বড় ফ্যাক্টর তরুণ আর নারী ভোটার

  শামীমা চৌধুরী ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ছবি: যুগান্তর
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ছবি: যুগান্তর

নির্বাচনী প্রচারের হাওয়ায় দেশের শীত ঋতুতে এখন উষ্ণতার ছোঁয়া। বিশেষ করে তরুণদের ভেতর, নতুন ভোটারদের ভেতর, আর নারীদের ভেতর এর ছোঁয়া সবচেয়ে বেশি। আসন্ন নির্বাচনে প্রায় আড়াই কোটি তরুণ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।

প্রায় আড়াই কোটি তরুণ ভোটার আর পাঁচ কোটি নারী ভোটার পালটে দিতে পারে অনেক হিসাব-নিকাশ। এ তরুণদের আকৃষ্ট করতে নানা প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি তরুণ আর নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে প্রায় সব দল। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনগুলোয় পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারদেরই ভোট কেন্দ্রে বেশি উপস্থিত হতে দেখা যায়। তাই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে তারা এখন বড় ফ্যাক্টর।

এ দেশের মানুষ বিশেষ করে গ্রামবাংলার মানুষ নির্বাচন ও ভোট দেয়াকে উৎসবের মতো মনে করে। অনেক পেছনের দিকে না গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের চার সংসদ নির্বাচনের দিকে তাকালে এটা প্রতীয়মান হয়।

এরশাদ সরকারের পতনের পর গঠিত হয় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই ব্যবস্থায় ১৯৯১ সালে দেশে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সব বড় দল অংশ নিয়েছিল। এ নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছিল। এ ভোটারদের ভেতর নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক ছিল। এ নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে বিএনপি।

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান ও এনজিওদের মোর্চা বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ (বামাসপ) চার হাজার পর্যবেক্ষকের মাধ্যমে নির্বাচনটি পর্যবেক্ষণ করে। বামাসপের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়া নির্বাচনটিতে দৃশ্যমান কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।

এর মধ্যে ছিল তরুণ ও নারী ভোটারদের সরব উপস্থিতি, ভোট কেন্দ্র বিভিন্ন দল ও প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ, ভোটারদের মধ্যে ভয়-ভীতি কম, কর্মীদের মধ্যে নির্বাচনী আইন মেনে চলার ব্যাপারে সচেতনতা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া ইত্যাদি।

বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার পর ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। সব দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। এতে রেকর্ড সংখ্যক ৭৬ শতাংশ ভোট পড়ে। বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ। এরপর ২০০১ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৭৫ শতাংশ। বিজয়ী হয় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় সর্বশেষ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালে। ৮৭ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এটিই দেশে সংসদ নির্বাচনে ভোটদানের সর্বোচ্চ হার। এ নির্বাচনগুলোর হিসাব পাল্টে দেয়ার ক্ষেত্রে নারী ও তরুণ ভোটারদের ভূমিকা ছিল গুরত্বপূর্ণ।

এ অবস্থার আরও উন্নতি হয় নবম সংসদ নির্বাচনে এসে। নবম সংসদ নির্বাচনের পর যারা ভোটার হয়েছেন, তারাই তরুণ ভোটার। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর থেকে ১০ বছরে দেশে ভোটার বেড়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৮ জন।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনের সময় দেশে মোট ভোটার ছিল ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৩ জন। সে হিসাবে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় যোগ হয় ১ কোটি ৮ লাখ ৭৮ হাজার ১৬৪ জন নতুন ভোটার। এখন দেশে ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১ জন।

শুধু এবার ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ জন নতুন ভোটার। নির্বাচন কমিশন জানায়, নতুন ভোটারদের বয়স ১৮ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ২৬ বছর বয়সের ভোটার রয়েছেন ৪৭ লাখ, ২৩ বছরের ৭০ লাখ, ২১-২২ বছরের ৩৭ লাখ, ১৯-২০ বছরের ২৭ লাখ এবং ১৮ বছরের ৪৬ লাখ ভোটার রয়েছেন। আর ১ কোটি ২১ লাখ ৭৭ হাজার ২১৪ জন ভোটার একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথম ভোট দেবেন।

নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশই যেমন নতুন নেতৃত্ব দেখতে চায়, তেমনি মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর কারণে আওয়ামী লীগের উন্নয়নমুখী প্রয়াসের প্রতিও তারা আকৃষ্ট। তরুণদের বিষয়ে বিএনপিরও রয়েছে বড় পরিকল্পনা। এবারের সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১ জন (নির্বাচন কমিশন কর্তৃক চূড়ান্ত হিসাব)।

এবার নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৫ কোটি ২৫ লাখ ১২ হাজার ১০৫ জন। আর নারী ভোটারের সংখ্যা ৫ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৭৬ জন। অর্থাৎ নারী-পুরুষ ভোটারদের সংখ্যার ব্যবধান ৮ লাখ ৮১ হাজার ৮২৯ জন। আর পুরুষ ও নারী ভোটারের অনুপাত ৫০.৪২ : ৪৯.৫৮।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন ভোটারদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ভিন্ন মাত্রার। শিক্ষিত ও বয়সে তরুণ নারীরা ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলক সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদেরই ভোট দেবেন। বিষয়টি মাথায় রেখে রাজনৈতিক দলগুলোও এবারের নির্বাচনে নারী ভোটারদের বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

নির্বাচনী ইশতেহারে নারীর উন্নয়নের বিষয়টি পেয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা তরুণ ও নারী ভোটারদের গুরুত্ব দিয়েই তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। এখন অপেক্ষার পালা।

শামীমা চৌধুরী : গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কর্মী

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×