দুর্নীতি থেকে মুক্তির উপায় কী?

  রুম্মান আহমদ চৈৗধুরী ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতি থেকে মুক্তির উপায় কী?

আমাদের আছে দুর্নীতিতে ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইতিহাস। আমাদের দেশে রাস্তার কাজে এক কিলোমিটারে যে খরচ হয়, তা দিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় কয়েক কিলোমিটার রাস্তার কাজ করা যায়। সরকারি কোনো কাজের জন্য টাকা বরাদ্দ হলে কাজ শুরুর আগেই প্রায় অর্ধেক খরচ হয়ে যায়।

এই টাকা লুট করে কারা? আমরা এমন এক অবস্থার মধ্যে আছি- প্রাইমারি স্কুলের সামান্য দফতরির চাকরি নিতে গুনতে হয় লাখ টাকা? আর এর উপরের স্তরের যেসব চাকরি আছে, তাতে তো বেশুমার টাকার কারবার চলে। এদেশে সরকারি চাকরি হল সোনার হরিণ। আমার তো মনে হয়, সরকারি এমন কোনো বিভাগ নেই, যেখানে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয় না? বস্তুত দুর্নীতি আমাদের দেশে এখন ওপেন সিক্রেট কারবার।

প্রায়ই পত্রিকায় বিভিন্ন জায়গায় দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হয়। আমাদের অবস্থা এমন যে, মন্ত্রী অপারগ হয়ে বলেছিলেন- ঘুষ কমিয়ে খেতে; আমরা সেটা নিয়ে কৌতুক বানিয়েছি? আমাদের দেশে ফোনালাপ অতি তাড়াতাড়ি ফাঁস হয়, কিন্তু যারা দুর্নীতি করে বা বিভিন্ন কেলেঙ্কারির জন্ম দেয়; তাদের ফোনালাপ ফাঁস হয় না অথবা হতে অনেক দেরি হয়। বাস্তবতা হল, একজন যত ভালো কর্মীই (রাজনৈতিক) হোক; দলীয় কোনো পদবি পেতে হলে তাকে নেতার মন খুশি করতে হয় এবং নিজস্ব কর্মী বাহিনী সৃষ্টি করতে হয়। এ কর্মী বাহিনীর পেছনে নিশ্চয়ই তাকে টাকা খরচ করতে হয়?

আমার প্রশ্ন হল, সেই টাকা আসে কোথা থেকে? কারণ সে নিজেই তো ছাত্র। তাহলে এর মাধ্যমে কি তাকে পরোক্ষভাবে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে না? বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মীরা নোংরা রাজনীতি করতে বাধ্য। দেখা যাবে- কেউ নিজেই হয়তো নোংরামি করছে; নতুবা নোংরামিকে সমর্থন দিতে বাধ্য হচ্ছে।

আর যারা ‘গ্র“পের’ মূল কারিগর, তাদের হাতে তো কয়েকশ’ ছেলেপেলে থাকে? এই এতগুলো ছেলেপেলে পুষতে গিয়ে যদি কেউ টাকাওয়ালা না হয়, তাহলে এত টাকা কোথায় পাবে? ফলে তারাই দুর্নীতির নায়ক হয়ে উঠছে। তারা পাচ্ছে দুর্নীতির মহাশিক্ষা? এর সত্যতা জানতে চাইলে দয়া করে আপনার এলাকার ‘গ্র“পিং রাজনীতি’র খবর নিন।

এই তো কিছুদিন আগে দেখলাম- সড়কে কাজ হচ্ছে। সেখানে পিচ ঢালাই না করে ইট দেয়া হচ্ছে। হয়তো সংস্কার করা হচ্ছে। পিচ ঢালাই ভাঙার পর পিচের ছোট ছোট কালো টুকরাগুলো মানুষ নিয়ে যাচ্ছে।

হঠাৎ দেখলাম, কিছু লোক পিচের কাছে রাখা ইটগুলো ঠেলাগাড়িতে করে নিয়ে নিচ্ছে? উপরে পিচের টুকরা দিয়ে আবৃত করেছে, যাতে ইটগুলো দেখা না যায়। ভালোভাবে খেয়াল না করলে চুরির বিষয়টি বোঝা একেবারেই সম্ভব নয়। কারণ তখন ছিল রাত। বিষয়টি নিয়ে ভাবতে গিয়ে খুব কষ্ট হল। মনে হল- সাধারণ মানুষদের অবস্থা যদি এমন হয়, তাহলে যাদের ক্ষমতা আছে- তারা কী করতে পারে!

যাহোক, দুর্নীতির ইতিহাস গেয়ে লাভ নেই? তা আমরা সবাই কিছু না কিছু জানি? কথা হল, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যাবে কিভাবে? এর উত্তর হল- সততা আর সদিচ্ছা। ক্ষমতাবান মানুষের চেয়ে সাধারণ জনগণ সংখ্যায় অনেক বেশি। তাই ক্ষমতাবানরা যদি ঠিক হয়ে যায়, তাহলে এমনিতেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

যদি দেশের প্রথম সারির অফিসাররা ঠিক হয়ে যান, তাহলে তাদের অধীনে যারা আছে; তাদের ঠিক হতে সময় লাগবে না।

যদি প্রতিজন সংসদ সদস্য ঠিক হয়ে যান, তাহলে তার নাম ভাঙিয়ে কেউ দুর্নীতি করার সাহস করবে না। কয়েক কোটি জনতাকে সংশোধন করতে বেগ পেতে হবে না, যদি কয়েক হাজার অফিসারকে ঠিক করা যায়। আর যদি প্রভাব খাটানো বন্ধ করা হয়, তাহলে অবশ্যই ইনসাফ কায়েম হবে।

ক্যান্সার যেভাবে মানুষকে আস্তে আস্তে মৃত্যুর দোরগোড়ায় নিয়ে যায়, দুর্নীতি ঠিক সেভাবেই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়? যেহেতু মরণব্যাধি ক্যান্সারের ওষুধ বের হয়েছে। এখন অনেকের ক্যান্সার থেকে মুক্তি পাওয়ার খবর পাওয়া যায়? আমরাও যদি দুর্নীতি নামক ক্যান্সারের ওষুধ সঠিকভাবে প্রয়োগ করি, তবে প্রিয় জন্মভূমি থেকে দুর্নীতি উৎখাত করা সম্ভব?

শিক্ষার্থী, জালালপুর জালালীয়া ফাজিল সিনিয়র মাদরাসা, সিলেট

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×