মানুষের জীবন যেখানে মূল্যহীন

  এ কে এম শাহনাওয়াজ ০২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মানুষের জীবন যেখানে মূল্যহীন

নানা দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল বিরামহীনভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এসব নিয়ে লিখতে আর মন সায় দেয় না। মন বলে কী হবে লিখে। মানুষের জীবন এতই মূল্যহীন হয়ে গেছে যে, উন্নয়নের নানা সাফল্যের কথা শুনে মনে যে পুলক জাগত এখন সব ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

কেউ তো কোনো কথা শুনছে না। বাস্তবায়ন ছাড়া কঠোর হওয়ার ঘোষণা আরও বেশি পানসে হয়ে যাচ্ছে মানুষের কাছে। হতাশার খণ্ডচিত্রের অভাব নেই।

২০ মার্চ দুপুর বারোটা বাজার পাঁচ মিনিট আগে আমার গাড়িটি পূর্বাচলের দিকে যাওয়া ৩০০ ফুট রাস্তা থেকে ফ্লাইওভারে উঠেছে। উড়াল সেতু থেকে নেমে হোটেল রেডিসনের পাশ দিয়ে আরেক ফ্লাইওভারে উঠে মিরপুরের দিকে যাব। প্রথম ফ্লাইওভারে কুর্মিটোলার দিকে নামার মুখে কিছুটা গাড়ির জটলা।

পনেরো-বিশ ফুট সামনে নীলরঙা পরিস্থান নামের বাসযাত্রী তোলার জন্য বাঁ দিক দিয়ে চেপে ধীরগতিতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। আমার গাড়ি ও বাসের মাঝখানে কয়েকটি প্রাইভেট কার এবং মাইক্রোবাস। ততক্ষণে আমার গাড়ি সেতু থেকে রাস্তায় নেমেছে।

হঠাৎ আমাদের আতঙ্কিত করে পেছন থেকে আরেকটি ‘পরিস্থান’ আমাদের গাড়িগুলোকে অনেকটা ফুটপাতের দিকে ঠেলে ভুশ করে ঢুকে গেল। যেন আগের পরিস্থানকে টেক্কা দিয়ে যাত্রী তুলবে সে। এই দৃশ্য শেষ না হতে পেছন থেকে আসা তৃতীয় ‘পরিস্থান’ একটু ডানে সরে আগের দুই জাতভাইকে ডিঙিয়ে এগিয়ে গেল।

কয়েকটি ছোট গাড়ি থেকে আতঙ্কিত যাত্রীরা চিৎকার করে উঠল। সামনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ছিল। তাদের মধ্যে ভাবান্তর হল না। ভাবখানা হরহামেশা এমন চিত্র দেখছে- এ আর নতুন কী!

মনে পড়ল এ স্থানেই গত বছর ২৯ জুলাই পরিস্থানের মতো জাবালে নূর পরিবহনের তিনটি বাস যাত্রী ওঠানোর প্রতিযোগিতায় মত্ত থেকে দণ্ডায়মান যাত্রীদের ওপরে তুলে দিয়েছিল চাকা। এতে নিহত হয়েছিল দুই শিক্ষার্থী আর আহত হয়েছিল নয়জন।

এর প্রতিক্রিয়ায় জ্বলে উঠেছিল শিক্ষার্থীরা। এ আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল দেশময়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল কর্তৃপক্ষের। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল এর অধিকাংশই কার্যকর হয়নি।

রাস্তায় আবার ফিটনেসবিহীন গাড়ির দৌরাত্ম্য চলছে। কেসের পর কেস খাওয়া, ফিটনেসবিহীন ছাল-বাকল ওঠানো গাড়িগুলো অনুমোদনহীন রুটে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চোখের সামনে সিনা টান করে ছুটে চলছে। লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভাররা দাপটের সঙ্গে গাড়ি চালাতে পারছে।

সে সময়ে পুলিশ কমিশনার দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছিলেন, রাজধানীতে এভাবে লেগুনা চলতে দেবেন না। লেগুনা তো দাপটের সঙ্গেই চলছে। গোঁফ না গজানো কিশোরদের হাতে একইভাবে দেখা যেতে থাকে স্টিয়ারিং। যত্রতত্র গাড়িতে যাত্রী ওঠানো-নামানো চলছেই।

দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। মৃত্যুর মিছিল লম্বা হচ্ছে। আমাদের দেশের সরকারি ও বিরোধীদলীয় রাজনীতিকরা দেশে গণতন্ত্র রইলো কী রইলো না, ক্ষমতায় কে থাকল কে ছিটকে পড়ল সেসব নিয়ে লাখ লাখ শব্দবাণ ছুড়তে থাকেন প্রতিদিন। ক্রমাগত সড়ক দুর্ঘটনা আর মৃত্যুর মিছিল নিয়ে কথা বলার মতো সামান্য কিছু শব্দও অবশিষ্ট রাখেন না।

২০ মার্চের কুর্মিটোলার অভিজ্ঞতাটি এমন এক সময় অর্জন করলাম যার একদিন আগে প্রায় একইভাবে রাজধানীর প্রগতি সরণিতে জেব্রা ক্রসিং দিয়ে সড়ক পার হতে গিয়ে সুপ্রভাত নামের বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্র প্রাণ হারাল।

এই মর্মন্তুদ ঘটনার প্রতিক্রিয়া-প্রতিবাদে সতীর্থ শিক্ষার্থীরা আবার পথে নামল, দিনভর আন্দোলন করল। পরদিন অর্থাৎ ২০ মার্চ আবার পথ আগলে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছিল। পরদিন ওদের জমায়েত হয়েছে। প্রগতি সরণিতে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গাড়িতে বসে রেডিওতে শুনছিলাম বন্ধ হয়ে গেছে ফার্মগেটের রাস্তা। শাহবাগ ও বাড্ডায় শিক্ষার্থীরা পথ অবরোধ করেছে।

এভাবে শহরে যখন শোক ও ক্ষোভ চলছিল, ঠিক তখনি প্রগতি সরণি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরত্বে কুর্মিটোলায় তিন পরিস্থানের রেষারেষি চলছে একই কায়দায়। অর্থাৎ বাস চালকদের এসব ছুঁয়ে যায় না। আর একইভাবে ১৯ মার্চেই সিলেটে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত হলেন মা আর ছেলে।

২০ মার্চ রাজধানীতে যখন প্রতিবাদ আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা, তখন ঘাতক ড্রাইভারের গাড়ি বেনাপোলে স্কুলযাত্রী খুদে শিক্ষার্থীর পা ছিন্ন করে দিচ্ছে। গাইবান্ধায় ট্রাক সাইকেল চালিয়ে কোচিংয়ে যাওয়া কিশোরী শিক্ষার্থীর জীবন কেড়ে নিয়েছে। একই দিনে পুরো দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল আটজন।

এই লেখাটি এতদিনে হয়তো প্রকাশিত হয়ে যেত; কিন্তু মার্চ মাসে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক লেখার জন্য অনুরোধ থাকায় আপাতত এ লেখাটি মুলতবি করেছিলাম। এর মধ্যে সড়কে শৃঙ্খলার জন্য পুলিশি ব্যবস্থা কড়াকড়ির কথা শুনছিলাম।

রাজধানীতে পুলিশি তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এর সঙ্গে যেন পাল্লা দিয়ে দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল বাড়তে থাকল। এ পরিসংখ্যান যুক্ত করতে চাইলে লেখাটির আকার প্রকাশযোগ্য পর্যায়ে থাকবে না।

এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে মনে হয়, এ দেশে মানুষের জীবন সত্যিই বড় মূল্যহীন। যুগান্তরের এক পরিসংখ্যানে দেখলাম গত এক বছরে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে সাড়ে সাত হাজার মানুষ। আমি জানি না এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অতিক্রম করে পৃথিবীর আর কোনো দেশ চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছে কিনা। কঠিন অভিজ্ঞতায় সাধারণ মানুষের মনে হতাশার সঙ্গে এই বিশ্বাসও জন্মেছে যে, পরিবহন সেক্টরের মালিক ও শ্রমিকরা সরকারের চেয়ে ক্ষমতাশালী।

সরকারের পক্ষে যেন এদের দুর্বৃত্ত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সড়কে নামলেই ড্রাইভার-হেলপাররা খ্যাপাটে হয়ে যায়। কাকে অতিক্রম করে কে আগে দুটো যাত্রী বেশি তুলতে পারবে- এই প্রতিযোগিতায় মত্ত থাকছে। ব্যস্ত সড়কেও ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা না করে ওভারটেক করে যাচ্ছে।

এসবের অর্থ হচ্ছে বেপরোয়া ড্রাইভাররা জানে ট্রাফিক আইনকে তোয়াক্কা করা অর্থহীন। এ জন্য তাকে কেউ শাসন করতে পারবে না। আর ট্রাফিক প্রশাসন আইন মানাতে বাধ্য করানোর মতো ক্ষমতাবান নিজেদের মনে করেন না। সততারও একটি সংকট আছে।

প্রগতি সরণির মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর প্রথামাফিক মিডিয়া নতুন উদ্দীপনায় লিখতে থাকল। টিভি চ্যানেলগুলো এ বিষয়ক টকশো প্রচার করতে থাকল। অধিকাংশেরই অভিমত চালক ও পথচারীর ট্রাফিক আইন মেনে না চলার জন্য বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে।

সাধারণভাবে কথাগুলো অসত্য নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এসব সাধুবাক্য আর কত শুনব? সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ কী তা শনাক্ত করতে হবে এবং পথ তৈরি করতে হবে এ সংকট থেকে বেরিয়ে আসার।

আবারও পুলিশ কমিশনার বললেন চালক ও পথচারী উভয়েই নিয়মভঙ্গ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন। অভিজ্ঞতা বলছে, পথচারীদের ওপর কিছুটা প্রয়োগ করতে পারলেও ক্ষমতাবান শ্রমিক-মালিক সমিতি ও রাজনৈতিক ক্ষমতাবানদের ওপর প্রয়োগ করার মতো ক্ষমতা সম্ভবত পুলিশ প্রশাসনের নেই।

অনেকেই চালক ও পথচারীর সচেতনতা তৈরির কথা বলেন। আমি এই কথার সঙ্গে একমত হতে পারি না। আমরা কোনো পক্ষই অসচেতন নই। না হলে রাজধানীতে নিয়মনীতির ধার না ধেরে যে বাসটি অন্যায় গতিতে চালাচ্ছে, বেআইনি ওভারটেক করছে, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে, একই ড্রাইভার সেনানিবাসের ভেতরে ঢুকে সভ্য-শান্ত আর আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে পড়ে কীভাবে!

কারণ ড্রাইভার জানে এ এলাকা ডিএমপির পুলিশি এলাকা নয়। ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড নিয়ন্ত্রণ করে এ অঞ্চল। ড্রাইভার জানে এখানে নিয়মভঙ্গ করলে মিলিটারি পুলিশের হাতে পঞ্চাশ টাকা গুঁজে দিয়ে বীরদর্পে চলে যাওয়ার সুযোগ নেই। মালিক-শ্রমিক নেতা আর রাজনৈতিক গুরুদের শাসন এখানে কাজ করবে না।

আইন ভঙ্গকারী ড্রাইভারের লাইসেন্স নেয়ার সময় তর্কে জড়ালে আইন প্রয়োগে অসহযোগিতা করার অপরাধে শাস্তির মাত্রা বাড়তে থাকবে। জরিমানা আদায় করে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড থেকে লাইসেন্স ফিরিয়ে আনতেও মহা হাঙ্গামা পোহাতে হবে।

এ উদাহরণ থেকেই বোঝা যায়, সচেতনতার দোহাই দেয়া নিরর্থক। কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ না করলে ড্রাইভার ও পথচারী কাউকে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। কিন্তু এসব চালক জানেন তাদের বেশি ঘাঁটার সাহস পুলিশ প্রশাসনের নেই।

একে তো অসাধুতার প্রশ্ন আছেই, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রভাব চালকদের শক্তিমান করে রাখে। শোনা যায় ঢাকাসহ নানা অঞ্চলে চলাচলকারী পাবলিক পরিবহনের গাড়িগুলোর বেশিরভাগ মালিকানার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা যুক্ত থাকেন।

চলে বড় রকমের চাঁদাবাজির ঘটনা। এর ভাগবাটোয়ারা হয় নানা দিকে। এদের ঘাঁটার সাহস অনেক ক্ষেত্রে নাকি পুলিশ প্রশাসনের থাকে না। সুতরাং চালকরা কেন আইনের প্রতি নিবেদিত থাকবে!

গত বছর জাবালে নূর পরিবহনের হত্যাকাণ্ডের পর খুদে শিক্ষার্থীরা কি রাজধানীর সড়কের নিয়ন্ত্রণ নেয়নি? তখন কিছুদিনের জন্য হলেও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছিল। এ প্রসঙ্গে টেলিভিশন টকশোতে ডিএমপির এক পুলিশ কর্মকর্তা বললেন তখন প্রেক্ষাপট ছিল আলাদা। অনেকে ভয়ে গাড়ি বের করেনি। তারপরও বলব আমরা কি তখন ছোটদের নিয়ন্ত্রণে লাইন ধরে নির্ধারিত লেনে গাড়ি চলতে দেখিনি?

আলাদা লেনে অ্যাম্বুলেন্স চলেছে নির্বিঘ্নে। আসলে তখন বেপরোয়া চালকরা কাউকে ম্যানেজ করতে পারত না। অন্যদিকে অকার্যকর হয়ে পড়েছিল রাজনৈতিক প্রভাব। শিক্ষার্থীরা কি উল্টোপথে চলা প্রভাবশালীদের গাড়ি আটকে দেয়নি?

পুলিশের গাড়িসহ ফিটনেসবিহীন নানা গাড়ি ওদের হাতে আটক হয়নি? লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভারদের ওরা কি আটকাতে পারেনি? শিক্ষার্থীরা রাজপথ থেকে চলে যাওয়ার পর আবার তো পুরনো চেহারায় ফিরে আসে রাজপথ। এ ব্যর্থতার দায় কে নেবে?

আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেই ফুটওভারব্রিজের দাবি ওঠে। আমার কাছে এ দাবিও অর্থহীন। প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতা শহর থেকে শুরু করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শহরে ফুটওভারব্রিজ তেমন একটা নজরে আসেনি।

আমাদের দেশে অনেক টাকায় ফুটওভার ব্রিজ তৈরির পরও কথা ওঠে অনেক পথচারীই ব্রিজ ব্যবহার করে না। আমি মনে করি, আমাদের দেশের সড়কগুলোর পাশের ফুটপাত যদি দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করে পথচারী চলাচলের ব্যবস্থা করা যেত তবে অনেককেই ফুটপাত না পেয়ে রাজপথ দিয়ে হেঁটে দুর্ঘটনার শিকার হতে হতো না।

যদি চালকদের বেতনভুক কর্মচারী বানানো যেত তবে তাদের যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় বেপরোয়া হতে হতো না। তখন অবশ্যই জেব্রা ক্রসিংয়ের কাছে এসে নিজেদের গাড়ির গতি কমাত। যাত্রী পারাপার নিরাপদ রাখত।

আবরারদের মর্মান্তিকভাবে জীবন দিতে হতো না। উন্নত দেশের উদাহরণ দিলে অনেকে অস্বস্তি বোধ করেন। আমি মনে করি বিষয়টি ঠিক নয়। সরকার প্রতিদিন জানাচ্ছে আমরা উন্নত দেশের দিকে যাচ্ছি। শুধু জিডিপি কত বাড়ল তা দিয়েই উন্নত দেশ হয় না।

দেশের সার্বিক উন্নয়নই কাম্য। তবে আমরা সভ্য আচরণ করতে পারব না কেন? উন্নত দেশে যে ট্রাফিক আইন মানা হয় তা জরিমানার ভয়েই। মাঝরাতের নীরব রাস্তায়ও গাড়ি অনির্ধারিত গতিতে চালাল কিনা তা-ও ক্যামেরা শনাক্ত করে।

পরদিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানার কাগজ চলে আসে। পথচারী পারাপারকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেন চালকরা। সিগন্যাল না থাকলেও জেব্রা ক্রসিংয়ে এসে গাড়ির গতি কমিয়ে দেন। আর আমাদের চালকরা তো জেব্রা ক্রসিংয়েই পথচারীকে খুন করে।

বাস্তবতা শিখিয়েছে এসব শব্দের মালা গেঁথে লাভ নেই। সড়ক ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে না পারলে এবং কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে না পারলে সড়কে অরাজকতা কমানো সম্ভব নয়। বর্তমান অবস্থায় শুধু প্রতিদিন মানুষের জীবন মূল্যহীনই হতে থাকবে।

ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×