শেষ মুহূর্তে ইভিএম বিতর্ক কেন?

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  অলিউর রহমান ফিরোজ

সামনের একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন যেভাবে বিতর্কিত হয়ে পড়ছে, তাতে দেশের মানুষের মনে নানা কৌতূহলের জন্ম দিচ্ছে।

তড়িঘড়ি করে কেন হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে ইভিএম আনতে হবে, যে ইভিএম এখনও আমাদের দেশে বলা চলে অপ্রচলিত। সবচেয়ে বড় কথা হল, এ যন্ত্রটি দিয়ে স্বচ্ছ নির্বাচন সম্ভব নয়।

অনেক উন্নত দেশে ইতিমধ্যে ইভিএম পদ্ধতি বিতর্কিত হয়ে পড়ায় তারা এটি বাতিল করে পূর্বের ব্যালট পেপারে ফিরে গেছে। এ অবস্থায় ইসির এ ধরনের উদ্যোগ সত্যিই দুঃখজনক।

একজন কমিশনার ইভিএম কেনার বিপক্ষে মত দিয়ে সভা বর্জন করেছেন। কিন্তু তারপরও একাদশ সংসদ নির্বাচন যখন একেবারে দোরগোড়ায়, এ মুহূর্তে এমন একটি প্রকল্প দুর্নীতিকে আরও উসকে দেবে।

ইভিএম কিনলে মিলবে কোটি কোটি টাকার কমিশন। নীতি-নৈতিকতার প্রশ্নও দেখা দিয়েছে আলোচ্য ইভিএম পদ্ধতি। সব দলের অনুমোদন ছাড়া ইভিএম কেনা হলে, তা হবে চূড়ান্ত অনিয়ম।

বেশ কয়েকদিন ধরে ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে নানা ধরনের কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে। সিইসি বলছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। আবার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অতি দ্রুত ইভিএম কেনার সব আয়োজন সম্পন্ন করা হচ্ছে।

তাহলে এতে কী বোঝা যায়? সত্যিই কি নির্বাচন কমিশন আসন্ন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করবে না, নাকি নির্বাচনের শেষ সময়ে এসে বড় প্রকল্পের কমিশন হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না। নির্বাচনের প্রাক-মুহূর্তে ইভিএম বিতর্ক নিঃসন্দেহে জটিলতা তৈরি করেছে।

একটি বিষয় পরিষ্কার আর তা হল- ক্ষমতাসীন দল যে ইভিএম পদ্ধতি চাচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তারা এবার ১০০ আসনে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহার করতে চাচ্ছে। আর এখানেই সবার মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে।

তারা কি তাহলে ইভিএমের মাধ্যমে অন্তত ১শ’ আসন নিশ্চিত করতে চাচ্ছে? এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আগামী নির্বাচন অনেক জটিলতা তৈরি হবে, যা নিঃসন্দেহে ভাবনার বিষয়। সংবিধানের আলোকে একাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে কিনা, এটিই এখন দুশ্চিন্তার বিষয়।

অবশ্য ইভিএম পদ্ধতিতে যেতে হলে আরও আইনগত আরও কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। এ অবস্থায় ইভিএম পদ্ধতি নির্বাচন তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে কিনা, এটিই এখন দেখার বিষয়।

রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ