শতফুল ফুটতে দাও

কেউ যেন বলতে না পারে বীরের জাতি পথ হারিয়েছে

  ড. মাহবুব উল্লাহ্ ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তানি,

বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে দুটি জাতীয় দিবস পালন করা হয়। এর একটি হল ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং আরেকটি হল ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। একটি রাষ্ট্রে ২টি জাতীয় দিবস পালন একটু ব্যতিক্রমী মনে হয়। ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস হলেও ওই দিবসে আমরা স্বাধীন ছিলাম না। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ২৫ মার্চের মধ্যরাতে যে গণহত্যার সূচনা করে তার মধ্য দিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রটির সঙ্গে আমাদের ক্ষীণতম সূত্রের সম্পর্কটিও ছিন্ন হয়ে যায়।

জাতি হিসেবে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম ওদের সঙ্গে এক রাষ্ট্রের আওতায় বাস করা সম্ভব নয়। পাকিস্তানি হানাদারদের হত্যাযজ্ঞের সূচনালগ্নেই ঘোষিত হল আমাদের স্বাধীনতা। এ কারণেই ২৬ মার্চ আমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করি। কিন্তু সম্পর্কের সূত্র ছিন্ন করে আমরা স্বাধীন হতে পারলাম না। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য এদেশের জনগণ জনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল। এ জনযুদ্ধে আমাদের সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। বীরের রক্তস্রোত, মায়ের অশ্রুধারার মধ্য দিয়ে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে আমরা জয়লাভ করলাম।

১৬ ডিসেম্বর অপরাহ্নে পাকিস্তানি বাহিনী রমনার রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করল। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ কমান্ড গঠিত হলেও পাকিস্তানিরা শর্ত দিয়েছিল তারা কোনোক্রমেই মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তাদের এই শর্ত ভারতের ইস্টার্ন কমান্ড মেনে নিয়েছিল। ইস্টার্ন কমান্ডের নেতৃত্বে ছিলেন লে. জে. জগজিৎ সিং অরোরা। পাকিস্তানি বাহিনীর এই গোয়ার্তুমির মূলে কোনো শক্তি ছিল না। তারা ভেবেছিল মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করলে তারা কচুকাটা হবে। কারণ তারা ইতিহাসের এক জঘন্যতম গণহত্যার সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছিল।

পাকবাহিনী যখন আত্মসমর্পণ করে সেই দৃশ্য দেখার সুযোগ আমার হয়নি। কারণ আমি ছিলাম কারারুদ্ধ। ১৯৭০-এর ২১ মার্চ আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তখন আমি ছিলাম পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। তার অনেক আগেই আমার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বের অবসান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান হওয়ার ফলে এবং এই অভুত্থানে অন্যতম নেতা হওয়ার ফলে আমার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হতে পারেনি।

১৯৭০-এর ২২ ফেব্রুয়ারি আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বাধীন গণতান্ত্রিক পূর্ববাংলার কর্মসূচি উত্থাপন করা হয় প্রকাশ্যে ঢাকার পল্টন ময়দানের এক জনসভায়। এ জনসভায় ছাত্র ইউনিয়নের কিছু সাবেক ও দায়িত্ব পালনরত নেতা বক্তব্য উপস্থাপন করে। এই জনসভাটি সাধারণ কোনো জনসভা ছিল না। এটি ছিল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণার দারুণ স্পর্ধা। আমাদের সবার বিরুদ্ধে সামরিক আইনে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। দুর্ভাগ্যক্রমে আমি ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হয়ে যাই।

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সেই সময় পশ্চিম পাকিস্তান সফরে যাচ্ছিলেন। বিমানবন্দর থেকে বের হতেই মিস্টার লোদি নামে একজন পুলিশ বিভাগের ডিএসপির নেতৃত্বে আমাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে শুনেছিলাম এই বাঙালি পুলিশ অফিসারটিও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন শহীদ হন। ইতিহাসের এই বিপরীতমুখী ঘটনার পক্ষে এই মুহূর্তে আমার পক্ষে কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না। ইতিহাসের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম গবেষকরা একদিন হয়তো এ রহস্যের উন্মোচন করবেন।

সংক্ষিপ্ত সামরিক আদালতে আমার বিচার হয় এবং আমাকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১৫ বেত্রদণ্ড প্রদান করা হয়। সামরিক আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর, যিনি ধর্ম বিশ্বাসের দিক থেকে ছিলেন হিন্দু, তিনি আমাকে অনুরোধ করলেন বেত্রদণ্ড মওকুফের জন্য আমি যেন সামরিক আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমি ঘৃণাভরে এ পরামর্শ প্রত্যাখ্যান করলে পুলিশ অফিসারটি আমাকে বললেন, বেত্রদণ্ড কি আপনি বোঝেন?

আমি বললাম, খুব বুঝতে পারি। এর ফলে আমার দেহের যে কোনো অঙ্গ চিরতরে অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। আমি জানতাম, আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের সময় কমিউনিস্ট নেতা কাজী আবদুল বারীকে বেত্রদণ্ড দেয়া হয়। এর ফলে কাজী আবদুল বারী চিরতরে তার শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেন। আমার এটাও জানা ছিল, একই সময়ে পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হাসান নাসিরকে লাহোর দুর্গে চরম নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। শেষ পর্যন্ত আমার বেত্রদণ্ড জনচাপে প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু কারাগারে সেই নির্দেশ আসতেও কয়েক মাস সময় লেগে যায়। আমার এক বছর কারা মেয়াদ শেষে প্রত্যাশিত মুক্তি হয়নি। আমাকে নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার দেখানো হয়।

১৯৭০-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুটি আসন বাদে সবকটি আসনে জয়লাভ করে। এর ফলে আওয়ামী লীগ পরিণত হয় পাকিস্তানের একক বৃহত্তম নির্বাচিত রাজনৈতিক দল হিসেবে। পাকিস্তানি জেনারেলরা ধারণা করেছিলেন আওয়ামী লীগের পক্ষে এমনভাবে জয়ী হওয়া সম্ভব হবে না। তারা দক্ষিণপন্থী দলগুলোকে বিজয়ী করার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিল। তাদের এ ঘৃণ্য প্রচেষ্টা যখন সফল হল না, তখন তারা নানারকম ফন্দিফিকির ও ষড়যন্ত্র শুরু করল।

এসব ষড়যন্ত্রের বহির্প্রকাশ হিসেবে জাতীয় সংসদের নির্ধারিত অধিবেশন স্থগিত করা হল। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে জুলফিকার আলী ভুট্টো হুমকি দিলেন, কোনো পশ্চিম পাকিস্তানি সংসদ সদস্য যদি ঢাকায় সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে যায় তাহলে তাদের ঠ্যাং ভেঙে ফেলা হবে এবং খাইবার থেকে করাচি পর্যন্ত তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ভুট্টোর পিপলস পার্টি পশ্চিম পাকিস্তানে ৮২টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা আওয়ামী লীগের ধারে কাছেও ছিল না। গণতন্ত্রের নিয়মানুযায়ী আওয়ামী লীগেরই সরকার গঠন করার কথা।

১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৬ দফা কর্মসূচির পক্ষে বিপুল গণরায় পেলেও পাকিস্তানি শাসকরা কিছুতেই এই কর্মসূচি মেনে নিতে পারছিল না। তাদের ধারণা ছিল এই কর্মসূচি সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হলে পাকিস্তান একটি শিথিল কনফেডারেশনে পরিণত হবে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান শর্ত আরোপ করলেন সংসদের বৈঠক বসার আগেই সংবিধান নিয়ে আওয়ামী লীগ ও পিপলস পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা হতে হবে।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ববাংলায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তুমুল অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। ৭ মার্চ ১৯৭১ রেসকোর্স ময়দানে বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান তার ১৮ মিনিটের ভাষণে জলদগম্ভীর কণ্ঠে উচ্চারণ করলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ তিনি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানালেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উচ্চারণ করলেন, আমাদের দাবায়ে রাখবার পারবা না।’

তার এই ভাষণটি ছিল সবদিক থেকে ঐতিহাসিক এবং ভাষার গাঁথুনির দিক থেকে কবিতা সমতুল্য। এরপর সমঝোতা আলোচনার নাটক চলল। প্রতিশ্রুতি দেয়া হল ২৫ মার্চ একটি টেলিফোন বার্তার মাধ্যমে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জেনারেল পীরজাদা দাবি মেনে নেয়া সম্পর্কে অবগত করবেন। ড. কামাল হোসেনের লেখা থেকে জানা যায়, সেই প্রতীক্ষিত টেলিফোন বার্তা আর আসেনি। শেখ মুজিবুর রহমানকে তার বাসস্থান থেকে কর্নেল জেডএ খান নামে এক সামরিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে গ্রেফতার করা হল। যুদ্ধের ৯ মাস তিনি পাকিস্তানের মিওয়ানওয়ালি কারাগারে বন্দি ছিলেন।

১৬ ডিসেম্বর পাকবাহিনী আত্মসমর্পণ করা সত্ত্বেও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রাজবন্দিরা কেউ মুক্তি পেল না। কারা ফটকে সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধারা রাজবন্দিদের মুক্তি দেয়ার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করল। কিন্তু জেলার নির্মল রায় ছিলেন অনড়। তার কথা হল নতুন রাষ্ট্র হয়েছে। এই রাষ্ট্রের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে ছাড়া হবে না।

এ অবস্থায় জেল হাসপাতালের কম্পাউন্ডার আবদুর রহমান বের হলেন নতুন রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায় কিনা, বিশেষ করে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রুহুল কুদ্দুস সাহেবকে। কিন্তু কাউকে পাওয়া গেল না। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের সবাই তখন কলকাতায়। এই পরিস্থিতিতে আবদুর রহমান সাহেব শরণাপন্ন হলেন লে. জে. জগজিৎ সিং অরোরার কাছে। কারণ কার্যত তার অধীনেই তখন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল। জেনারেল অরোরা একটি স্লিপের কাগজে লিখে দিলেন, Rt. all prisoners imprisoned by the Martial Law authority of Pakistan. এই কাগজের সুবাদে ১৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় শুধু রাজবন্দিরা নয়, সব বন্দিই জেল থেকে ছাড়া পেলেন।

কারণ জেলগেট খুলে দেয়া হয়েছিল। জেল থেকে বেরিয়ে আসার সময় সংবেদনশীল কিছু ঘটনা ঘটেছিল। তার বর্ণনা দেয়ার সুযোগ এখানে নেই। বর্ণনা করলে লেখাটি অনেক বড় হয়ে যাবে। আমার শুধু দুঃখ রইল স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব সরকারের নির্দেশে আমার কারামুক্তি সম্ভব হল না! বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের দেশে ফিরতে আরও ৫-৬ দিন সময় লেগেছিল।

কারামুক্তির পর ভারতের বিখ্যাত সাংবাদিক সুরজিৎ সেন আমার একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছিলেন, ভারত-বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক আপনি কীভাবে দেখেন? আমার জবাব ছিল রক্তস্রোতের মিলনের মধ্য দিয়ে (ভারত ও বাংলাদেশের) যে সম্পর্কটির সূচনা হল সেটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যে কোনো পক্ষের অনভিপ্রেত আচরণে এই সম্পর্কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং উভয় পক্ষকেই সম্পর্ক রক্ষার জন্য যত্নবান হতে হবে। বোধহয় আমি ভুল বলিনি।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। বাংলাদেশে এখন সাম্য অধরা হয়ে গেছে। মানবিক মর্যাদা অপমৃত হওয়ার উপক্রম। গণতন্ত্র গত ৪৭ বছরেও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল না। গণতন্ত্রের অপরাপর উপাদানগুলো তো দূরের কথা, সামান্য ভোটের অধিকারের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে। এবারের মহান বিজয় দিবসে আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক সাম্য প্রতিষ্ঠার, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার। কেউ যেন না বলতে পারে বীরের জাতি পথ হারিয়েছে।

তা যে কোনো পক্ষের ভুল পদক্ষেপের জন্য হোক না কেন। আশা করব ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ তার ঘোষিত আদর্শ ও লক্ষ্যের বিন্দুতে প্রত্যাবর্তন করবে। দক্ষিণ এশিয়া উপমহাদেশের বাংলাদেশই একমাত্র জাতিরাষ্ট্র, যেটি সশস্ত্র যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছে। এই স্বাধীনতার মূল্য অন্য যে কোনো নিয়মতান্ত্রিক পথে অর্জিত স্বাধীনতার চেয়ে বহুগুণ দামি।

ড. মাহবুব উল্লাহ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×