পর্বতসম বিজয়, গগণচুম্বী প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ

  মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান

৩০ ডিসেম্বর ২০১৮। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধনভুক্ত সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে। ভোটের লাইনও ছিল দীর্ঘ। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন সংঘাত-সংঘর্ষ হতে পারে বলে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এদিন বড় কোনো অঘটন ঘটেনি। নির্বাচনের ফল নিয়ে নানা রকম আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে, চলবে আরও দীর্ঘসময়, এমনও হতে পারে ৫ বছর এ বিশ্লেষণ চলতে থাকবে।

নির্বাচনের ফলাফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠী উচ্ছ্বসিত। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত ভীষণভাবে নাখোশ। নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেন কর্তৃক এক সাংবাদিককে ‘খামোশ’ ও দেখে নেয়ার হুমকি, পুলিশ বাহিনীকে ‘জানোয়ার’ বলে সম্বোধন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের কথোপকথন ফাঁস, মুন্সীগঞ্জে ভোটারদের মধ্যে টাকা ছড়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়া, সর্বোপরি জামায়াতে ইসলামীকে ধানের শীষ মার্কা দিয়ে নির্বাচন করানো ঐক্যফ্রন্টের পরাজয়ের বড় কারণ বলে মনে হয়।

অন্যদিকে নির্বাচনী ফলাফলে মহাজোটের কিছু প্রার্থীর শতকরা ৭৫ ভাগের বেশি ভোট প্রাপ্তি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে ভোট কমবেশি যাই পড়ুক, মহাজোটের প্রার্থীরা যে মাঠ চষে বেড়িয়েছেন তা ছিল দৃশ্যমান। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা বেশির ভাগ জায়গায় ভোটারদের কাছে যাননি।

এ বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা এ নিবন্ধের উদ্দেশ্য নয়। মূলত নির্বাচনের ফলাফলের পর মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং ৫ বছরে তা পূরণ করা যাবে কি না, তা নিয়ে কথা বলাই মুখ্য উদ্দেশ্য। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, সারা দেশকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, ঢাকায় পাতাল রেল নির্মাণ এবং রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন করার মধ্যে মানুষের আকাক্সক্ষা এখন সীমাবদ্ধ নেই।

দেশের সচেতন মানুষ মনে করে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়াও এ সরকারের অনেক কাজ করার রয়েছে, যা বাস্তবায়ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। নির্বাচনের পরপরই ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িঘরে হামলা এবং নোয়াখালীর সুবর্ণচরের ধর্ষণের ঘটনা মহাজোটের মহাবিজয়কে কিছুটা হলেও ম্লান করেছে।

এসব ঘটনা ২০০১ সালের চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে সিরাজগঞ্জের পূর্ণিমার গণধষর্ণের ঘটনা মনে করিয়ে দেয়। জোট সরকারের মদদে কোটালীপাড়ার রামশীলে সংখ্যালঘুদের যেভাবে বাড়িঘরছাড়া করা হয়েছিল তাতে বাংলাদেশ লজ্জা পেয়েছিল। ঠিক একইভাবে কিছু দুর্বৃত্ত শেখ হাসিনার এই বিজয়কে নস্যাৎ করতে চায়।

এ ধরনের দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া প্রয়োজন। শুধু ভিন্নমত বা ভিন্ন ধর্মীয় চিন্তা পোষণের কারণে কোনো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা গণতান্ত্রিক সমাজে কাম্য নয়।

রাষ্ট্রের প্রশাসনিক অঙ্গের জবাবদিহিতা সরকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রাষ্ট্রের প্রতিটি বিভাগ যেন যথাযথভাবে ও আইনানুযায়ী দায়িত্ব পালন করে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলাম কয়েকদিন আগে তরুণদের সঙ্গে একটি সংলাপে উল্লেখ করেছেন, ব্যবসা করতে গিয়ে তাদের বিভিন্নভাবে নাজেহাল হতে হয়। এ বিষয়গুলো নজরে এনে সমাধান করা জরুরি এ কারণে যে, ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রকারান্তরে দেশের সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়ে।

যুবসমাজের একটি বড় অংশ আশঙ্কাজনকভাবে মাদকাসক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এ প্রবণতা বেড়ে চলেছে। এ সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত মাদক বিস্তৃত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখের সামনে মাদকের কারবার চলছে। এভাবে একটা দেশের তরুণরা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার অর্থ দেশই ধ্বংস হওয়া। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠন অতীব জরুরি। যদিও কাজটি এত সহজ নয়।

বাংলাদেশে বিগত বছরগুলোয় উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। কিন্তু ধনী-দরিদ্র বৈষম্য কমেনি। দেশে ধনীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। একইভাবে বৈষম্য বেড়েছে আরও অধিক গতিতে। এ বিষয়ে নজর দেয়া জরুরি। দেশের কিছু মানুষ এখনও বস্তিতে বাস করে। এসব বস্তিবাসীর জীবনের মানোন্নয়ন সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। এটি করতে পারলে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও সমাজ গঠন সরকারের আরেকটি বড় কাজ। পলিথিনের পরিবর্তে পাটজাত পণ্যের ব্যবহারে আমরা সফল হতে পারছি না। ঢাকাসহ বড় বড় শহরের ড্রেনগুলো ভরে আছে পলিথিনে। সেজন্য জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে নগরগুলোয়। অথচ পাটকলগুলোর গুদাম পাটজাত দ্রব্যে ভর্তি। বিক্রি হচ্ছে না বলে শ্রমিকরা সময়মতো মজুরি পান না। এ পাটজাত দ্রব্য রফতানির ক্ষেত্রেও আমরা সফল নই, আবার দেশের মানুষের হাতে পাটের ব্যাগ তুলে দিতেও ব্যর্থ হয়েছি। এ বিষয়ে সরকারের শক্ত অবস্থান নেয়া দরকার।

প্রশিক্ষিত তরুণ সমাজ তৈরি করা সরকারের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ শিক্ষিত তরুণদের বেকার সমস্যার সমাধানের কথা বলেছে। এর জন্য প্রয়োজন তরুণদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা। কারণ শুধু বিএ-এমএ পাস করে চাকরি পাওয়ার দিন শেষ হয়েছে।

দেশের গার্মেন্ট সেক্টরে প্রচুরসংখ্যক বিদেশি কাজ করে। তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণ রয়েছে। আমাদের তরুণদের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনে বিদেশ থেকে ট্রেনিং দিয়ে নিয়ে আসতে পারলে দেশ লাভবান হবে। এ ব্যাপারে বিজিএমইএ উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে কাজ নিয়ে দ্বন্দ্ব আছে।

অনেক তরুণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এসে চাকরি চায়। তারা কী কাজ জানে জিজ্ঞেস করলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না। এমনকি কম্পিউটারের টাইপিংয়ের কাজটিও জানে না। অথচ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়ি চালকের প্রচুর পদ খালি।

আইটির কাজ জানা লোকের অভাব। কাজের সঙ্গে রুচির পার্থক্য কমানো প্রয়োজন। কোনো কাজই যে অসম্মানের নয়, তা আমাদের মনোজগৎ থেকে দূর করা দরকার। তাহলে অনেক তরুণ কাজ পাবে। তাছাড়া সরকারের উদ্যোক্তা তৈরির যে ভাবনা, সে বিষয়ে তরুণদের আকৃষ্ট করা অপরিহার্য।

ব্যাংকিং সেক্টরের নৈরাজ্য ফিরিয়ে আনা সরকারের আশু কর্তব্য। এ সেক্টরের অনিয়মের ক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের সঙ্গে ব্যাংক প্রশাসনের সখ্য রয়েছে। এরকমও ব্যবসায়ী আছেন, যার সব মূলধনই ব্যাংক থেকে নেয়া। কিন্তু যে সম্পদ দেখিয়ে তিনি ঋণ নিয়েছেন, তার সব বিক্রি করলে গৃহীত ঋণের এক-চতুর্থাংশও শোধ হবে না। কোনো না কোনোভাবে ব্যাংককে ম্যানেজ করে ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে। আবার এই ঋণের টাকার বিরাট অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। অথচ সব টাকাই জনগণের করের।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ হবে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় কাজ। তরুণ সমাজ যাতে সাংস্কৃতিকভাবে বাংলা, বাঙালিত্বের প্রতি আকৃষ্ট হয়, সে বিষয়ে পাঠ্যপুস্তকে ব্যবস্থা থাকা দরকার। হেফাজতের কথায় পাঠ্যপুস্তকের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে বলে ইতঃপূর্বে অনেক লেখালেখি হয়েছে। বোধহয় এ বিষয়ে এখন নজর দেয়ার সময় এসেছে।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অনুষঙ্গগুলো যদি কিশোরদের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা না যায়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাদের কাছে অস্পষ্ট থেকে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শুধু যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, এ বিষয়টি তাদের সামনে পরিষ্কার হওয়া দরকার। আবহমানকালের বাঙালিত্বের চেতনাই যে আমাদের জাতীয়তাবাদের ভিত তৈরি করে, সেটি তাদের সামনে যথাযথভাবে উপস্থাপিত হওয়া প্রয়োজন।

জঙ্গিবাদ দমনের ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগের বাইরে চেতনাগত জায়গায় হাত দেয়া দরকার। এ বিষয়ে র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমদের একটি পুস্তিকার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি কোরআন-হাদিসের আলোকে জঙ্গিবাদের নেতিবাচক দিক ব্যাখ্যার চেষ্টা করেছেন। আসলেই মনোজাগতিক পরিবর্তন ঘটানো জরুরি। কোনো ধর্মেই যে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে অন্যকে খুন করা স্বীকৃত নয়, সেটি ভালোভাবে আলোচনা হওয়া বাঞ্ছনীয়।

অনেকেই এটি স্বীকার করেছেন যে, জামায়াত-শিবির জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত। শুধু মামলার মাধ্যমে তাদের নিষ্ক্রিয় রাখা গেলেও তাদের বিনাশ করা যাবে না। এজন্য রাজনৈতিক উদ্যোগ থাকা জরুরি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যেসব ছাত্র সংগঠন রয়েছে, তারা অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রচারে মনোযোগী নয়। বরং হলের সিট-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি তাদের কাছে মুখ্য। তাদের প্রতি সাধারণ ছাত্রদের কোনো ভালোবাসা নেই, শুধু ভীতি আছে।

আর বর্তমান প্রজন্ম ছাত্রশিবিরের তাণ্ডব দেখেনি। এগুলোর যথাযথ প্রচার নেই। আদর্শ প্রচারের মাধ্যমেই শুধু ভিন্নমতকে রুখে দেয়া যায়। সেটি সময়সাপেক্ষ; কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী। এজন্য ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের প্রচুর লেখাপড়াও দরকার; অন্যদিকে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। তা না হলে অপশক্তিকে কখনও নির্মূল করা যাবে না।

নিরাপদ সড়কের দাবি দেশের সর্বস্তরের মানুষের, যদিও স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা কিছুদিন আগে এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়। এ আন্দোলনকালে সারা দেশের মানুষের মধ্যে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের প্রতি একধরনের সহানুভূতি তৈরি হয়।

অন্যদিকে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন থেকে কেউ কেউ রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করে। প্রকৃতপক্ষে আন্দোলনটি মানুষের মধ্যে একধরনের সচেতনতা তৈরি করে। এ আন্দোলন থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার হয় যে, পথচারীদের যেমন ট্রাফিক আইন মেনে চলা দরকার, তেমনি অশিক্ষিত ও বেপরোয়া গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ দেয়া প্রয়োজন। রাস্তার যত দুর্ঘটনা ঘটে, তার বেশির ভাগই হয় চালকদের দোষে।

তাই চালকদের নিয়ন্ত্রণের জন্য দরকার কঠোর আইন ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন। তা না হলে প্রতিদিন যেসব প্রাণ রাস্তায় ঝরে যাচ্ছে, তা রোধ করা যাবে না। অন্যদিকে সরকারি চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের কোটা থাকা আবশ্যক। আশা করি, সরকার এ বিষয়ে নজর দেবে।

মহাজোটের মহাবিজয়ের যিনি মূল কারিগর, জননেত্রী শেখ হাসিনা, তার দিকে তাকিয়ে সবাই যদি নিজ নিজ দায়িত্বটুকু পালন করি, তাহলেই রূপকল্প বাস্তবায়িত হবে, তা না হলে এ বিজয় ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। এরই মধ্যে অনেকে অতি উৎসাহী হয়ে উঠেছেন। অতি উৎসাহ কখনও ভালো ফল বয়ে আনে না।

মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান : উপাচার্য, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×