‘সমবায় খামার প্রকল্প’ বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা

  মো. দেলওয়ার হোসেন মোল্লা ২৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আন্তর্জাতিক কৃষি অর্থনীতিবিদ আরএল কোহেনের মতে, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো শিল্প হল কৃষি।’ মানুষ তার প্রয়োজন বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে কৃষিকার্যের উদ্ভব ঘটিয়েছে। তাই কৃষি আজও পৃথিবীর আদিম পেশা ও জীবিকার উৎস। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে কৃষি হল অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু আমাদের কৃষি ব্যবস্থা অনুন্নত। কৃষি খামারে ক্ষুদ্রায়তন ও বিচ্ছিন্নতা সমস্যা আমাদের কৃষি উন্নয়নের পথে বিরাট বাধা স্বরূপ। এসব সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে আমাদের কৃষির দক্ষতা বৃদ্ধিতে সমবায় খামারের ভূমিকা অপরিসীম,এতে কোনো সন্দেহ নেই। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, অনুন্নত দেশের পরিবর্তিত ভূমি ব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কৃষিতে সমবায় খামার একটি আদর্শ পন্থা। সুতরাং বাংলাদেশের কৃষি ক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যার আলোকে সমবায় খামারের গুরুত্ব রয়েছে। এ দেশের কৃষক সমবায় সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে সমবায় সমিতি গঠনে উৎসাহ বোধ করে না। তাই সমবায় কর্মকাণ্ডের সুফল সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক প্রচার ও প্রকাশনা জরুরি। এ দেশের জনগণ সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে বলে কৃষিতে আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। ফসল উৎপাদনের পর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে তাদের প্রায়ই লোকসানের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ফলে তারা কৃষি উৎপাদনের প্রতি আগ্রহ হারাতে বসেছে।

উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাবে কৃষকরা আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে চাষাবাদ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সুষম বণ্টনের অভাবে সরকারি বরাদ্দের সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন নতুন ফসল চাষাবাদে উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে উদ্যম হারিয়ে ফেলছে। বহুবিধ কারণে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অবস্থান দেয়া প্রয়োজন। পল্লী এলাকার অধিকাংশ জনগণের মূল পেশা কৃষি। এ কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমবায় খামার প্রকল্প বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা সুফল বয়ে আনতে পারে। সমবায় খামার হল, অধিক উৎপাদনের জন্য কৃষক সদস্য সমন্বয়ে সমবায় সমিতি গঠন করে সমবায়ভিত্তিক যৌথ খামার পরিচালনা করা। এ খামারের মালিকও এককভাবে সদস্যরা হবেন। এ খামার ব্যবস্থার অনেক সুবিধা রয়েছে। যেমন-

১. এ চাষ ব্যবস্থায় জমির মালিকানা অক্ষুণ্ণ রেখে অধিক উৎপাদনের আশায় জমির মালিকরা স্বেচ্ছায় জমি একত্রিত করে সম্মিলিতভাবে জমি চাষাবাদ করে থাকে।

২. জমির খণ্ড-বিখণ্ডতা রোধ করে বৃহদায়তন চাষ পদ্ধতি প্রবর্তন করা সম্ভব হয়।

৩. এ ব্যবস্থায় উৎপাদনে অর্থের সংস্থান করা সহজ হয় এবং এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও দরিদ্র কৃষকের আর্থিক অসুবিধা দূর করা সম্ভব।

৪. এ খামার সমবায় ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ার কারণে খামারের আয়-ব্যয়ের হিসাবাদি সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষিত হয়। ফলে আর্থিক তছরুপের ভয় থাকে না।

৫. এ খামার ব্যবস্থাপনায় সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে সদস্যরা দৈনন্দিন মজুরি বা সম্মানী লাভ করে এবং অন্যদিকে খামারের লাভ নির্দিষ্ট হারে ভোগ করে থাকে।

৬. সমবায় ব্যবস্থার মাধ্যমে এ খামারের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সুষ্ঠু বাজারজাতকরণও সম্ভবপর হয়।

ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশ সমবায় ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সাধন করতে সক্ষম হয়েছে। স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সদয় নির্দেশনায় ১৯৭১ সালে আধুনিক সমবায় পদ্ধতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইআরডিপি প্রতিষ্ঠিত হয়; যা ১৯৮২ সালে বিআরডিবি নামে রূপান্তরিত হয়ে অদ্যাবধি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিআরডিবির নিয়ন্ত্রণে সব উপজেলায় উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির (ইউসিসিএ) মাধ্যমে দ্বিস্তর সমবায় পদ্ধতি বাস্তবায়িত হচ্ছে। কিন্তু দ্বিস্তরবিশিষ্ট সমবায় পদ্ধতির সম্প্রসারণমূলক কোনো নতুন কর্মপরিকল্পনা বিআরডিবি কর্তৃক প্রণীত হচ্ছে না।

জনসচেতনতামূলক প্রচার ও প্রকাশনার মাধ্যমে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করে সমবায়ের প্রতি আস্থাশীল করে তোলা উচিত। বিআরডিবির দ্বিস্তরবিশিষ্ট সমবায় পদ্ধতির আওতায় কৃষক সমবায় সমিতি গঠন করে সমবায় ভিত্তিতে কৃষি খামার পরিচালনা করলে কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এ জন্য দেশের প্রতিটি গ্রামকে এ ব্যবস্থার আওতাভুক্ত করতে হবে। এর ফলে দেশে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, যা খামার সদস্যদের পারিবারিক, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা জিডিপিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তাই বিআরডিবি দ্বিস্তরবিশিষ্ট সমবায় পদ্ধতির সফল বাস্তবায়নে সমবায় খামার প্রকল্প প্রতিষ্ঠার কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের যৌক্তিকতা রয়েছে বলে মনে করি।

সভাপতি, মেহেন্দিগঞ্জ ইউসিসিএ লি., মেহেন্দিগঞ্জ, বরিশাল

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter