এই অন্ধকার থেকে বেরোতে চাই

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এ কে এম শাহনাওয়াজ

ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ। ফাইল ছবি

ইতিহাসের অনেক ভুল ব্যাখ্যা থাকে আমাদের কারও কারও মধ্যে। যেমন প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার সূচনাপর্বের একটি সময়কালকে বলা হয় অন্ধকার যুগ। আসলে এ অন্ধকার নেতিবাচক অর্থে নয়। মহাকবি হোমারের ইলিয়ড আর ওডিসি ছাড়া এ সময়ের ইতিহাস জানার মতো তেমন কোনো সূত্র পাওয়া যায় না বলে ইতিহাস জানার সংকটের কারণেই যুগটাকে অন্ধকার যুগ বলা হয়।

যেমন আমরা অনেকে মুখচলতি বলি এবং লিখি ‘মধ্যযুগের বর্বরতা’। কিন্তু এই মধ্যযুগেই ইউরোপে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশ ঘটেছিল। বাইজেন্টাইন সভ্যতা শিল্পকলার বিকাশে অত্যুচ্চে পৌঁছে ছিল। আরবে আবির্ভাব ঘটেছিল ইসলাম ধর্মের। ভারতে মধ্যযুগের পুরো ৬০০ বছর চলেছিল সুলতানি ও মোগল শাসন। এ পর্বে সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবন ছিল সোনাফলা। বাংলার মধ্যযুগ ছিল শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্থাপত্যশিল্প ও বাংলা সাহিত্য বিকাশের গর্বিত সময়। অতটা উজ্জ্বলতা এ আধুনিক সময়কেও আমরা দিতে পারিনি। কিন্তু একুশ শতকে এসে আমাদের সমাজ জীবনে যেভাবে মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে, রাজনীতি যেভাবে ভোগবাদে আবিষ্ট হয়ে পড়ছে, আমরা অনেকেই বিবেকবর্জিত অমানবিক হয়ে যাচ্ছি। মনে হয় ইতিহাস যথার্থই এক সময় লিখবে একুশ শতকে একটি অন্ধকার সময় পার করেছে বাংলাদেশ। এই ‘অন্ধকার’ হবে পুরোটাই নেতিবাচক অর্থে। তখন ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে আমাদেরই।

মুদ্রার একটি পিঠই এখন আমাদের দেখানো হচ্ছে। তা হচ্ছে উন্নয়নের মহাসড়কে হাঁটছে বাংলাদেশ। ইতিহাসের আকর সূত্র হিসেবে মুদ্রা যেমন সত্য কথা বলে; মুদ্রার আরেক পিঠের কথাও সত্য। উন্নয়নের বাস্তবতা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। কিন্তু অন্য পিঠটি যে ক্রমে কদর্য হয়ে উঠছে তা কেন আলোচনায় আসছে না। একপিঠে কালিমা রেখে অন্য পিঠের ঔজ্জ্বল্য বেশিদিন ধরে রাখা যায় না। এ সত্যটি দায়িত্বশীল সবাইকে মানতে হবে। না হলে কৃতিত্বের আনন্দ ম্লান হতে বাধ্য।

মূল্যবোধের অবক্ষয় চারদিকে। অমানবিকতার প্রকাশও বিচিত্র। নুসরাত নামের সোনাগাজীর প্রতিবাদী মেয়েটি শুধু সমাজকে নাড়া দেয়নি, আমাদের আসুরিক উন্মত্ততা আর নষ্ট বিবেকের প্রতি তীব্র ঘৃণা জানিয়ে চলে গেছে সে। নারীর প্রতি সহিংসতা, নারীকে অপমান করা আর ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী ঘটনা কি এ সমাজে এখন নৈমিত্তিক সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়ে যায়নি? আমরা কতটা বিবেকবর্জিত অমানুষ হয়ে পড়েছি তা সোনাগাজীর চেয়ে বড় উদাহরণ আর কী হতে পারে!

আমার কাছে লম্পট সিরাজ উদ্দৌলার চেয়ে বড় অপরাধী মনে হয়েছে সোনাগাজীর সমাজপতি, ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক নেতা আর প্রশাসনিক দায়িত্ববানদের। একজন লম্পট বার বার লাম্পট্য প্রদর্শন করেও বহাল তবিয়তে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে বহাল থাকতে পারছে কোন খুঁটির জোরে? নাকি অর্থবান, ক্ষমতাবান সিরাজের খুঁটিতে বাঁধা অন্য সবার রশি। তাই সিরাজ লাম্পট্য প্রদর্শনের পরও প্রতিবাদ না করে লম্পটের পক্ষে ম্যা ম্যা করে যাচ্ছিলেন তারা।

একটি সমাজের মানুষ কি এভাবেই বিবেকশূন্য হয়ে পড়ে? সিরাজভক্ত ক্ষমতাশালীরা না হয় সিরাজের পক্ষপুটে বাঁধা পড়েছিল; কিন্তু সমাজের সাধারণ মানুষ কেন তেমন করে প্রতিবাদ করল না? দিনের পর দিন মুখবুজে সব সইতে থাকল- নাকি ক্ষমতাবানদের হুংকারের মুখে সবাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিল? প্রতিবাদী বাঙালির বীরোচিত ঐতিহ্যের সঙ্গে এমনটি একেবারেই মেলে না।

সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, এই অধ্যক্ষ সিরাজের অতীত ছিল কালিমালিপ্ত। যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। সেখানেও অপকর্মের দায়ে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত হচ্ছে, এখন অনেক ক্ষেত্রেই জামায়াত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র হচ্ছে আওয়ামী লীগ। যখন আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপি-জামায়াতের আগুন-সন্ত্রাসের কথা বলেন তখন ঘটনার সত্যতা থাকলেও মানুষ অস্বস্তিতে পড়ে।

আমাদের পরিচিত গাইবান্ধার এক বন্ধু বললেন, এ জেলার বেশিরভাগ জামায়াত এবং কিছু সংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মী নাকি এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিশে গেছে। এ ধারাবাহিকতাই হয়তো সোনাগাজীর আওয়ামী লীগ নেতারা দেখিয়েছেন এবং কতটা বিবেকহীন তারা যে, নুসরাতের ওপর হিংস্র আক্রমণ হওয়ার পরও কোনো টুঁ শব্দটিও করলেন না। অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন না। বরং জেলে থেকেও লম্পট সিরাজ ছাত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারলেন অবলীলায়। কারণ তিনি নির্ভার ছিলেন। অর্থ ও প্রতিপত্তিসহ খুঁটির জোর ছিল। অপকর্মের কারণে এ সিরাজ অতীতেও মসজিদ-মাদ্রাসা থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন। তেমন একজন চিহ্নিত কুলাঙ্গারকে কেমন করে একটি মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ করা হল? এই নিয়োগে প্রশাসন থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের (পরিচালনা কমিটির সঙ্গে থাকার কারণে) ইচ্ছার প্রতিফলন ছিল বলেই মানতে হবে। এর আগেও নাকি অপকর্মের দায়ে সিরাজ জেলে গিয়েছিলেন। তখনই তো সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার কথা ছিল। কিন্তু সিনা টান করেই তিনি মাদ্রাসার দায়িত্বে ফিরে আসেন এবং পুনরায় লাম্পট্য চালিয়ে যান।

এ জায়গাটিতে আমি মাননীয় আওয়ামী লীগপ্রধানসহ এই দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই- সোনাগাজীর আওয়ামী লীগ নেতাদের কলঙ্কের কাদা কি তাদের গায়েও লাগেনি? জামায়াত পুনর্বাসনের কারণে এ কাদা আরও লাগবে। তখন ধুয়ে মুছে ফেলা কিন্তু কঠিন হবে।

এ বিবেকহীনতার দায় কি স্থানীয় প্রশাসনের নেই? মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদে তো প্রশাসনের অংশগ্রহণ রয়েছে। তাহলে অধ্যক্ষের নানা লাম্পট্য থেকে শুরু করে নুসরাতের গায়ে আগুন লাগানোর পর পর্যন্ত প্রশাসনের কাছ থেকে কাম্য তৎপরতার কথা কি দেশবাসী জানতে পেরেছে? সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেল মাদ্রাসার তহবিল তছরুপের অভিযোগও রয়েছে এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। তাহলে প্রশ্ন থাকবে, স্থানীয় প্রশাসনকে এমন দশায় রেখে সরকার দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়বে কী দিয়ে?

পুলিশ নিয়ে কোনো নেতিবাচক সংবাদ শুনলে আমি বিমর্ষ হই। আমার মনে পড়ে যায় ১৯৭১-এর কথা। দেশের জন্য কী বিরোচিত ভূমিকা রেখেছিলেন ২৫ মার্চের রাতে রাজারবাগের পুলিশ ভাইরা। সেই পুলিশের অধঃগতি কষ্ট দেয় বৈকি। কিছু সংখ্যক লোভী পুলিশ সদস্যের কারণে সব পুলিশ প্রশাসন নিন্দিত হোক আমরা তা চাই না। তবে শুদ্ধি অভিযান হয় না কেন? নাকি হয়। হয়তো অসুস্থ রক্তবীজ এত ছড়িয়েছে যে অভিযান করেও কুলানো যাচ্ছে না। সোনাগাজীর ওসির ভূমিকা তো এখন দেশবাসীর আর অজানা নয়। আমি কেবল ভাবি বিবেকের সামান্য পীড়ন কেন হল না। এই নুসরাতের ওপর তো কম অত্যাচার হয়নি। আটককৃত এক আসামি ২০১৭ সালে নুসরাতের মুখে চুন মাখিয়ে দিয়েছিল। এই তথ্য ওসি সাহেবের অজানা থাকার কথা নয়। ২৭ মার্চ নুসরাতের ওপর অধ্যক্ষের যৌন হয়রানির পর নুসরাতের পরিবার মামলা করে। জনদাবির মুখে এক পর্যায়ে গ্রেফতার হন অধ্যক্ষ সিরাজ।

যেখানে আইসিটি আইনে অপরাধের অভিযোগে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সাংবাদিককে, সেখানে গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া অধ্যক্ষ হ্যান্ডকাফবিহীন অবস্থায় ইয়ার দোস্তের মতো হাসতে হাসতে পুলিশের সঙ্গে থানায় যান। এমন ছবি পত্রিকায় ছাপাও হয়েছে। আইসিটি আইনের খেলাপ করে ওসি মেয়েটির জবানবন্দি ভিডিও করেছেন। অশালীন প্রশ্ন করতেও ছাড়েননি। তদন্তের আগেই অগ্নিদগ্ধ অসহায় মেয়েটির বিপন্ন দশাকে আত্মহত্যা বলে চালাতে চেয়েছেন এই ওসি। কতটা অমানবিক ও বিবেকশূন্যতার প্রকাশ এটি। এসব লোভী অমানবিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ও পুলিশ আইন কী ভূমিকা রাখে তাই দেখার বিষয়।

হত্যাকারী এবং এর সহযোগী অধ্যক্ষ সিরাজের শিষ্যরা অনেকেই ধরা পড়েছে। পুলিশ এদের জবানবন্দি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে। নিশ্চিত হওয়া গেছে জেলে থাকা অধ্যক্ষের নির্দেশে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল। এমন বিস্ময়ের ঘোর কাটানো কঠিন যে এই সমাজেরই কয়েকজন তরুণ-তরুণী কতটা হিংস্র হয়ে গেল যে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা নয়, ঠাণ্ডা মাথায় সতীর্থ এক বোনকে জলজ্যান্ত পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত নিল এবং কতটা সাহস রাখার পরিবেশ তারা পেয়েছে যে দিবালোকে তা কার্যকর করতে কোনো দ্বিধা বা ভয় কাজ করল না! তাহলে কি এই সমাজ থেকে পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা এবং মূল্যবোধ উঠে গেল! এক হত্যাকারী জানিয়েছে যে এর আগে একাধিক অপরাধ ঘটনানোর পরও তা ধামাচাপা দেয়া সম্ভব হয়েছে। তাই এদের ধারণা ছিল এবারও একইভাবে সব সমাধান হয়ে যাবে। এ জবানী স্পষ্ট করছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমাজকে কতটা অধঃপতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

নুসরাতের গায়ে আগুন লাগিয়েছিল শাহাদাত। পত্রিকায় ওর নির্বিকার চেহারা দেখে ১৯৭১-এর ইয়াহিয়া খানের চেহারার কথা মনে হল। ২৫ মার্চ গণহত্যার নির্দেশ দিয়ে রাত একটায় যখন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট করাচি বিমানবন্দরে পৌঁছেন, তখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বিকারভাবে বলে গেলেন, ‘সবকিছু ঠিক আছে। আল্লাহ পাকিস্তানকে রক্ষা করেছে।’ অথচ তখন তার নির্দেশে বাংলাদেশে চলছে পাক সেনাদের তাণ্ডব আর রক্তের হোলিখেলা। একইভাবে এককালের জামায়াতি আর বর্তমানে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থাকা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার শিষ্যরা ঠাণ্ডা মাথায় একটি মেয়েকে খুনের উদ্দেশ্যে গায়ে আগুন লাগিয়ে এই অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে রাজপথে মিছিল করে। আমি এখানেও বিস্মিত হয়েছি। হত্যাকারী ছাড়াও এই মিছিলে অনেকেই ছিলেন। দৈহিক বিচারে তারাও তো মানুষ। অথচ যখন হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ মেয়েটি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে তখন তারা এ ঘটনার অভিযুক্তের মুক্তির জন্য রাজপথে স্লোগান দিচ্ছে। বিবেক আর মানবিকতা কি সত্যিই হারিয়ে গেল!

কার্যকারণ সূত্রে এখন তো মনে হচ্ছে এ ঘৃণ্য পরিকল্পনা অনেকের জ্ঞাতসারে ঘটেছিল। ১৪ এপ্রিল নববর্ষের দিনে যুগান্তরে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট ও ছবি দেখে তাই মনে হল। নুসরাতের গায়ে আগুন লাগানোর অকুস্থলে আগের দিন যেন সামরিক কায়দায় রেকি করতে গিয়েছিলেন কয়েকজন স্থানীয় নেতা! এদের মধ্যে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ সব ঘরানার মানুষই ছিল। নুসরাত যখন মৃত্যুপথে তখন হত্যার নির্দেশদাতার মুক্তি-দাবির মিছিলে শরিক ছিলেন এদের অনেকেই।

দেশজুড়ে এই যে অপরাধের বাড়বাড়ন্ত, এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে অপরাধীদের রক্ষার পেছনে অর্থ, প্রতিপত্তি আর রাজনীতির শক্তির আশ্রয় বড় ভূমিকা রাখছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সামাজিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলা যেমন প্রয়োজন, তেমনি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোর পরিচালকদের। আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রতিপত্তি রক্ষার জন্য কতগুলো লোভী বিবেকহীন মানুষকে শাসন না করে প্রশ্রয় দিলে জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে। ভয়ংকর সাপ নিয়ে খেলা করলে সাপুড়ে বিষাক্ত ছোবল থেকে বাঁচে না। আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী দলে যদি জামায়াতিরা এভাবে শক্ত জায়গা করে নিতে পারে, বেলা শেষে এর চড়া মূল্য আওয়ামী লীগকেই দিতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করব সব শ্রেণীর মানুষের মধ্যে মানবতাবোধ ও বিবেক জাগ্রত হোক। এই অন্ধকার সময় থেকে আমরা বেরোতে চাই।

ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]