সশস্ত্র বাহিনী দিবস

সশস্ত্র বাহিনী ও গণমাধ্যমের আন্তঃসম্পর্ক

  নূর ইসলাম হাবিব ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সশস্ত্র বাহিনী ও গণমাধ্যমের আন্তঃসম্পর্ক

গণমাধ্যম বর্তমান যুগে সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। গণমাধ্যম কোনো বিষয়ে ব্যক্তি, গ্রুপ এমনকি নীতিনির্ধারণী ব্যক্তিদের প্রভাবিত করতে পারে। জনমত গঠনে গণমাধ্যমের রয়েছে বিরাট ভূমিকা। সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে জনমত গড়ে তোলে গণমাধ্যম।

কোনো সামাজিক ইস্যু কিংবা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জাতীয় উন্নয়নে অগ্রাধিকার, জাতীয় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ, জাতীয় সমস্যা চিহ্নিতকরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ভূমিকা রাখে। গণমাধ্যমের রয়েছে ব্যাপক প্রভাব বিস্তারকারী ক্ষমতা।

কখনও কখনও এ ক্ষমতা রাষ্ট্রের ক্ষমতাকেও অতিক্রম করে যায়। এসব কারণে সামরিক বাহিনীও গণমাধ্যমের প্রভাবের বাইরে থাকতে পারে না। তাছাড়া বর্তমান যুগে যুদ্ধ শুধু সামরিক বাহিনীর একার পক্ষে সম্ভব নয়। এখানে জড়িত থাকে অনেক পক্ষ। যুদ্ধকালে গণমাধ্যমের থাকে বিরাট ভূমিকা।

যুদ্ধকালে সৈন্যদের মনোবলের ওপর প্রভাব ফেলে গণমাধ্যম। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ সৈন্যদের মনোবল ভেঙে দিতে পারে। অবার শক্রপক্ষের ওপর সফল আক্রমণের খবর সৈন্যদের মনোবল চাঙা করে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়।

সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্পর্ক খুবই স্পর্শকাতর। কেননা উভয়েরই রয়েছে সমাজ ও রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা। সামরিক বাহিনী রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। অপরদিকে গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। জাতীয় নিরাপত্তা বিধানে সামরিক বাহিনী ও গণমাধ্যম যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রেখে চলেছে।

গণমাধ্যম জনগণ ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করে। সমাজের অন্যান্য উপাদানকে একই মঞ্চে নিয়ে আসে। সামরিক বাহিনীও সমাজ এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে এ প্রক্রিয়ার বাইরে থাকতে পারে না। সামরিক বাহিনী গণমাধ্যমের প্রভাবের বাইরে নয়।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দেশে-বিদেশে তাদের প্রশংসনীয় ভূমিকার জন্য সুনাম অর্জন করেছে। বিশেষ করে বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় উন্নয়ন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন, অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় কাজ করে আসছে।

গণমাধ্যমকর্মীরা প্রায়ই বলে থাকেন, গণমাধ্যমের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর একটা দূরত্ব রয়েছে। কোনো ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক বাহিনীর মতামত পাওয়া যায় না বলে তাদের অভিযোগ আছে। সামরিক বাহিনী সম্পর্কে যখন সংবাদ লেখা হয়, তখন তথ্যপ্রাপ্তিতে সমস্যা হয়, সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তাকেও পাওয়া যায় না।

সামরিক কর্তৃপক্ষ জাতীয় নিরাপত্তা ও ‘অফিসিয়াল সিকরেট অ্যাক্ট’-এর নামে তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করে। তাদের আরও অভিযোগ- সামরিক বাহিনীর সদস্যরা গণমাধ্যমের প্রতি বন্ধুবৎসল নয়।

গণমাধ্যম সম্পর্কে সামরিক বাহিনীরও বিশেষ কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল- অপারেশনাল চাহিদা এবং সামরিক সংগঠন সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীদের জ্ঞানের স্বল্পতা। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের অধীনে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী যে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছে সেসব বিষয়ে গণমাধ্যমের ধারণা পর্যাপ্ত নয়। তারা মনে করে, গণমাধ্যম তুলনামূলকভাবে কম বস্তুনিষ্ঠ। গণমাধ্যম পক্ষপাতমূলক, একপেশে, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ পরিবেশন করে।

গণমাধ্যম সবসময় ব্যর্থতাকে গুরুত্ব দেয়, সাফল্যকে নয় এবং অপ্রচলিত-অস্বাভাবিক ঘটনাকে ফলাও করে প্রচার করে। আর একটি অভিযোগ হল- কিছু কিুছ গণমাধ্যম সেনাবিদ্বেষী এবং সামরিক বাহিনীর সংবাদ ন্যায্য প্রভাবন থেকে বঞ্চিত। সামরিক বাহিনীর অভাব-অভিযোগও গণমাধ্যমে অনুপস্থিত। শুধু নেতিবাচক ঘটনা ঘটলে গণমাধ্যম সক্রিয় ও সোচ্চার হয়ে ওঠে এবং প্রতিষ্ঠানকে ইমেজ সংকটে ফেলে দেয়।

গণমাধ্যম সাধারণত প্রতিরক্ষা বাজেট, প্রতিরক্ষা ক্রয়, বড় রকমের কোনো ব্যর্থতা, শৃঙ্খলা ভঙ্গ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ পদোন্নতি-নিয়োগ-অবসর, অসদাচরণ ও সেনানিবাস সম্প্রসারণ বিষয়ে প্রচার-প্রকাশে আগ্রহী।

উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদেশি সামরিক প্রতিনিধির সফর, যৌথ মহড়া-অনুশীলন, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর বার্ষিক মহড়া, শান্তিরক্ষা মিশন ইত্যাদি বিষয়েও আগ্রহী। তাছাড়া জাতি গঠনে ও উন্নয়নমূলক কাজে সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণ, সন্ত্রাস দমন এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সশস্ত্র বাহিনীতে নারীর যোগদান ইত্যাদি বিষয়েও গণমাধ্যম সংবাদ-ফিচার প্রকাশ করে থাকে।

গণমাধ্যম থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে পারে না। তাই ক্রম অগ্রসরমান ও প্রভাব বিস্তারকারী গণমাধ্যমের গুরুত্ব অনুধাবন করে সামরিক বাহিনীকে গণমাধ্যম নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। সামরিক বাহিনীকে আয়ত্ত করতে হবে তাদের সাফল্যগাথা, সাহস ও বীরত্বগাথা মিডিয়াকে বলার কৌশল।

গণমাধ্যমকর্মীদের আমন্ত্রণ জানাতে হবে কম্ব্যাট ইউনিটে, অনুশীলন এলাকায় ও সেনানিবাসের বিভিন্ন স্থাপনায়। যথাসময়ে গণমাধ্যমকে তথ্য সরবরাহ ও তথ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন সম্ভব। বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।

প্রতিরক্ষা বাজেট, প্রতিরক্ষা ক্রয়, অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে মিডিয়া ব্রিফিংকে গণমাধ্যমকর্মীরা স্বাগত জানায়। প্রতিরক্ষা বিষয়ে যেমন- সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় গণমাধ্যম ও সামরিক বাহিনীর ভূমিকা, সামরিক কূটনীতি ইত্যাদি বিষয়ে মাঝেমধ্যে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম করা যেতে পারে।

প্রতিরক্ষা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বিষয়ে জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি করা যায়। প্রতিরক্ষা তথ্য প্রচারে সম্প্রতি গঠিত বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

নিয়মিত যোগাযোগ গণমাধ্যমের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করে। গণমাধ্যকর্মীর ওপর বিশ্বাস স্থাপন ভালো ফল বয়ে আনে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের প্রভাব বিবেচনায় রাখা যেতে পারে। যথাযথ সমালোচনা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ ভুল থেকে বিরত থাকা যেতে পারে। গণমাধ্যম সবসময়ই দ্রুত তথ্য যাচাই চায়। কেননা তারা কাজ করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে। তাছাড়া রয়েছে গণমাধ্যমের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা। অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা পত্রপত্রিকার অনলাইন সংস্করণের চাহিদা আরও তাৎক্ষণিক।

এজন্য যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ের মধ্যে মিডিয়াকে তথ্য দিতে হবে। মিডিয়ার সঙ্গে কোনো ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কথা বলার অনুমতি দিতে হবে। নীরব থাকলে তার ফল সবসময় খারাপ হয়। গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করলে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। মানবাধিকার বিষয়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া যেতে পারে। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) একমাত্র সংস্থা হিসেবে সামরিক বাহিনী ও গণমাধ্যমের মধ্যকার সম্পর্কোন্নয়নে সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষে প্রতিরক্ষা তথ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে আইএসপিআর। গণমাধ্যম ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে সেতুবন্ধের দায়িত্ব পালন করে আইএসপিআর।

গণমাধ্যম ও সশস্ত্র বাহিনী উভয়ই আইএসপিআরের কাছ থেকে সহায়তা নিতে পারে তাদের মধ্যকার দূরত্ব হ্রাস করতে, পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে। ভুল বোঝাবুঝি দূর করে পারস্পরিক সমঝোতাপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে আইএসপিআরের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

বিশ্বাস, আস্থা এবং সৌহার্দপূর্ণ মিডিয়া-মিলিটারি সম্পর্ক গঠনে আইএসপিআর নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে প্রতিরক্ষা গণমাধ্যম নীতিমালা নেই এবং সামরিক বাহিনী ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশিক্ষণের সুবিধাও নেই, তারপরও বর্তমানে বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্পর্ক খুবই ভালো।

প্রতিটি সংকটকালে প্রথমদিকে তথ্যের শূন্যতা থাকে। এ শূন্যতা পূরণে কার্যকর যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই। সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও বেতারের মতো গণমাধ্যমের এখন ছড়াছড়ি। তাছাড়া আছে নিয়ন্ত্রণহীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, সংকটকাল আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গে সে খবর প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যবস্থাপকদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার আগেই তা গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বিডিআর বিদ্রোহ : ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা সদর দফতরে বিডিআর জওয়ানদের কর্তৃক ভয়াবহ বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এ সময় বিডিআর জওয়ানরা এক জঘন্য ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এতে সেনাবাহিনীর ৫৭ চৌকস, দক্ষ, সাহসী ও মেধাবী সেনাকর্মকর্তা, দু’জন সেনাকর্মকর্তার স্ত্রী, একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা ও একজন সৈনিক নিহত হন।

এ সময় আইএসপিআর কর্তৃক মিডিয়া ব্যবস্থাপনা ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। বিদ্রোহ শুরু হওয়ার ১ ঘণ্টার মধ্যেই আইএসপিআর টিভি চ্যানেলে প্রচারের জন্য একটি ঘোষণা পাঠায়। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ রাইফেলসের সদস্যদের প্রতি আহ্বান শিরোনামে ঘোষণাটি ছিল এরকম- ‘বিডিআরের সম্মানিত সদস্যরা অবিলম্বে সব ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ বন্ধ করুন এবং অস্ত্র সমর্পণ করে ব্যারাকে ফিরে যান।’

যে কোনো সংকটকালের প্রথমদিকের বড় চ্যালেঞ্জ হল সঠিক তথ্যের অভাব। পিলখানায় কী ঘটছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না আইএসপিআরের কাছে। ফলে প্রথমদিকে মিডিয়াকে কোনো তথ্য দেয়া যায়নি। মিডিয়া প্রকৃত ঘটনা না জেনেই সরাসরি সম্প্রচার করতে থাকে, যা ছিল উসকানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর এবং সেনাবাহিনীর জন্য মর্যাদাহানিকর।

তবে পরবর্তীকালে মিডিয়া তার ভূমিকা পরিবর্তন করে এবং বিডিআর জওয়ানদের ন্যক্কারজনক ও ঘৃণ্যতম কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলে। আইএসপিআর সেনাবাহিনীর বক্তব্য জনসাধারণের কাছে তুলে ধরার জন্য ২৮ ফেব্র“য়ারি প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।

জনাকীর্ণ এ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সেনাবাহিনী পিলখানা ঘটনার বিস্তারিত জনগণের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়। সেনাবাহিনী ৩ মার্চ আইএসপিআরের মাধ্যমে পুনরায় সংবাদ সম্মেলন করে। এভাবে মিডিয়া বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ধারায় ফিরে আসে।

বিপথগামী বিডিআর জওয়ানদের কর্তৃক গুম করার উদ্দেশ্যে শহীদ সেনাকর্মকর্তাদের মরদেহ মাটিচাপা দেয়া হলে পর্যায়ক্রমে তা বের করে আনা হয়। মর্মন্তুদ এসব দৃশ্য, জানাজা ও সামরিক মর্যাদায় দাফনের দৃশ্য, স্বজনদের আর্তনাদের চিত্র মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারিত হলে দেশব্যাপী নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রথমে সেনাকর্মকর্তাদের নামে যে কলঙ্ক লেপনের অপচেষ্টা হয়েছিল, তা নস্যাৎ হয়ে যায়। সেনাবাহিনী আবার ফিরে পায় গৌরবদীপ্ত মর্যাদার আসন।

সাভারে রানা প্লাজা ধস : ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১০০ জনের বেশি পোশাক শ্রমিক মারা যান। ৩৫ হাজার বর্গফুটের পাঁচতলা বিশাল ভবনে আটকে পড়াদের উদ্ধার ও ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কঠিন দায়িত্বে নিয়োজিত হয় সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সরকারের অন্যান্য সংস্থা ও বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী এ কাজে অংশ নেয়। এ সময় মিডিয়া ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয়া হয় আইএসপিআরকে।

পরিচালকের নেতৃত্বে আইএসপিআরের একটি টিম সার্বক্ষণিক এখানে কাজ করে। উদ্ধার অভিযানের সর্বশেষ তথ্য মিডিয়াকে জানানোর জন্য প্রতিদিন পরিচালক কর্তৃক একাধিকবার প্রেসব্রিফিং করা হতো। মিডিয়া ব্যবস্থাপনায় আইএসপিআরের ভূমিকা সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

নিয়ন্ত্রিত সফর : নিয়ন্ত্রিত সফরের আয়োজন সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক উন্নত করে এবং কোনো অনুষ্ঠানের ভালো মিডিয়া কভারেজ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। বাহিনী সদর দফতরের সহযোগিতায় আইএসপিআর প্রায়ই এ ধরনের সফরের আয়োজন করে থাকে।

তিন বাহিনীর শীতকালীন-বার্ষিক মহড়া, জাতীয় উন্নয়নে সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের জন্য সরেজমিন পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। তাছাড়া জাতিসংঘ মিশন এলাকায় সাংবাদিকদের নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে তারা বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের কার্যক্রম সরাসরি পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ-প্রচার করতে পারেন।

সবশেষে বলা যায়, সামরিক বাহিনী অনেক ভালো কাজ করছে জনকল্যাণে, যা গণমাধ্যমের সাহায্যে প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী জনগণের প্রতিষ্ঠান। জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী অতন্দ্রপ্রহরীর কাজ করে।

এ কাজটি সফলভাবে করার জন্য জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহায়তা প্রয়োজন। গণমাধ্যমেরও প্রতিরক্ষা তথ্য প্রয়োজন, প্রতিরক্ষা তথ্যের সঠিকতা যাচাই প্রয়োজন। তাছাড়া যুদ্ধ ও সংঘর্ষ চলাকালে তাদের প্রয়োজন নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীর সহায়তা। এজন্যই সামরিক বাহিনী ও গণমাধ্যমের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ সম্পর্ক খুব প্রযোজন। কিছু কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এ সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে হবে পারস্পরিক স্বার্থে।

নূর ইসলাম হাবিব : সহকারী পরিচালক, আইএসপিআর; সাবেক সাংবাদিক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×