স্বদেশ ভাবনা

প্রশ্নগুলো নির্বাচন কমিশন এড়াতে পারে না

  আবদুল লতিফ মন্ডল ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশ্নগুলো নির্বাচন কমিশন এড়াতে পারে না

দেশের সংবিধান জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করেছে।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গঠিত নির্বাচন কমিশন ছাড়া আর কোনো কমিশন এ পর্যন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম হয়নি। কারণ ক্ষমতায় থাকা দলীয় সরকারগুলোর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে পরিচালিত হয় ওইসব নির্বাচন।

কমিশনের ভূমিকা ছিল নিতান্তই গৌণ। চলমান পরিস্থিতিতে বর্তমান কমিশনও আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানে সক্ষম হবে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেন এ প্রশ্ন, তা আলোচনা করাই এ নিবন্ধের উদ্দেশ্য।

প্রথমে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে আসা যাক। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, গণতান্ত্রিক বাম জোটসহ আরও কয়েকটি দল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দাবি জানালে তা আমলে না নিয়ে ২৩ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করে কমিশন ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করে।

এতে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষদিন নির্ধারণ করা হয় ১৯ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন নির্ধারিত হয় যথাক্রমে ২২ ও ২৯ নভেম্বর। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট, ইসলামী আন্দোলন ও যুক্তফ্রন্ট ওই তফসিলে আপত্তি জানিয়ে তা পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানায়।

নির্বাচনী তফসিল এক মাস পিছিয়ে দেয়ার জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১১ নভেম্বর কমিশনকে একটি চিঠি দেয়। নির্বাচনী তফসিল এক মাস পিছিয়ে দেয়ার দাবির বিপরীতে কমিশন মাত্র এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১২ নভেম্বর পুনরায় তফসিল ঘোষণা করে। পুনঃঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষদিন ২৮ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২ ডিসেম্বর। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন ৯ ডিসেম্বর।

নির্বাচনী তফসিল এক মাস পেছানোর পরিবর্তে মাত্র এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়ায় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ১৪ নভেম্বর কমিশনের সঙ্গে দেখা করে নির্বাচন কমপক্ষে তিন সপ্তাহ পেছানোর জন্য কমিশনকে অনুরোধ জানান।

কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন তিন সপ্তাহ পেছানোর পক্ষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা যেসব যুক্তি তুলে ধরেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- স্বল্পসময়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক দলীয় কাজ গুছিয়ে আনা সম্ভব না হওয়া, সংসদের মেয়াদ ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকায় জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে ভোট হলে আইন ও সংবিধানের সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরির সম্ভাবনা না থাকা, স্কুলগুলোর বার্ষিক পরীক্ষা নির্বিঘ্নে শেষ করা, বড়দিনের ছুটি কাটিয়ে দেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়া এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে সহজ পথ তৈরি হওয়া। এদিকে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর ওইদিনই (১৪ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচন আর এক ঘণ্টার জন্যও না পেছানোর দাবি জানায়।

১৬ নভেম্বর কমিশনের সচিব সাংবাদিকদের জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের তারিখ না পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। নির্বাচন না পেছানোর পক্ষে যেসব যুক্তি তুলে ধরা হয় সেগুলো হচ্ছে- কোথাও পুনর্নির্বাচন ও উপনির্বাচন প্রয়োজন হলে জানুয়ারিতে তা সম্পন্ন করা, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করা এবং জানুয়ারির দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব ইজতেমায় লক্ষাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত করা।

এখানে উল্লেখ করা দরকার, তবলিগ জামাতের বিবদমান দুটি পক্ষ জানুয়ারিতে পৃথক পৃথক তারিখে ইজতেমা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়ায় ১৫ নভেম্বর অর্থাৎ কমিশন সচিবের সংবাদ সম্মেলনের দিনই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশ্ব ইজতেমা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো আসনে পুনর্নির্বাচন প্রয়োজন হলে তা অনুষ্ঠানে যথেষ্ট সময় পাওয়া যেত।

নির্বাচিত ও শপথ গ্রহণ করা কোনো সংসদ সদস্যের মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ খালি হলে সংবিধান ৯০ দিনের মধ্যে ওই শূন্যপদে নির্বাচনের নির্দেশনা দিয়েছে। সুতরাং কমিশনের যুক্তিগুলো জোরালো নয়। তাই জনমনে যে ধারণাটি

জন্মেছে তা হল, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আর ‘এক ঘণ্টার’ জন্যও নির্বাচন না পেছাতে চাপ সৃষ্টি করায় কমিশন নির্বাচন আর পেছাতে রাজি হয়নি। অতএব ‘নির্বাচনে কোনো দল বা দলীয় নির্দেশনার কাছে কমিশন মাথানত করবে না’- এ মর্মে সিইসি যে অঙ্গীকার করেছেন, তা কার্যত ভঙ্গ করা হয়েছে।

দুই. সংবিধান জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করলেও কমিশনের পক্ষে এ নির্বাচন পরিচালনা করে মূলত মাঠপ্রশাসন। আর নির্বাচন পরিচালনার মূল ক্ষমতা থাকে রিটার্নিং অফিসারের হাতে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) রিটার্নিং অফিসারের ক্ষমতা ও দায়িত্বের বর্ণনা রয়েছে।

ক্ষমতা ও দায়িত্বের মূল কথা হল- সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রিটার্নিং অফিসার আরপিও এবং এর অধীনে প্রণীত বিধিমালায় প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সবকিছু করবেন। সবকিছুর মধ্যে রয়েছে- প্রিসাইডিং অফিসার এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ, কমিশন নির্ধারিত তারিখে অনুষ্ঠেয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক তার এলাকাধীন প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাছাই এবং যৌক্তিক কারণে কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল, বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ, বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ, তার নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় প্রতিটি সংসদীয় আসনে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীর ও অন্যান্য প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা উল্লেখপূর্বক গণবিজ্ঞপ্তি জারি এবং নির্ধারিত ফরমে কমিশনের কাছে সমম্বিত বিবরণী প্রেরণ।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে কাকে নিয়োগ দেয়া হবে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা না থাকলেও কমিশন কর্তৃক জেলা প্রশাসককে (ডিসি) রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ প্রদান একটা নিয়মে পরিণত হয়েছে।

প্রশাসন ক্যাডারের উপসচিবদের মধ্য থেকে ডিসি এবং সিনিয়র স্কেলপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ইউএনও হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এ ব্যবস্থায় সংশোধন আনার জন্য বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সুশীলসমাজের একটি অংশ এরই মধ্যে প্রস্তাব করেছে।

গত বছর ৩১ জুলাই থেকে ২৪ আগস্ট সময়কালে সুশীলসমাজ, গণমাধ্যম, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, পর্যবেক্ষক সংস্থা, নারীনেত্রী ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের সংলাপে দেশের দুটি বড় রাজনৈতিক দলের একটি বিএনপি, খেলাফত মজলিস, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনসহ আরও কয়েকটি দল একাদশ সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেয়ার প্রস্তাব করে।

যেহেতু নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ কমিশনের হাতে, সেহেতু কমিশনের নিজস্ব জনবল দিয়ে নির্বাচন করা যায় কি না, তা ভেবে দেখতে কমিশনকে অনুরোধ জানায় সংসদে বিরোধী দল এবং একই সঙ্গে সরকারে থাকা জাতীয় পার্টি। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা (সাবেক সিইসি ও নির্বাচন কমিশনাররা) কিছু স্থানে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব করেন। (সূত্র : নির্বাচনী সংলাপ ২০১৭)।

এসব সুপারিশ উপেক্ষা করে ক্ষমতাসীন দলের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে কমিশন দেশের ৬৪ জেলায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় বিভাগীয় কমিশনারদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ক্ষমতাসীন দলের ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং সরকারের বিশ্বাসভাজন কর্মকর্তাদের এসব পদে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে।

তিন. ‘পৃথিবীর কোনো দেশে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। বাংলাদেশেও হবে না’ এবং ‘বড় পাবলিক নির্বাচনে যে অনিয়ম হবে না, এটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না’- যথাক্রমে একজন নির্বাচন কমিশনার ও সিইসির এমন মন্তব্যে জনমনে ভোট নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

তারা মনে করছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না, তার ইঙ্গিত কমিশন জনগণকে আগেই দিয়ে রাখল। এতে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের সদিচ্ছা না থাকার মনোভাবই প্রকাশ পেয়েছে। তাছাড়া ‘পৃথিবীর কোনো দেশে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না’- এ বক্তব্য সত্য নয়। শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় এমন অনেক দেশ পৃথিবীতে আছে।

চার. আচরণবিধি প্রয়োগে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা নেয়ার সময় মিছিল ও শোভাযাত্রা করে নির্বাচনী আচরণবিধি বড় দুই দলই ভঙ্গ করেছে।

এতে ক্ষমতাসীনদের ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখালেও মাঠের বিরোধী দল বিএনপির ক্ষেত্রে কঠোর ছিল কমিশন। আচরণবিধি কার্যকরের নামে পুলিশি অ্যাকশনে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এই বিধি প্রয়োগে কমিশন শুরুতেই আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে কঠোর হলে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। এতে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে কমিশন যে আগ্রহী নয়- এমন মনোভাবেরই প্রকাশ ঘটেছে।

পাঁচ. নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির হাজারও নেতাকর্মী ‘গায়েবি ও হয়রানিমূলক’ মামলায় আটক রয়েছে। এদের বাইরে তফসিল ঘোষণার পরও দলটির শত শত নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে।

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সারা দেশ থেকে আটক হওয়া ৪৭২ জন নেতাকর্মীর একটি তালিকা দলটি কমিশনে জমা দিলেও কমিশন এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কারণে বিরোধী দল বা গোষ্ঠীর হাজার হাজার নেতাকর্মীকে আটক রেখে নির্বাচন করা হলে তা সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির নামে প্রহসন হবে মাত্র। এতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের অনাগ্রহই প্রকাশ পাবে।

ছয়. ৩০ ডিসেম্বর ব্যাংকের বার্ষিক হিসাবায়ন চূড়ান্তের দিন। ওইদিন ভোট হওয়ায় অনেক ব্যাংকার থাকবেন নির্বাচনী দায়িত্বে। ভোটের আগের দু’দিন ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর আবার সাপ্তাহিক ছুটি। তার আগের দু’দিন ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর ব্যাংক খোলা থাকলেও ব্যাংকাররা ব্যস্ত থাকবেন প্রশিক্ষণ গ্রহণসহ নির্বাচনী কাজে। ভোটের পরদিন আবার ব্যাংক হলিডে। সব মিলিয়ে ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের কারণে বার্ষিক হিসাবায়ন নিয়ে দুর্ভাবনায় আছেন ব্যাংকাররা। বিষয়টি কমিশনের বিবেচনায় নেয়ার দাবি রাখে।

সবশেষে বলতে চাই, এখনও সময় আছে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপ রুখে দিয়ে কমিশনের সাহসী ও সোজা হয়ে দাঁড়ানোর। আগামী সংসদ নির্বাচন যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, দেশের অধিকাংশ মানুষ এখন পর্যন্ত তা বিশ্বাস করে না। এ বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব মূলত কমিশনের।

তাদের যেসব কর্মকাণ্ড মানুষের মনে এ বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে সেগুলো সংশোধন করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচনে জনগণের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যথায় দলীয় সরকারগুলোর শাসনামলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হয়ে অতীতের কমিশনগুলো যেভাবে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে, বর্তমান কমিশনের ভাগ্যেও তা-ই ঘটবে।

আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×