সাথী ফসল হিসেবে লাউ ও আদা চাষ লাভজনক

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  জিয়াউল হক

সাথী ফসল হিসেবে লাউ ও আদা চাষ

আদা চাষের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে সবজি চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব। আদার সঙ্গে লাউ, ডাঁটা শাক, ধুন্দল, চাল কুমড়া ও করলা চাষাবাদ করে আর্থিকভাবে সফলতা অর্জন করেছেন চাষীরা।

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় ধান, মৌসুমী ফল, শাক-সবজি ও মসলা চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। দু’ফসলি-তিন ফসলি এসব জমিতে কৃষি বিভাগের নির্দেশনায় মৌসুমভিত্তিক চাষাবাদ ও পরিচর্চা করে আর্থিক স্বচ্ছলতা পাচ্ছে কৃষক।

বিগত বছরগুলোয় নকলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ করেছেন, যার মধ্যে ছিল টমেটো, আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, লাউ, বেগুন, ঝিঙা, করলা ও বিভিন্ন ধরনের শাক।

আদা চাষে ছায়ার প্রয়োজন হয় বলে জমিতে লাউ চাষের মাচা তৈরি করে সাথী ফসল হিসেবে আদা চাষ করে খুব সহজেই লাভবান হওয়া সম্ভব। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আদা চাষের সঙ্গে একই জমিতে নিয়ম অনুযায়ী লাউ, ঝিঙ্গা, পটল চাষ করে সফলতা আসায় এ পদ্ধতিতে ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এখানকার কৃষকরা।

নকলা উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তীসহ বিভিন্ন নদী ও খাল বিলের পার্শ্বের জমিতে শাক-সবজি চাষের বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে কৃষক লাভবান হচ্ছেন। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী নারায়ণখোলা গ্রামের সুরুজ আলী এবছর ৩৫ শতাংশ জমিতে একই সঙ্গে লাউ ও আদা চাষ করেছেন।

মাচায় লাউ এবং মাটিতে আদা। গত ৩ বছরে এ পদ্ধতিতে লাউ ও আদা চাষের মাধ্যমে ভালো মুনাফা পেয়েছেন তিনি। লাভজনক হওয়ায় এবছর তিনি ৩৫ শতাংশ জমিতে লাউয়ের মাচার নিচে একইসঙ্গে প্রায় ৫ মণ আদা লাগিয়েছেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেল- বর্তমানে লাউয়ের মাচার নিচে কিছু আগাম লাউ ঝুলছে। সেইসঙ্গে রোপনকৃত আদা গাছ গুলোও বেশ বড় হয়েছে।

সুরুজ আলী জানান, এখানে প্রতিদিন ৪-৫ জন শ্রমিক ২-৩শ’ টাকা মজুরিতে নিয়মিত কাজ করছে। সার প্রয়োগ, সেচ খরচ ও শ্রমিক খরচ বাদে ৩৫ শতাংশ জমি থেকে ২ লক্ষাধিক টাকা আয় হবে বলে তিনি আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ জানান- সুরুজ আলী একই জমিতে একই খরচে দু’তিন জাতের ফসল উৎপাদন করে এলাকার বেকার যুবকদের অনুপ্রাণিত করেছেন। এখন তার দেখাদেখি এলাকার অন্যরাও তাদের জমিতে সাথী ফসল চাষ শুরু করেছেন।

ডিপ্লোমা কৃষিবিদ, নকলা, শেরপুর

[email protected]