হোটেলে পচাবাসি খাবার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  তাইফুর রহমান মুন্না

দেশের অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরাঁর আজকাল বেহাল অবস্থা। নষ্ট খাবার অসাধু ব্যবসায়ীরা এমনভাবে পরিবেশন করছে. যাতে বোঝার কোনো সাধ্য নেই, কোনগুলো নষ্ট খাবার আর কোনগুলো ভালো খাবার। ব্যবহৃত তেল পরের দিনের জন্য রেখে দেয়া হচ্ছে। বাসি বা পচা তেলে তৈরি খাবার এখন বিভিন্ন হোটেলে অহরহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

রাস্তার পাশে বা অলিগলিতে থাকা হোটেলগুলোয় ভেজাল খাবার হরদম পরিবেশন করা হচ্ছে। সেখানে নোংরা পরিবেশে রান্না চলছে। কোনো কোনো হোটেলের পিছনে ও চারপাশে বিষাক্ত কেমিক্যালের কারখানা চোখে পড়ে। ময়লার স্তূপের পাশেই চলছে রান্নার কাজ। বিড়াল-কুকুর খাবার শুঁকে যাচ্ছে অথবা মুখ দিচ্ছে। এসব খাবারই সবার অজান্তে বিক্রি করা হচ্ছে।

শহর পর্যায়ে অনেক হোটেল সড়ক-মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় রাস্তার ধুলোবালি সব খাবারে মিশছে। ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে আকর্ষণীয় খাবারগুলো খোলামেলাভাবে দোকানের বাইরে রেখে দিচ্ছে। মাঝেমধ্যে প্রশাসন নড়েচড়ে বসলে কিছুদিনের জন্য ভেজাল খাবার পরিবেশন বন্ধ থাকে। তবে ক’দিন পরে আবার একই অবস্থা চলতে থাকে। আজকাল অনেক হোটেলে মরা মুরগি জবাই করে তা দিয়ে আকর্ষণীয় খাবার তৈরি করা হচ্ছে। এর পেছনে একটি অসাধু চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। মুরগি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে হোটেল মালিকরা যোগসাজশ করে অসুখে ভোগা বা মরা ব্রয়লার মুরগিগুলো লোকচক্ষুর অন্তরালে হোটেলে নিয়ে আসে। পরে এগুলো জবাই করে মুখরোচক খাবার তৈরি করা হয়, যা খেলে শরীরে জটিল রোগের উৎপত্তি ঘটে। হোটেলের পচাবাসি খাবার খেয়ে অনেক মানুষ আজ কঠিন পীড়ায় ভুগছে; কিডনি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ- হোটেল-রেস্তোরাঁর পরিবেশ উন্নত করতে বাধ্য করার পাশাপাশি পচাবাসি খাবার পরিবেশন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন।

কাছিকাটা মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট