নারীর ক্ষমতায়নে পুরুষেরও করণীয় আছে

  ড. এম এ মাননান ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নারীর ক্ষমতায়নে পুরুষেরও করণীয় আছে

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে পঞ্চম আর নারী-পুরুষের সমতার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার উপরে। দেশে ২৮ বছর ধরে রাষ্ট্র পরিচালনায় রয়েছেন নারীরা। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে আমরা অনেক দেশের আগে। নারী উন্নয়ন আর অগ্রগতিতে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল।

বর্তমান সরকার অনেক কাজ করে যাচ্ছে নারীর উন্নয়নে, ফলও দেখতে পাচ্ছি সর্বক্ষেত্রে। নারী-উন্নয়ন সংক্রান্ত ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে সব মন্ত্রণালয়ে। জাতীয় পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে নারীর সার্বিক উন্নয়নের ওপর। অনেক কৌশল ঠিক করা হয়েছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায়। এগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে উন্নীত হবে ক্ষমতায়ন আর জেন্ডার সমতা অর্জনের লক্ষ্যে নারীর সামর্থ্য, বৃদ্ধি পাবে নারীর অর্থনৈতিক প্রাপ্তি, সম্প্রসারিত হবে নারীর মতপ্রকাশ ও মতপ্রকাশের মাধ্যম আর সৃষ্টি হবে নারীর উন্নয়নে একটি সক্রিয় পরিবেশ।

অনেক সামাজিক জঞ্জাল থেকে পরিত্রাণের জন্য শুধু নারীর মুক্তিই নয়, মুক্তি প্রয়োজন পুরুষেরও। মুক্তি দরকার কুসংস্কার থেকে, বাপ-দাদার কাছ থেকে পাওয়া জিনবাহিত মনের তলায় লুকিয়ে থাকা নারী-বিদ্বেষ থেকে, মা-বোন ছাড়া অন্য মেয়েদের পণ্য হিসেবে গণ্য করা থেকে, নারীকে বিলাসী ভোগের বস্তু ভাবার নির্লজ্জ মনস্তস্ত থেকে, বিয়ের পরই একটি মেয়ের মালিক বনে যাওয়ার অসৎ চিন্তা থেকে, স্ত্রী-কন্যাকে যোগ্য হয়ে ওঠার পথে কাঁটা ছড়ানোর মনোবৃত্তি থেকে, বোনকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার বাসনা থেকে, মহাব্যাধি পরকীয়ায় মেতে উঠে স্ত্রীকে অনেক সাধে গড়া সংসার থেকে উৎখাত করার অপচিন্তা থেকে (মেয়েদের পরকীয়ার আগুনেও পুড়ে যাচ্ছে অনেক সংসার, এমনকি খুন-খারাবিও হচ্ছে অহরহ)। ভুলে যাচ্ছে মানুষ সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ : ‘মোমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর মোমিন নারীদের বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে’ (সূরা নুর : ২)।

নারীর জন্যই বা আলাদা সুযোগ তৈরি করতে হবে কেন? সুযোগ-সুবিধা যা থাকবে পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রে- যার ব্যবহারে নারী-পুরুষের সমান অধিকার থাকবে। পুরুষ না বদলালে নারী বদলাবে কী করে? নারী আর পুরুষ দু’জনকেই বলি, বদলাতে হবে নিজেকে আগে। সমাজ বদল নিয়ে তখন আর চিন্তা করতে হবে না। লড়াই করুন। লড়াই করুন নিজের সঙ্গে, আপন নফসের সঙ্গে, মনের ভেতরে বসে থাকা ইবলিশের সঙ্গে।

পুরুষশাসিত সমাজে বদল আনার জন্য সর্বপ্রথমে পুরুষকেই উদ্যোগ নিতে হবে, এ বিষয়ে দ্বিমত নেই। নিজের মায়ের আর বোনের জন্য যেমন, তেমনি সব নারীর জন্যই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে পুরুষকেই। নারীরা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। নারীর সম্ভ্রম, আত্মসম্মান রক্ষা করার দায়িত্ব পুরুষের। নারীদেরকেও মুখ খুলতে হবে, সোচ্চার আর প্রতিবাদী হতে হবে দুর্বৃত্ত পুরুষদের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে, অত্যাচারী হলে স্বামী বা বাবার বিরুদ্ধে, সংসার হারানো-সন্তান হারানোর ভয় থেকে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসতে হবে সব নারীকে। মুখে তিন তালাক বলে বৌকে ঘর থেকে বের করে দেয়ার জঘন্য মানবতাবিরোধী প্রথাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ গণ্য করে রুল জারি করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে নির্ভয়ে (ভারতে ইতিমধ্যে তিন তালাক শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে কেন্দ্রীয় সরকার অধ্যাদেশ জারি করেছে)। শুধু ইমোশনাল হবেন না, বুদ্ধিমানও হবেন। সমাজ-সংসারে সুন্দরের ফুল ফোটাবেন, মায়াবতী হবেন, পাশাপাশি মারকুটেও হবেন।

আমরা এমন সমাজ চাই না, যে সমাজে ছয় মাসে ৬০০টি ধর্ষণ হয় আর দু’হাজারের বেশি নারী-শিশু অন্যান্য নির্যাতনের শিকার হয়; সারা দিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও নারী শ্রমিককে পুরুষের অর্ধেক মজুরি দেয়া হয়। কর্মক্ষেত্রে দেদার হয় যৌন-হয়রানি অথচ সঠিক বিচার হয় না; গণপরিবহনে ৮৪ শতাংশ নারী শারীরিক আর মৌখিকভাবে হয়রানির শিকার হন, বাস শ্রমিকদের হাতে ধর্ষণের শিকার হন। আধুনিক দাসত্বের শিকার হতে হয় ৬ লক্ষাধিক মানুষের যার অধিকাংশই নারী।

কন্যাদের বলি : পুরুষের স্বার্থে পুরুষেরই তৈরি অনেক নারীবিরোধী সামাজিক প্রথার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলো, কর্মক্ষেত্রে আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি রোধে ২০০৯ সালের হাইকোর্টের নির্দেশনাকে আইনে পরিণত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করো। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হও। পরিবারে-সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখো। নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংকল্পবদ্ধ হও, অধিকার না দিলে অধিকার ছিনিয়ে নাও। তোমাকে নারী নয়, মানুষ হিসেবে দেখতে পুরুষকে বাধ্য করো। কর্মস্থলে বৈষম্য করলে রুখে দাঁড়াও, বাবাকে জীবদ্দশাতেই তার সম্পদ ভাইবোনের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেয়ার জন্য তাগিদ দাও, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তনের জন্য লড়াইটা শুরু করো পুত্র আর স্বামীকে দিয়ে। হা-হুতাশ না করে ঘুরে দাঁড়াও অপরাধীদের বিরুদ্ধে। ভালো পুরুষদের সঙ্গে নিয়ে সমতা প্রতিষ্ঠা করো। কর্মজীবী হলে কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে যখন চুলা ধরাতে যাবে তখন স্বামী-প্রবরকেও সঙ্গে নাও- দু’জনে মিলে রান্নার কাজ সারো, ঘর সামলানো থেকে শুরু করে সন্তান সামলানো পর্যন্ত সব কাজে স্বামীরও সাহায্য নাও। তোমার ঘরের পুরুষদেরকে গার্হস্থ্য বিজ্ঞান পড়তে অনুপ্রাণিত করো, গৃহস্থালি কাজে পরিবারকে সঠিক সহযোগিতা করার জন্য তাদের উপযুক্ত করে গড়ে তোলো। তোমার গৃহস্থালি কাজের জন্য বেতন-ভাতা দাবি করো, মজুরি-বৈষম্যের বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিবাদী হও। তোমাকে যে সমাজ অবহেলা করেছে এবং এখনও করছে, সে সমাজকে তোমরা নিজের হাতে নিয়ে নাও নিজের যোগ্যতা-দক্ষতা দিয়ে। পুরুষের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মেধাবিকাশের ক্ষেত্র নিজেরা তৈরি করে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হও আর নারীর ক্ষমতার ভিত্তি গড়ে তোলো। নারী দিবসেই শুধু লড়াইয়ের কথা বলবে না- লড়াই করো নিত্যদিন। নিজের মমতাঘেরা মেয়ের জন্য, আদরের নাতনির জন্য সুন্দর নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলো। নিজে বিকশিত হও, পুত্রকন্যাকে বিকশিত হতে দাও আর সমাজকে তোমার আলোয় আলোকিত করে চারদিকে আলোকচ্ছটা ছড়িয়ে দাও।

হতাশ হয়ো না কন্যারা। ভালো করে তাকিয়ে দেখো, তোমার মতো কিংবা তোমার কন্যার বয়সী মেয়েরা এখন চার দেয়াল ভেঙে উদার আকাশের তলায় ককপিটে বসে বিমান চালাচ্ছে, যুদ্ধজাহাজ নিয়ে শত্রুর বুকে হিম ধরাচ্ছে, জাহাজের ক্যাপ্টেন হয়ে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সাগরের বুকে ঢেউয়ের তালে তালে সুদূরে চলে যাচ্ছে, সশস্ত্রবাহিনীতে বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত হয়ে যোগ্যতার সঙ্গে পুরুষের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে, শান্তিমিশনে বিদেশে গিয়ে যুদ্ধ করছে আর শান্তি প্রতিষ্ঠায় অতুলনীয় অবদান রেখে বিশ্বব্যাপী সুনাম কুড়াচ্ছে। তোমার মতো মেয়েরা একাত্তরে যুদ্ধক্ষেত্রে পাকবাহিনীর নাভিশ্বাস তুলে দিয়ে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে (স্মরণ করো তারামন বিবি, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীসহ অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধার বিস্ময়কর যুদ্ধাভিযানে সাফল্যের কথা)। চেয়ে দেখো, সাম্প্রতিক বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে উদ্যোক্তা হয়ে তোমার মতো বহু নারী অন্যকে চাকরি দিচ্ছে- বিদেশে পণ্য রফতানি করছে এবং অনলাইন ব্যবসায় দারুণ ভালো করছে। বাংলার দামাল মেয়েরা ফুটবল-ক্রিকেট-হকি-দাবায় বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে। রাইড শেয়ারিংয়ে আছে নারী। পত্রিকায় দেখেছ নিশ্চয়ই- বগুড়ার কিশোরী তাসমিনা ‘ঘোড়ার সঙ্গে হাওয়ার ঝাপটা লাগিয়ে’ সব প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে ঘোড়দৌড়ের রানী হিসেবে পেয়েছে বিশেষ খ্যাতি। কুমিল্লার সাধারণ ঘরের মেয়ে ফজিলাতুন নিসা নিউইয়র্ক পুলিশের সার্জেন্ট আর তাসলিমা আখতার ইউনিফর্ম পুলিশ। কলকাতার কৃষকের মেয়ে গীতা গোপীনাথ বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শীর্ষ কর্মকর্তা; বাংলাদেশের মেয়ে ২০ বছর বয়সী ফারিহা সালমা হংকংয়ের আইন পরিষদের সহযোগী। আর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন প্রমুখ সাহসিকতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন এবং করছেন। বিশ্বের ৫১ জন ক্ষণজন্মা নারী নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন। এ সময়ে কয়েকজন নারী বিশ্বকে শাসন করছেন- বাংলাদেশের শেখ হাসিনা, জার্মানির এঙ্গেলা মের্কেল, ব্রিটেনের তেরেসা মে, তাইওয়ানের সাই ইং ওয়েন, নিউজিল্যান্ডের জেসিন্ডা আর্ডান এবং সিঙ্গাপুরের হালিমা ইয়াকুব। তারা সবাই নিজ নিজ দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান। অতি সাম্প্রতিক চমক ভারতের ইন্ধিরা গান্ধীর পরিবারের প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ।

মনে রেখো, এক কোটি বাষট্টি লাখ নারী এখন বাংলাদেশে কর্মজীবী, প্রায় সতেরো হাজার ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তা নারী, গার্মেন্ট শিল্পে নিয়োজিত শতকরা আশি ভাগ আর ক্ষুদ্রঋণ ব্যবহারকারীদের শতকরা নব্বই ভাগই নারী। সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবিতে বাড়ছে নারীদের পদচারণা। কনস্টেবল থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার, এডিশনাল আইজিপি, মেজর জেনারেল পদের মতো কমান্ডিং পদে আসীন আছেন আমাদের বাঙালি ললনারা যাদেরকে এককালে তুচ্ছ করা হতো ‘অবলা নারী’ বলে। সরকারি-বেসরকারি সব সেক্টরে নারীরা এগোচ্ছে, যদিও চ্যালেঞ্জ তাদের পিছু ছাড়ছে না। তাদের মতো তুমিও কাজ করো- ঘরের ভেতরে আর বাইরে, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হও। প্রয়োজনে ঋণ নিয়ে উদ্যোক্তা হও। প্রয়োজনে ডিজিটাল সুবিধা নিয়ে সরকারি বিভিন্ন সেবা নাও। তোমার বাড়ির কাছেই এখন গ্রামীণ জনপদে ইউনিয়ন তথকেন্দ্র বা শহর এলাকায় পৌর ডিজিটাল সেন্টার বা নগর ডিজিটাল সেন্টার থেকে শতাধিক সেবা নিতে পার। বিশ্বের সর্ববৃহৎ সরকারি ওয়েবসাইট ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন’ থেকে নিতে পার তেতাল্লিশ হাজার সরকারি দফতরের সেবা। এসবের মাধ্যমে নিজেই নিজেকে ক্ষমতাবান করো। ক্ষমতায়নের জন্য অন্যের দিকে- পুরুষের দিকে তাকিয়ে থেক না। শুধু পুরুষকে বলো (দাবি করো), তারা যেন তোমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, কারণ নারীর নিরাপত্তাহীনতার জন্য তারাই দায়ী। তাদের জুলুম-নিপীড়ন রুদ্ধ করে দাও; ‘শব্দে জব্দ নারী’ হয়ে নোংরা পুরুষদের অশালীন শব্দজটে আটকে থেকো না। অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করলে তাকে পুলিশে দাও কিংবা কুংফু কৌশলে জব্দ করো (কারণ তারা মানসিক আর সামাজিকভাবে তোমাকে এগোতে দিতে চায় না)। জিজ্ঞেস করো, ‘রাজার’ কেন সাতটা রানী আর তোমার কেন একটা ‘রাজা’? জবাব দিতে বাধ্য করো কেন পরিবারের মধ্যেই সহিংসতার শিকার হয় সত্তর শতাংশ নারী। তাদের কাছে তোমরা নিশ্চয়ই দেশটাকে বর্গা দিয়ে দাওনি। দিনের আলো রাতের আঁধার থাকবে তোমার নিয়ন্ত্রণে। নিজেকে আর অন্য কন্যাদেরকে ‘সামাজিক মৃত্যুর’ হাত থেকে রক্ষা করো। বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য কোনো এক রাজকুমারের অপেক্ষায় থেকো না। রাজকুমার এসে তোমাকে উদ্ধার করবে এমনটি কখনও ভেবো না; নিজেই রাজকুমারের ভূমিকায় নেমে যাও। আর সবচেয়ে বড় কথা, যে অবস্থাতেই থাকো না কেন, অবিরাম লেখাপড়া চালিয়ে যাও। ভুলে যেও না, শিক্ষার কোনো শেষ নেই। বয়স যা-ই হোক না কেন তোমার, জীবনব্যাপী শিক্ষার আলোতে আলোকিত হও। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে না পারলে হতাশ হয়ো না; ‘বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে’ ভর্তি হয়ে ঘরে বসে শিক্ষা গ্রহণ করো আর উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে সমাজে মর্যাদাবান হও।

আমি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করি, তোমরা কন্যারা নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারবে আর তোমাদের মধ্য থেকেই বেরিয়ে আসবে হাজারও শেখ হাসিনা, যারা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির চলমান উন্নয়ন ধারাকে করবে আরও অনেক বেশি বেগবান। অর্জিত উন্নয়ন টেকসই হবে তোমাদের হাত ধরে। ‘জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা, চিরবিজয়িনী জাগো জয়ন্তিকা’।

ড. এম এ মাননান : উপাচার্য, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×