স্বদেশ ভাবনা

জনপ্রশাসনে দলীয়করণ ও বৈষম্য নিরসনের দায়িত্ব সরকারের

  আবদুল লতিফ মন্ডল ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জনপ্রশাসনে দলীয়করণ ও বৈষম্য নিরসনের দায়িত্ব সরকারের

নব্বইয়ের দশকের প্রথমদিকে প্রয়োজনীয় শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন বিএনপি সরকার প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত পদগুলোড সাতশ’র বেশি কর্মকর্তাকে একসঙ্গে পদোন্নতির মধ্য দিয়ে প্রশাসনে বড় ধরনের অনিয়মের যে বীজ রোপণ করেছিল, ২৫ বছরের বেশি সময়ে তা ডালপালা মেলে বড় বৃক্ষে পরিণত হয়েছে।

আজকাল গণমাধ্যম, বিভিন্ন গোলটেবিল আলোচনা, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে জনপ্রশাসনে দলীয়করণ, অদক্ষতা ইত্যাদির অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়।

২৮ মার্চ ‘জনপ্রশাসনে বড় বাধা দলীয়করণ, বৈষম্য’ শিরোনামে দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ এবং যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্কের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ জরিপে যেসব বিষয় ফুটে উঠেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- এক. সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের গুণগতমান আর পেশাদারিত্ব এখনও সন্তোষজনক নয়।

কাজের স্পৃহা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানো এবং দুর্নীতি দূর করার পথে দলীয়করণ একটা বড় বাধা। সেটা দূর করা বড় চ্যালেঞ্জ। দুই. পদ-পদোন্নতি নির্ধারণে অনেক ক্ষেত্রে এখন মেধার চেয়ে রাজনৈতিক সমর্থন, স্বজন কিংবা ঘনিষ্ঠ হওয়া ‘বড় যোগ্যতা’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিন. আমলারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী- এ কথাটা তারা প্রায় ভুলতে বসেছেন।

তারা দলীয় সরকারের ভাবাদর্শের সঙ্গে অনেকটাই একাকার হয়ে গেছেন। চার. প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারে যত দ্রুত পদোন্নতি পাওয়া যাচ্ছে, অন্য ক্যাডারে তেমনটা হচ্ছে না। এ বৈষম্য নিয়ে বহু অভিযোগ রয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, কৃষি, তথ্য, শিক্ষাসহ বেশকিছু খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

পাঁচ. শূন্যপদের অভাবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত অনেক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি-পূর্বপদে (ইন সিটো) কাজ করতে হচ্ছে। এতে একদিকে তাদের কর্মস্পৃহা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ছে।

ছয়. একদিকে জনপ্রশাসনে মাঠপর্যায়ে নিচের স্তরে যেমন সহকারী কমিশনার এবং বাংলাদেশ সচিবালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব কর্মকর্তার অভাব, অপরদিকে উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ে কর্মকর্তার ছড়াছড়ি।

স্বাধীনতার পরপরই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিপুলসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাকে ম্যাজিস্ট্রেট ও অন্যান্য পদে নিয়োগ প্রদানকে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার সূচনা হিসেবে দেখা হলেও প্রশাসনে দলীয়করণের সুপরিকল্পিত বড় পদক্ষেপ নেয়া হয় ১৯৯২ সালে বিএনপির শাসনামলে।

১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে।

সরকার গঠনের এক বছর পার না হতেই প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিএনপির প্রতি সহানুভূতি সৃষ্টি করতে এবং পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের সময় তা কাজে লাগাতে ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার বাংলাদেশ সচিবালয়ের উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে সাতশ’র বেশি কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়।

একসঙ্গে সচিবালয়ে উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদে এত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাকে এর আগে পদোন্নতি প্রদানের নজির ছিল না। শূন্যপদ ব্যতীত পদোন্নতি দেয়া যায় না- প্রশাসনিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত এ নিয়মটির এখানে ব্যত্যয় ঘটানো হয়।

পদোন্নতিপ্রাপ্তদের পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় শূন্যপদ না থাকায় বহুসংখ্যক কর্মকর্তাকে, বিশেষ করে উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে, কমবেশি এক বছর পর্যন্ত ওএসডি হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে (তৎকালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়) ফেলে রাখা হয়।

তারা বেতন-ভাতা ও অন্য সুযোগ-সুবিধাদি ভোগ করলেও তাদের কোনো কাজ দেয়া হয়নি। ফলে অপচয় ঘটে সরকারি অর্থের।

১৯৯২ সালে বিএনপি প্রয়োজনীয় শূন্যপদ ছাড়াই অনেকটা গণপদোন্নতির যে নজির সৃষ্টি করে, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ তা যত্নসহকারে অনুসরণ করে।

২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার প্রশাসনে দলীয়করণের গতিকে আরও জোরদার করে। বিএনপির আদর্শ ও ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল কর্মকর্তাদের উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদে পদোন্নতি প্রদানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য পদোন্নতি বিধিমালায় পরিবর্তন আনা হয়।

২০০৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিজেদের বিজয় সুনিশ্চিত করতে বিএনপি সরকার বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল কর্মকর্তাদের সহায়তায় প্রশাসন সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে।

নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারে প্রশাসনের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিজেদের পছন্দসই লোক রাখতে প্রতিটি পদের বিপরীতে একাধিক বিকল্প কর্মকর্তার তালিকা প্রণয়ন করা হয়, যাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল হলেও তাদের নিজেদের লোক সব পদে বহাল থাকে। বহুল আলোচিত ওয়ান-ইলেভেনের কারণে তাদের সে আশা পূরণ হয়নি।

সেনাবাহিনী সমর্থিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয়করণে বিএনপির সৃষ্ট রেকর্ড ভঙ্গ করে ফেলে।

বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল কর্মকর্তাদের হয় পদোন্নতিবঞ্চিত করা হয়, না হয় ওএসডি করা হয়, না হয় বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা হয়। যাদের ওএসডি করা হয়, তাদের অনেকে বছরের পর বছর সে অবস্থায় থেকে অবশেষে অবসরে চলে যান। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসী ও দলটির প্রতি সহানুভূতিশীল কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে অগ্রাধিকার দেয়া হয়।

পদোন্নতি প্রদানে শূন্যপদের প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাহ্য করা হয়, যা প্রশাসনিক ও আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এসব কর্মকর্তাকে মাঠ প্রশাসনসহ জনপ্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় পোস্টিং দেয়া হয়। ওয়ান-ইলেভেনের উদ্ভব হওয়ার আগে নবম সাধারণ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে তৎকালীন বিএনপি সরকার যেভাবে জনপ্রশাসনকে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছিল, দশম সাধারণ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে আওয়ামী লীগ সরকার সেভাবে জনপ্রশাসনকে, বিশেষ করে মাঠ প্রশাসনকে সাজানোর উদ্যোগ নেয়।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং সমমনা কয়েকটি দল দশম সাধারণ নির্বাচন বর্জন করায় এবং অনেকটা আওয়ামী লীগের একক অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই নির্বাচনে মাঠ প্রশাসনকে ব্যবহারের তেমন প্রয়োজন হয়নি।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পুনরায় জয়লাভে পুলিশ প্রশাসনসহ জনপ্রশাসনের ভূমিকা সর্বজনবিদিত।

এ নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের অনুকূলে সিল মেরে রাখা, বুথ দখল করে প্রকাশ্যে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের অনুকূলে ব্যালটে সিল মারা, সরকারবিরোধী জোটের পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেয়া, সরকারবিরোধী দল বা জোটের প্রার্থীর সমর্থক ও নেতাকর্মীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন, হামলা, নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা ও পুড়িয়ে দেয়া গণতন্ত্রকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে ফ্রিডম হাউসের ২০১৯-এর প্রতিবেদনে এ সবের উল্লেখ রয়েছে।

আওয়ামী লীগের একটানা শাসন দশ বছর পার হয়ে একাদশ বছরে পদার্পণ করেছে। দলটির দীর্ঘ একটানা শাসনামলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বেসামরিক প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি বিপুল অংশ সরকারের আনুকূল্যে অপ্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা পেয়ে দলটির অনুরক্ত হয়ে পড়েছেন।

যারা আওয়ামী লীগের ভাবাদর্শে বিশ্বাসী নন কিংবা দলটির প্রতি সহানুভূতিশীল নন, তারাও চাকরি রক্ষার খাতিরে বাহ্যত দলটির সমর্থক বনে গেছেন। রাজনীতির অঙ্গনের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ জনপ্রশাসনও এখন আওয়ামী লীগের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।

আমার মতো যারা পাকিস্তান আমলে সেন্ট্রাল পাবলিক সার্ভিস কমিশন (সিপিএসসি) কর্তৃক গৃহীত সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিসেস পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসে যোগদান করেছিলাম কিংবা যারা পূর্ব পাকিস্তান পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্তৃক গৃহীত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রাদেশিক ক্যাডার সার্ভিসগুলোতে যোগদান করেছিলেন, তাদের কারও প্রশাসনে দলীয়করণ সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পরবর্তী দু’দশকে প্রশাসনে দলীয়করণ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি। বরং স্বাধীনতা-পরবর্তী দু’দশক প্রশাসন সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করে। নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে প্রশাসনে দলীয়করণের সৃষ্টি, যা বর্তমানে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল দায়িত্ব ও কর্তব্য হল মন্ত্রিসভা তথা সরকারের সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন করা। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানে তা হচ্ছে না। সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় দরিদ্র ও অসহায়দের মধ্যে বিভিন্ন ভাতা বিতরণসহ জনকল্যাণ ও সেবামূলক সব কাজে উপকারভোগী নির্বাচনে দলীয় বিবেচনাকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। ফলে কর্মসূচির টার্গেট গ্রুপ সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ এবং যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্কের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জরিপে তা ফুটে উঠেছে।

দলীয়করণ ও বৈষম্য নিরসন করে দক্ষ এবং সেবামুখী জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব সরকারের। একাদশ সাধারণ নির্বাচনী ইশতেহারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নবম ও দশম সাধারণ নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ নিরপেক্ষ জনপ্রশাসন (administration free from politicization) প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এ সব প্রতিশ্রুতি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবার পূরণ করবে- এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×