স্বদেশ ভাবনা

প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয়

  আবদুল লতিফ মন্ডল ২০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয়
ফাইল ফটো

চলতি বছর পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠেয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন এবং তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন এমন জনপ্রতিনিধির সংখ্যা কমবেশি ২০০ জন।

এদের ১০৮ জন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে এবং অন্যরা ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হচ্ছেন। এ ধারা নির্বাচনের পঞ্চম ধাপেও যে বহাল থাকবে তা অনেকটা জোর দিয়ে বলা যায়।

সে ক্ষেত্রে দেশের উপজেলা পরিষদগুলোয় মোট চেয়ারম্যান পদের কমবেশি এক-চতুর্থাংশ পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা অধিষ্ঠিত হবেন। এরই সূত্র ধরে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন কেন গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয়, এ নিবন্ধে তা আলোচনা করা হচ্ছে।

গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও বিকাশের অন্যতম শর্তাবলি হল সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন- সে নির্বাচন জাতীয় বা স্থানীয় যে পর্যায়েই অনুষ্ঠিত হোক।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অধিকাংশ সময় এসব শর্ত পূরণ হয়নি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের বীজ রোপিত হয় দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচনে শাসক দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পত্রপত্রিকা, রাষ্ট্রীয় রেডিও-টেলিভিশন ও যানবাহনসহ পুরো প্রশাসনযন্ত্রকে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগ কর্তৃক বিরোধী দলের প্রার্থীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও। এর প্রমাণ মেলে যখন দেখা যায় জাতীয় সংসদের ১১টি আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।

বিচারপতি মো. ইদ্রিসের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন শাসক দল আওয়ামী লীগের প্রভাব-প্রতিপত্তির কাছে নিশ্চুপ থাকাই শ্রেয় মনে করে। কমিশন জাতীয় সংসদের মোট ৩০০ আসনের ২৯৩টিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করে। এ প্রসঙ্গে কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ সম্প্রতি লিখেছেন, ‘স্বাধীনতার পর ১৯৭৩-এ বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়ায়নি।

সেটা ছিল খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু অস্বাভাবিক হল, আরও কেউ কেউ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এএইচএম কামরুজ্জামান, সোহরাব হোসেন, কেএম ওবায়দুর রহমান, মনোরঞ্জন ধর, জিল্লুর রহমান, রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া প্রমুখ। ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়া হয়নি’ (প্রথম আলো, ১২ মার্চ)।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর দু’জন সামরিক শাসক সামরিক ও বেসামরিক পোশাকে প্রায় ১৫ বছর দেশ শাসন করে। এ সময়কালে অনুষ্ঠিত হয় তিনটি সাধারণ নির্বাচন।

১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচন রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হলেও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ছিল না। জাতীয় পার্টির আমলে দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপি ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সাধারণ নির্বাচন বর্জন করায় এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকায় এ দুটি সাধারণ নির্বাচন বহুদলীয় অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ছিল না।

বাংলাদেশে প্রথম দুই দশকের নির্বাচনের ইতিহাসে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালে।

এই পঞ্চম জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ নির্বাচনব্যবস্থার ওপর তাদের হারানো বিশ্বাস ফিরে পেতে শুরু করে। সাধারণ নির্বাচনকালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর দাবিতে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ এবং অন্য দুটি বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর দুর্বার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধানে এরূপ সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের সুবিধার্থে বিএনপি সরকার ১৯৯৬ সালের ফেরুয়ারিতে ষষ্ঠ সাধারণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করলে আওয়ামী লীগসহ অধিকাংশ বিরোধী দল সে নির্বাচন বর্জন করে।

বিএনপি সরকার ১৯৯৬ সালের মার্চে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচনকালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত সপ্তম (জুন, ১৯৯৬), অষ্টম (অক্টোবর, ২০০১) এবং নবম (ডিসেম্বর, ২০০৮) সাধারণ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু হওয়ায় এসব নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়।

নবম সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকার প্রবর্তিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং সমমনা ৮টি দল ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে। অংশগ্রহণহীন এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচন বহুদলীয় অংশগ্রহণমূলক হলেও মোটেই সুষ্ঠু হয়নি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, যেমন- নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের অনুকূলে সিল মেরে রাখা, বুথ দখল করে প্রকাশ্যে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের অনুকূলে ব্যালটে সিল মারা, সরকারবিরোধী জোটের পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেয়া, সরকারবিরোধী দল বা জোটের প্রার্থীর সমর্থক ও নেতাকর্মীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন, হামলা, নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর করা ও পুড়িয়ে দেয়া ইত্যাদি। এসব অভিযোগ দেশ-বিদেশে এ নির্বাচনের ফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।

২০১৫ সালের আগ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় নির্বাচন হয় নির্দলীয়ভাবে। আওয়ামী লীগ সরকারের ২০১৪-২০১৮ মেয়াদে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) আইন, ২০১৫; উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৫; স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) আইন, ২০১৫ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০১৫-এর মাধ্যমে কেবল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল মনোনীত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্য ঘোষণা করা হয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী পদে নির্দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অবসান ঘটে।

এসব সংশোধিত আইনের অধীনে গত চার বছর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় অনুষ্ঠিত নির্বাচন বহুদলীয় অংশগ্রহণমূলক হলেও মোটেই সুষ্ঠু হয়নি। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকদের সন্ত্রাস, ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই ইত্যাদি অনৈতিক কাজ স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ফলে এসব নির্বাচনে শাসক দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা একচেটিয়াভাবে জয়লাভ করেন।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নজিরবিহীন অনিয়মের প্রতিবাদে নির্বাচনে জয়ী পাঁচজন বিএনপি প্রার্থী শপথ গ্রহণ করেননি। মাঠের বাইরে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি পুনর্নির্বাচন দাবি করেছে।

চলমান পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি বিএনপি। তাছাড়া আটদলীয় বাম গণতান্ত্রিক জোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত আন্দোলন, মুসলিম লীগসহ আরও কয়েকটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করেছে। অর্থাৎ চলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বহুদলীয় অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হচ্ছে না।

তাছাড়া, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়রের শূন্য পদে এবং ডিএনসিসি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) নবগঠিত ১৮টি করে ৩৬ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট, বিএনপির ছায়ায় গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ অনেক রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি। ফলে ডিএনসিসির মেয়র পদে নির্বাচন বহুদলীয় অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়নি। এ নির্বাচনে মাত্র ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পড়ে।

প্রশ্ন উঠতে পারে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয় কেন? ১৯৭৩ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক না হওয়ায় এবং জাতীয় সংসদে শাসক দল আওয়ামী লীগের একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা পাওয়ায় ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্থলে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালুর পথ সুগম হয়ে ওঠে।

ন্যূনতম সময়ের মধ্যে কোনো বিতর্ক ছাড়াই একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালুর আইনটি ২৯৪-০ ভোটে পাস হয়। এতে গণতন্ত্রের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে। পঁচাত্তর-পরবর্তী ১৫ বছরে দু’জন জেনারেল সামরিক ও বেসামরিক পোশাকে দেশ শাসন করেন। এ সময়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থার স্থলে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেলেও সে গণতন্ত্র ছিল নিয়ন্ত্রিত।

২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত অংশগ্রহণহীন দশম সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শাসক দল আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসে। এতে দেশে গণতন্ত্র পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সর্বশেষ একাদশ সাধারণ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার ধারে-কাছেও পৌঁছাতে পারেনি। এ নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তাদের এক গবেষণা প্রতিবেদনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ত্রুটিপূর্ণ বলে মন্তব্য করে এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের পক্ষে মত দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা উইলসন সেন্টারের সিনিয়র স্কলার ও রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যথাযথ হয়নি বলে মন্তব্য করে জাতিসংঘ।

এ অবস্থায় একটি ইতিবাচক ফলের জন্য রাজনৈতিক সব পক্ষকে নিয়ে অর্থপূর্ণ সংলাপের তাগিদ দেয় সংস্থাটি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফ্রিডম হাউস প্রকাশিত ‘ডেমোক্র্যাসি ইন রিট্রিট : ফ্রিডম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বৈশ্বিক গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের অনিয়মগুলোর উল্লেখ করা হয়েছে।

বহুদলীয় অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় চলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে জনগণ ভোটকেন্দ্রে যেতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এ ব্যাপারে খোদ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ‘উপজেলা পরিষদে একতরফা নির্বাচনের কারণে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে আগ্রহী হচ্ছেন না।

এ নির্বাচনবিমুখতা গণতন্ত্রবিমুখতায় পর্যবসিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। এ অবস্থা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত’ (প্রথম আলো, ১৯ মার্চ)।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাদশ সংসদ নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮-তে গণতন্ত্র সুদৃঢ়করণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। গণতন্ত্র সুদৃঢ়করণের জন্য যা প্রয়োজন তা হল জাতীয় পর্যায়ে এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান। এর কোনো বিকল্প নেই। সর্বশেষ একাদশ সাধারণ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হলেও সুষ্ঠু হয়নি। এ নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হওয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে। প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মহল। সবচেয়ে বড় খবর হল, খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার তার ৮ মার্চের বক্তব্যে একাদশ সাধারণ নির্বাচনে অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন। তাই এ গ্লানি থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র পথ হল যত শিগগির সম্ভব নতুন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান। জাতিসংঘের সুপারিশের সূত্র ধরে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রাসঙ্গিক সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের সব হুমকি দূর হোক- এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×