স্বদেশ ভাবনা

দারিদ্র্য হ্রাসের গতি যেসব কারণে নিম্নমুখী

  আবদুল লতিফ মন্ডল ২২ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দারিদ্র্য হ্রাসের গতি যেসব কারণে নিম্নমুখী

গত ১৩ মে বংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) তাদের হাউসহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে (হায়েস) ২০১৬-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এতে দাবি করা হয়েছে, হায়েস-২০১৬-এর প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখানো জাতীয় পর্যায়ে দারিদ্রের হার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ২১ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আর অতিদরিদ্রের হার প্রাথমিক রিপোর্টে দেখানো ১২ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ১১ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ সালের প্রক্ষেপণ হিসেবে বিবিএস এ দাবি করেছে।

তবে চূড়ান্ত রিপোর্টে স্বীকার করা হয়েছে, ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর দারিদ্র্য ১ দশমিক ৭ শতাংশ হারে কমলেও ২০১০ থেকে ২০১৬ সময়কালে তা কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ হারে।

অর্থাৎ দারিদ্র্য হ্রাসের গতি নিম্নমুখী। চূড়ান্ত রিপোর্টে ধনী ও দরিদ্রের আয়বৈষম্য বৃদ্ধির স্বীকৃতিও রয়েছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, প্রায় এক দশকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ক্রমাগতভাবে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া সত্ত্বেও ২০১০ থেকে ২০১৬ সময়কালে দারিদ্র্য হ্রাসের গতি নিম্নমুখী কেন? বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা এ নিবন্ধের উদ্দেশ্য। দেশে দারিদ্র্য হ্রাসের হার নিম্নমুখী হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। নিচে প্রধান কারণগুলো আলোচনা করা হল।

এক. সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার কমে গেছে।

কৃষিতে উৎপাদনের হার অধিকতর বৃদ্ধির লক্ষ্যে নব্বইয়ের দশকে সরকার থেকে বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়ার ফলে ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৯ শতাংশে (সূত্র : বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০০৫)। স্বাধীনতার পর কোনো বছরে এটিই ছিল কৃষিতে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। এরপর কৃষিতে প্রবৃদ্ধির হ্রাস পেতে থাকলেও ২০০৬-০৭ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ দশমিক ০৪ শতাংশে।

২০০৭-০৮ এবং ২০০৮-০৯ অর্থবছরে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৩ দশমিক ৮৭ এবং ৩ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশে নেমে এলেও ২০০৯-১০ অর্থবছরে তা বেড়ে ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশে দাঁড়ায়।

এরপর থেকে অনেকটা ধারাবাহিকভাবে কৃষিতে প্রবৃদ্ধির হার হ্রাস পাচ্ছে। ২০১০-১১, ২০১১-১২, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কৃষিতে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়ায় যথাক্রমে ৩ দশমিক ৮৯, ২ দশমিক ৪১, ১ দশমিক ৪৭, ৩ দশমিক ৮১, ২ দশমিক ৪৫, ১ দশমিক ৭৯ এবং ১ দশমিক ৯৬ শতাংশে (সূত্র : বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৮)। গত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) কৃষিতে প্রবৃদ্ধির হার এখনও জানা যায়নি।

তবে তা ৩ শতাংশের বেশি হবে না বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় দাবি করেন, ‘বিগত ১০ বছরে কৃষিখাতে গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ’। তার এ দাবি মেনে নেয়া হলেও তা ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হারের প্রায় অর্ধেক। কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি দারিদ্র্যবিমোচনে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

দুই. গত প্রায় এক দশকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ক্রমাগতভাবে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া সত্ত্বেও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেনি। বিবিএসের ২০১১ সালের আদমশুমারির চূড়ান্ত রিপোর্টে দেশের জনসংখ্যা দাঁড়ায় ১৫ কোটি ২৫ লাখ ১৮ হাজারে। সংস্থাটির ২০১০ সালের হায়েসে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে দেশে মোট দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৯০ লাখ। ২০১৬ সালের হায়েসের প্রাথমিক রিপোর্টে দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ ধরে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ কোটিতে।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৮১ লাখে উন্নীত হয়েছে। হায়েস-২০১৬-এর চূড়ান্ত রিপোর্টে দারিদ্র্যের হার ২১ দশমিক ৮ শতাংশ ধরে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ ৪৫ হাজারের ওপরে। এতে দেখা যায়, ২০০৫-২০১০ সময়ের তুলনায় পরবর্তীকালে নিম্নহারে দারিদ্র্য কমেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের পর বিবিএস কর্তৃক আর কোনো হায়েস পরিচালিত হয়নি। তাই হায়েস-২০১৬-এর চূড়ান্ত রিপোর্টে দারিদ্র্য হার ২১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসার বিষয়টি নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তিন. আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কর্মসংস্থান নিয়ে গত ১৬ নভেম্বর ‘এশিয়া-প্যাসিফিক এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোস্যাল আউটলুক-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বাংলাদেশ সম্পর্কিত তথ্যে দেখা যায়, দেশে বেকারত্বের হার ২০১০ সালের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭ সালে ৪ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা বিবিএসের ২০১৬-১৭ সালের শ্রমশক্তি জরিপের হারের (৪ দশমিক ২ শতাংশ) চেয়ে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেশি। আর তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব ২০১০ সালের ৬ দশমিক ৪ শতাংশের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে ২০১৭ সালে ১২ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের উচ্চহারের জন্য দায়ী মূল কারণটি হল, যে হারে যুবশক্তি শ্রম বাজারে প্রবেশ করছে সে হারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না।

কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করে বেকারত্বের হার কমিয়ে আনার প্রদত্ত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পালিত হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ ১০ বছর একটানা ক্ষমতায় থাকার পর একাদশ বছরে পদার্পণ করেছে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালে দলটি যে নির্বাচনী মেনিফেস্টো প্রকাশ করে, তাতে যে সব বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়, সেগুলোর মধ্যে একটি ছিল কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা এবং বেকারত্বের হার কমিয়ে আনা।

এতে ২০১৩ সালের মধ্যে বেকার জনসংখ্যা ২৪ লাখে এবং ২০২১ সালের মধ্যে তা ১৫ লাখে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করা হয়। কিন্তু বিগত ১০ বছরে বেকারত্বের সংখ্যা না কমে বরং বেড়েছে। বিশেষ করে বেড়েছে তরুণ বেকারত্ব। ‘এশিয়া-প্যাসিফিক এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোস্যাল আউটলুক-২০১৮’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ২০১০, ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তরুণ বেকারত্বের হার দাঁড়ায় যথাক্রমে ৬ দশমিক ৪, ৯ দশমিক ৯, ১১ দশমিক ৪ ও ১২ দশমিক ৮ শতাংশে।

যুব জনশক্তির কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ না বাড়ায় জনসংখ্যা কাঠামোর সুযোগ দেশ কাজে লাগাতে পারছে না। বেকারত্ব যে দারিদ্র্যের হার হ্রাসে এক বিরাট বাধা, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

চার. হায়েস-২০১৬-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাথপিছু আয় ও পারিবারিক আয়- দুটিই বেড়েছে। তবে সে সঙ্গে প্রতিবেদনে এটাও স্বীকার করা হয়েছে যে, ধনী-দরিদ্রের আয়বৈষম্য বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দরিদ্রতম ৫ শতাংশ মানুষের আয় ২০১৬ সালে দাঁড়িয়েছে মোট আয়ের দশমিক ২৩ শতাংশ, যা ২০১০ সালে ছিল দশমিক ৭৬ শতাংশ। দরিদ্রতম ১০ শতাংশ মানুষের আয় ২০১৬ সালে দাঁড়িয়েছে মোট আয়ের ১ দশমিক ১ শতাংশে, যা ২০১০ সালে ছিল ২ শতাংশ। দরিদ্র ২০ শতাংশ মানুষের আয় ২০১৬ সালে দাঁড়িয়েছে মোট আয়ের ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশে, যা ২০১০ সালে ছিল ৫ দশমিক ২২ শতাংশ। অন্যদিকে ধনীদের আয় বেড়েছে।

সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশ মানুষের আয় ২০১০ সালের মোট আয়ের ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৬ সালে মোট আয়ের ২৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ হয়েছে। সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের আয় ২০১০ সালের মোট আয়ের ৩৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৬ সালে মোট আয়ের ৩৮ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ মানুষের আয় ২০১০ সালের ৫১ দশমিক ৭৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৬ সালে মোট আয়ের ৫৩ শতাংশ হয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়, জিডিপি প্রবৃদ্ধির সুফল দরিদ্র মানুষ পাচ্ছে না। ফলে কাক্সিক্ষত হারে দারিদ্র্য কমছে না।

পাঁচ.

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি দারিদ্র্য হ্রাসে একটি স্বীকৃত পন্থা। এটা ঠিক, এ কর্মসূচির আওতায় ক্রমান্বয়ে কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটছে এবং অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমস্যা হল, যে হারে ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে, সে হারে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে না। যেমন চলতি অর্থবছরে (২০১৮-১৯) সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৫৪ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরে যে হারে বরাদ্দ বৃদ্ধি ঘটেছে, ভাতাভোগীর সংখ্যা বেড়েছে তার চেয়ে বেশি হারে। উদাহরণস্বরূপ, চলতি অর্থবছরে বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা গত অর্থবছরের ৩৫ লাখ থেকে বৃদ্ধি করে ৪০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতাভোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৬৫ হাজার থেকে বৃদ্ধি করে ১৪ লাখে উন্নীত করা হয়েছে।

অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার হতে ১০ লাখে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৬ হাজার থেকে ৬৪ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে।

এরকম আরও উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। এতে ভাতাভোগীদের মাথাপিছু বরাদ্দ খুব কমই বেড়েছে এবং তাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাছাড়া, ২০১৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৮ দশমিক ৭ শতাংশে (সূত্র : অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা ২০১৮-১৯)। এর অর্থ, ৭১ শতাংশ দুস্থ পরিবার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে রয়েছে এবং জীবনধারণের মৌলিক উপাদানগুলো এদের ভাগ্যে জোটে না।

ছয়.

আন্তঃবিভাগীয় বা আঞ্চলিক দারিদ্র্যবৈষম্য নিরসনে উদ্যোগের অভাব। বিবিএসের ২০১৬ সালের হায়েস অনুযায়ী দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দরিদ্র হল উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর রংপুর ও বৃহত্তর দিনাজপুর নিয়ে গঠিত রংপুর বিভাগ। এখানে দারিদ্র্যের হার ৪৭ দশিক ২ শতাংশ, যা জাতীয় পর্যায়ে দারিদ্র্য হারের দ্বিগুণেরও বেশি। ২০১০ সালের হায়েসেও দারিদ্র্য তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছিল রংপুর বিভাগ। দেশে দারিদ্র্য হারে শীর্ষ ১০ জেলার মধ্যে পাঁচটিই রংপুর বিভাগে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, উন্নয়ন বরাদ্দের ১ শতাংশও পাচ্ছে না রংপুর বিভাগ। দারিদ্র্য তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ময়মনসিংহ বিভাগ (দারিদ্র্য হার ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ) এবং রাজশাহী বিভাগ (দারিদ্র্য হার ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ)। সবচেয়ে কম দারিদ্র্য ঢাকা ও সিলেট বিভাগে। দারিদ্র্য হার যথাক্রমে ১৬ শতাংশ ও ১৬ দশমিক ২ শতাংশ।

রংপুর বিভাগসহ যে সব বিভাগে দারিদ্র্যের হার জাতীয় দারিদ্র্য হারের ওপরে, দারিদ্র্য হার হ্রাসের বিশেষ ব্যবস্থা না নেয়ায় সেসব বিভাগ বা অঞ্চলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে, যা জাতীয় দারিদ্র্য হার হ্রাসের গতিকে মন্থর করছে।

সাত.

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষা ও ছোট পরিবার গঠনের মধ্য দিয়ে উন্নত মানের জীবনযাপনের সচেতনতার অভাব দারিদ্র্য হ্রাসে একটি বড় বাধা। ১৯৯১-৯২ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৩০ লাখ। ১৯৯১-৯২ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এদের বেশির ভাগ এসেছে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী থেকে।

শিক্ষা, সচেতনতা ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে এরা ‘দারিদ্র্য চক্র’ থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দরিদ্র পরিবারগুলো বংশপরম্পরায় দারিদ্র্য চক্রের মধ্যে আবর্তিত হতে থাকে। ফলে উল্লেখযোগ্য হারে কমেনি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা।

দারিদ্র্য হ্রাসের নিম্নমুখী হারকে ঊর্ধ্বমুখী করতে সরকারের যেসব পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি করে কমপক্ষে ২০০৯-১০ অর্থবছরের হারে (৬ দশমিক ৫৫ শতাংশে) উন্নীত করা, অধিক পরিমাণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, আন্তঃবিভাগীয় দারিদ্র্য নিরসনে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বর্তমানের ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশের নিচে আনা, ধনী-গরিবের আয়বৈষম্য হ্রাসে ব্যবস্থা নেয়া, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অর্থবরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধি করা এবং সে সঙ্গে দুর্নীতি বন্ধ করা ও উপকারভোগী নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং সমাজের নিম্নস্তরের জনগণকে উন্নত জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে ছোট পরিবার গঠনে সচেতন করা। আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×