ঘটনাবহুল বছর ২০১৮

  এ কে এম শামসুদ্দিন ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঘটনাবহুল বছর ২০১৮

২০১৮ সাল কেমন গেল? যদি পেছনে ফিরে দেখি তাহলে নিঃসন্দেহে বলা যায়, বাংলাদেশের জনগণ ২০১৮ সালে একটি ঘটনাবহুল বছর অতিক্রম করেছে। বিগত বছরের উল্লেখ করার মতো বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, যা সারা জাতিকে নাড়া গিয়ে গেছে।

উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযান, ‘কোটা সংস্কার’ আন্দোলন, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এছাড়া বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে এরকম একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করতেই হয়। আর সেটি হল ‘আসামের বাঙালি সমস্যা’। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যা তো আছেই।

তবে বিগত বছরগুলোর মতো ২০১৮ সালেও দেশব্যাপী ‘দুর্নীতি’ দাপিয়ে বেড়িয়েছে। গুম, খুন তো আছেই। গেল বছর বাংলাদেশের সাফল্য অর্জনও তেমন ছিল। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনে এগিয়ে যাওয়া এবং বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ। প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে চাহিদা মতো। উল্লিখিত ঘটনাবলির মধ্যে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবচেয়ে বেশি আলোড়িত করেছে মানুষকে সন্দেহ নেই।

‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ স্লোগান দিয়ে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযান আজও শেষ হয়েছে বলা যাবে না। এটি চলমান, মাঝেমধ্যে এদিক-ওদিক কিছু কিছু মাদক আটক হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যায়। তবে অভিযানটা শুরু হয়েছিল বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে। চারদিকে কেমন সাজ সাজ রব উঠেছিল। মে মাসে শুরু হওয়া এ অভিযান জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত বেশ বেগবান ছিল মনে হয়েছে। তারপর কেমন যেন ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ে। তখন পত্রিকার পাতা মাদকবিরোধী অভিযানের সংবাদে ভরে থাকতে দেখেছি; কিন্তু অভিযানের ধরন দেখে দেশবাসী বাহবা দেয়ার চেয়ে হতাশাই ব্যক্ত করেছে বেশি। অভিযানে অংশগ্রহণকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মুখচেনা মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থতা এবং একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মাদকবহনকারীদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করার ঘটনাবলি এদেশের মানুষকে আহত করেছে। মাদকসেবন আমাদের দেশে মহামারীর আকার ধারণ করেছে। যুবসমাজ বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ভেতর এর প্রভাব ছিল মারাত্মক। এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে দেশবাসী একে সাধুবাদ জানিয়েছিল; কিন্তু অভিযানের কিছু দিনের মধ্যে পক্ষপাতিত্বের স্বরূপ দেখে এবং অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু কিছু সদস্যের মাদকদ্রব্য আটক করে আবার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছেই বিক্রয় করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এ কারণে এ অভিযানের সাফল্য নিয়ে জনমানুষের ভেতর সংশয় দেখা দিয়েছিল যা কার্যত এখনও পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন বছরের অন্যতম ঘটনা। সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন কোটায় ৫৬ শতাংশ এবং বাকি ৪৪ শতাংশ মেধা তালিকা থেকে নিয়োগের বিধানের সংস্কার চেয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিল। ৫৬ শতাংশ কোটার মধ্যে ৩০ শতাংশই ছিল মুক্তিযোদ্ধা কোটা। আগে থেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা এ কোটাভুক্ত থাকলেও পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তারপরই কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবি নিয়ে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করলেও ধীরে ধীরে এ আন্দোলন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়ে। তারা এ সংক্রান্ত পাঁচ দফা দাবিও সরকারের কাছে পেশ করে।

পরবর্তী সময়ে পুলিশি বাধা এবং সরকারি ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের বেপরোয়ায়া আচরণে এ আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এ আন্দোলনকে সহিংস রূপ দিতে এবং আন্দোলনকারীদের দেশবাসীর কাছে হেয় করতে একটি মহল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটিয়েছিল। অগ্নিসংযোগকারীদের সিসি ক্যামেরায় দেখা গেলেও তাদের চিহ্নিত করে আজও আইনের আওতায় আনতে দেখা যায়নি। বরং এ অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য দায়ী করে উল্টো আন্দোলনকারী নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, তাদের হাতুড়িপেটা করে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়েছে। অথচ এসব হাতুড়িপেটা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া হল না। অতঃপর আন্দোলনের মুখে সরকার কোটা পদ্ধতি নির্ধারণে জাতীয় কমিটি গঠন করে গোটা কোটা পদ্ধতিই বাতিল করে দিয়েছে, যা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

২৯ জুলাই ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের দু’জন শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। এ দুর্ঘটনার পর সরকারের এক মন্ত্রীর নির্মম হাসি ও তার কিছু উটকো মন্তব্যে দেশব্যাপী স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ দাবি আদায়ের লক্ষ্যে লাগাতার আন্দোলন শুরু করে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন ছিল অনেকদিনের পরিবহন সেক্টরের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।

পরিবহন চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালনা ও পরিবহন শ্রমিকদের অসভ্য আচরণে গেল বছর গড়ে প্রতিদিন ১৩ থেকে ১৪ জনের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটেছে। সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি নারী ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনাও ঘটে বেশ কয়েকটি। অথচ এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছিল না। শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর কিছুদিন আগে ২১ জুলাই হানিফ পরিবহনের বাসচালক ও শ্রমিকরা মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ফুলদী নদীতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র পায়েলকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ ঘটনা পুরো দেশবাসীর বিবেককে প্রচণ্ডভাবে নাড়া দেয়। অথচ এসব পরিবহন শ্রমিকের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার মতো শক্ত কোনো আইনি ব্যবস্থা নেই।

একই সঙ্গে ট্রাফিক সদস্যদের অনৈতিক আচরণ ও নির্লিপ্ততা পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্যজনক পরিবেশ তৈরিতেও সাহায্য করেছে। এসব কিছু মিলিয়ে দিনে দিনে জমে থাকা ক্ষোভ শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থীদের বাসচাপায় মৃত্যুর ঘটনার মধ্য দিয়ে সারা দেশে বিক্ষুব্ধ আকার ধারণ করে এবং শিক্ষার্থীরা একযোগে রাস্তায় নেমে আসে এবং শহরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। এ সময় তারা সাধারণ মানুষ থেকে মন্ত্রীপর্যায়ের ব্যক্তিদেরও ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য করে।

আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীরা সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটলে পরিবহন শ্রমিকদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে নয় দফা দাবি সরকারের কাছে পেশ করে। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনকে দেশের জনসাধারণ ব্যাপক সমর্থন প্রদান করে। এরকম পরিস্থিতিতে দেশ অনেকটা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে।

পুলিশ প্রাথমিক পর্যায়ে সহনীয় মনোভাব প্রকাশ করলেও পরবর্তী সময়ে এসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অন্যায় আচরণ শুরু করে। কথিত আছে পুলিশের ছত্রছায়ায় সরকার সমর্থিত একটি অঙ্গ-সংগঠনের হেলমেট পরিহিত সদস্যরা শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। এতে শত শত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। গ্রেফতার হয় অনেকেই। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন এমন আলোড়ন সৃষ্টি করে যে, তাদের সমর্থনে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত মিছিল করে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার বরাবর স্মারকলিপি পেশ করে। এরকম পরিস্থিতিতে সরকার পরিবহন আইনের কিছুটা সংশোধন করলেও দেশবাসীকে তা সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

অর্থনৈতিক খাতে ‘দুর্নীতি’ ছিল গেল বছর সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। বিশেষ করে ব্যাংক খাতে দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে প্রচুর। ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি ও খেলাপি ঋণ নিয়ে মিডিয়ায় সারা বছর খবর প্রচারিত হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব অর্থ খাতের এ দুর্নীতিকে আরও বেগবান করেছে বলে মনে করা হয়। ঋণ নিয়ে ঋণ পরিশোধ না করার প্রবণতা ব্যাংক খাতকে করেছে বিধ্বস্ত। ২০০৯ সালে যেখানে খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা, তা গত সেপ্টেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকায়।

এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, গত জুনে খেলাপি ঋণ ছিল ৮৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ অর্থনৈতিক বছরের প্রথম তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার ৩০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, এত দ্রুত খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রবণতা শুরু হয় সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারির মধ্য দিয়ে। এরই ধারাবাহিকতায় অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি, বেসিক ও ফারমার্স ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি এবং জনতা ব্যাংকের ক্রিসেন্ট ও অ্যাননটেক্স গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি খেলাপি ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ।

ব্যাংক খাতের দুর্বৃত্তায়ন ও বিশৃঙ্খলার অন্যতম উদাহরণ হল জনতা ব্যাংকের অ্যাননটেক্স গ্রুপকে দেয়া ঋণ কেলেঙ্কারি। এ ব্যাপারে জনতা ব্যাংক বেশ সমালোচিতও হয়েছে। অ্যাননটেক্স গ্রুপের বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ঋণ শোধ না করায় জনতা ব্যাংক বর্তমানে বেশ বেকায়দায় আছে। কারণ অ্যাননটেক্স গ্রুপের বিদেশি ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধের গ্যারান্টার হয়েছিল জনতা ব্যাংক। এখন জনতা ব্যাংককে অ্যাননটেক্স গ্রুপের হয়ে শত শত কোটি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে।

জানা যায়, বিদেশ থেকে বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল ও অন্যান্য দ্রব্যাদির আমদানির জন্য অ্যাননটেক্স গ্রুপের খোলা ঋণপত্রের দায় হিসেবে আরও প্রায় ৪০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে জনতা ব্যাংককে। এখন পর্যন্ত জনতা ব্যাংক অ্যাননটেক্স গ্রুপের কাছে পাওনা প্রায় ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। অ্যাননটেক্স গ্রুপকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ প্রদানের জন্য ব্যাংকের তিনজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এখন তদন্ত হবে এবং হয়তো এসব কর্মকর্তার শাস্তিও হয়ে যাবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জমাকৃত এত বিপুল অঙ্কের টাকা কীভাবে উদ্ধার হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ব্যাংক খাতের কেলেঙ্কারি এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে, সরকারি মহলেও এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। এ ব্যাপারে পরিকল্পনামন্ত্রীর একটি বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি ৯ ডিসেম্বর পরিকল্পনা কমিশনের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘মেরামত করে ব্যাংক খাত চালানো যাবে না। এ খাতের ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। ব্যাংক খাতকে বাঁচাতে হলে সংস্কারের বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংক খাতের নীতির দুর্বলতা ছিল না। কিন্তু তদারকি খুবই দুর্বল ছিল। যদি শক্তহাতে তদারক করা যেত, তাহলে এসব ঘটনা ঘটত না।’ এখন প্রশ্ন হল, ব্যাংক খাতের কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত সেসব শীর্ষ কর্তাব্যক্তি আজ কোথায়, যাদের ওপর সঠিক পন্থায় তদারকির দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল? এসব কেলেঙ্কারির জন্য তাদের কারও বিরুদ্ধে কি কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে? অন্তত জনতা ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি ঘটনা সে কথা বলে না। জনতা ব্যাংকের মধ্যম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা রয়ে গেছেন এখনও লোকচক্ষুর অন্তরালে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ বেশ সমস্যায় আছে। বিশেষ করে নিরাপত্তাজনিত কারণে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আরও একটি ভয়াবহ সংকট বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছে আসামের বাঙালি মুসলমানদের নিয়ে। ভারতের মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ ব্যাপারে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা বাংলাদেশের জন্য মোটেও স্বস্তিকর নয়। আদালতের দোহাই দিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা যে একগুঁয়ে মনোভাব প্রকাশ করে চলেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আসামের বাঙালি সমস্যা ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলে আমরা যতই হালকাভাবে নিই না কেন, রোহিঙ্গাদের মতো একবার যদি বাঙালি মুসলমানদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয় তখন আর সেটা ভারতের অভ্যন্তরীণ ঘটনা থাকবে না। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এমনিতেই আমরা বেশ সমস্যায় আছি। এর ওপর অযাচিতভাবে ভারত যদি মিয়ানমারের মতো জোর খাটিয়ে আসামের বাঙালিদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়, তাহলে আমাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে।

এ ব্যাপারে আমরা কতটুকু প্রস্তুত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভারতের সাধারণ নির্বাচন সন্নিকটে। মোদি সরকার যদি পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়, তখন এ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে সন্দেহ নেই। একথা ধরে নেয়াই যায়, নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য মোদির ধর্মাশ্রয়ী পার্টি আসামের বাঙালি মুসলমানদের ইস্যুটি সামনে নিয়ে আসবে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষার স্বার্থে এ ব্যাপারে দৃঢ় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর প্রচেষ্টা চালাবে।

২০১৮ সালে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলির ধারাবাহিকতা আগামী দিনেও যে বজায় থাকবে, তা বলাই যায়। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি মাদকদ্রব্যের ভয়াবহতা, পরিবহন সেক্টরের নৈরাজ্য, ব্যাংকিং খাতের দুর্বৃত্তায়ন এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো আসামের বাঙালি সমস্যা। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন শেষ হয়েছে মাত্র। আশা করি নতুনভাবে গঠিত সরকার এসব সমস্যা সমাধানে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আমাদের একটি ভয়ভীতিহীন সমাজ এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দেবে। এদেশের নাগরিক হিসেবে নতুন সরকারের কাছে আমরা তা আশা করতেই পারি।

ব্রিগেডিয়ার একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×