স্বদেশ ভাবনা

সংসদীয় কমিটিগুলো যেন কার্যকর হয়

  আবদুল লতিফ মন্ডল ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সংসদীয় কমিটি

একাদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এবং ১১টি অন্যান্য বিষয়ে।

মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সভাপতি মনোনীত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অব্যবহিত আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।

বিগত সাড়ে চার দশকে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো বিভিন্ন কারণে তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে সমর্থ হয়নি। একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই গঠিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো, বিশেষ করে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বাবলি পালনে কতটা সমর্থ হবে, তা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

সংসদের স্থায়ী কমিটি গঠনের ব্যাপারে নির্দেশনা রয়েছে বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদে। এ অনুচ্ছেদের দফা (১)-এর নির্দেশনা মোতাবেক সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংসদ (ক) সরকারি হিসাব কমিটি, (খ) বিশেষ অধিকার কমিটি এবং (গ) সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে নির্দিষ্ট অন্যান্য স্থায়ী কমিটি গঠন করবে। উপরে (গ)-এর নির্দেশনা মোতাবেক সংসদ চলতি অধিবেশনে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এবং অন্যান্য বিষয়ে ১১টি কমিটি গঠন করেছে। মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর বাইরে গঠিত অন্য কমিটিগুলো হল- কার্য উপদেষ্টা কমিটি, কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, পিটিশন কমিটি, লাইব্রেরি কমিটি, সংসদ কমিটি, বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটি ও সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদের দফা (২)-এ সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা ও কার‌্যাবলির বর্ণনা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কমিটি সংবিধান ও অন্য কোনো আইন সাপেক্ষে (ক) খসড়া বিল ও অন্যান্য আইনগত প্রস্তাব পরীক্ষা করতে পারবে; (খ) আইনের বলবৎকরণ পর্যালোচনা এবং অনুরূপ বলবৎকরণের জন্য ব্যবস্থাদি গ্রহণের প্রস্তাব করতে পারবে; (গ) জনগুরুত্বসম্পন্ন বলে সংসদ কোনো বিষয় সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করলে সে বিষয়ে কোনো মন্ত্রণালয়ের কার্য বা প্রশাসন সম্বন্ধে অনুসন্ধান বা তদন্ত করতে পারবে এবং কোনো মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি সংগ্রহের এবং প্রশ্নাদির মৌখিক বা লিখিত উত্তর লাভের ব্যবস্থা করতে পারবে; (ঘ) সংসদ কর্তৃক অর্পিত অন্য যে কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবে। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে প্রতিটি কমিটির কাজের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

স্বাধীনতার পর থেকে গত সাড়ে চার দশকে সংসদীয় কমিটিগুলো, বিশেষ করে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলো তেমন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি।

কারণগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল- এক. জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমাদের সংবিধানপ্রণেতারা দেশের জন্য একটি সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন নিশ্চিত করেন। এতে মন্ত্রিসভা যৌথভাবে জাতীয় সংসদের কাছে দায়ী থাকে।

১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গৃহীত সংবিধানে প্রবর্তিত সংসদীয় সরকারব্যবস্থা সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর তিন বছরও চালু থাকেনি।

১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বহুদলীয় সংসদীয় সরকারব্যবস্থার স্থলে প্রবর্তিত হয় একদলীয় রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার।

জাতীয় সংসদের কাছে মন্ত্রিসভার দায়বদ্ধতার অবসান ঘটে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তন-পরবর্তী ১৫ বছর সামরিক শাসকরা সামরিক ও বেসামরিক পোশাকে দেশ শাসন করেন।

আওয়ামী লীগ সরকার প্রবর্তিত রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা বহাল রাখাকে তারা তাদের জন্য সুবিধাজনক বলে মনে করেন। রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকারব্যবস্থায় মন্ত্রিসভা তথা সরকার সংসদের কাছে দায়ী না থাকায় সংসদের গুরুত্ব অনেকটা কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে সংসদীয় কমিটিগুলোর, বিশেষ করে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর ওপর। নির্বাহী কর্তৃপক্ষ এসব কমিটির সুপারিশ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা ও বাস্তবায়নে আগ্রহী হননি।

দুই. ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি সরকারের পতন এবং পরের বছর সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর (১৯৯১) মাধ্যমে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হলেও পরবর্তী দেড় দশকের কিছুটা বেশি সময় ধরে পালাক্রমে ক্ষমতায় আসীন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের আমলে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোকে কার্যকর এবং তাদের সুপারিশগুলোকে বাস্তবায়ন করার যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে নতুন সংসদ গঠনের পর যত শিগগির সম্ভব সংসদীয় কমিটি গঠনের নির্দেশনা থাকলেও এ সময়কালে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কেউ সে নির্দেশনা পালন করেনি।

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন এবং ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে গঠিত যথাক্রমে ৫ম, ৭ম ও ৮ম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর অনেক পরে গঠিত হয় সংসদীয় কমিটিগুলো।

পঞ্চম সংসদের ক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটিগুলো গঠনে প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠানের পর কয়েক মাস লাগলেও ৭ম ও ৮ম সংসদের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে সংসদীয় কমিটিগুলো গঠন পূর্ণতা পায় ওই দুই সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠানের যথাক্রমে প্রায় দুই ও তিন বছর পর।

ফলে এসব সংসদীয় কমিটি সুপারিশ প্রণয়নে ও সেগুলোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে খুব কম সময় পায়। একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে এবারের সংসদীয় কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে। এটা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দশভাগের নয়ভাগ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা সহযোগী দলগুলোর সদস্য হওয়ায় এটা সম্ভব হয়েছে।

তিন. আওয়ামী লীগের শাসনামলে (১৯৯৬-২০০১) সপ্তম সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে সংশোধনী এনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে মন্ত্রীর স্থলে সদস্যকে সভাপতি করার বিধান করা হয়।

মন্ত্রীকে কমিটির একজন সদস্য করা হয়। এটা ছিল নিঃসন্দেহে একটি ভালো পদক্ষেপ। তবে এতে শুরু হয় মন্ত্রী ও সভাপতির মধ্যে মনকষাকষি। মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতিরা চান কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়গুলোর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে। অন্যদিকে মন্ত্রীরা সংসদীয় কমিটিগুলোকে সুপারিশকারী সত্তার অতিরিক্ত কিছু হিসেবে দেখতে চান না। মন্ত্রী ও কমিটির সভাপতির মনকষাকষি অনেক সময় প্রকাশ্য রূপ নেয়।

এতে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর কার্যকারিতা আগেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। তাছাড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টির মাধ্যমে সাধারণত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে বিরত থাকে। টিআইবির এক সমীক্ষায় দেখা যায়, নবম সংসদে ১১টি কমিটি মোট ১ হাজার ৮৯১টি সুপারিশ প্রদান করে। এগুলোর ৪১ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব সুপারিশ হারিয়ে যায়।

দশম সংসদের ওপর টিআইবি প্রণীত রিপোর্টে বলা হয়েছে, অনেক বিষয় উত্থাপিত হলেও সেগুলো নিয়ে শেষ পর্যন্ত আলোচনা হয় না। নিয়োগ ও প্রশ্নপত্র ফাঁস, মুক্তিযুদ্ধের ক্রেস্ট জালিয়াতি, উপঢৌকন নিয়ে চিফ হুইপের বক্তব্য, পৌর মেয়র পদে থেকেও এমপি নির্বাচিত হওয়া এবং অপ্রদর্শিত আয়ের ওপর মুলতবি প্রস্তাব আলোচনা না হওয়া উদাহরণ হিসেবে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মুলতবি প্রস্তাবের ওপর অন্য পর্বে আলোচনা হবে বলে বলা হলেও শেষ পর্যন্ত এসব বিষয়ের কোনো একটি নিয়েও আলোচনা হয়নি।

চার. মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর গঠন অনেক সময় এগুলোর কার্যকর হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। খুব কমসংখ্যক কমিটির সভাপতির পদে বিরোধী দলের সদস্যকে নিয়োগ দেয়া হয়।

নবম সংসদে বিরোধী দলগুলোর ৭ সদস্যকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হলেও দশম সংসদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একচেটিয়া আধিপত্যের কারণে বিরোধী দলের (জাতীয় পার্টি) মাত্র একজন সদস্যকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়। একাদশ সংসদেও আওয়ামী লীগের পূর্ণ আধিপত্যের কারণে অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।

পাঁচ. একাদশ সংসদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটিতে এমন কয়েকজন সদস্যকে সভাপতি করা হয়েছে যারা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন অব্যবহিত আগের সরকারে ওইসব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।

উদাহরণস্বরূপ, অব্যবহিত আগের সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদকে একই মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অনুরূপভাবে অব্যবহিত আগের সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।

তাছাড়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ২০০৯-২০১৩ মেয়াদের পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনকে একাদশ সংসদের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। বিজ্ঞজনরা মনে করছেন, এসব স্থায়ী কমিটির সভাপতিরা তাদের সময়ে ওইসব মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি ও অনিয়ম ধামাচাপা দিতে ব্যস্ত থাকবেন।

ফলে তাদের নেতৃত্বাধীন কমিটিগুলোর কাজে, বিশেষ করে তাদের সময়ে ওইসব মন্ত্রণালয়ের কাজের পর্যালোচনায় স্বচ্ছতা আসবে না। টিআইবির এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন ও এর কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়। সদস্যরা কমিটিকে নিজেদের স্বার্থরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে অকার্যকর হয়ে পড়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

সবশেষে বলতে চাই, আগে যা-ই ঘটুক, আওয়ামী লীগের একচেটিয়া আধিপত্য নিয়ে গঠিত একাদশ জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলো, বিশেষ করে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর ওপর সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি যেসব দায়িত্ব অর্পণ করেছে, সেসব দায়িত্ব পালনে তারা যেন সমর্থ হোন। অবশ্য এজন্য অনুকূল পরিবেশের প্রয়োজন এবং সে পরিবেশ সৃষ্টির দায়িত্ব মূলত সরকারের।

আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×