আমাদের উন্নয়নের তিনটি সামাজিক-রাজনৈতিক সমস্যা

  মো. মইনুল ইসলাম ১০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সমস্যা

আমাদের উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অন্যতম তিনটি সামাজিক-রাজনৈতিক সমস্যা হচ্ছে : ১. প্রাচীনপন্থী, পশ্চাৎপদ ও প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতি, ২. দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতি এবং ৩. দুর্নীতিবাজ, অদক্ষ এবং জনগণের প্রতি অবজ্ঞাপূর্ণ আমলাতন্ত্র। প্রথম সমস্যাটি নিয়ে খানিকটা আলোচনা করা যাক।

একটি অনুন্নত ও দরিদ্র কৃষিপ্রধান অর্থনীতিতে যে সংস্কৃতি বিরাজ করে তা প্রাচীনপন্থী ও পশ্চাৎপদ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেটা প্রতিক্রিয়াশীলও বটে। সংস্কৃতির অন্যতম তিনিট উপাদান- বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও নিয়মাচার বাংলাদেশ উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের পক্ষে তো নয়ই, বরং এর বিপক্ষে কাজ করে।

উপাদানগুলো এই বাস্তব জগৎ-সংসার, যার অপর নাম ইহজগৎ, তার গুরুত্বকে অবমূল্যায়ন করে। ‘দুনিয়া কয়দিনের। এটা আসল না এবং কিছুই না। সব আছে পরজগতে। সেটাই আসল। সে জগতের পুঁজি সংগ্রহ করো’- এ ধরনের একটি ভাবাদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধ মনোজগতে প্রাধান্য পেলে মানুষ উৎপাদন ও উন্নয়ন কাজে নিরুৎসাহিত ও বিমুখ হয়। ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং বাস্তব জীবনের দুঃখ-দুর্দশাকে বিধির বিধান বলে মেনে নেয়।

পঞ্চদশ ও ষষ্ঠদশ শতকে ইউরোপে এই ধর্মান্ধতা, ধর্মের নামে মানুষকে অজ্ঞানতার অন্ধকারে আবদ্ধ রাখার কাজটি একদল খ্রিস্টান ধর্মযাজক করেছিলেন। পরকালে স্বর্গপ্রাপ্তিই ইহজগতে বড় কাজ এবং সেই স্বর্গপ্রাপ্তির ব্যাপারে ব্যবসায়ী হয়ে দাঁড়ায় যাজকরা। আর এই স্বর্গপ্রাপ্তির সার্টিফিকেট বিক্রির ব্যবসাটি তখনকার পোপ ও বিশপদের ছিল একটি রমরমা ও লাভজনক ব্যবসা।

পরজাগতিকতাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা তাদের একটি বড় কাজ। পুরনো চিন্তাভাবনা, পুরনো বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও নিয়মাচারকে বজায় রাখা এবং নতুন চিন্তাভাবনাকে বর্জন ও বিরোধিতা করা তাদের স্বভাব এবং প্রধান কাজ। পুরনো বিশ্বাস ও চিন্তাভাবনার বিরোধিতা করে তার গণ্ডি থেকে বের হয়ে আসার আন্দোলনটিই ইউরোপে রেনেসাঁ বা নবজাগরণের জন্ম দেয়।

ইউরোপের এই নবজাগৃতিই তাকে শাস্ত্রীয় কূপমণ্ডুকতার হাত থেকে রেহাই দেয় এবং পুরনো বিশ্বাস থেকে আধুনিক বিজ্ঞানের জগতে উত্তীর্ণ হতে সাহায্য করে। ফলে বিকাশ ঘটে জ্ঞান-বিজ্ঞানের। শুরু হয় উন্নয়নের জয়যাত্রা। বিশ্বাস ও চিন্তার উন্নয়নের সঙ্গে ঘটে বুদ্ধির বিকাশ এবং ঘটতে থাকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তাই দরকার হয় আধুনিক জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির। এর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত থাকে বিজ্ঞানসম্মত চিন্তাভাবনা, মুক্তি ও বুদ্ধি, যার অবস্থান প্রাচীন শাস্ত্রীয় বিধিবিধান, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের বিপরীতে।

আমাদের মতো দরিদ্র দেশে উন্নয়নের আরেকটি সমস্যা হচ্ছে রাজনীতি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বার্থপর, সংকীর্ণ ও গণবিরোধী আদর্শ ও উদ্দেশ্য রাষ্ট্রশক্তিকে জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে নিয়োজিত না করে নিজের ও দলের নেতা-নেত্রী, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, তোষামোদকারী ও তদবিরবাজদের মতো মুষ্টিমেয় কিছু লোকের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যবহার করে। ফলে দুর্নীতির ব্যাপক প্রসার ঘটে। অন্যদিকে জনজীবনে আইন ও সুশাসনের অভাব তীব্রভাবে অনুভূত হয়।

উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দারিদ্র্য হ্রাস পায় না। মুষ্টিমেয় রাজনীতিক, আমলা ও ব্যবসায়ী ধন-সম্পদে স্ফীত হয়ে ওঠে। দেশজুড়ে অন্যায়, অনিয়ম ও ঘুষ-দুর্নীতি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই), বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, বিলাতের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তালিকায় দেশ বারবার দুর্নীতি ও অপশাসনের তালিকায় শীর্ষস্থান লাভ করে। কিন্তু রাষ্ট্রশাসকেরা থাকে নির্বিকার এবং নিবিষ্টচিত্তে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। এ চিত্রটি বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল ২০০১-২০০৫-এর বিএনপি আমলে। তবে তাদের মুখে উন্নয়ন ও উৎপাদনের বুলি অহরহ শোনা যেত।

এই রাজনীতি ব্যবসায়ীদের মুখে গণতন্ত্রের কথা অহরহ উচ্চারিত হতে তখন দেখা যেত। গণতন্ত্র যে পরিবারতান্ত্রিক শাসন নয়, বরঞ্চ এর প্রকৃত অর্থ হল জনগণের শাসন, তা তাদের ধারণায়, চিন্তায় বা চর্চায় মোটেই প্রকাশ পায়নি। গণতন্ত্রকে শুধু নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে তাদের দেখা গেছে। সত্যিকার নির্বাচনেও তারা বিশ্বাসী ছিল বলে তাদের কাজকর্মে প্রমাণিত হয়নি। বরঞ্চ কারচুপি, কারসাজি ও জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টাটিই বাস্তবে দেখা গেছে। নির্বাচন গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ, যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সম্মতি নিয়ে দেশ শাসনের ক্ষমতা লাভ করে।

এই ক্ষমতা লাভের পর তাদের আরও তিনটি কাজকে সফল ও শক্তিশালী করতে হয়। সেগুলো হল আইনের শাসন ও সুশাসন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন। শেষের কাজটি অর্থাৎ অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন আমাদের মতো অনুন্নত-দরিদ্র দেশে গণতন্ত্রের দাবিদার সরকারের বড় একটি দায়িত্ব ও কর্তব্য। বিগত বিএনপি আমলে এর কোনোটিই প্রাধান্য পায়নি। বরং এর উল্টোটি ঘটতে দেখা গেছে।

২০০৮ থেকে শেখ হাসিনার সরকারের শাসনামলে দেশে প্রশংসনীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে। তবে গত দুই মেয়াদে অর্থাৎ ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়নি। এ সত্যটি সরকারও উপলব্ধি করতে পেরেছে। তাই এবার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।

তাই মনে হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অধিকতর তৎপরতা প্রদর্শন করছে। দুদক কর্তৃক তাদের কৌশলপত্র রচনায় সুশীল সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা তারই একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। দুদক ইতিমধ্যে দুর্নীতিবাজদের মনে আতঙ্ক আর সাধারণ মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে।

এটা তাদের একটি বড় অর্জন। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শক্তিশালী করার সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে সরকারি আমলাতন্ত্রে দক্ষতা, কর্তব্যপরায়ণতা, সাধারণ মানুষের প্রতি অবজ্ঞার পরিবর্তে দায়িত্বশীলতা এবং সেবার মনোভাব জাগ্রত করতে সচেষ্ট হতে হবে। তাদের জনগণের কাছে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। এর সঙ্গে আইনের শাসন যথার্থভাবেই বলবৎ করতে হবে। আইনের শাসন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থা ভালো নয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্য ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের সাম্প্রতিক বৈশ্বিক আইনের শাসন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৬টি দেশের মধ্যে ১১২তম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। এ ক্ষেত্রে নেপাল, শ্রীলংকা ও ভারত বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে (প্রথম আলো, ০২.০৩.১৯)। আইনের শাসন সুশাসনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উপরে উল্লেখিত সব উপাদানের নিুমান সুশাসনের অভাবকে যেমন তুলে ধরে, তেমনি গণতন্ত্রের দুর্বলতাও প্রমাণ করে। বলার অপেক্ষা রাখে না, সুশাসন ছাড়া উন্নয়নের সুফল দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে না। তেমনি গণতন্ত্রও তাদের কাছে তেমন কোনো অর্থ বহন করে না।

উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী আরেকটি বাধা হচ্ছে সরকারি আমলাতন্ত্র। অথচ সরকারের সব সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজকর্ম তাদের মাধ্যমেই সম্পাদিত হয়। কর্তব্য কাজে তাদের সততা, আন্তরিকতা, দক্ষতা ও দেশপ্রেম সেবা ও উন্নয়নকে সুষ্ঠু, শক্তিশালী ও গতিশীল করতে পারে। আমলাদের একটি বড় অংশের মধ্যেই উপরোক্ত গুণাবলীর অভাব দেখা যায়। বিশেষ করে নিচের স্তরে ও মাঠপর্যায়ে অধিকাংশ আমলার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে অবজ্ঞা ও হেনস্থা করার অভিযোগই শোনা যায় বেশি। আর শোনা যায় ঘুষ-দুর্নীতির রমরমা ব্যবসার কথা। ‘ফুয়েল (ঘুষ) ছাড়া ফাইল (কাজ) চলে না’ প্রবচনটি এখন দেশে বহুল প্রচলিত। আরেকটি বিষয় যা তাদের সাধারণ মানুষের সেবকের পরিবর্তে শাসক মনোভাবসম্পন্ন করে তোলে, তা হল জনপ্রশাসনে সাবেক ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

এর সঙ্গে ব্রিটিশ আমলের জমিদারদের সৃষ্ট সামন্ততান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পৃক্ততা সাধারণ মানুষকে প্রজা এবং ক্ষমতাবানদের রাজা ভাবতে সাহায্য করেছে। ফলে সরকারি আমলারা সাধারণ মানুষের কাছে কোনো জবাবদিহির দরকার আছে বলে মনে করে না। আর এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকারের কোনো শক্তিশালী উদ্যোগও দেখা যায় না।

তবে আমলাতন্ত্রে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক লোক যে নেই তা বলা সঠিক হবে না, বিশেষ করে এর উচ্চস্তরের বেশকিছু কর্মকর্তা সততা ও দক্ষতার জন্য প্রশংসার দাবিদার। তাদের কয়েকজন অবসরের পর পত্রপত্রিকায় লেখালেখি, এমনকি জ্ঞানগর্ভ বই-পুস্তক রচনার মাধ্যমে তাদের পাণ্ডিত্য ও দেশপ্রেমের স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন।

উন্নয়নের উপরোক্ত সমস্যাগুলো সফলভাবে মোকাবেলা করতে পারে শুধু সৎ ও দেশপ্রেমিক রাজনীতি। কিন্তু আমাদের দেশে রাজনীতির ধারক-বাহক অধিকাংশ নেতা-নেত্রীর জীবনে এ গুণাবলী প্রাধান্য পায় না। তাদের রাষ্ট্রচিন্তা অতিশয় দুর্বল এবং পরিচালনা নিুমানের। পাঠ্যপুস্তক পড়ে এবং উন্নত পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে যন্ত্রের মতো অনুকরণ করে তারা গণতন্ত্রচর্চায় নামে।

মূল আদর্শ ও উদ্দেশ্য থাকে রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জন এবং তারপর সে ক্ষমতা নিজের দলের স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। এ ধরনের অন্ধকারের মধ্যেও আলোর সন্ধান পাই শেখ হাসিনার বেশকিছু উক্তির মধ্যে, যখন তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা আমাদের কাছে ভোগের বস্তু নয়, সেবার বস্তু।’ সম্প্রতি চট্টগ্রামে দুটি বড় প্রকল্প উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘কোনো নামও চাই না, কোনো ধন-সম্পদও চাই না, কিছুই চাই না। বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে, এটাই আমার চাওয়া।’ প্রধানমন্ত্রীর এসব উক্তি আমাদের আনন্দিত ও উৎসাহিত করে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাই মন থেকে প্রশংসা ও আশীর্বাদ আসে।

তবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে আমরা গণতন্ত্রের উন্নয়নও চাই। দুটি যে একসঙ্গে চলতে পারে, তা কিছুদিন আগে নতুন জার্মান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্বয়ং বলেছেন। তবে ইদানীং নির্বাচন ও ভোটের ব্যাপারে জনগণের অবিশ্বাস ও অনীহা গণতন্ত্রের জন্য এটি অশুভ লক্ষণ। এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী, রাজনীতির শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং সুশীল সমাজকে বিশেষভাবে ভেবে দেখতে হবে।

মো. মইনুল ইসলাম : সাবেক অধ্যাপক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×