মিঠে কড়া সংলাপ

দাও ফিরে সে অরণ্য!

  মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন ০৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দাও ফিরে সে অরণ্য!
প্রতীকী ছবি

মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর পরিবেশের প্রভাব নিয়ে সারা বিশ্বে এখন আলোচনা-সমালোচনা ও আন্দোলন তুঙ্গে উঠেছে, আমাদের দেশও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন এখন আমাদের দেশেও একটি জনপ্রিয় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে এবং এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি সংগঠন কাজ করে চলেছে।

তবে এর প্রায় সবই ঢাকাকেন্দ্রিক। রাজধানীর বাইরে তাদের কোনো কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয় না। অথচ রাজধানীর বাইরে মফস্বলের বিভিন্ন জেলা শহর পৌর এলাকাসহ অন্যান্য ঘনবসতি এলাকায়ও পরিবেশের দফারফা হতে চলেছে। এমনকি যে গ্রামবাংলার রূপের কথা কবি-সাহিত্যিকরা তাদের কবিতায়, গানে, সাহিত্যে তুলে ধরেছেন, সেই গ্রামবাংলাও এখন শ্রীহীন হতে চলেছে।

ইটের ভাটা, নসিমন-করিমন, ভটভটির ঠেলায় গ্রামেও এখন বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। আর এসবের মূল কারণ হল উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নামে পরিবেশের বারোটা বাজানো হচ্ছে!

আমাদের দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের একটি মূল উপকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সনাতন পদ্ধতিতে ভাটায় পোড়ানো ইট। আর এ কারণে গ্রামদেশের যত্রতত্র ইটভাটা গড়ে উঠেছে। আর সেসব ইট পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ট্রাক, নসিমন-করিমন, ভটভটিসহ বিভিন্ন ধরনের বেআইনি তথা অননুমোদিত যানবাহন।

দেশের বিভিন্ন মফস্বল শহরের অলিতে-গলিতে, এমনকি গ্রামীণ জনপদে এসব বেআইনি যানবাহনের অত্যাচারে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সারা দেশের রাস্তাঘাটে এসব যানবাহনের এলোমেলো চলাচলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ রাস্তাঘাট ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়া বিভিন্ন জেলাশহরের পৌর এলাকার রাস্তাগুলোয় যেখানে ট্রাক চলাচলের সুবিধা নেই সেসব রাস্তাতেও ইট বোঝাই, বালু বোঝাই বড় বড় ট্রাক ঢুকিয়ে রাস্তাগুলোর অস্তিত্ব বিলীন করা হচ্ছে।

সেসব রাস্তার বিটুমিন উঠে বা ঢালাই ভেঙে উপরের অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে রাস্তাগুলো মাটির রাস্তা বা হালটে পরিণত হয়েছে। আর সেখানে একটু বর্ষা হলেই বা পানি পড়লেই তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ছে। শুকনো মৌসুমে এসব রাস্তা যেমন ধুলায় ধূসরিত থাকে, তেমনি বর্ষাকালে তা থাকে কর্দমাক্ত অবস্থায়। আর মেরামতের নামে ওইসব রাস্তার পেছনে বারবার টাকা খরচ করলেও পরের বছরেই আবার যা তাই হয়ে যায়। ফলে সরকারি অর্থের অপচয়েরও সীমা থাকে না।

এমনই একটা জেলা শহরের পৌর এলাকা হল পাবনা পৌরসভা। পাবনা পৌরসভার অধীন অনেক রাস্তাই এখন ধুলায় ধূসরিত হালট। যেমন কুঠীপাড়া এবং কিসমত প্রতাপপুরের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ থেকে বাজিতপুর ঘাট হয়ে মেডিকেল কলেজের পূর্ব পর্যন্ত রাস্তায় এখন ইট, বালু, খোয়া, সিমেন্ট, পাথর কোনো কিছুরই অস্তিত্ব নেই। প্রতিদিন এ রাস্তায় বড় বড় ট্রাক ছাড়াও নসিমন-করিমন, ভটভটি, ট্রাক্টর সংযুক্ত ট্রলি ইত্যাদি চলাচল করলেও বর্তমানে এটি কাদামাটির রাস্তা। ফলে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষের জন্যই রাস্তাটি ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাস্তায় বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় প্রায়ই সেখানে কাঠখড়ি বা ইট বোঝাই ট্রাক কাত হয়ে পড়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে ইটখোলায় ব্যবহার্য কাঠের গুঁড়ি বোঝাই এমনই একটি গাড়ি শিশুদের একটি স্কুলের ওপর কাত হয়ে পড়ে গেলে স্কুলের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শিশুরা কোনোমতে প্রাণে বেঁচে যায়। এসব রাস্তায় হেঁটেও কেউ চলাচল করতে পারেন না, আবার স্বাভাবিক কোনো গাড়িও সেখান দিয়ে যাতায়াত করতে পারে না।

বর্ষাকালে রাস্তাটি কর্দমাক্ত থাকে আর শুকনো মৌসুমে থাকে ধুলায় ধূসরিত! বস্তুত কুঠীপাড়া-বাজিতপুর রোডের মতো দুর্দশাগ্রস্ত রাস্তা এ দেশে আর দ্বিতীয়টি আছে কিনা বলা যাবে না। এ রাস্তার দু’পাশের বাড়িঘরে যারা বসবাস করেন, তারা যে পৃথিবীর সবচেয়ে পরিবেশ দূষণপ্রবণ স্থানে বসবাস করেন, তা নিঃসন্দেহে বলা চলে। কারণ এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত বিশাল আকৃতির ট্রাকসহ স্থানীয়ভাবে তৈরি অগণিত অননুমোদিত ও বেআইনি যান্ত্রিক যান চলাচল করে।

যদিও রাস্তাটি কোনো হাইওয়ে বা প্রধান সড়ক নয়, পৌর এলাকার একটি সংযুক্ত সড়ক মাত্র। ফলে রাস্তাটির এমন বেহালদশা যে মিনিটখানেক সেখানে দাঁড়ালেই একজন মানুষের সারা শরীর ধুলায় ঢেকে যাবে! দিনরাত গাড়ি চলাচলের ফলে আশপাশের বাড়িঘর, গাছপালা সবই ধুলায় ঢাকা।

গাছের পাতা, ঘরের মেঝে, দেয়ালের পরতে পরতে ধুলা পড়ে তা পুরু হয়ে যাওয়া, ধুলায় আচ্ছন্ন এলাকায় মানুষের পক্ষে ঘর থেকে বের হতে না পারা, শিশু ও বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের ধুলাবালি, গাড়ির বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া ইত্যাদি এ এলাকার নৈমিত্তিক ঘটনা হলেও এসব নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।

ট্রাক মালিক, ইটের ভাটার মালিকসহ বালুমহালের লোকদের ব্যবসাটাই এখানে মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবকিছু দেখেশুনেও কেউ কিছু বলছেন না বা বলতে পারছেন না। ফলে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য বিরাট হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। কিছুদিন আগে বাজিতপুর ঘাটে খুরশীদ নামে চল্লিশ বছর বয়স্ক এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। এর অল্প কিছুদিন আগে আফজাল নামে আরেক ব্যক্তি স্ট্রোকে মারা গেছেন।

অনেকের ধারণা, এসব এলাকার অলিগলিতে ট্রাক ও স্থানীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন যান্ত্রিক যানবাহন অতিরিক্ত চলাচলের ফলে ওইসব বেআইনি যানবাহন থেকে কালো ধোঁয়া নির্গমন এবং কলকারখানা, প্লাস্টিক ফ্যাক্টরির নির্গত ধোঁয়া, ধুলা, শব্দ ইত্যাদি কারণে তারা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

এ অবস্থায় এসব এলাকায় বসবাসরত মানুষজন তাদের শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা পরিবেশ দূষণের ভীষণ ঝুঁকির মধ্যে আছেন। উল্লেখ্য, বাতাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ ধূলিকণা বা পার্টিকেল গ্রহণযোগ্য হলেও আমাদের দেশে বিভিন্ন শহরের রাস্তার পাশে বসবাসরত মানুষের সে তুলনায় ৩-৪ গুণ, এমনকি ৫-১০ গুণ পর্যন্ত ধূলিকণার মধ্যে বসবাস করতে হয়।

যদিও এ বিষয়ে ঢাকা শহরকে কেন্দ্র করে জরিপ কার্যসহ আলোচনা-সমালোচনা, গবেষণা হয়; কিন্তু ঢাকার বাইরেও অনেক শহরের আলো-বাতাস যে দূষণের ক্ষেত্রে রাজধানী শহরকে অতিক্রম করেছে সেদিকে কারও খেয়াল নেই। যদি কোনো পরিবেশবাদী বা পরিবেশবিজ্ঞানী পাবনা পৌর এলাকার কুঠীপাড়া-বাজিতপুর রোডে মাত্র ঘণ্টাখানেকের জন্য অপেক্ষা করতেন, তাহলে তিনি দেখতে পেতেন পরিবেশ দূষণ, বায়ুদূষণ কত প্রকার! কারণ বাজিতপুর ঘাটের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের ইটভাটা, বালুমহাল থেকে দিবারাত্রি শত শত ট্রাকসহ হাজার হাজার যান্ত্রিক যানবাহন কুঠীপাড়া হয়ে শহরে প্রবেশ করে।

আর এসব গাড়ির অধিকাংশে জ্বালানি হিসেবে পেট্রোল, ডিজেল ইত্যাদি ব্যবহারের পাশাপাশি মোবিল ব্যবহার করা হয়। দেখা গেছে স্থানীয়ভাবে তৈরি নসিমন-করিমন, ভটভটি নামে যেসব অননুমোদিত ও বেআইনি যানবাহনে ইটভাটার কাঠখড়ি, বালু, ইট ইত্যাদি পরিবহন করা হয় সেসব গাড়ি থেকে এত বেশি কালো ধোঁয়া নির্গত হয় যে, তাতে করে এলাকার আলো-বাতাস পর্যন্ত মেঘের মতো কালো হয়ে যায়।

এ ছাড়া ইট বালু বহনকারী অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক, ট্রাক্টরের সঙ্গে ট্রলি লাগিয়ে তাতে করে মালামাল পরিবহনের দৌরাত্ম্য তো আছেই। এ অবস্থায় সেই এলাকায় বসবাসরত অবসরপ্রাপ্ত একজন কৃষি কর্মকর্তা জানালেন, তিনি রাতের বেলায় তো ঘুমাতে পারেনই না, দিনের বেলায়ও এসব যানবাহনের অত্যাচারে অনেক সময় হাত দিয়ে কান চেপে রাখতে হয়। অথচ তার বাড়িটি আদৌ কোনো হাইওয়ে সংলগ্ন নয়। পৌর এলাকার একটি সংযোগ রাস্তা সংলগ্ন বাড়িতে তিনি অবসর জীবনযাপন করছেন।

সুধী পাঠক, ঢাকা থেকে আমার নিজ জেলা শহর পাবনায় এলে আমাকে এসবই প্রত্যক্ষ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে তাই আমার মর্মবেদনাও কম নয়। লেখালেখিসহ বিভিন্ন কারণে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান আমি ভ্রমণ করে বেড়াই এবং কিছুদিন আগেও দিনাজপুরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে এসেছি। কিন্তু পাবনার কুঠীপাড়া-বাজিতপুর রোডের মতো বেহালদশা এবং সে এলাকার পরিবেশ দূষণের মতো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি আমি কোথাও দেখতে পাইনি। ধনী, দরিদ্র বিভিন্ন দেশের কোথাও নয়! এমনকি আমাদের পাশের শীতপ্রধান দেশ নেপালেও নয়। সেখানেও ধুলায় আচ্ছন্ন এমন জনবসতি দেখিনি।

পরিশেষে লেখাটির উপসংহার টেনে বলতে চাই, দেশের মানুষের জন্যই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। তবে সেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নামে ইট বোঝাই, বালু বোঝাই, কাঠখড়ি বোঝাই ট্রাক দিয়ে যদি রাস্তা ধ্বংস করা হয়, আর তার ওপর দিয়ে যদি বিরামহীনভাবে অতিরিক্ত ওজনবাহী ট্রাকসহ নসিমন-করিমন, ভটভটি দিয়ে, ট্রাক্টরের সঙ্গে ট্রলি লাগিয়ে মালামাল পরিবহন করে সেসব রাস্তাকে ধুলায় ধূসরিত, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন করে একটি জনপদের মানুষের জীবনকে বিষাক্ত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয়, তাহলে সেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কাদের জন্য- সে বিষয়টিও ভেবে দেখা দরকার।

নিজে যে এলাকায় জন্মেছি, সেই এলাকার রাস্তাঘাটের বেহালদশা এবং পরিবেশ দূষণের ভয়ঙ্কর অবস্থা দেখে এ মুহূর্তে আমি অত্যন্ত দুঃখিত ও ব্যথিত। অথচ জন্মের পর থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত আমি এখানেই বেড়ে উঠেছি। তখনও বাজিতপুর ঘাটে পদ্মা নদীর একটি শাখা প্রবাহিত হতো। আর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ইত্যাদি এলাকা থেকে শহরের ব্যবসায়ীদের জন্য হাজার মনি, পাঁচশ’ মনি নাও (নৌকা) বোঝাই মালামাল এখানেই নামানো হতো। বাজিতপুরের বুড়ো বটগাছটি আজও তার সাক্ষী। এ বটগাছের সঙ্গেই ওইসব নাও, লঞ্চ, স্টিমার দড়ি ও শিকল দিয়ে বাঁধা হতো।

সেই বটগাছটির পাশ দিয়েই এসব যান্ত্রিক যান চলাচল করে পরিবেশের বারোটা বাজাচ্ছে আর বুড়ো বটগাছটি তা দেখে দাঁত বের করে হাসছে। মনে পড়ে, মালামাল খালাসের পর সন্ধ্যাবেলা যখন মাঝিমাল্লারা নৌকার ছইয়ের ওপর বসে আয়েশ করে মনের সুখে গান ধরতেন, বাঁশি বাজাতেন তখন আমরা এলাকার কিশোর-যুবকরা সেসব নৌকার ছইয়ে বসে সান্ধ্যকালীন কিছুটা সময় তাদের সঙ্গে কাটিয়ে আসতাম।

অথচ এখন সেই বাজিতপুর ঘাটে একটি দিন, একটি সন্ধ্যাই যেন আমাকে হাঁপিয়ে তোলে। আর তার প্রধান কারণ হল পরিবেশ দূষণ। এ অবস্থায় কবির ভাষাতেই বলতে হয়- ‘দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর, / লও যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর / হে নবসভ্যতা! হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী, / দাও সেই তপোবন পুণ্যচ্ছায়ারাশি’।

মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন : কবি, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×