যবসা-বাণিজ্যে অভাবনীয় গতি এনেছে। এখন ক্রেতা ঘরে বসে কম্পিউটার মাউসে ক্লিক করেই তার কাক্সিক্ষত পণ্য ক্রয় করতে পারেন। অপরদিকে বিক্রেতারাও তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচার-প্রসার ঘটাতে পারেন খুব সহজেই।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের এই সিস্টেমকে বলা হয় ইন্টারনেট মার্কেটিং বা ই-মার্কেটিং। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশেও ই-মার্কেটিং চালু হয়েছে সীমিত আকারে।

মূলত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় বিক্রেতারা তাদের প্রতিষ্ঠানের পেজ খোলেন এবং সেখানে পণ্যের প্রচারণা চালান। অনেকে আছেন শুধু ফেসবুক পেজের মাধ্যমেই এভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে বেকারত্ব কিছুটা দূর হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

দেশে সীমিত আকারে ই-মার্কেটিং সেবা চালু হলেও এখানে অনুপ্রবেশ ঘটেছে প্রতারক চক্রের। তারা বিছিয়ে দিয়েছে প্রতারণার অভিনব জাল এবং এই জালে পা ফেলে ধোঁকা খাওয়া মানুষের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি গত ২ আগস্ট ফেসবুকে একটি অনলাইন শপ থেকে দুটি টি-শার্ট অর্ডার করেন। অনলাইন শপের ফেসবুক পেজের গ্যালারিতে টি-শার্টের চমকপ্রদ ছবি দেখে তিনি সেগুলো পছন্দ করেছিলেন। অর্ডার কনফার্ম করার সময় জানতে পারলেন- তার হাতে টি-শার্ট পৌঁছবে কুরিয়ার মারফত। তবে আগেই তাকে পুরো টাকা দিয়ে দিতে হবে। তিনি তাই করেছিলেন। কিন্তু আজ ২৬ আগস্ট পার হওয়ার পরও দেখা গেল- তিনি তার ক্রয়কৃত পণ্য হাতে পাননি। অনলাইন শপের ফেসবুক পেজে থাকা ফোন নম্বরে ফোন দিলেও কেউ তার ফোন রিসিভ করেনি। এমন প্রতারণার শিকার হয়ে অনলাইন শপিংয়ে আস্থা হারাচ্ছেন অনেকেই।

এ ছাড়া অনলাইন শপগুলোর নামে আরও অভিযোগ হরহামেশা চোখে পড়ে। ফেসবুক পেজের ছবিতে দেখানো পণ্যের সঙ্গে বাস্তবের পণ্যের ন্যূনতম মিলও থাকে না। অপরদিকে বিক্রেতারা চড়াদামে এমন সব পণ্য বিক্রি করে, যেগুলোর মূল্য নিউমার্কেট কিংবা অন্যান্য শপিং কমপ্লেক্সে অর্ধেক বা অর্ধেকেরও কম। সবচেয়ে বড় অভিযোগ হল- পণ্য হাতে পাওয়ার পর যদি তা ক্রেতার পছন্দ না হয়, তাহলে সেই পণ্য ফেরত নিতে সব অনলাইন শপ অস্বীকৃতি জানায়। আর সেই সঙ্গে চলে দুর্ব্যবহার ও অপমানসূচক কথাবার্তা।

এসব কারণে ধীরে ধীরে অনলাইন শপিং থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেক ত্রেতা। আর এতে ক্ষতির মুখে পড়ছে প্রকৃত ও সৎ ব্যবসায়ীরা। প্রতারক চক্রের মন্দকাজের প্রভাব পড়ছে অন্যদের ব্যবসা-বাণিজ্যেও। এ অবস্থায় প্রতারণা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter