দীর্ঘজীবী হোন উন্নয়নের রূপকার

  খন্দকার দেলোয়ার জালালী ২০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ছবি: সংগৃহীত

শুভ জন্মদিন পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৯৩০ সালের এদিনে সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি, বিরোধীদলীয় নেতা, বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কুড়িগ্রাম শহরের ‘লাল দালান’ বাড়িখ্যাত নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

সামরিক বাহিনী থেকে এসে দেশ পরিচালনা করে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরও বিরোধী রাজনীতিতে এখনও অত্যন্ত প্রভাবশালী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। যদিও সেনাবাহিনী থেকে রাজনীতিতে এসে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকার উদাহরণ নেই বললেই চলে। আবার ক্ষমতা হস্তান্তরের পর দীর্ঘ ৬ বছর কারাগারে ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা হস্তান্তরের কয়েকদিনের মাথায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কারাগারে থাকাকালীন ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ৫টি করে আসনে জয়ী হন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। জেলে থেকে নির্বাচনের এমন বিজয় সাফল্যের নজিরও খুব একটা নেই ইতিহাসে। কোনো নির্বাচনে না হারার রেকর্ডও আছে তার।

পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে গড়া রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রধান বিরোধী দল। দশম জাতীয় সংসদেও প্রধান বিরোধী দলও ছিল জাতীয় পার্টি। ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনন্য রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয় দলটি।

তৃতীয় ও চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিল জাতীয় পার্টি। এরপর থেকে প্রতিটি সংসদেই প্রতিনিধিত্ব ছিল জাতীয় পার্টির। এছাড়া প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার গঠনেও জাতীয় পার্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং এখনও রাখছে।

দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিবেচনায় এখনও সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এখনও দেশের যে কোনো প্রান্তে এরশাদের উপস্থিতিতে লাখো মানুষের ঢল নামে। ৯ বছরের সফল সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানকে একনজর দেখতে মানুষের স্রোত দেখা যায়।

প্রমাণ হয়, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এখনও অন্যতম জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন উন্নয়ন আর মানবিক অসংখ্য কর্মকাণ্ডের জন্য। ৯ বছরের দেশ পরিচালনায় পল্লীবন্ধু অনেক কীর্তি গড়েছেন।

অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করতে নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। অধিকতর সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত করকাঠামো প্রবর্তন করেছেন। স্টক এক্সচেঞ্জ পুনরুজ্জীবিত করেন। জাকাত তহবিল এবং জাকাত বোর্ড গঠন করেন।

২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে হিন্দু ধর্মকল্যাণ ট্রাস্ট এবং বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের প্রত্যেকটির জন্য ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে দুটি পৃথক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেন। দেশের উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলে স্বল্প সুদে গৃহনির্মাণ ঋণের ব্যবস্থা করেন। উল্লেখযোগ্য হারে কৃষিঋণ বাড়িয়ে দেন তিনি।

বেসরকারি পর্যায়ে শিল্প স্থাপনে উৎসাহ দিতে ৩৩টি পাটকল এবং ২৫টি বস্ত্রমিল থেকে পুঁজি প্রত্যাহার করে সেগুলো বাংলাদেশি মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ করেন। এতে অন্তত ২০ ভাগ উৎপাদ বেড়ে যায়। বিদ্যমান দুটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি জীবন ও সাধারণ বীমা ব্যবসা চালানোর অনুমতি দেন।

চট্টগ্রামে রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ জোনের কাজ শুরু করেন। নতুন শিল্পের মঞ্জুরি দানে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করেন। ক্ষুদ্র, কুটির এবং হস্তচালিত তাঁতশিল্পে উৎসাহ প্রদান করেন। স্থানীয় শিল্প উৎসাহিত করতে ৪৪টি আইটেমের দ্রব্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ইটের ভাটায় কাঠের পরিবর্তে কয়লা ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান করেন। কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে নানামুখী কর্মসূচি হাতে নেন।

তার আরও অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে আছে ন্যাশনাল ওয়াটার মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন। ১৯৮৫ সালে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তিস্তা বাঁধ প্রকল্প নির্মাণ এগিয়ে নেন এরশাদ। মুহুরি এবং মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প নির্মাণ কাজ শেষ করেন।

মুজিবনগরে জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন। পুরনো গণভবনকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে রূপান্তর করেন। মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা ও জেলা সদর দফতর নির্মাণ করেন।

রাজধানীতে এরশাদের অনেক উন্নয়ন নিদর্শন অক্ষয় হয়ে আছে। স্বল্প সময়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন তিনি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর সম্প্রসারণ করেন।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ভবন সম্প্রসারণ এবং সৌন্দর্যবর্ধন করেন। সংসদ ভবন এলাকার উন্নয়ন ও রমনায় জাতীয় তিন নেতার মাজার নির্মাণ সম্পন্ন করেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনাল নির্মাণ করেন। জাতীয় ঈদগাহ এবং সচিবালয়ের সামনে নাগরিক সংবর্ধনা কেন্দ্র নির্মাণ করেন। নর্থ, সাউথ ও ওয়ারী খাল রোড নির্মাণ করেন।

মিরপুর-আগারগাঁও রোড প্রকল্প শুরু করেন। মিরপুর ও গুলশান পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করেন। উত্তরা ও বারিধারায় নতুন প্লট বরাদ্দ দেন। পুরান ঢাকার ৩টি খেলার মাঠ এবং ২৮০টি বিপণিবিশিষ্ট ধূপখোলা কমপ্লেক্স তৈরি করেন।

রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো ভেঙে আধুনিক ও বহুতলবিশিষ্ট ভবন তৈরি করেন। ফুলবাড়িয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ভিড় কমাতে তেজগাঁও, গাবতলী ও যাত্রাবাড়ীতে তিনটি বাস টার্মিনাল নির্মাণ করেন। ঢাকায় এক ডজনের বেশি শিশুপার্ক নির্মাণ করেন।

যানজট নিরসনে ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করেন। ঐতিহাসিক আহছান মঞ্জিল সংস্কার করেন। নগরীর পানি ও বিদ্যুৎ লাইনের উন্নয়ন করেন। প্রতিটি সড়ক ও অলিগলিতে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করেন।

নগরীতে গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করেন। নগরভবন ও পুলিশ সদর দফতর নির্মাণ করেন। পান্থপথ ও রোকেয়া সরণি সড়ক নির্মাণ করেন। মিরপুরে দ্বিতীয় জাতীয় স্টেডিয়াম এবং ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ করেন। দেশের একমাত্র ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি প্রতিষ্ঠা করেন। বনানীতে আর্মি স্টেডিয়াম নির্মাণ করেন। ঢাকা বন্যা নিরোধ বাঁধ নির্মাণ করেন। পথকলি ট্রাস্ট গঠন করেন।

এছাড়া উপজেলাভিত্তিক তিন স্তরের প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন। যৌতুক নিরোধ আইন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইন, মুসলিম পারিবারিক আইন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন জারি করেন।

বিসিএস একাডেমি ও লোকপ্রশাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বন্ধ থাকা পদোন্নতি চালুন করেন। গেজেটেড পদে মহিলাদের জন্য ২০ শতাংশ পদ সংরক্ষণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৫০ ভাগ নারীদের জন্য সংরক্ষণ করেন। মেয়েদের জন্য পৃথক ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৮৮ থেকে ৯০ সালে সারা দেশে ৫৬৮টি গুচ্ছগ্রাম স্থাপন করে ২১০০০ ছিন্নমূল ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসিত করেন। চট্টগ্রামে ইউরিয়া ও যমুনা (তারাকান্দি) সার কারখানা স্থাপন করেন।

৮ হাজার কিলোমিটার পাকা সড়ক এবং ১৭ হাজার কিলোমিটারের বেশি কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করেন। ছোট-বড় ৫৮০টি সেতু নির্মাণ করেন। ২৮৭টি উপজেলায় হেলিপ্যাড নির্মাণ করেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পরিবারের জন্য রাজধানীর বনানীতে বাড়ি বরাদ্দ দেন।

এছাড়া ৯ বছর রাষ্ট্র পরিচালনাকালে পল্লীবন্ধু অজস্র কল্যাণময় উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যার সুফল দেশ ও জাতি সম্মানের সঙ্গে আজীবন উপভোগ করবে। তিনি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ও দীর্ঘজীবী হোন- জন্মদিনে এটাই প্রার্থনা।

খন্দকার দেলোয়ার জালালী : সাংবাদিক; হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×