রাষ্ট্রের কৌশলের চেয়ে সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর কৌশল বেশি আধুনিক : ড. দেলোয়ার হোসেন

ড. দেলোয়ার হোসেন ১৯৮৯ সালে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন ১৯৯৫ সালে। ড. দেলোয়ার একই বিষয়ে দ্বিতীয়বার স্নাতকোত্তর করেন ২০০১ সালে জাপানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের স্কলার হিসেবে। আর পিএইচ.ডি ডিগ্রি নেন জাপানেরই ফেরিস ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০৭ সালে, মনবুশো স্কলার হিসেবে। বিষয় ছিল বিশ্বায়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতা। ড. দেলোয়ার হোসেন নিয়মিত দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে বাংলা ও ইংরেজি দু’ভাষাতেই লেখালেখি করেন। তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র বিশ্বায়ন, নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি ও উন্নয়ন সহযোগিতা। ২০১০ সালে প্রকাশিত হয়েছে তার লেখা বই- ‘গ্লোবালাইজেশন অ্যান্ড নিউ-রিজিওনালিজম ইন সাউথ এশিয়া’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যাপনার পাশাপাশি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। বর্তমানে তিনি বিভাগের অধ্যাপকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ইউজিসি কর্তৃক প্রদত্ত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে শিক্ষার মান উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক। তিনি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কথা বলেছেন যুগান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাকির হোসেন সরকার

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ড. দেলোয়ার হোসেন
ড. দেলোয়ার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

যুগান্তর : উন্নত দেশগুলোতে এত অত্যাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকার পরও সন্ত্রাসীরা তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এর কারণ কী?

ড. দেলোয়ার হোসেন : সন্ত্রাসবাদ এমন একটি সমস্যা যার নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং এটি বহুমাত্রিক। পশ্চিমা বা উন্নত দেশগুলোতে যখন সন্ত্রাসী আক্রমণ হয় তখন আক্রান্ত দেশের প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে যে ধারণা থাকে সেটাকে অনেকটা পাশ কাটিয়েই আক্রমণগুলো হয়ে থাকে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেনের যে আক্রমণ সেটাতেও দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেই সেটা হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদের ইতিহাস অনেক পুরনো হলেও এর আক্রমণগুলো এত আকস্মিকভাবে ঘটে যে, সেখানে প্রচলিত আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা যতই থাকুক না কেন, সেটা তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। কেননা যুদ্ধের ব্যাপারে প্রস্তুতি নেয়া যায় বা কোনো একটা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রকে ধরার জন্য আগে থেকে তাদের সম্পর্কে অনেক তথ্যপ্রমাণ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া যায়। কিন্তু যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তাদের আক্রমণটি তাৎক্ষণিক বা আকস্মিকভাবে ঘটে এবং এ আক্রমণ সম্পর্কে পূর্বধারণা না থাকার কারণে আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা সেখানে কিছুই করতে পারে না।

এর বড় প্রমাণ নাইন-ইলেভেন আক্রমণ এবং সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডে আক্রমণ। নিউজিল্যান্ডের মতো একটি উন্নত রাষ্ট্রে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত উঁচুমানের থাকার পরও বেশ নির্দ্বিধায় অল্প বয়সী এক যুবক আক্রমণটি চালিয়ে গেছে। আক্রমণকারী আগে থেকে একটি ধারণাও দিয়েছে; যেহেতু নিউজিল্যান্ডের সমাজ একটি শান্তিপ্রিয় সমাজ, সেহেতু সেখানে এ ধরনের আক্রমণের কথা তাদের ধারণার মধ্যে ছিল না। পূর্বধারণা থাকলে পূর্ব প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব। কিন্তু না থাকলে তো সম্ভব নয়; সেখানে যত আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থাই থাকুক না কেন।

দ্বিতীয় কারণটি হল, বর্তমান সময়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এত বেশি অত্যাধুনিক টেকনোলজি এবং নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে, সে কৌশলগুলো সম্পর্কে রাষ্ট্রের পরিষ্কার তেমন কোনো ধারণা থাকে না। প্রয়োগের পরই সে কৌশলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়; কিন্তু যা ঘটার তা তো ঘটেই যায়। অর্থাৎ রাষ্ট্রের কৌশলের চেয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কৌশল আরও বেশি আধুনিক এবং বেশি সৃজনশীল। আর এ কারণেই সন্ত্রাসীরা তাদের কর্মকাণ্ডগুলো অবাধে ঘটিয়ে ফেলতে পারছে- সেখানে যতই অত্যাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকুক না কেন।

যুগান্তর : উন্নত রাষ্ট্রগুলো সাধারণত সামাজিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ এবং সেখানে আইনের শাসন অত্যন্ত চমৎকার, তারপরও সেখানে সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে কেন?

ড. দেলোয়ার হোসেন : আসলে একটি শান্তিপ্রিয় ও নিরাপদ সমাজে এ ধরনের আক্রমণের ব্যাপারে সাধারণত পূর্ব প্রস্তুতি থাকে না বা বিষয়টিতে খুব একট গুরুত্বও দেয়া হয় না। যদি তারা এ ব্যাপারে গুরুত্ব দিত তাহলে তাদের শান্তিপ্রিয় নিরাপদ সমাজব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠত। তাই যুগে যুগে শান্তিপ্রিয় সমাজ নিয়ে তাদের মধ্যে একটি আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। এ আত্মবিশ্বাসের সুযোগটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নিয়ে থাকে।

আমরা যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথাও বলি, সেখানেও কিন্তু সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে তাদের মধ্যে এক ধরনের স্থিতিশীলতা আছে, শান্তিপূর্ণ অবস্থা আছে। কিন্তু সেখানেও সন্ত্রাসী আক্রমণ হচ্ছে। একটি নিরাপদ শান্তিপূর্ণ সমাজ এ ধরনের আক্রমণকে একটু ভিন্নভাবে দেখে থাকে এবং এ ব্যাপারে তেমন কোনো প্রস্তুতি থাকে না। বিষয়টি মাথায় রেখেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী খুব সহজেই তাদের কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে পারে এবং হামলা চালিয়ে থাকে।

যুগান্তর : সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার বেশ পরিলক্ষিত হচ্ছে, সন্ত্রাসীরা এই আধুনিক অস্ত্রের জোগান কীভাবে পাচ্ছে?

ড. দেলোয়ার হোসেন : উন্নত দেশগুলোয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক। গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় ব্যক্তিস্বাধীনতা থাকে অনেক বেশি। যেমন- উন্নত দেশগুলোয় অস্ত্রনীতির কথাই যদি বলি, অর্থাৎ ব্যক্তিগত পর্যায়ে অস্ত্রের ব্যবহার বা বহন করার নীতি সেখানে বেশ উদার। অস্ত্রের এ উদার নীতির একটা বড় কারণ হচ্ছে ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের ব্যাপারকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া।

একটি উন্নত সমাজের একজন ব্যক্তিকে তার স্বাধীনতার ব্যাপারে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় এবং তার অধিকারের যে বলয় বা সীমা সেটাও অনেক বেশি দেয়া হয়। ফলে ব্যক্তি নিরাপত্তায় সেখানে অস্ত্রের ব্যবহার অনেক বেড়ে যায়। আর এ অবাধ ব্যক্তিস্বাধীনতার বিষয়টিকে সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ব্যবহার করে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে ঘন ঘন গুলি করে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, সেটাও এই একই কারণে হচ্ছে।

যারা সেখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে তারা ওই উন্নত সমাজেরই অংশ বা ওই দেশেরই নাগরিক। নাগরিক হিসেবে ব্যাপক অধিকার ভোগ করার সমাজকে আমরা বলি লিবারেল সোসাইটি। একটি লিবারেল সোসাইটিতে মানুষ যখন ব্যক্তি স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে উপভোগ করে, তখন তারা এ স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটাতে সাহস পায়। এসব কারণেই উন্নত দেশগুলোতে আধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এসব আধুনিক অস্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহৃতও হচ্ছে।

যুগান্তর : সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূলে কোনো বৈষম্যের বিষয় রয়েছে কি?

ড. দেলোয়ার হোসেন : অবশ্যই রয়েছে। কেননা বিশ্বায়নের যুগে কয়েক দশক ধরে উন্নত দেশগুলোয় ব্যাপকভাবে এক ধরনের অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি হচ্ছে এবং ধর্ম ও বর্ণভিত্তিক বৈষম্যের পরিধিও অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সেখানে একটি বিচ্ছিন্নতাবোধ প্রকাশ পাচ্ছে। আর এ বিচ্ছিন্নতাবোধ সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোকে প্ররোচিত করছে, অনেক বেশি অসহিষ্ণু করে তুলছে। এ কারণে তাদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে; ফলে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাচ্ছে।

যুগান্তর : বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হচ্ছে সাধারণ ও নিরীহ জনগণ, সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষকেই কেন বারবার টার্গেট করছে?

ড. দেলোয়ার হোসেন : আন্তর্জাতিক বা যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদের একটি বড় বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে নিরীহ ও জনগণের ওপর আক্রমণ চালানো। কারণ সন্ত্রাসবাদীরা মূলত আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। তাদের টার্গেট হচ্ছে আতঙ্ক তৈরি করা এবং আতঙ্ক তৈরির মাধ্যমে উপস্থিতি জানান দেয়া। তাদের রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত একটি লক্ষ্য থাকে।

এ গোষ্ঠীগত বা রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা যে কাজটি করে সেটা হচ্ছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের বক্তব্য বা মেসেজকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়া। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীরা মনে করে তাদের মেসেজটি সভা-সেমিনারের মাধ্যমে, কনফারেন্সের মাধ্যমে কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে বা লিফলেটের মাধ্যমে ছড়ালে সেটি সবার মাঝে পৌঁছাতে অনেক সময় লেগে যাবে এবং তাদের দৃষ্টিতে এগুলোর ইমপ্যাক্ট অত বেশি কার্যকর হবে না।

তাই সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলো মনে করে একটি বা দুটি সন্ত্রাসী আক্রমণ তাদের অস্তিত্ব বা উপস্থিতিকে ব্যাপকভাবে জানান দিতে পারে। স্বল্প ব্যয়ে তারা বড় ধরনের ইমপ্যাক্ট তৈরি করতে পারে। সেই ইমপ্যাক্টটা হচ্ছে আতঙ্ক তৈরি করা। আর এই আতঙ্ক তৈরির কাজটি সাধারণ নিরীহ জনগণের ওপর করলে তার ইফেক্ট বেশি পাওয়া যায় বলে সন্ত্রাসীরা নিরীহ জনগণকেই টার্গেট করে থাকে।

এর আরও একটি বড় কারণ রয়েছে- কারণটি হল, সমাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকে এলিট শ্রেণী। রাষ্ট্রক্ষমতার সঙ্গে যারা যুক্ত, আমলাতন্ত্রের সঙ্গে যারা যুক্ত এবং যারা বিত্তশালী তারা সবসময়ই এক ধরনের প্রটেকশনের মধ্যে থাকে। সেই প্রটেক্টেড ব্যক্তিদের ওপর আক্রমণ চালানো বেশ কঠিন। কিন্তু সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ করাটা অনেক সহজ। আর এ সহজ হওয়ার কারণেই তারা সেটি করে থাকে।

যুগান্তর : কোনো ধর্মই সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না, তবুও কোনো না কোনো ধর্মের অনুসারীরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং ধর্মকে উপলক্ষ করে সন্ত্রাসী হামলা করছে- এর কারণ কী?

ড. দেলোয়ার হোসেন : প্রথমেই আমি বলতে চাই যে, যারা এ ধরনের সন্ত্রাসী আক্রমণ করে বা যারা সন্ত্রাবাদের সঙ্গে যুক্ত তারা কোনোভাবেই ধর্মের অনুসারী হতে পারে না। কারণ ইসলাম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু সব ধর্মের মূল বাণীই হচ্ছে শান্তি। প্রত্যেক ধর্মের অন্তর্নিহিত অর্থই হচ্ছে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। কোনো ধর্মই ঘৃণা ছড়ানো কিংবা নির্বিচারে মানুষ হত্যাকে সমর্থন করে না। আত্মরক্ষা বা যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষ হত্যার বৈধতা দেয়া হয়, কারণ সেখানে আইনগত একটা বিষয় রয়েছে। যেমন কোনো নাগরিক অপরাধী হলে সেই নাগরিককে শাস্তি দেয়ার অধিকার রাখে রাষ্ট্র।

তার মানে হচ্ছে বৈধ সংস্থা বা বৈধ ব্যক্তিরা এক ধরনের শক্তি প্রয়োগ করতে পারে। কিন্তু অন্য কারও পক্ষেই শক্তি প্রয়োগের কোনো বিধান নেই। অতএব ধর্মের লেবাসে কেউ যদি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায় তাহলে সেটা হবে ধর্মবিরোধী, নৈতিকতাবিরোধী এবং আইনবিরোধী। ধর্ম নিয়ে যারা গবেষণা করছেন এবং বিভিন্ন ধর্মের যারা পণ্ডিত ব্যক্তি রয়েছেন তারা সবাই একবাক্যে এটি স্বীকার করেন।

আমি বলব যে, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করা হয় মূলত একটি রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীর স্বার্থে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শুরুতে সাধারণ মানুষের কাছে বা যিনি সম্ভাব্য উগ্রপন্থী তাকে প্রথমে একটা ধর্মের আবরণে অথবা একটা রাজনৈতিক লক্ষ্যের আবরণে প্রলুব্ধ করা হয়। প্রলুব্ধ করার পর একটা পর্যায়ে তাকে এক ধরনের মতাদর্শিক ব্রেন ওয়াশ বা তার মনোজগতে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। সন্ত্রাসবাদের দুটি দিক রয়েছে।

একটি হচ্ছে আচরণগত দিক, অপরটি হচ্ছে মনস্তাত্ত্বিক দিক। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য একজন ব্যক্তির আচরণগত এবং মনস্তাত্ত্বিক দু’দিকেই একটা পরিবর্তন আনা হয়। আর এ ধরনের পরিবর্তন আনার পেছনে তারা ধর্মকে ব্যবহার করে অথবা কোনো গোষ্ঠীস্বার্থকে বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে ব্যবহার করে। তবে সন্ত্রাসবাদী সদস্যরা একটা পর্যায়ে যখন এ বিষয়গুলো বুঝতে পারে, অর্থাৎ তাদের ভুল বুঝতে পারে, তখন তাদের আর কিছুই করার থাকে না। সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড থেকে আর পিছিয়ে আসতে পারে না। তখন তারা ধর্মের নামে বা রাজনীতির নামে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকে।

যুগান্তর : সব ধর্মের মূল বাণী যদি শান্তি হয় তাহলে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ধর্মের নাম কেন জুড়ে দেয়া হচ্ছে?

ড. দেলোয়ার হোসেন : আমার মতে, কোনো সন্ত্রাসী দল বা গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো ধর্মের নাম জড়ানো উচিত নয়। যেমন- ইসলামিক টেরোরিজম, খ্রিস্টান টেরোরিজম, বুদ্ধিস্ট টেরোরিজম, হিন্দু টেরোরিজম ইত্যাদি। এ ধরনের তকমা কোনোভাবেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নয়। আমি আগেই বলেছি, কোনো ধর্মই সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না। প্রত্যেক ধর্মের মূল বাণীই হচ্ছে শান্তি। সুতরাং যারা এটি করছে, তারা ভুল করছে। ধর্মের মূলনীতিকে একটি ভ্রান্ত ধারণার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

ইসলাম ধর্মের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদকে যুক্ত করে পশ্চিমা দেশগুলোর অনেকেই গবেষণা করছেন। গবেষণা তারা করছেন ঠিক আছে; কিন্তু ইসলাম যেহেতু কোনোভাবেই সন্ত্রাস সমর্থন করে না, ফলে ইসলামিক টেরোরিজম কীভাবে সম্ভব? যারা টেরোরিজমের সঙ্গে যুক্ত তারা ঘটনাচক্রে মুসলিম, ঘটনাচক্রে খ্রিস্টান, ঘটনাচক্রে বৌদ্ধ অথবা তারা নাস্তিকও হতে পারে। সুতরাং এটি কোনোভাবেই ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়।

যুগান্তর : সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ধর্ম ছাড়া আর কী কী কারণ থাকতে পারে?

ড. দেলোয়ার হোসেন : সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ধর্ম ছাড়া আরও অনেক কারণই থাকতে পারে। যেমন আন্তর্জাতিকভাবে অনেক প্রতিষ্ঠিত শক্তি, সেটা রাষ্ট্র হতে পারে বা কোনো গোষ্ঠী হতে পারে, তারা বিভিন্নভাবে তাদের স্বার্থে এ ধরনের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকে। অর্থাৎ বিশ্বে এ ধরনের প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র, সমাজ বা গোষ্ঠীগুলো তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য অপর রাষ্ট্র, সমাজ বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে থাকে। যেমন কোল্ড ওয়ার পিরিওডের সময় আমরা এর ব্যবহার দেখেছি। আফগানিস্তান এর জ্বলন্ত উদাহরণ।

আফগান মুজাহেদিন গ্রুপকে ব্যবহার করা হয়েছে তখনকার সোভিয়েতসমর্থিত আফগান নজিবুল্লাহ সরকারের বিরুদ্ধে। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মার্কিনবিরোধিতা করেছে তাদের সমাজতন্ত্রকে হটানোর জন্য। সমাজতন্ত্রকে হটানোর কারণ হল সেখানে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। অর্থাৎ সেখানে পুঁজিবাদী ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে আফগান মুজাহিদদের। যার ফলে আফগানিস্তান একটা সন্ত্রাসী জনপদে পরিণত হয়েছে।

যুগান্তর : সন্ত্রাসী হয়ে ওঠার পেছনে কী ধরনের অনুপ্রেরণা কাজ করে?

ড. দেলোয়ার হোসেন : সন্ত্রাসবাদীরা অনেক সময় গ্রুপ ডায়নামিক্সের মধ্যে পড়ে যায়। একটা অপরাধী বা সশস্ত্রগোষ্ঠী হিসেবে তারা যখন কাজ করে তখন তাদের মধ্যে অনেক থ্রিল কাজ করে, অনেক বীরত্ব কাজ করে। অর্গানাইজেশনাল কালচারও এখানে কাজ করে। তারা মনে করে ইচ্ছে করলে অনেক কিছুই করতে পারে। সুতরাং তাদের মনোজগতে একটা হিরোইজমের সৃষ্টি হয়। আর এসব অনুপ্রেরণা ধীরে ধীরে তাদের সন্ত্রাসী হয়ে ওঠার পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

যুগান্তর : সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো তাদের কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য অর্থের জোগান কীভাবে পেয়ে থাকে?

ড. দেলোয়ার হোসেন : সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো তাদের কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য অনেক গোষ্ঠী বা মতাদর্শিক শক্তি থেকে অনেক ধরনের সুবিধা এবং ইনসেনটিভ পেয়ে থাকে। সেটি অস্ত্র হতে পারে, অর্থ হতে পারে বা ফ্রি প্রশিক্ষণও হতে পারে। তারা নিজেরাও বিভিন্নভাবে দখলদারিত্বের মাধ্যমে তাদের অর্থের জোগান সংগ্রহ করে থাকে। যেমন- আইএস অনেক তেলক্ষেত্র দখল করে কোটি কোটি ডলারের মালিক হয়েছিল। সে অর্থ তাদের সদস্যদের মধ্যে ভাগবাঁটোয়ারা করেছে। আর এ অর্থনৈতিক লাভের সুবিধাটিও সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের মধ্যে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

যুগান্তর : ওআইসির মতো সংস্থাগুলো সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন?

ড. দেলোয়ার হোসেন : ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। মুসলিম দেশগুলোতে সামাজিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থার যে ব্যর্থতা, সেটা সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টির একটা বড় কারণ বলে মনে করি। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সন্ত্রাবাদের সমস্যা দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে বা বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে রয়েছে।

ওআইসির মতো একটি প্রতিষ্ঠান এসব সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে পারে। আক্রান্ত দেশগুলোতে ধর্মের প্রকৃত যে বাণী সেটি যদি ওআইসির মাধ্যমে সেখানে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা যায় এবং এর পাশাপাশি এসব দেশে যদি আইনের শাসন, সুশাসন, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায় অথবা এসব দেশে যারা দরিদ্র বা পিছিয়ে আছে তাদের সহায়তা করা যায় তাহলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করি।

যুগান্তর : অনুন্নত মুসলিম দেশগুলোতে সন্ত্রাসবাদের ব্যাপকতার প্রধান কারণ কী?

ড. দেলোয়ার হোসেন : এমন অনেক দেশ রয়েছে যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। আফ্রিকার অনেক দেশেই অবকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই পশ্চাৎপদ। ফলে সেখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ব্যাপকতা বাড়ছে। আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদের ব্যাপকতার পেছনেও প্রধান কারণ হিসেবে দেখা গেছে সেখানকার অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে যথেষ্ট অপ্রতুলতা। যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার পাশাপাশি পাহাড়ের পর পাহাড় জঙ্গলে পর জঙ্গল রয়েছে সেখানে। সুতরাং সেখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো খুব সহজ এ কারণে যে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে পাহাড়-জঙ্গলে পালিয়ে যাওয়া যায়।

অপ্রতুল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে নিরাপত্তা বাহিনীও ঘটনাস্থলে সঠিক সময়ে পৌঁছতে পারে না। তাই এসব দেশ থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করা প্রয়োজন। যেমন নিউজিল্যান্ডের সন্ত্রাসী হামলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী পৌঁছে গেছে। ফলে সেখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ব্যাপকতা ছড়াতে পারেনি। ওআইসিতে অথবা মুসলিম দেশগুলোয় আঞ্চলিক সহায়তা করার জন্য যেসব ফান্ড রয়েছে এ ফান্ড তারা সঠিকভাবে ব্যবহার করছে না।

তারা যদি তাদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উন্নয়নে এবং যেসব রাষ্ট্র পিছিয়ে রয়েছে তাদের জন্য ওই ফান্ড ব্যবহার করে এবং প্রকৃত যে ধর্মীয় শিক্ষা তার ওপর গবেষণা করে তাহলে সন্ত্রাসবাদ অনেকাংশে কমে আসবে। কিন্তু তারা এমন কিছু কাজ করে যা ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। উন্নয়নের বিষয়টি নিয়ে তারা খুব একটা মাথা ঘামায় না। তারা মনে করে, মসজিদ-মাদ্রাসা করে দিলেই তাদের দায়িত্ব শেষ।

মসজিদ-মাদ্রাসায় যারা যাচ্ছে তাদের মাঝে ধর্মের মূল বিষয়গুলো কীভাবে পৌঁছে দেয়া যায় তা নিয়ে যে গবেষণা করা দরকার সেটা তারা করছে না। ফলে অনুন্নত মুসলিম দেশগুলো থেকে সন্ত্রাসবাদের ব্যাপকতা রোধ করা যাচ্ছে না।

যুগান্তর : মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন? এটা সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় কতটা ভূমিকা রাখতে পারে?

ড. দেলোয়ার হোসেন : আসলে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ঐক্য খুবই জরুরি। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে যদিও মুসলিম উম্মাহর কথা বলা হয়, কিন্তু বাস্তবে মুসলিম উম্মাহর বিষয়টি সেখানে অনুপস্থিত। প্রকৃতপক্ষে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে যদি ঐক্য থাকে এবং তারা যদি এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় করতে পারে তাহলে যারা সন্ত্রাসীগোষ্ঠী তারা অনেকটা সতর্ক হয়ে যেত অথবা একটা চাপের মুখে থাকত। যার ফলে একটা পর্যায়ে তারা সন্ত্রাসী কর্র্মকাণ্ড থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিত।

যুগান্তর : নিউজিল্যান্ডের ঘটনাটি ঘটিয়েছে একজন শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের তৎপরতা, বাড়ছে শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসবাদ, বর্ণবাদ। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

ড. দেলোয়ার হোসেন : বর্ণবাদ অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি ডাইমেনশন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে মুসলিম যে গোষ্ঠীগুলো আছে তাদের তৎপরতার একটা সীমারেখা আছে। কারণ অধিকাংশ মুসলিম গোষ্ঠীই অতটা সম্পদশালী নয়। যদিও আইএস ইরাক, লিবিয়া ও ইরাকের তেল খনি দখল করে একটা আর্থিক সঙ্গতি অর্জন করেছে; কিন্তু সেটি সাময়িক। তাদের সম্পদ বা রিসোর্সের একটা সীমাবদ্ধতা আছে। ফলে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নির্দিষ্ট একটি গণ্ডি রয়েছে। অপরদিকে শ্বেতাঙ্গ গোষ্ঠীরা যথেষ্ট সম্পদশালী এবং তাদের অনেক রিসোর্স আছে, অত্যাধুনিক অস্ত্র আছে।

অ্যান্টি মুসলিম সেন্টিমেন্ট থেকে যে ধরনের সন্ত্রাসবাদী হামলা চালানো হচ্ছে এবং এর ব্যাপকতা যে হারে বাড়ছে, এটা খুবই বিপজ্জনক। কারণ এই শ্বেতাঙ্গ গোষ্ঠীগুলো উন্নত রাষ্ট্রেই বসবাস করছে। যেমন- ব্রেনটন টেরেন্ট নামে যে ব্যক্তিটি নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, সে এত অত্যাধুনিক সেমি অটোমেটিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে যার ধ্বংস করার ক্ষমতা খুবই ব্যাপক। যেটা নিয়ে যথেষ্ট ভয়ের কারণ রয়েছে। কেননা পশ্চিমা বা উন্নত দেশগুলোতে যদি এ ধরনের সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে যায় তাহলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশংকাকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। কারণ বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর মতো তাদের বেশ বড় ধরনের সক্ষমতা আছে।

গত দুই দশকে অভিবাসন বিরোধিতা, বর্ণবাদ কিংবা উগ্র জাতীয়তাবাদ নিয়ে শ্বেতাঙ্গরা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। এর কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশ্বায়নের কারণে উন্নত রাষ্ট্রগুলো বা পশ্চিমা দেশগুলো কিছুটা চাপের মধ্যে আছে। চীন, ভারত কিংবা ইউরোপের বাইরের দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে অর্থনৈতিক উত্থান ঘটছে। অপরদিকে উন্নত রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক যে গতি সেটা অনেকটা থেমে গেছে।

এই থেমে যাওয়ার ফলে সেই দেশের জনগণ যারা যুগ যুগ ধরে অত্যন্ত আধুনিক এবং অভিজাত জীবনযাপন করছিল সেটাতে একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তারা মনে করছে এর পেছনে দায়ী হচ্ছে অভিবাসী অশ্বেতাঙ্গরা। যাদের মধ্যে এশিয়ান অশ্বেতাঙ্গ মুসলমানের সংখ্যা বেশি। সুতরাং তাদের হটাও বা নিঃশেষ করে দাও। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় হিন্দুদের ওপরও আক্রমণ হচ্ছে। তাদের এ ধরনের বিশ্বাস বা ধারণা খুবই ভ্রান্ত। এর ব্যাপকতা যদি ক্রমেই বাড়তে থাকে তাহলে বিশ্বে একটা অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। সুতরাং বর্ণবাদ বৈষম্য নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে- কীভাবে এটি রোধ করা যায়।

যুগান্তর: আপনাকে ধন্যবাদ।

ড. দেলোয়ার হোসেন : ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×