কথাগুলো সঠিক নয়

  শেখ জালাল উদ্দিন ২৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুগান্তরে ২৪ জুলাই ‘যত্রতত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান- শেষ দায় প্রধানমন্ত্রীর’ শিরোনামে প্রকাশিত কলামে ড. শেখ আব্দুস সালাম কিছু বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য রেখেছেন, যা আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করেছে এবং আমার মানসম্মানে আঘাত করেছে। তিনি আমার নাম উল্লেখ না করলেও অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা জজ ও আমাদের গ্রামে প্রতিষ্ঠিত কবরস্থান সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা পরোক্ষভাবে আমাকে উপলক্ষ করে বলা হয়েছে। কেননা গ্রামে এ পদে অন্য কেউ নেই।

কুমলাই গ্রামের দক্ষিণাংশে আমি আত্মীয়দের নিয়ে ২৭ শতক জমিদানের মাধ্যমে ১৯৯৯ সালে একটি সাধারণ কবরস্থান প্রতিষ্ঠা করি, যেখানে প্রথম কবর হয় জমিদানকারী আমার ভাইপো জাকির হোসেনের। একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে তা পরিচালিত হতে থাকে, যারা দাফনের প্রয়োজনীয় উপকরণের মাধ্যমে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। এর সঙ্গে সম্পৃক্তহীন লেখক ২০১৩-১৪ সালে ওই কবরস্থানের জন্য সরকারি টাকা এনে দেয়ার শর্তে আরও জমিভুক্তির দাবি করলে কেউ জমি না দেয়ায় আমি পাশে থাকা আরও ২২ শতক পৈতৃক জমি দেই এ শর্তে যে, অন্য কাউকে দিয়ে ওই জমি এওয়াজ করে দিবেন বা বাজারমূল্য আমাকে পরিশোধ করবেন। লেখক এ শর্ত পালনের নিশ্চয়তা দেন।

প্রকাশ থাকে যে, গ্রামে ৪টি মসজিদসহ মাদ্রাসা, এতিমখানা, প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও রাস্তা নির্মাণে আমার পিতার সম্পদ ও জমি দান করা হয়েছে। লেখকের চাচাতো ভাই মুজিবর রহমান মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কথা বলে কবরস্থানে না এসে ওই ২২ শতক জমির কিছু মূল্য পরিশোধ করেন। তার অফিসে কয়েকবার গিয়ে তাকে ওই ২২ শতক জমি দলিল রেজিস্ট্রি করে নিতে ও বাকি টাকা পরিশোধ করতে অনুরোধ করলেও তিনি তা করেননি। লেখককে বললে তিনি উত্তর দেন- ‘বিষয়টি নিয়ে তাকে যেন বিরক্ত না করি।’ কবরস্থানের উন্নয়নে ওই ক্রেতার প্রস্তাব থাকা ও জমির সমুদয় মূল্য পরিশোধসহ দলিল না করা সংক্রান্ত লেখকের যাবতীয় উক্তি মিথ্যা ও আমাকে অপমান করার শামিল এবং কবরস্থানের জমিতে আমার উদ্যোগে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষক নিয়োগে সম্পৃক্ত থাকা এবং টাকা লেনদেন করার বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটা আমার সম্মানে আঘাত করেছে, যা দণ্ডবিধির ৫০০ ধারার অপরাধের শামিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের সঙ্গে আমার ‘খাতির’ থাকা সম্পর্কিত বক্তব্য সত্য নয়। মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিশুশ্রেণীর মাদ্রাসা করার সিদ্ধান্ত থাকলেও শর্ত মোতাবেক কেউ জমি ও ঘর প্রদান না করায় সেখানে সেটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। পরে সাবেক এমপি মহোদয়ের জ্ঞাতসারে এটি বাইনতলা ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে গ্রামের সাধারণ মানুষের অনুরোধে আমি ওই কবরস্থানের বাইরের জমি থেকে দান করার সম্মতি দেই। সদ্য বন্ধ হওয়া ড. জিল্লুর রহমান কিন্ডারগার্টেনের ঘরটিতে ওই মাদ্রাসার ক্লাস চলমান রয়েছে, যার শিক্ষক ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কেন্দ্র থেকে বহুপূর্বে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। লেখককে মাদ্রাসার বিষয়টি বললে তিনি সেখানে ঈদগাহ করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু এর ফলে গ্রামে বিদ্যমান হাজী মেহের আলী ঈদগাহের ক্ষতি হবে ও গ্রামে বিভেদ সৃষ্টি হবে বলে তা মানতে অস্বীকার করি। ওই কবরস্থানের জমি বা বিক্রির চুক্তিকৃত জমি মাদ্রাসায় দেইনি।

দেবিতলা, খেজুরমহল, কিসমত কুমলাই, গাব্বুনিয়া ও কুমলাই গ্রামে ১৯৬৩-১৯৬৫ সাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। লেখক অসত্যভাবে বলেছেন, এই গ্রামে গাব্বুনিয়ায় একটি ও শরাফপুর মাদ্রাসা নামে অন্য একটি মাদ্রাসা আছে। এটি কুমলাই থেকে দুটি গ্রামের দূরত্বের মাদ্রাসা। তার কথিত গ্রামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধিক্য, পর্দা টানিয়ে পাঠদান ও ছাত্র সংকট সংক্রান্ত বক্তব্য সঠিক নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছোটখাটো ত্র“টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করা শোভা পায় না। শুধু শিক্ষকদের বেতন-ভাতার কারণেই প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করেছেন, এমন বক্তব্যও সঠিক নয়।

অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.