অতএব সাধু সাবধান!

  মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের দেশের রাজনীতিকদের সম্পর্কে উঠতে-বসতে বলতে শোনা যায়, ‘রাজনৈতিক দল বা রাজনীতিবিদরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন না।’ কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, তাদের সম্পর্কে বলা এ কথাটি হয়তো ঠিক নয়। কারণ এক দৃষ্টিকোণ থেকে রাজনীতিকরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছেন। আর তা হল ‘নিষ্ঠুরতা’। রাজনৈতিক দল এবং নেতারা রাজনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে ইতিহাসের নেতিবাচক এই দিকটি বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করে বর্তমান যুগেও তার প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছেন। দাঙ্গা-হাঙ্গামা, মারামারি, হত্যা, লুটতরাজ, নির্মমতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রাগৈতিহাসিক বা ঐতিহাসিক যুগ ফেলে এসে তারা বর্তমান (সভ্য) যুগে উন্নীত হয়েছে- এ কথা মোটেই বলা চলে না! ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, হালাকু খান, চেঙ্গিস খান, তৈমুর লং এই সম্রাটদের সবাই একধরনের বড় ডাকাত সর্দার ছিলেন। সে সময়ের এবং তার আগে-পরের প্রত্যেক পরাক্রমশালী রাজা-বাদশাহ, সুলতান, সম্রাটরা নির্মম-নিষ্ঠুরভাবে এলাকার পর এলাকা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে, লুটতরাজ করে, হাজার হাজার মানুষকে নির্মম-নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে রাজ্য বিস্তার করতেন। অর্থাৎ রাজত্ব করা বা রাজত্ব বিস্তারে তাদের মূলমন্ত্র ছিল নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা! যেসব এলাকায় তারা হানা দিতেন সেসব এলাকার বিরোধী শক্তিকে খতম করে তাদের মুণ্ডু কেটে তা স্তূপাকারে জমাসহ নারী-পুরুষের জীবন সংহারও ছিল তাদের বিজয় অভিযানের অনুষঙ্গ।

ভারতীয় উপমহাদেশে মোগল সাম্রাজ্য স্থাপনেও একই নীতি অনুসৃত হয়েছিল। কাবুল, কান্দাহার, উজবেকিস্তান ইত্যাদি এলাকার পরাক্রমশালী ব্যক্তিরা দলে-বলে লাহোর এবং সন্নিহিত এলাকা কব্জা করে তারপর হিন্দুস্থানের বিভিন্ন অঞ্চল আক্রমণ করে নিষ্ঠুরতা প্রদর্শনের মাধ্যমে ভারতবর্ষ দখল করেন। অতঃপর ভারতবর্ষের বিভিন্ন দেশীয় রাজ্য দখলের সময়ও অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে নরহত্যা চালানো হয়েছিল এবং সেসব এলাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগবণ্টন করে একেকজনকে একেক এলাকার শাসক নিয়োগ করেছিলেন। যাদের প্রায় সবাই ছিলেন ওইসব সম্রাটের আত্মীয়স্বজন বা নিকটজন। ক্ষেত্রবিশেষে সেনাপতি-সেনাপ্রধানদেরও পুরস্কার হিসেবে রাজ্য বা পরগণা প্রদান করা হতো। আর এভাবেই রাজ্য বিস্তারের মাধ্যমে একেকজন হয়ে উঠতেন ইতিহাসের পাতা কাঁপানো রাজা-বাদশাহ, সুলতান বা সম্রাট। ওইসব রাজা-বাদশাহ-সম্রাটের সবার যুদ্ধজয়ের ইতিহাসই ছিল লোমহর্ষক! তারা তাদের প্রয়োজনে যে কোনো এলাকার মানুষের গবাদিপশু, উট, ঘোড়া, ভেড়া, খাদ্যশস্য, ধনসম্পদ, হীরা-জহরত, সোনাদানা সবকিছু লুট করতেন। আর এসব লুট করা অর্থ-সম্পদ, হাতি-ঘোড়া সবকিছু সেনাসদস্য, আমীর-ওমরাহ এবং নিকটস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে বিলি-বণ্টন করা হতো। তবে বৃহৎ ও ভালো অংশ সবসময়ই সম্রাট নিজে রেখে দিতেন। প্রায় সব রাজা-বাদশাহ, সম্রাটের ইতিহাস পাঠ করলে একই দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়।

বর্তমানকালের চিত্র ঠিক অনুরূপ না হলেও এবং ক্ষমতা দখল, ক্ষমতা গ্রহণের স্টাইলে কিছুটা পরিবর্তনের ধারা লক্ষ করা গেলেও মূল বিষয়টি, অর্থাৎ ‘জোর যার মুল্লুক তার’ ঘটনাটি এখনও থেকেই গেছে। আর তাই এখনও গায়ের জোরেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এলাকা দখল, রাজ্য দখল, ক্ষমতা দখল অব্যাহত আছে। বর্তমানকালে রাজা-বাদশাহ, সম্রাট, সুলতান ইত্যাদি পদ-পদবির পরিবর্তন হয়েছে বটে, তবে তাদের সবারই সেই ‘আমিই রাজা’ ভাব রয়ে গেছে। আগের মতো বহির্দেশ আক্রমণ করে সরাসরি তা দখল করে নিজের আত্মীয়স্বজন, অমাত্যবর্গের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ার সুযোগ না থাকলেও নিজ নিজ দেশের মধ্যেই একে অপরকে দখল করে বর্তমানেও একই কায়দায় সম্পদের ভাগবাটোয়ারা অব্যাহত আছে। সেই একই কায়দায় নিজ নিজ বাহিনী লালন-পালনের মাধ্যমে একে অপরকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে বা একে অপরের ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে সেই একই চিন্তাধারায় রাজনীতি আবর্তিত হচ্ছে। এখনও রাজনীতি মানেই, ক্ষমতা দখল মানেই সম্পদের নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব গ্রহণ করে তা নিজের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়া। এ ক্ষেত্রে ভাগবাটোয়ারার কায়দা-কানুন পাল্টেছে মাত্র।

নিজ নিজ দেশে এসব করার পাশাপাশি অনেক ক্ষমতাধর, ক্ষমতাশালী বা পরাক্রমশালী যেসব রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রনায়ক আছেন, তারা আবার এখনও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বহির্দেশ কাবু করে সেসব দেশের সম্পদও পরোক্ষভাবে লুটে নিচ্ছেন। অর্থাৎ সরাসরি সে দেশটি দখল না করেও সেখানে তাঁবেদার সরকার বসিয়ে নিজ দেশে বসেই ওইসব পরাক্রমশালী রাষ্ট্র ও সরকার পরদেশে কর্তৃত্ব-নেতৃত্ব বহাল রাখছেন। আর এভাবেও তারা অন্য দেশের ধনসম্পদ লুটে নিচ্ছেন। তবে বর্তমানকালে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিজ নিজ দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, উপদল ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি, হানাহানি, গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল, ক্ষমতা বদল করে নিজ দেশের সম্পদ কব্জা করে তা নিকটজন, অমাত্যবর্গ এবং নিজ বাহিনীর লোকদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছেন। আর এভাবে সারা পৃথিবীর সম্পদ একটি বিশেষ শ্রেণীর মানুষের হাতে কুক্ষিগত হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে একটি বিশেষ শ্রেণী ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন পন্থায় সম্পদের ওপর দখলদারিত্ব কায়েম করে চলেছে। বর্তমানে সারা পৃথিবীর ৮২ শতাংশ ধনসম্পদের মালিক হলেন সারা পৃথিবীর ১ শতাংশ মানুষ। অর্থাৎ সারা পৃথিবীর ৯৯ শতাংশ মানুষ সারা পৃথিবীর মাত্র ১৮ শতাংশ ধনসম্পদের মালিক। ধনসম্পদের এ ধরনের অসম বণ্টনের মূল কারণই হল পৃথিবীব্যাপী রাজনীতির নামে অপরাজনীতি ও লুটপাট! অতি অল্পসংখ্যক দেশ ও জাতি বাদ দিলে দেখা যাবে, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই অনৈতিকভাবে রাজনীতির অনুশীলন চলছে। গণতন্ত্রের নামে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ধোঁকাবাজি শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষকে গণতন্ত্রের নামে ঘুম পাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, সেখানে গণতন্ত্রের নামে যা হচ্ছে তা কখনও একনায়কতন্ত্র, কখনও সামরিকতন্ত্র! পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা ধনী ও শক্তিশালী রাষ্ট্র খোদ আমেরিকায়ও এখন ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের মাধ্যমে দেশ শাসন করা হচ্ছে। গণতন্ত্রকে বর্তমান যুগের রাজনীতির চাকায় নিষ্পেষিত করে গণতন্ত্রের মূলমন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। ইংরেজিতে যাকে বলা হচ্ছে, ‘Everything is fair in politics’. এ বাক্যটি যদিও ভালোবাসা ও যুদ্ধের ক্ষেত্রে ব্যবহার্য ছিল, কিন্তু বর্তমানে রাজনীতির ক্ষেত্রেই তা বেশি করে ব্যবহার হচ্ছে। আর হবেই বা না কেন? কারণ রাজনীতি তো এখন পুরোপুরি ডধৎ বা যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। যার হাতে যত বেশি গুণ্ডা বা মাসলম্যান আর অস্ত্র আছে, তিনিই বেশি শক্তিশালী বিধায় রাজনীতিও তার হাতে।

বর্তমানে সারা পৃথিবীতেই কমবেশি এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যত প্রকার মিথ্যা, ছলচাতুরী, জাল-জোচ্চুরি, অনৈতিকতা রয়েছে- সবকিছু এখন রাজনীতির অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তাই বলে বিশ্বের অন্যান্য দেশে আমাদের দেশের মতো মহামারী আকারে এখনও তা দেখা দেয়নি। আমাদের দেশে রাজনীতিতে এখন ছলচাতুরী, মিথ্যাচার, ধাপ্পাবাজি, অনৈতিকতা মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে। ফলে দিনের পর দিন রাজনীতি অস্থিরতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। সবকিছু ছাপিয়ে এখন দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা সবচেয়ে বেশি করে সাধারণ নাগরিকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষক মাঠে ফসল ফলাচ্ছেন, শ্রমিকরা কলকারখানায় শ্রম দিচ্ছেন, বিদেশে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে তা দেশে পাঠাচ্ছেন, গার্মেন্টকর্মীদের ঘাম ঝরানো শ্রমে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসছে, আর রাজনৈতিক দলগুলো সেসব ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে অপরাজনীতির অপকৌশল এঁটে দেশটাকে বারবার অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের কর্মকাণ্ড লক্ষ করে বারবার দেশের মানুষের কপালে ভাঁজ পড়ছে। খেটে খাওয়া মানুষগুলো আবার ভয় পেতে শুরু করেছেন। তারা মনে করছেন, ‘এই বুঝি রাজনৈতিক দলের চেলাচামুণ্ডারা নেকড়ে বাঘের মতো তাদের ঘাড়ের ওপর লাফিয়ে পড়বে। তাদের চলাচলের রাস্তাঘাটে উন্মত্তা, মারামারি, হানাহানি ছড়িয়ে পড়বে। ঘরের মানুষের ঘরে ফেরা নিয়ে পরিবারের অন্যদের অস্থির আশঙ্কায় সময় কাটাতে হবে।’ শুধু সাধারণ মানুষই বা হবেন কেন, দেশের ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, চাকরিজীবী, কলমজীবী- সবার মনেই আবার নতুন করে এ আশঙ্কা দানা বেঁধে উঠেছে যে, আবারও বুঝি তাদের ঘর থেকে বের হয়ে ঘরে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে! এই তো মাত্র সেদিন সেসব দুরবস্থা থেকে বের হয়ে জনগণ জীবন-জীবিকার তাগিদে চলাফেলা শুরু করেছিলেন! আবারও কি তাদের সেই দুরবস্থায় নিপতিত হতে হবে? এমনিতে তো দেশের আইনশৃঙ্খলা বলতে যা আছে, তাতে কোনোমতে জান হাতে ঘরে ফেরা সম্ভব হচ্ছে। তারপর যদি এটুকুও না থাকে তাহলে পরিবার-পরিজন নিয়ে, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা এখনই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন। কারণ এ দেশের সাধারণ নিরীহ মানুষ জানেন, ‘রাজনৈতিক দল মানেই একদল মাস্তান মানুষের সংগঠন। সেখানে নীতি-নৈতিকতার কোনো বালাই নেই। নিরীহ মানুষ আগুনের পুড়ে মরল, গুলি খেয়ে মরল, না বোমা খেয়ে মরল- এসব নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা নেই। তাদের একমাত্র চিন্তা কী করে মানুষ মেরে, সেখান থেকে ফায়দা লুটে রাজশক্তি কব্জা করা যায়!’ তাই আমাদের দেশের দলহীন নিরীহ মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়াটাই যেন একটি আপদ। কারণ রাস্তাঘাটে চলাচলের নিরাপত্তা না থাকলে, জীবনের নিরাপত্তা না থাকলে কাজ করে খাওয়াটাই বা নিরাপদ হয় কী করে? তাই দেশের আমজনতা সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ঘরপোড়া গরুর মতোই ভয় পান। আর তাদের সে ভয় পাওয়াটাও অমূলক নয়। কারণ যখন দুই অসুরে মারামারি-কামড়াকামড়ি শুরু হবে বা সংঘর্ষ বেধে যাবে, তখন সেই যুদ্ধের বলি দেশের নির্দলীয় নিরীহ মানুষকেই হতে হবে। যারা মারামারি বা যুদ্ধ করেন, তারা ভালো করেই জানেন কখন কীভাবে নিরাপদ দূরত্বে থেকে তা করতে হয়। দলীয় কিছু গুণ্ডাবাহিনীকে অর্থকড়ি দিয়ে তারা এসব করিয়ে নেন এবং নিজেরা আড়ালে-আবডালে থেকে তা প্রত্যক্ষ করেন। যুদ্ধ পরিচালনাকারী রাজা-বাদশাহ ও অমাত্যবর্গ নিজেরা কখনও এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এমনটি দেখা যায়নি। যদিও আমরা তেমনটি দেখতে চাইও না। কারণ আমরা চাই ওইসব রাজা-বাদশাহ-অমাত্যবর্গসহ দেশের সব নাগরিক সুখী-সমৃদ্ধ জীবনযাপন করুক। আর সাধারণ মানুষের চলার পথ নিরাপদ হোক। একজন শিশুর পিতা যাতে কাজ শেষে ঘরে ফিরে তার সন্তানকে বুকে জড়িয়ে আদর করতে পারেন, আমরা সেই নিরাপত্তা চাই। দিন শেষে একজন স্ত্রী যাতে তার স্বামীকে অক্ষত অবস্থায় ঘরে ফিরে পান, আমরা সেই নিরাপত্তা চাই। আমরা এমন রাজনীতি চাই না, যেখানে আমাদের চলার পথে কেউ বাধা দেবেন, বোমা মারবেন, আমাদের গাড়ি ভাংচুর করবেন, আগুন দেবেন।

এসব অপরাজনীতির হাত থেকে আমরা এখনই মুক্তি চাই। এ ধরনের অপরাজনীতির সিঁদুরে মেঘও আমরা আবার দেখতে চাই না। পাকিস্তানিরা মাত্র চব্বিশ বছর এ দেশটি শাসন করেছিল। তাদের শাসনামলে আমরা যেমনটি নিরাপত্তাহীন ছিলাম, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাতচল্লিশ বছর পর আমরা দেশে সে পরিবেশ দেখতে চাই না। সেদিন যেমন পাকিস্তানিদের ট্রাকের শব্দ পেলে আমার মায়ের বুক কাঁপত, আমরা চাই না এখনও তেমন কোনো শব্দে কোনো মায়ের বুক কাঁপুক। যে বা যারাই দেশ চালান না কেন, তাতে আমাদের আপত্তি নেই। আমাদের ভোটদানের সুযোগ করে দিন, আমরা আপনাদের যাকে ভোট দেব তারাই দেশ চালান। সাধারণ মানুষের ভোটদানের ক্ষেত্রে যাতে কোনো টালবাহানা সৃষ্টি না হয়, কোনো ভয়ভীতি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি না হয়, সে ব্যবস্থাটুকু করে দিলেই আমরা আমজনতা খুশি। আমাদের ভোট আমরা যাকে দেব, তিনি বা তার দল দেশ শাসন করুন এতে কারও কোনো আপত্তি থাকবে না। অন্যথায় কোনো শক্তি যদি ছলচাতুরী, টালবাহানার আশ্রয় গ্রহণ করতে চান, তাহলে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠবে। আর আগেই বলা হয়েছে, সে সংঘাতে দেশের সাধারণ নিরীহ খেটে খাওয়া মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। আমরা বারবার সে ক্ষতির ভার বহন করতে পারব না। রাজনীতির নামে অমানবিক নিষ্ঠুরতা কাম্য নয়। আর একটি দেশে বারবার এমনটি হলে কে জানে শেষমেশ সাধারণ নিরীহ মানুষই তার জবাব দিতে মাঠে নেমে পড়েন কিনা! অতএব সাধু সাবধান!

মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন : কবি, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter