বিমসটেক সম্মেলন ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা

  জাহিদুল ইসলাম ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিমসটেক সম্মেলন ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা

সম্প্রতি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সমাপ্ত হল বিমসটেকের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলন। বিমসটেককে বলা হয় সার্ক ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধের একটি জোট।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশকে নিয়ে ১৯৯৭ সালে গঠিত হয় বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন বা বিমসটেক নামক আঞ্চলিক জোট। বাংলাদেশ এই জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য।

শুরুতে বাংলাদেশ ভারত, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ডকে নিয়ে এই জোটের যাত্রা শুরু হলেও পরে মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান বিমসটেকে যোগ দেয়।

বিমসটেকের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও সহযোগিতার এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বিমসটেকের রয়েছে ১৪টি সহযোগিতার ক্ষেত্র। এগুলো হল- বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, জলবায়ু, পরিবহন ও যোগাযোগ, পর্যটন, মৎস্য, কৃষি, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, পরিবেশ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সন্ত্রাসবাদ দমন ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ।

বিমসটেকের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সদস্য দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত লাভজনক ও সময়োপযোগী। কিন্তু বাস্তবে বিমসটেকের সাফল্য এখনও প্রশ্নাতীত। তাই চতুর্থ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের সম্মিলিত প্রতিশ্র“তির পরও প্রতিষ্ঠার ২১ বছরে বিমসটেকের সাফল্য হাতেগোনা?’

একমাত্র নেপাল ছাড়া বিমসটেকের সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ২০১৭ সালে সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৭৬৩ দশমিক ২৮ মিলিয়ন ইউএস ডলার। ভুটানের সঙ্গে ১৬ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন, শ্রীলংকার সঙ্গে ১৪ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।

একটি দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি নির্ভর করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অর্থাৎ আমদানি ও রফতানির ওপর। কারণ এর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্পর্ক জড়িত। বিমসটেক ৪র্থ শীর্ষ সম্মেলনে বিমসটেক গ্রিড ইন্টারকানেকশন শীর্ষক এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এই সমঝোতার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ, এ খাতে বিনিয়োগ এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয়ের মূল্য নির্ধারণের বিষয়গুলো এই কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হবে। সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোটের সদস্য দেশগুলোর সাগর ও নদীপথে ক্রুজশিপ চালুর কথা বলেন।

বৈঠকে ভুটান ও নেপালের সমুদ্রবন্দর না থাকা সম্পর্কিত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন- এ দুই দেশ পর্যটনের জন্য বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে পারে।

বিমসটেক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিকতার সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। বিমসটেকের মাধ্যমে আন্তঃবাণিজ্য সম্প্রসারণের বিশাল সুযোগ রয়েছে। আশা করা যায়, বাংলাদেশ এ জোটের মাধ্যমে সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে।

শিক্ষার্থী, রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.