আসামের ‘বাঙালি সমস্যা’র স্বরূপ

  একেএম শামসুদ্দিন ২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসামের ‘বাঙালি সমস্যা’র স্বরূপ
আসামের ‘বাঙালি সমস্যা’র স্বরূপ। ফাইল ছবি

ভারতের বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার খুব পরিকল্পিতভাবে আসামে বসবাসরত বাঙালিদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করার মাধ্যমে বৈধ নাগরিকের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে বহিষ্কারের যে নীলনকশা প্রণয়ন করেছে, তা বাঙালি মাত্রই আমাদের পীড়া দেয়।

খোদ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। শুধু প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেই বসে থাকেননি, তিনি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে আসামের বাঙালিদের প্রতি সংহতি প্রকাশও করেছেন।

অবস্থাদৃষ্টে এটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, বিজেপি সরকার বাঙালি মুসলমানদের টার্গেট করেই তাদের জাতীয় নিবন্ধিকরণ প্রক্রিয়াটির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

যদিও তারা আদালতের এতদসংক্রান্ত একটি রায়ের দোহাই দিয়ে এ ব্যাপারে তাদের করণীয় কিছু নেই বলছে। তবুও ধর্মাশ্রিত বিজেপি সরকার আসামে নাগরিক হিসেবে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক বাঙালি মুসলমানদের ভারতে অনভিপ্রেত বলে মনে করে এবং অনেকটা গায়ের জোরে বাস্তুচ্যুত করার প্রক্রিয়াটি বেশ ভালো করেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

তারা সম্ভাব্য সব ধরনের ঘৃণিত উপায়ে জাতিগত- সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়িয়ে সে দেশের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে বাঙালিদের উৎখাতের যে ভয়ঙ্কর পদক্ষেপ নিয়েছে তা কোথায় গিয়ে শেষ হয় বলা মুশকিল।

তাদের এ ধরনের পদক্ষেপ যে আগামী নির্বাচন সামনে রেখে নেয়া হয়েছে, ভারতের সাধারণ মানুষ তা ভালোভাবে উপলব্ধি করে তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

উগ্র জাতীয়তাবাদী শক্তি বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার ফ্যাসিবাদী মতলব নিয়ে সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা চূড়ান্ত দরিদ্র ও অসহায় বাঙালি মুসলমানদের বিশেষ শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের মৌলিক অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এতে এক মারাত্মক মানবিক সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারতের এ উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ভালো চোখে দেখছে না। জাতিসংঘ ইতিমধ্যেই আসামে জাতীয় নাগরিকত্ব নিবন্ধনের এ প্রক্রিয়াকে বাঙালি মুসলমানদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে।

তারা ইতিমধ্যে এতদসংক্রান্ত একটি পর্যবেক্ষণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা সংকটের মতো আরও একটি মহাসংকট তৈরি হোক তা কখনই চায় না।

যে বাঙালি মুসলমানদের নিয়ে বিজেপি গভীর ষড়যন্ত্রে মত্ত সেই বাঙালি মুসলমানরাই এক সময়ের জঙ্গলাকীর্ণ আসামকে বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলেছিল। ব্রিটিশ আমলে এ আসাম ছিল কমিশনারশাসিত বিশেষ এলাকা।

এ বিশেষ এলাকায় আয়-উপার্জনের সুযোগ ছিল সীমিত। সে কারণে এখানে রাজস্ব আয়ও ছিল কম। যে কারণে আসাম কমিশনারশাসিত এলাকা হিসেবেই চিহ্নিত ছিল দীর্ঘদিন।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ যখন আসামকে প্রদেশ হিসেবে গঠনের উদ্যোগ নিল তখন প্রদেশ গঠনের জন্য যতটুকু রাজস্ব আয়ের প্রয়োজন হয়, আসামে ততটুকু রাজস্ব আদায়ের সুযোগ ছিল না।

অতঃপর প্রদেশ চালানোর মতো রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে, সে হিসাব কষে ১৮৭৪ সালে আসামের সীমান্তবর্তী তৎকালীন পূর্ববঙ্গের সিলেট জেলা এবং রংপুরের গোয়ালপাড়া মহকুমাকে আসামের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে আসাম রাজ্য গঠন করা হয়েছিল।

প্রদেশ গঠনের পর আসামকে প্রদেশ হিসেবে টিকে থাকতে হলে নিজস্ব আয় বাড়াতে হবে এবং তা কৃষিপণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও এ পণ্য থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে প্রদেশের সব ব্যয় বহন করা সম্ভব হবে বলে মনে করে ব্রিটিশরা কৃষি উৎপাদনে জোর দিয়েছিল; কিন্তু জঙ্গলে আবৃত আসামে সে পরিমাণে কৃষিজমি ছিল না।

এছাড়া কৃষিকাজে অভিজ্ঞ কৃষকেরও অভাব ছিল তখন। এ সমস্যা সমাধানে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তখন, পূর্ববঙ্গ থেকে ভূমিহীন কৃষককে আসামে স্থানান্তর এবং এসব কৃষকের জন্য বসতি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

আসাম ছিল জঙ্গলাকীর্ণ এলাকা। পরিকল্পনা মোতাবেক ব্রিটিশরা পূর্ববঙ্গের বৃহত্তর ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেট জেলা থেকে লাখ লাখ ভূমিহীন কৃষককে আসামে বসতি গড়ে তোলার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল।

সে সময় ত্রিপুরা এবং কুচবিহার থেকেও বাঙালিদের সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছিল। খেটে খাওয়া এ ভূমিহীন বাঙালি মুসলমানরাই সেদিন আসামের জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করে বিপুল পরিমাণ জমি চাষাবাদের উপযোগী করে গড়ে তুলেছিল।

কথিত আছে আসামের তেজপুর জেলা এমনই জঙ্গলাকীর্ণ ছিল যে, সেখানে কোনো উপজাতিও বসবাস করত না। পুরো এলাকায় ছিল হিংস্র জীবজন্তুর অভয়ারণ্য।

এ তেজপুর এলাকার জঙ্গল সাফ করে আবাদযোগ্য জমি তৈরি করতে শত শত বাঙালি মুসলমান তখন হিংস জন্তুর আক্রমণের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত পূর্ববঙ্গ থেকে যাওয়া কৃষকের কঠোর পরিশ্রমে আসামের গোয়ালপাড়া, নওগাঁ, দরংগ, কামরূপ ও তেজপুর জেলার জমি চাষাবাদের উপযুক্ত হয়ে ওঠে এবং অল্পসময়ের মধ্যেই আসাম শস্যভাণ্ডারে পরিণত হয়।

এর ফলে আসাম সরকার ও অসমীয়রা বাঙালি মুসলমানদের তখন বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করেছিল। কখনও পূর্ববঙ্গের এ কৃষকের সঙ্গে কোনো বিরোধে জড়িত হতো না।

অপরদিকে কৃষিজীবী এসব মুসলমান জায়গা-জমি পেয়ে এবং প্রদেশের প্রভূত উন্নয়নে অবদান রাখতে পেরে আসামকে নিজের মাতৃভূমি হিসেবেই গ্রহণ করেছিল।

উল্লেখ্য, পূর্ববঙ্গের বাঙালিরা সেখানে তখন ‘বাঙাল’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে থাকে। কৃষিপণ্য উৎপন্ন করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অবদান রাখা সত্ত্বেও শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক আচরণে অসমীয়দের তুলনায় বাঙালিদের দ্রুত এগিয়ে যাওয়াকে ওরা ভালো চোখে দেখল না।

এতে অসমিয়া নাগরিকদের ভেতর এক ধরনের ভীতির সঞ্চার হয়। অগ্রসরমান বাঙালিদের প্রভাবে অসমীয়রা ভবিষ্যতে হয়তো একদিন সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়ে পড়বে ভেবে তাদের মনে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়।

এ ধরনের আশঙ্কা ও আজগুবি চিন্তাভাবনা থেকে তৎকালীন তথাকথিত ‘অসমিয়া বুদ্ধিজীবী’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠী পূর্ববঙ্গের বাঙালিদের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম ‘বাঙাল খেদাও’ নামক আন্দোলন গড়ে তোলে।

এ আন্দোলনের জের ধরে আসাম সরকার বাঙালিদের অগ্রযাত্রাকে ঠেকানোর জন্য ‘লাইন প্রথা’ চালু করে। এ লাইন প্রথা হল, বাঙালি কৃষকের অধিকারযোগ্য ভূমির সীমারেখা চিহ্নিত করে লাইন টেনে দেয়া হতো, ফলে বাঙালিরা চিহ্নিত লাইনের বাইরে কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য অন্য কোনো জমি বন্দোবস্ত নিতে পারতেন না।

সে সময় বাংলাদেশের মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে আসামে অবস্থান করছিলেন। তখন তিনি মুসলিম লীগের টিকিটে আসাম পার্লামেন্টের সদস্যও ছিলেন।

এ তথাকথিত লাইন প্রথা চালু হলে মওলানা ভাসানী এর বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন করেছিলেন। ব্রিটিশ শাসন আমলে এ ‘লাইন প্রথা’র মাধ্যমে আসাম থেকে বাঙালি বিতাড়নের যে অশুভ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তারই আধুনিক সংস্করণ হল ভারতের বর্তমান ‘জাতীয় নাগরিকত্ব নিবন্ধন’ প্রক্রিয়া বা ‘এনআরসি’।

ভারতের লোকসভার নির্বাচনের আগে বিজেপি বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মুসলমান বাদে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী অভিবাসীদের ভারতের নাগরিকত্ব প্রদানে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিল।

সেজন্য দেশের প্রচলিত নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করা হবে বলেও কথা দিয়েছিল। এতে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পথটি অনেক সুগম হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি মোতাবেক উল্লেখিত দেশ থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন ও শিখদের নাগরিকত্ব দিতে ভারতের পার্লামেন্টে একটি বিল এনেছে বিজেপি।

বিজেপি চায় বিলটিকে আইনে পরিণত করতে। এ লক্ষ্যে প্রস্তাবিত বিলটি বর্তমানে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করার জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটি বা জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটি (জেপিসি)তে দেয়া আছে।

বিজেপির রাজেন্দ্র আগারওয়ালকে চেয়ারম্যান করে লোকসভার ২০ এবং রাজ্যসভার ১০ সদস্যকে নিয়ে জেপিসি গঠিত। পার্লামেন্টে বিলটি উত্থাপিত হওয়ার পরপরই আসামে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বলা যায়, বিলটিকে ঘিরে আসামের রাজনীতি এখন বেশ উত্তপ্ত।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে আসামের বেশ কয়েকটি সংগঠন ইতিমধ্যে দিল্লিতে আন্দোলনেরও ডাক দিয়েছে। তাদের দাবি তথাকথিত ‘বাংলাদেশি হিন্দু’দের নাগরিকত্ব তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে দিল্লিতে তারা ‘সত্যাগ্রহ’ করবে বলে জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা বিলটি এভাবে পাস হয়ে গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে আরও হিন্দু সীমানা পাড়ি দিয়ে সে দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করার সুযোগ পাবে।

অপরদিকে বিজেপির প্রাদেশিক সরকারের শরিক দল অসম গণপরিষদ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করালে রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে যাবে বলে হুমকি দিয়ে রেখেছে।

শুধু তাই নয়, বিজেপির বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলনও গড়ে তুলবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। তারা ইতিমধ্যে জেপিসির সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে বিলের বিরোধিতা করে এসেছে। উলফার অন্যতম সাবেক গেরিলা নেতা অনুপ চেটিয়া প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইনে সংশোধনী আনলে আসামজুড়ে আবারও রক্তগঙ্গা বইবে বলে হুশিয়ার করে দিয়েছেন।

এমন বিপুল বিরোধিতার ফলে আসামে বিজেপির রাজনৈতিক ঘুঁটির চালের হিসাবে কেমন যেন গোলমেলে হয়ে গেল। এখন তারা নাগরিকত্ব আইনে সংশোধনী আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।

অতএব জেপিসি বিলটির বিভিন্ন ধারা-উপধারাসহ অন্যান্য খুঁটিনাটি ব্যাপারে আলোচনা করে কী সুপারিশ করে তা দেখার বিষয়। ২৭ নভেম্বর জেপিসি নাগরিকত্ব (সংশোধিত) বিল প্রশ্নে আলোচনায় বসলে কমিটির সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক মতপার্থক্য দেখা দেয়। বিলের বিভিন্ন বিষয়ে সদস্যরা ঐকমত্য হতে ব্যর্থ হয়েছেন।

অপরদিকে বাংলাদেশের নির্বাচন সামনে রেখে ভারতের পার্লামেন্ট এ বিলের বিষয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে মনে হয় না। ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে ভারত সরকার বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করবে বলেই প্রতীয়মান।

বিশেষ করে বাংলাদেশের ভারতবিরোধী রাজনৈতিক শক্তি নির্বাচনের আগে এ বিষয়টিকে কাজে লাগাতে পারে ভেবে ভারতের আসন্ন পার্লামেন্ট অধিবেশনে নাগরিকত্ব (সংশোধিত) বিল নিয়ে আলোচনা না করে বাংলাদেশের নির্বাচনের পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে মনে হয়।

ধরে নেয়া যাক, বাংলাদেশের নির্বাচনের পরই পার্লামেন্টে আলোচনা করে ভারত এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। বিলটিকে কেন্দ্র করে ভারতে, বিশেষ করে আসামে যে জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাকে সামাল দিতে গিয়ে যদি ভারতের পার্লামেন্টে বিলটি পাস না হয়, তাহলে আসামের বাঙালিদের বিষয়ে কী হবে?

ভিটেমাটি ছাড়া করে কোথায় তাদের ঢেলে দেয়া হবে? ভারতের নাগরিকত্ব (সংশোধিত) বিল পাস হোক বা না হোক, বাংলাদেশ এ বিষয়ে কিছু ভেবে দেখেছে কি? কারণ, শুরু থেকেই ভারতের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী আসামের বাঙালিদের ‘বাংলাদেশি’ চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে আসছে।

প্রয়োজনে বাংলাদেশের ভূমি দখল করে হলেও আসামের বাঙালিদের এদেশে ঠেলে দেবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এ ব্যাপারে আমাদের বিশেষ চিন্তা করতে হয় বৈকি।

আমরা যতই বলি না কেন, আসামের ‘বাঙালি সমস্যা’ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তবুও এ সমস্যা মোকাবেলায় আমাদের যথাযথ প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়। কারণ বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য এটি একটি বিরাট হুমকি। ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন।

নির্বাচনের পর যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, আসামের ‘বাঙালি সমস্যা’র বিষয়টি বাংলাদেশের নতুন সরকার কীভাবে সামাল দেয়, এদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের তা দেখার বিষয়।

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×