দেশপ্রেমের চশমা

পুলিশ বাহিনী কি জনবান্ধব হতে পারবে?

  মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার ১৮ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশ বাহিনী কি জনবান্ধব হতে পারবে?
ফাইল ছবি

উন্নত দেশগুলোর স্কুল শিক্ষার্থীরা বড় হয়ে কী হবে জানতে চাইলে অনেকেই বলে, তারা পুলিশ অফিসার হতে চায়। কেউ বলে, ফায়ার ফাইটার হতে চায়। কারণ, সবাই এদের সম্মান করে। পুলিশ অফিসার এবং দমকল বাহিনীর লোকজন মানুষকে বিপদাপদে সাহায্য করে বলে তাদের সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মনে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়।

কিন্তু উন্নয়নশীল দেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুলিশ সম্পর্কিত ধারণা নেতিবাচক। এদের ‘এইম ইন লাইফ’ জানতে চাইলে অধিকাংশক্ষেত্রে এরা উত্তর দেয়, আমরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট অথবা বিসিএস অফিসার হতে চাই। এরা দমকল বাহিনী বা পুলিশ বাহিনীর অফিসার হতে চায় না। এর কারণ কী? এ দেশের সব পুলিশ অফিসার কি অপছন্দের? কেন পুলিশ জনমনে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে পারেনি?

এ নিবন্ধে এ প্রসঙ্গে আলোচনা করব। দেখাতে চেষ্টা করব, বাংলাদেশে সংখ্যায় কম হলেও জনবান্ধব ও পরোপকারী পুলিশ অফিসার আছেন। এরা নীরবে জনগণকে সেবা দিলেও তা প্রচারে আসে না। অধিকাংশ পুলিশ অফিসারের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের ভিড়ে তাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান হয় না। ফলে ভালো পুলিশ অফিসাররাও অপবাদের শিকার হন। এ সম্পর্কে নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকেও উদাহরণ দেব।

পুলিশের ভালো কাজ করার পথে দুটি বাধা আছে। এর প্রথমটি হল আইন এবং দ্বিতীয়টি হল রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। পরিতাপের বিষয়, স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশতাব্দী পার করেও বাংলাদেশ একটি সময়োপযোগী ও জনবান্ধব পুলিশ আইন তৈরি করতে পারেনি। ফলে পুলিশ চলছে ব্রিটিশ আমলের ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন দিয়ে।

স্বাধীনতার পর যে সরকারগুলো দেশ পরিচালনায় ছিল তারা এর জন্য দায়ী। তবে সব সরকারকে একই মাত্রায় দোষ দেয়া যাবে না। কারণ, ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দীন সরকার অসাংবিধানিক হয়েও পুলিশ আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল। অবসরপ্রাপ্ত আইজি এসএম শাজাহানকে প্রধান করে পুলিশ আইন সংস্কারের লক্ষ্যে কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটি এতদঞ্চলের দেশগুলোর পুলিশ আইন পর্যালোচনা করে একটি জনবান্ধব পুলিশ সংস্কার অধ্যাদেশ তৈরি করেছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ওই সরকার অধ্যাদেশটি পাস করে যায়নি। রাজনৈতিক নেতারা ওই সময় এ মর্মে আশ্বাস দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে তারা এ অধ্যাদেশটি পাস করবেন। কিন্তু পরবর্তী সরকার সে ওয়াদা রাখেনি। অধ্যাদেশটি পাস করলে পুলিশ একটি জনবান্ধব বাহিনী হতে পারত। অধ্যাদেশটিতে অনেক ভালো উদ্যোগের মধ্যে পুলিশ কমপ্লেইন্ট কমিশন সৃষ্টির সুপারিশ ছিল। পুলিশি আচরণে কোনো ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হলে ওই কমিশনে অভিযোগ করতে পারতেন। কিন্তু কেন অধ্যাদেশটি পাস করা হয়নি সে জবাব সরকারকেই দিতে হবে।

পুলিশের জনবান্ধব হওয়ার পথে দ্বিতীয় বাধাটি হল পুলিশি কার্যকলাপে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। পুলিশকে যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হতো, তাহলে পুলিশ নাগরিক সমাজকে অনেক বেশি সেবা দিতে পারত। কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকার সবসময় পুলিশকে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। এর ফলে পুলিশকে রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে হয়। অনেক সময় ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোকে নাজেহাল করে সরকারি দলকে খুশি করতে হয়। পুলিশের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বিতরণের ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকায় পুলিশ সরকারি নির্দেশ পালন করে। এ জন্য স্বাভাবিক সময়ে বা নির্বাচনের সময়ে, পুলিশ সরকারি ইচ্ছানুযায়ী কাজ করে। সে জন্য পুলিশ পদসোপানের ফাঁড়ি এবং থানা থেকে শুরু করে পদে পদে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের কাজ দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন হলেও পুলিশ নিজেই আজ দুর্নীতিগ্রস্ত। এ কারণে সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে।

আশার কথা, এমন প্রতিকূল পরিবেশ, মান্ধাতার আমলের আইন এবং নৈরাজ্যের মধ্যেও কিছুসংখ্যক পুলিশ কর্মকর্তা ভালো কাজ করে যাচ্ছেন। এ সত্য স্বীকার্য, পুলিশের মধ্যে এমন কর্মকর্তার সংখ্যা কম। আবার, যারা সৎভাবে কাজ করতে চান, অনেকক্ষেত্রে তাদের বাধার সম্মুখীন হতে হয়। তাদেরকে দূরবর্তী স্থানে বদলি করে দেয়া হয়। কিন্তু তারপরও যেসব সৎ পুলিশ অফিসার সব বাধা-বিপত্তি এড়িয়ে নাগরিক সেবার ব্রত নিয়ে কাজ করেন, তাদেরকে শ্রদ্ধা না করে পারা যায় না। তবে নাগরিকদেরও দোষ আছে। তারা সমাজে এমন পুলিশবিরোধী কালচার গড়ে তুলেছেন যেখানে পুলিশের ভালো কাজ প্রশংসিত হয় না। নিন্দিত হয় পুলিশের অপকর্ম। পুলিশ ঘুষ-দুর্নীতিতে জড়িত হলে অবশ্যই তার নিন্দা করা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হল, পুলিশ কোনো ভালো কাজ করলে নাগরিক সমাজ তার প্রশংসা করে না কেন? নাগরিকদের এ অভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরি। একটা উদাহরণ দেয়া যাক। র‌্যাব সদস্যরা মাজারের টাকা আত্মসাৎ করেছে বা নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডারে জড়িত হয়েছে, সে কারণে নাগরিক সমাজ তার নিন্দা করেছে। এ নিন্দা পুলিশের প্রাপ্য। কিন্তু পুলিশ যখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অপরাধী গ্রেফতার করে, যখন মাথায় গুলি খেয়ে জঙ্গি নেতা শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান বাংলাভাইকে গ্রেফতার করেছিল, তখন নাগরিক সমাজ কি পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছিল? না, জানায়নি। নাগরিক সমাজে পুলিশের মন্দ কাজের নিন্দা আছে, কিন্তু ভালো কাজের প্রশংসা নেই। এই একচোখা কালচার থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

পুলিশ মানেই কি খারাপ? থানা মানেই কি আতঙ্ক? সবক্ষেত্রে কিন্তু ব্যাপারটি এমন নয়। আমি নিজে জীবনে দু’বার থানায় গিয়েছি। একবার ঢাকার বনানী ও অন্যবার চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায়। এ থানা দুটি মডেল থানা। যে কাজের জন্য আমি গিয়েছিলাম, সম্মানিত পুলিশ কর্মকর্তারা আমাকে সে কাজ করে দিয়েছিলেন। আমার কাছ থেকে টাকা নেননি। আমাকে নাজেহালও করেননি। তার মানে এ নয় যে, সবাই সব কাজ থানায় গিয়ে সহজে করে আসতে পারেন। যে কথাটা বলতে চাইছি, পুলিশের মধ্যেও অনেক ভালো, সৎ এবং সেবা দানকারী কর্মকর্তা আছেন যাদের সুযোগ দিলে তারা পুলিশ কালচারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। এ প্রবন্ধে আমি সংক্ষেপে এমন দু’তিনজন পুলিশ কর্মকর্তার কথা বলব। পাঠকরা যেন একে ওইসব পুলিশ অফিসারের পক্ষে প্রচারণা মনে করবেন না।

প্রথমে একজন এএসআই-এর কথা বলি। উনি ২০০৩ সালে ঢাকা-সিলেট হাইওয়ের পাশে হবিগঞ্জ জেলায় একটি পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। অনেক কাজের মধ্যে তার একটি কাজ ছিল, ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে দিয়ে যাতায়াতকারী নৈশ কোচগুলোর নিরাপত্তা বিধান করা। এ জন্য যে পিকআপে উনি টহল দিতেন তাতে যে পরিমাণ ডিজেল লাগত তাকে সরবরাহ করা হতো তার চেয়ে কম। এ পুলিশ কর্মকর্তা তার সৎ থাকার দুঃখের কাহিনী বর্ণনা করে আমাকে আবেগঘন চিঠি লিখেন। আমি তার হৃদয়ের রক্তক্ষরণ অনুভব করি এবং একটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার উপসম্পাদকীয় পাতায় ২০০৩ সালের ১৭ জুন তারিখে ‘পুলিশের মনে অনেক দুঃখ’ শিরোনামে প্রবন্ধ লিখি। আমার ওই প্রবন্ধ ঘিরে রাজারবাগ পুলিশ হেডকোয়ার্টারের গবেষণা সেলে একটি এবং হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসনে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল। হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির সম্মানিত সদস্যরা সিলেট থেকে চট্টগ্রাম এসে আমার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। আমি পুলিশ প্রশাসনকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলাম, পুলিশের আইন, কার্যভঙ্গিমা ও আমলাতন্ত্রে সংস্কার প্রয়োজন। ওই সম্মানিত পত্রলেখক এএসআইকে আমি তার সৎ থাকার চেষ্টার জন্য মনে মনে আজও শ্রদ্ধা করি।

এবার বলব বান্দরবনের একজন সুদর্শন যুবক এএসপি সম্পর্কে। প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এই এএসপি নাগরিক সমাজে, বিশেষ করে যুবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা রোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে ঈর্ষণীয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ডমেস্টিক ভায়োলেন্স মোকাবেলায় নারীদের সচেতন করে তোলেন। নিজস্ব উদ্যোগে স্কুল শিক্ষার্থীদের বিপদাপদ মোকাবেলায় শেখান সেলফ ডিফেন্স ও মার্শাল আর্ট। তাছাড়া অপরাধ দমনের লক্ষ্যে তিনি উদ্ভাবন করেন নতুন একটি অ্যাপ। মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এ অ্যাপের মাধ্যমে অপরাধ দমনে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পাওয়া সম্ভব হয়। অবহেলিত ও অত্যাচারিত দরিদ্র নারীদের তিনি আইনি সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এই উদ্যমী যুবক এএসপি শিক্ষা ও বই পড়ার প্রতি লাখো শিক্ষার্থীকে উদ্বুদ্ধ করেন। পুলিশি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট এ এএসপি নিজেও বিদ্যোৎসাহী। তার সৃষ্টিশীল চিন্তা ও উদ্ভাবনী পরিকল্পনায় কনভিন্সড হয়ে পৃথিবীর অন্যতম সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাকে অ্যাডমিশন দেয়। তিনি এখন হার্ভার্ডে অধ্যয়নরত। এই জনদরদি এবং মানব কল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী পুলিশ অফিসারকে নিয়ে পুলিশ বিভাগ গর্ব করতে পারে।

সবশেষে যার কথা বলব তিনি কেএমপির একজন এএসপি। পুলিশি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ইচ্ছা থাকলে মানুষকে যে আরও অনেক রকম সেবা দেয়া যায় তিনি তার উজ্জ্বল উদাহরণ। খুলনার ডুমুরিয়া অঞ্চলে তার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ভাইয়ের আর্থিক সহায়তায় তিনি ১৯৯২ সালে গড়ে তোলেন ‘সোনামুখ পরিবার’ নামের শিক্ষা ও সেবাধর্মী একটি প্রতিষ্ঠান। অর্থের অভাবে যেসব দরিদ্র শিক্ষার্থী লেখাপড়া করতে পারে না, সোনামুখ পরিবার তাদের অর্থ সহায়তা দেয়। এছাড়া এ প্রতিষ্ঠান থেকে আরও যেসব সেবা দেয়া হয় তার মধ্যে রয়েছে গুণীজন সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান; পত্রিকা প্রকাশনা; দরিদ্র শিক্ষার্থীদের কম মূল্যে, ক্ষেত্রবিশেষে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান; ছোট শিক্ষার্থীদের সততা শিক্ষা দিতে স্কুলে দোকানদারবিহীন সততা শপিং সেন্টার চালু করা; গরিব শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের শিক্ষা সহায়তা হিসেবে গাভী প্রদান; মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি; গরিব চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে কীটনাশক, সার ও বীজ বিতরণ; ধর্ম ও নৈতিকতা বিষয়ক উৎকর্ষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেমিনার ও ওয়ার্কশপের আয়োজন; শিক্ষার্থীদের জন্য ইংলিশ স্পিকিং কোর্স পরিচালনা; সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ বৃদ্ধির জন্য নাচ, গান, আবৃত্তি ও নাটকের ওপর প্রশিক্ষণ; বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা; বয়স্ক ও বিধবা ভাতা প্রদান; জরুরি চিকিৎসায় হতদরিদ্রদের অপারেশন ও ওষুধ খরচ বাবদ নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান; চক্ষু শিবির ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণ; গাইনি চিকিৎসা শিবির পরিচালনা; মহিলাদের সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন প্রদান; গরিবদের লাশ দাফনে সহায়তা এবং শীতকালে দরিদ্রদের শীতবস্ত্র বিতরণ প্রভৃতি। সাহিত্যমোদী, সমাজ সংস্কারক ও সংগঠক হিসেবে এই এএসপি বহুবিধ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তুলতে অবদান রেখেছেন। মানবদরদি ও জনহিতৈষী একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে তিনি নাগরিক সমাজে, বিশেষ করে যুবক ও গরিবদের মাঝে পুলিশকে জনপ্রিয় করেছেন।

নিশ্চিতভাবে বলা যায়, পুলিশ বাহিনীতে এদের মতো আরও অনেক জনবান্ধব পুলিশ অফিসার আছেন। তাদের নাম ও ভালো কাজগুলো প্রচারিত হয় না। গণমাধ্যম ও সামাজিক কালচারে পুলিশের খারাপ কাজের দৃষ্টান্তগুলোই বেশি প্রচার পায়। সরকারি সদিচ্ছা থাকলে কতিপয় উদ্যোগ নিয়ে পুলিশ বাহিনীকে একটি জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত করা সম্ভব। এ উদ্যোগগুলো হল-

১. ব্রিটিশ আমলের গণবিরোধী ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন বাতিল করে সেনা-সমর্থিত সরকারামলে তৈরিকৃত পুলিশ সংস্কার অধ্যাদেশ পাস ও কার্যকর করা;

২. রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে এবং নির্বাচনী বিজয় অর্জনে পুলিশকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করা;

৩. পুলিশের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও প্রশিক্ষণে যুগোপযোগী সংস্কার এনে পুলিশ আমলাতন্ত্র ও পুলিশ কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব সৃষ্টি করা;

৪. র‌্যাবের জন্য বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে লোক সংগ্রহ না করে সমন্বয়হীনতা এড়াতে এ এলিট ফোর্সের জন্য পৃথক নিয়োগের ব্যবস্থা করা, এবং

৫. রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া।

উপরোক্ত কাজগুলো করলে অনেক পুলিশ কর্মকর্তাই ক্রমান্বয়ে জননন্দিত পুলিশ অফিসার হয়ে উঠবেন। পুলিশ বাহিনী তখন একটি প্রশংসিত, পেশাদার, জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত হবে। পাশ্চাত্যের মতো বাংলাদেশের স্কুল শিক্ষার্থীরাও তাদের ‘এইম ইন লাইফ’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট না হতে চেয়ে তখন বলবে, আমি একজন পুলিশ অফিসার হতে চাই।

ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×