সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ যেভাবে সাজাতে হবে

  মো. আমীর হোসেন ও শ ই শামীম ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সংসদ ভবন
সংসদ ভবন। ফাইল ছবি

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সামষ্টিক স্বপ্ন-আশা-আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দু হল তার আইনসভা- যা বাংলাদেশে ‘জাতীয় সংসদ’ নামে অভিহিত।

আইনসভা রাষ্ট্রের ঐতিহ্য, উত্তরাধিকার তথা সাংস্কৃতিক চেতনাকে (সামাজিকভাবে প্রাপ্ত জ্ঞান অর্থে) বিবেচনায় নিয়ে নতুন নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে বিধায় সংসদ ভবন ও প্রাঙ্গণের পরতে পরতে সেই রাষ্ট্রের শনাক্তযোগ্য বৈশিষ্ট্যাবলি ফুটে উঠবে, এমনটি কামনা করা অসঙ্গত নয়।

আমাদের পবিত্র সংসদ ভবন ও প্রাঙ্গণে সেই ধারণার কতটা প্রতিফলন আমরা দেখি? মানিক মিয়া এভিনিউর আসাদ গেট প্রান্ত থেকে বাসে চড়ে খামার বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে দুর্লভ পামগাছের দিগন্তছোঁয়া সারি দেখে মনে হতে থাকে যেন কোনো এক বিদেশি পাম বিচে রয়েছি!

পুবদিকে এগিয়ে সংসদের ঠিক সামনে পতাকা-দণ্ড (Flag Post) বরাবর দাঁড়িয়ে পবিত্র সংসদ ভবনের দিকে তাকালে দৃষ্টিসীমায় (View) বাধা হয়ে দাঁড়ায় একটি ঝোপ জাতীয় অচিন বৃক্ষ। মহান স্থাপনার সম্মুখ দৃশ্যপটের (Front View) মূল অক্ষরেখায় ‘অচিন বৃক্ষ’ নবাগত দর্শকের কাছে কী বার্তা দেয়?

‘বিশ্বখ্যাত আমেরিকান স্থপতি লুই কান বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন এবং এর সন্নিহিত এলাকার নকশা এঁকেছেন’- বাক্যটি আমাদের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের অহরহ মুখস্থ করতে হয়। বাক্যটির মধ্যে শুভংকরের ফাঁকি রয়েছে! ১৯৬০-এর দশকে লুই কান যখন এর নকশা করেন, তখন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়নি। তিনি পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খান দ্বারা নিযুক্ত হয়েছিলেন পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাজধানীর নকশা তৈরির জন্য। তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তার নকশায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন পাকিস্তানের নীতি-আদর্শ; এর সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিলেন পশ্চিমা ধ্যান-ধারণা। সেখানে পূর্ব বাংলার ঐতিহ্য, চিন্তা-চেতনার প্রবেশাধিকার ছিল না। এটা সেই সময়ের কথা- যখন রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধ ছিল, বাঙালিকে বাঙালিয়ানা ভুলিয়ে দেয়ার সব চেষ্টাই আইয়ুব-মোনায়েম গং চালিয়ে যাচ্ছিল।

এ বিষয়ে হাটে হাড়ি ভেঙেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০১৮ সালের শুরুর দিকে তিনি প্রকাশ করেন, সংসদ ভবন ও প্রাঙ্গণের আদি নকশা করা হয়েছিল পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার আদলে। আওয়ামী লীগ সরকার সংসদ ভবন ও এর প্রাঙ্গণের মূল নকশা আমেরিকা থেকে আনার পর জিয়ার সমাধি স্থানান্তরের গুঞ্জনের প্রতিক্রিয়ায় তিনি ওই তথ্য ফাঁস করেছিলেন।

যা হোক, ‘গতস্য শোচনা নাস্তি’। এ বিষয়ে সবচেয়ে বাস্তববাদী বোধহয় গণচীনের বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিং। তিনি বলে থাকেন- ‘অতীতকে পাল্টানো যায় না, বর্তমানকে মোকাবেলা করতে হয় আর ভবিষ্যৎকে নির্মাণ করতে হয়।’ অতএব, আমরা বর্তমান ও ভবিষ্যতে মনোযোগী হই। সংসদ প্রাঙ্গণের উদ্যান পরিকল্পনায় রদবদল ঘটিয়ে কীভাবে বাংলাদেশের প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব, তা খুঁজে দেখি।

এ ধরনের রদবদলের জন্য উদ্যানটির বেশিরভাগ বৃক্ষ সরাতে হবে। তবে আমরা গাছ কাটার পক্ষে নই; দুর্লভ বিদেশি গাছগুলোর প্রতি বিরূপও নই। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, বিদেশি বৃক্ষের যথার্থ স্থান হল বোটানিক্যাল গার্ডেন। আমরা বোটানিক্যাল গার্ডেনকে নিসর্গপ্রেমীদের বিনোদন পার্ক হিসেবে গণ্য করে থাকি; যদিও এর প্রধান উপযোগিতা হল উদ্ভিদ-তাত্ত্বিক ও গবেষকদের গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেয়া।

জেলা পর্যায়ে এবং যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ আছে সেখানে ছোট আকারে হলেও বোটানিক্যাল গার্ডেন থাকা প্রয়োজন। সেখানে এ বৃক্ষগুলো সরিয়ে নিয়ে রোপণ করা দরকার। শিকড়সহ বিশাল জীবন্ত বৃক্ষ সরানোর জন্য যে ‘মেগা মুভ’ প্রযুক্তি দরকার, তা এখন বাংলাদেশে সহজলভ্য বিধায় এ ক্ষেত্রে বড় কোনো সমস্যা হয়তো দেখা দেবে না।

মানিক মিয়া এভিনিউর উত্তর পাশের ফুটপাথে যে বিশাল পাম গাছগুলো রয়েছে, তা সরিয়ে তদস্থলে বাংলাদেশের লোকজ-প্রথা মোতাবেক ঘনসংবদ্ধভাবে একসারি ২০ ফুট বা তদূর্ধ্ব লম্বা জীবন্ত, স্বাস্থ্যবান সুপারি গাছ রোপণ করা দরকার। এখানে তাল বা নারকেল গাছ লাগানো কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, পাকা তাল বা নারকেল নিচে পড়ে পথচারী, যানবাহনের ক্ষতি করতে পারে।

সংসদের দক্ষিণ সীমানার লোহার গ্রিলের ৩-৪ মিটার ভেতরে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত একসারি দীর্ঘাকৃতির পূর্ণবয়স্ক নারকেল গাছ রোপণ করা যেতে পারে। সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে মানিক মিয়া এভিনিউতে আগত দুটি রাস্তার দু’পাশে থাকা পাম গাছগুলো সরিয়ে সেখানে দীর্ঘাকৃতির দেশি তালগাছ রোপণ করা দরকার।

তাল ও নারকেল গাছের জন্য বাছাই করা এ স্থান দুটি অতিথি ও পথচারীদের আওতার বাইরে বিধায় পাকা তাল, নারকেল অথবা এসব গাছের শুকনা ডগা নিচে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কম।

মূল মধ্যরেখায় থাকা অচিনবৃক্ষে সংযুক্ত ফলকে লেখা রয়েছে- ‘অচিন বৃক্ষ এক হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।’ এ থেকে মনে হতে পারে, দীর্ঘজীবিতার কারণে বৃক্ষটি এখানে রোপণ করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে বলতেই হয়, এ স্থানটি ‘সাইকাস গাছ’-এর প্রাপ্য ছিল।

কারণ, বর্তমান বাংলাদেশের প্রবীণতম জীবন্ত সত্তা হচ্ছে একটি সাইকাস গাছ, যা রয়েছে কক্সবাজারের কাছে রামুর জঙ্গলে। সেই গাছটির আনুমানিক বয়স ১৪০০ বছরেরও বেশি। মুসলমান ভাইবোনেরা পুলকিত হতে পারেন এই ভেবে যে- বৃক্ষটি মহানবী (স.)-এর সময়ের একটি জীবন্ত সাক্ষী! আশার কথা হল, সংসদের দক্ষিণ প্লাজার সামনের প্রাঙ্গণের দু’পাশে দুটি সাইকাস গাছ রয়েছে এবং এরা ভালোই আছে।

আমাদের সুপারিশ হল, অচিনবৃক্ষটি সরিয়ে এখানে একটি বড় আমগাছ রোপণ করা হোক। কারণ, আমগাছ আমাদের জাতীয় বৃক্ষ। আরও ভালো হয়- যদি বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদের শপথস্থলের সাক্ষী মুজিবনগরের একটি বড় আমগাছকে ‘মেগা মুভ’ প্রযুক্তিতে এখানে এনে রোপণ করা হয়।

ওই আম্রকাননের কাছাকাছি অঞ্চলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ডুবেছিল; আবার এখানেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছে! সেই আম গাছ থেকে ২০-২৫ মিটার উত্তরে একটি স্বাস্থ্যবান দেশি কাঁঠাল গাছ রোপণ করা দরকার।

কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল। বেদনার সঙ্গে লিখছি- সংসদ প্রাঙ্গণের দক্ষিণ সীমানায় দুটি কাঁঠাল ও একটি আমগাছ রয়েছে; তবে তিনটি গাছই নির্যাতিত।

গোটা সংসদ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের নিসর্গরেখার আবহ ফুটিয়ে তুললে সবচেয়ে ভালো হয়। প্রাঙ্গণের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের বৃক্ষরাজি, দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৃক্ষরাজি, উত্তর-পশ্চিম কোণে উত্তরবঙ্গের বৃক্ষরাজি এবং উত্তর-পূর্ব কোণে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের বৃক্ষরাজি রোপণ করলে! সেই বিবেচনায় ক্রিসেন্ট লেকসংলগ্ন সড়কের দক্ষিণ পাশে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত একসারি শাল ও একসারি গজারি গাছ লাগানো যেতে পারে।

প্রাঙ্গণের পূর্ব প্রান্তে খেজুর গাছের অন্ধকারাচ্ছন্ন বাগান কী অর্থ বহন করে, তা বোধগম্য নয়। এর সঙ্গে বাংলাদেশের খেজুর গাছের মিল নেই। বাংলাদেশের খেজুর গাছের ডগাগুলো সুন্দরভাবে গোড়া থেকে ছেঁটে ফেলা হয় খেজুরের রস আহরণের জন্য। ফলে গাছের গুঁড়িতে একটি ঢেউ খেলানো অবয়ব তৈরি হয়, যা এখানে অনুপস্থিত।

সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজার প্রবেশপথটি লাল চেরি (সাকুরা) ফুলে ছাওয়া, যা জাপানের নিসর্গদৃশ্য মনে করিয়ে দেয়। এ প্রবেশপথটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতা এ পথে সংসদে প্রবেশ করে থাকেন। ওই পথটি যদি জবা, গন্ধরাজের মতো চিরচেনা দেশি ফুলে ছাওয়া থাকত, তবে অনেক সুন্দর হতো!

ধান, পাট এবং দেশি নৌকা আমাদের অন্যতম শনাক্তযোগ্য বৈশিষ্ট্য। এতটুকু বাংলাদেশে যে কত প্রকার নৌকা আর কত হাজার জাতের দেশি ধান রয়েছে, তা ‘নির্ণয় ন জানি’! বাংলাদেশে হাজারো জাতের দেশি ধান-দৃষ্টে অনেক বিশেষজ্ঞ ধারণা প্রকাশ করে থাকেন যে, ধানের উৎপত্তি হয়তো এ অঞ্চলে!

বিজ্ঞান জাদুঘরের (জাতীয় জাদুঘরেও) প্রদর্শনীস্থলে অনেক ধরনের দেশি নৌকার মডেল রয়েছে। আমরা দেশি ধান, পাট ও নৌকাকে সংসদ প্রাঙ্গণে ঠাঁই দিতে চাই। নিরাপত্তাজনিত কারণে হয়তো সংসদ ভবন সংলগ্ন লেকে নৌকা ভাসানো সম্ভব নয়; তবে ক্রিসেন্ট লেকে সবধরনের একটি করে প্রমাণ সাইজের নৌকা ভাসিয়ে রাখা সম্ভব।

চিরায়ত কৃষি পদ্ধতির উপস্থাপনা করা সম্ভব প্রদর্শনমূলক ধানক্ষেতের মাধ্যমে, যা হবে ‘বাংলার মেরুদণ্ড’ অভিধায় খ্যাত কৃষক সমাজকে সম্মান জানানোর সেরা উপায়। সংসদ প্রাঙ্গণের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে কিছু জমিতে লাঙল-জোয়াল ও গরু দিয়ে ধান চাষের প্রদর্শনী প্লট করা হোক।

এ দক্ষিণ-পশ্চিম কোণটি হবে বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের পরিচয়বাহী- যার প্রাচীন নাম ‘চন্দ্রদ্বীপ’। প্রাচীনকালে চন্দ্রদ্বীপ থেকে বিখ্যাত ‘বালাম’ চাউল রফতানি হতো বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে সুদূর দক্ষিণের ‘মালয়’ অঞ্চলে!

সোনালী আঁশ অভিধায় খ্যাত পাটগাছের উপস্থাপনায় নিরাপত্তাজনিত সমস্যা হতে পারে। আয়তকার বা বর্গাকার পাটক্ষেত দৃষ্টিসীমাকে বাধাগ্রস্ত করে, যা সংসদ ভবনের নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। এ বিবেচনায় প্রবেশপথের দু’পাশে একটি মাত্র দীর্ঘসারিতে পাটগাছ রোপণ করা যেতে পারে, যা হবে পাটগাছের প্রতীকী উপস্থাপনা। এতে পাটক্ষেতের পূর্ণ-আবহ আমরা পাব না, তবে অর্নামেন্টাল প্লান্ট হিসেবে পাটগাছের নতুন প্রচলন হবে।

বাংলাদেশে এমন একটা মাঠ নেই, যেখানে একটা গরু, ছাগল বা ভেড়া চড়ে বেড়ায় না। গবাদি পশুহীনা সংসদ প্রাঙ্গণ তাই ফাঁকা-ফাঁকা লাগে। বিচ্ছিন্নভাবে প্রাঙ্গণের আনাচে-কানাচে অল্প কয়েকটি দেশি গরু, ছাগল, ভেড়া খুটা দিয়ে বেঁধে চড়ানোর ব্যবস্থা করা হলে দৃশ্যটি প্রাণবন্ত হবে।

অসমতল পাহাড়ি এলাকার প্রতিনিধিত্ব করার স্বার্থে উঁচু-নিচু ভূমিরূপবিশিষ্ট একটি এলাকা থাকা দরকার। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে যদি সংসদ প্রাঙ্গণে এরূপ করা সম্ভব না হয়, তাহলে চন্দ্রিমা উদ্যানে এমন ভূমিরূপ সৃষ্টি করা যেতে পারে। বর্তমানে সেখানে একটি ছোট টিলা আকৃতির ঢিবি রয়েছে, যার সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

আমরা শেভিনিস্ট নই, কট্টর জাতীয়তাবাদীও নই। প্রতুলের গানের ভাষায়- ‘আমি বাংলাকে ভালোবাসি,/ আমি তারি হাত ধরে সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে আসি।’ তাই আমাদের সংসদ প্রাঙ্গণ একখণ্ড বাংলাদেশই শুধু নয়, তা বিশ্ব-ভ্রাতৃত্বেরও অংশ। ফলে সংসদ প্রাঙ্গণে একটি ছোট বাগান নির্দিষ্ট করা যেতে পারে; যেখানে পৃথিবীর প্রতিটি দেশের একটি করে জাতীয় বৃক্ষ রোপণ করা হবে। আরও ভালো হয় যদি সেই বৃক্ষটি ওই দেশের রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায়ের কোনো অতিথির হাতে রোপিত হয়।

ঢাকা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রে এভাবে একখণ্ড বাংলাদেশ গড়ে উঠলে তা যেমন হবে আত্মমর্যাদার প্রতীক, পাশাপাশি কিছু বাস্তব উপযোগিতাও লাভ করা সম্ভব হবে। ফ্ল্যাট বাড়ির আবদ্ধ পরিবেশে এখন যে শহুরে-প্রজন্ম বেড়ে উঠছে, তাদের অনেকে জানে না ধানগাছ দেখতে কেমন।

তারা হয়তো ভাবে, মাছ-মাংস ফ্রিজের ভেতরে জন্মায়। প্রস্তাবিত উদ্যান-পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেই নবীনরা সংসদ প্রাঙ্গণের পরিসীমা একচক্কর ঘুরে পুরো বাংলাদেশের নিসর্গ সম্পর্কে ধারণা পাবে। সময়-স্বল্পতা বা নিরাপত্তাজনিত কারণে যে বিদেশি পর্যটক পুরো বাংলাদেশ ঘুরে দেখতে পারেন না, তিনিও হয়তো সংসদ এলাকা একবার ঘুরে ‘বিন্দুতে সিন্ধু’ পেয়ে যাবেন।

আজি হতে শতবর্ষ আগে, ১৯১৬ সালের দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘জাপানযাত্রীর ডায়েরি’তে ব্রহ্মদেশের (বর্তমানে মিয়ানমার) রেঙ্গুন শহর প্রথম দেখার অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনেক বিদেশি জাহাজ ও নাবিকের ভিড়ে তিনি শহরটিতে বহুজাতিক বৈশিষ্ট্য দেখতে পান- যার মাঝে তিনি বার্মার শনাক্তযোগ্য বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাননি।

ফলে তিনি লিখেছিলেন- ‘মনে হল, রেঙ্গুন ব্রহ্মদেশের ম্যাপে আছে; কিন্তু দেশে নেই। অর্থাৎ এ শহর দেশের মাটি থেকে গাছের মতো ওঠেনি। এ শহর কালের স্রোতে ফেনার মতো ভেসেছে।’ আজ যদি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফিরে এসে আমাদের জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন, তবে কি তিনি সেখানে বাংলাদেশকে খুঁজে পাবেন?

মো. আমীর হোসেন ও শ ই শামীম : আইনজীবী ও গবেষক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×