স্বদেশ ভাবনা

রংপুর বিভাগের উন্নয়ন দেশের অগ্রগতিকে বেগবান করবে

  আবদুল লতিফ মন্ডল ১৫ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুর বিভাগের উন্নয়ন দেশের অগ্রগতিকে বেগবান করবে

‘উন্নয়ন বরাদ্দের ১ শতাংশও পাচ্ছে না রংপুর বিভাগ’ শিরোনামে ৬ মে একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশের সবচেয়ে দারিদ্র্যপ্রবণ অঞ্চল রংপুর।

সবচেয়ে দারিদ্র্যপ্রবণ ১০ জেলার পাঁচটিই রংপুর বিভাগে। এ কারণে উন্নয়ন পরিকল্পনায় এ অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। যদিও এর প্রতিফলন সেভাবে নেই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পত্রিকাটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এখনও এডিপি বরাদ্দের মাত্র শূন্য দশমিক ৯৮ শতাংশ মিলছে রংপুর বিভাগে।

এডিপিভুক্ত মোট প্রকল্পের মাত্র ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ গেছে এই বিভাগে। বর্তমানে এডিপিতে মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৯৭৮টি। এর মধ্যে মূল প্রকল্প ১ হাজার ৯১৬টি, উপপ্রকল্প ৫৩টি এবং উন্নয়ন সহায়তা থোক প্রকল্প নয়টি। এর মধ্যে রংপুর বিভাগের জন্য প্রকল্প ছিল মাত্র ৪৭টি। অর্থাৎ এডিপিভুক্ত মোট প্রকল্পের মাত্র ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রকল্প গেছে রংপুর বিভাগে।

এর বাইরে বেশকিছু প্রকল্প আছে যেগুলোর কাজ দেশের অন্যান্য স্থানের পাশাপাশি এ বিভাগেও চলমান রয়েছে। প্রকল্প সংখ্যার দিক থেকে ২ শতাংশের কিছু বেশি মিললেও এডিপিতে অর্থ বরাদ্দের দিক থেকে প্রাপ্তির খাতায় আরও পিছিয়ে রয়েছে দেশের সবচেয়ে উত্তরের এ বিভাগ। চলতি অর্থবছরে দেশের এডিপিতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬১৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

এর মধ্যে রংপুর বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ১ হাজার ৭২৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট এডিবি বরাদ্দের মাত্র শূন্য দশমিক ৯৮ শতাংশ পাচ্ছে দেশের উত্তরাঞ্চলের এ বিভাগটি।

বৃহত্তর রংপুর ও বৃহত্তর দিনাজপুরের মোট ৮টি জেলা নিয়ে গঠিত রংপুর বিভাগ। জেলাগুলো হল- রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়। উপজেলার সংখ্যা ৫৮। বিভাগটির জনসংখ্যা দেড় কোটির ওপরে।

প্রাচীনকাল থেকে রংপুর বিভাগের মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন কৃষি। অনেকের মতে, প্রাগৈতিহাসিককাল থেকেই এ অঞ্চলে কৃষির গোড়াপত্তন হয়েছে এবং তা ক্রমান্বয়ে বিকশিত হয়েছে। প্রাচীনকালে এ অঞ্চলে উৎপন্ন কৃষিপণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ধান, পাট, মরিচ, হলুদ, আদা, রসুন, তুলা, রেশম, আখ, পান, সুপারি ও বিভিন্ন ফলমূল।

সুগন্ধি চাল উৎপাদনে রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলা প্রাচীনকাল থেকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী রয়ে গেছে। মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে কৃষিপণ্য উৎপাদনের এ ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। এসব কৃষিপণ্যের দাম সস্তা হওয়ায় (উদাহরণস্বরূপ ১ মণ চালের দাম ১ আনা ৯ পাই) মোট জনসংখ্যার সিংহভাগ কৃষকের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্দশাগ্রস্ত ছিল।

ইংরেজ শাসনামলে এ অঞ্চলে যোগ হয় নীল চাষ; কিন্তু এ থেকে চাষীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হননি। ব্যবসা-বাণিজ্য মাড়োয়ারি, অন্যান্য বিদেশি ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কিছুসংখ্যক মহাজনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় ব্যাপক জনগোষ্ঠী এতে লাভবান হয়নি। কেননা পণ্যের স্থানীয় মূল্য কখনোই রফতানি মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি।

যে কোনো অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের শর্তাবলির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল দেশের রাজধানী ও সমুদ্রবন্দরগুলোর সঙ্গে সড়ক, রেল ও নদীপথে দ্রুত যাতায়াত ব্যবস্থা চালু থাকা। ঢাকা-রংপুর-দিনাজপুরের মধ্যে বিদ্যমান জাতীয় মহাসড়কটির সিরাজগঞ্জ-দিনাজপুর অংশের প্রশস্ততা খুবই কম হওয়ায় সর্বক্ষণ যানজট লেগেই আছে। তাছাড়া মহাসড়কটির প্রশস্ততা খুব কম হওয়ায় চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

হাটিকুমরুল (সিরাজগঞ্জ)-রংপুর অংশে মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার একটি প্রকল্প নেয়া হলেও সেটি বাস্তবায়নের গতি খুবই মন্থর। তাই প্রকল্পটির পূর্ণ বাস্তবায়নকাল যে অবিশ্বাস্যভাবে পিছিয়ে যাবে, তা অনেকটা জোর দিয়ে বলা যায়। তাছাড়া প্রকল্পটি কমপক্ষে ঠাকুরগাঁও জেলা সদর পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়া দরকার।

বর্তমানে বৃহত্তর রংপুর থেকে ঢাকায় যেতে ট্রেনে সময় লাগে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা। শান্তাহার ঘুরে যেতে হয়। যদি রংপুর থেকে গাইবান্ধা ও বগুড়া হয়ে সরাসরি বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ঢাকা যাওয়া যেত, তাহলে রংপুর থেকে ঢাকায় যেতে সময় লাগত ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হতো না। এজন্য প্রয়োজন মতো রেললাইন স্থাপন করা দরকার; কিন্তু তা না করায় বঙ্গবন্ধু সেতুর সুবিধা থেকে এ অঞ্চলের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।

একসময় দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে রংপুর এবং গাইবান্ধা হয়ে ট্রেনে ঢাকা আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। যমুনা নদীর ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদের মধ্যে স্টিমার সার্ভিসের ব্যবস্থা থাকায় যাত্রীদের উভয় অংশ ট্রেনে যাতায়াতের সুবিধা ভোগ করত।

বর্তমানে সে ব্যবস্থা বন্ধ বলে জানা যায়। ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর বালাসী-বাহাদুরাবাদ সেতু নির্মাণ রংপুর অঞ্চলের মানুষের অনেক দিনের দাবি। রেল ও সড়ক যোগাযোগের ব্যবস্থা রেখে এ সেতুটি নির্মাণ করা হলে উত্তরের মানুষের ঢাকায় যাতায়াতে অনেক কম সময় লাগবে।

আওয়ামী লীগ সরকার একটানা দশ বছর দেশ শাসনের পর একাদশ বছরে পদার্পণ করছে। সরকার বেশ কয়েকটি বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফাস্ট-ট্র্যাকভুক্ত করেছে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প, পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্প, দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার এবং রামু-ঘুমধুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (এমআরটি), পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্প, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোলফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট, মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প।

এসব প্রকল্পের মধ্যে একমাত্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের উত্তরাঞ্চলে রাজশাহী বিভাগে অবস্থিত। অবকাঠামো উন্নয়নে উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগে কোনো ফাস্ট-ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্প নেই। ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর বালাসী-বাহাদুরাবাদ সেতু নির্মাণ একটি ফাস্ট-ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্প হিসেবে গণ্য হওয়ার দাবি রাখে।

বর্তমান রংপুর বিভাগ যুগ যুগ ধরে শিল্প খাতে রয়ে গেছে অনুন্নত। ইংরেজ আমলের কথা বাদ দিলেও পাকিস্তান আমলে শিল্প খাতে যেটুকু অগ্রগতি হয়েছিল, তা ছিল ভারি শিল্প খাতে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকা এবং দুটি বড় সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম ও মোংলার সঙ্গে যোগাযোগ সহজগম্য না থাকায় সঙ্গত কারণে এ এলাকায় বৃহৎ শিল্পের প্রসার ঘটেনি।

বাংলাদেশ আমলেও এখানে বড় বা মাঝারি ধরনের শিল্পের তেমন প্রসার ঘটেনি। অবকাঠামোগত সুবিধার অভাব, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎপ্রাপ্তির অনিশ্চয়তা, পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের অভাব ইত্যাদি কারণে শিল্পোদ্যোক্তারা এখানে বড় ও মাঝারি শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসছেন না।

বিশেষ করে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় গ্যাসভিত্তিক ইউরিয়া সার কারখানা, সিরামিক শিল্প, ওষুধ শিল্প, তৈরি পোশাক শিল্প, অটো অ্যাসেম্বলি শিল্প ইত্যাদি গড়ে উঠতে পারছে না।

শুধু তা-ই নয়, রংপুর বিভাগের খনিজসম্পদের সঠিক উত্তোলন ও ব্যবহার হচ্ছে না। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সাম্প্রতিক খবরে জানা যায়, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন- এলজিইডি, ফ্যাসিলিটিস ডিপার্টমেন্ট (শিক্ষা), গণপূর্ত বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনির পাথর ব্যবহারের পরিবর্তে ভারত থেকে আমদনি করা পাথর ব্যবহারে অধিক আগ্রহী।

ফলে মধ্যপাড়া পাথর খনির বিপুল পরিমাণ পাথর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। রংপুর জেলার পীরগঞ্জের খালাসপীরে উন্নতমানের কয়লা খনি রয়েছে।

এ নিয়ে পাকিস্তান আমলে এবং স্বাধীনতার পর বহুবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে; কিন্তু আজও তা উত্তোলনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পীরগঞ্জ থেকে কয়লা উত্তোলন করা হলে একদিকে কয়লার আমদানি কমে যাবে, অন্যদিকে রংপুর বিভাগের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে।

প্রাচীনকাল থেকে মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল রংপুর বিভাগের অধিবাসীদের অর্থনৈতিক দুরবস্থা স্বাধীনতা-পরবর্তী সাড়ে চার দশকে প্রায় অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

এর প্রমাণ পাওয়া যায় বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও বিশ্ব খাদ্য সংস্থা কর্তৃক যৌথভাবে তৈরি এবং ২০১৪ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের পভার্টি ম্যাপ বা দারিদ্র্য মানচিত্র থেকে।

দেশে যখন জাতীয় পর্যায়ে দারিদ্র্যের হার ছিল কমবেশি ৩০ শতাংশ, তখন রংপুর বিভাগে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ। দেশের প্রশাসনিক বিভাগগুলোর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে রংপুর বিভাগে দারিদ্র্যের হার ছিল সবচেয়ে বেশি।

আবার দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি ছিল রংপুর বিভাগের আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলায়। এ জেলায় দারিদ্র্যের হার ছিল ৬৩ দশমিক ৭ শতাংশ, অর্থাৎ জাতীয় দারিদ্র্য হারের দ্বিগুণ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা জরিপ (প্রাথমিক) ২০১৬-এর তথ্যমতে, ২০১৬ সালে দেশে শীর্ষ ১০টি দরিদ্র জেলার পাঁচটিই রয়েছে রংপুর বিভাগে। এ বিভাগের কুড়িগ্রামে ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার দরিদ্র। এছাড়া দিনাজপুরে ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ, গাইবান্ধায় ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ, রংপুরে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং লালমনিরহাট জেলায় ৪২ শতাংশ পরিবার দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত।

কোনো প্রশাসনিক বিভাগ বা অঞ্চলে দারিদ্র্য হ্রাস বা বৃদ্ধিতে ইকোনমিক ইউনিটের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। বিবিএসের ইকোনমিক সেন্সাস ২০১৩-এ ইকোনমিক ইউনিটের সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে গিয়ে বলা হয়েছে, ‘Economic Unit is defined as a single establishment or economic household operating economic activities for profit, household gain or indirect benefit to the community.’ যার অর্থ দাঁড়ায়- ইকোনমিক ইউনিট এমন একটি একক প্রতিষ্ঠান বা ইকোনমিক হাউজহোল্ড (খানা), যা হাউজহোল্ড আয় বৃদ্ধি বা কমিউনিটির পরোক্ষ সুবিধার জন্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।

যে বিভাগে ইকোনমিক ইউনিটের সংখ্যা যত বেশি, সে বিভাগে অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য তত বেশি। ইকোনমিক সেন্সাস ২০১৩ অনুযায়ী ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চসংখ্যক ইকোনমিক ইউনিট অবস্থিত। এর সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ৩৭২।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক ইকোনমিক ইউনিট চট্টগ্রামে, যার সংখ্যা ১৩ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৭। দরিদ্রতম বিভাগ রংপুরে ইকোনমিক ইউনিটের সংখ্যা ১০ লাখ ৮৮ হাজার ২৫৫। ১৯৮৬ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রামে যখন ইকোনমিক ইউনিটের প্রবৃদ্ধি ৩০ দশমিক ৭ এবং ২১ দশমিক শূন্য শতাংশ, তখন রংপুর বিভাগে এর প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ৬ শতাংশ।

রংপুর বিভাগসহ যেসব বিভাগে ইকোনমিক ইউনিটের সংখ্যা যত কম, সেসব বিভাগে বেকারত্বের হার তত বেশি। বলা বাহুল্য, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার মেয়াদকালে অনেকবার জেলায় জেলায় স্বশাসিত সরকার গঠনের কথা বলেছেন। এ বিষয়ে তিনি একাধিক বইও লিখেছেন।

জেলায় জেলায় স্বশাসিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে প্রণীত হবে জেলাভিত্তিক বাজেট। মেগা প্রকল্প বা যেসব প্রকল্পের ব্যাপ্তি একাধিক বিভাগ বা জেলা নিয়ে, সেসব প্রকল্পের বাজেট প্রণয়ন করবে কেন্দ্রীয় সরকার।

কেন্দ্রীয় সরকারের কাজ হবে নিজেদের প্রণীত এবং জেলা পর্যায়ে প্রণীত বাজেটের সমন্বয়ে জাতীয় বাজেট প্রণয়ন। জেলাভিত্তিক বাজেট তৈরি হলে তা দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলগুলোর দারিদ্র্য হার কমিয়ে আনতে এবং সব অঞ্চলের উন্নয়নে মোটামুটি সমতা সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।

সবশেষে বলতে চাই, রংপুর বিভাগের অর্থনীতি ও মানুষকে দেশের উন্নয়নের মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। সবচেয়ে দারিদ্র্যপীড়িত এ বিভাগের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিভাগে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। রংপুর বিভাগের উন্নয়ন হলে তা দেশের সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির ধারাকে বেগবান করবে।

আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×