একটি অভিজ্ঞতার আলোকে নারী নির্যাতন

  সৈয়দা আফরোজা বেগম ২৩ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নারী নির্যাতন

বাংলাদেশ এখন আর মেয়েদের জন্য মোটেও নিরাপদ কোনো দেশ নয়। চারদিকে ছোট শিশু থেকে ষাটোর্ধ্ব নারী পর্যন্ত প্রতিদিন ধর্ষণের শিকারে পরিণত হচ্ছে। কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না নারী ও শিশুর প্রতি এ জঘন্যতম অত্যাচার ও নির্যাতন।

এর মধ্যে আলোড়ন তুলেছে ফেনীর নুসরাতের প্রতি অশালীন ব্যবহারের বিচার চাওয়া ও এর জন্য সৃষ্ট মামলা না তোলার কারণে তার গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার ঘটনা।

কিভাবে ঠাণ্ডা মাথায় মেয়েটিকে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলে মানুষরূপী শয়তান নিজের অপকর্ম লুকাতে চেয়েছে! আরও কিছু অমানুষ এ কাজে সহযোগিতা করেছে, এমনকি বান্ধবী পর্যন্ত শয়তানদের দোসর হয়ে তার গায়ে আগুন দেয়ার কাজে সহায়তা করেছে।

এই বর্বর ঘটনার পর মহামান্য হাইকোর্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে, নির্যাতিত নারী বা শিশু বা এ ধরনের ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণ করবেন নারী ম্যাজিস্ট্রেট, যাতে নির্যাতিত মেয়েটি তার কথাগুলো বলতে স্বচ্ছন্দবোধ করে।

এটি তো সত্যিই যে, পুরুষ বা পুরুষের দল কর্তৃক বর্বরোচিতভাবে নির্যাতিত একটি মেয়ে অপর একজন পুরুষের কাছে তার প্রতি করা অন্যায়-অত্যাচারের কথা বলতে ভয় পাবে, স্বচ্ছন্দবোধ করবে না। তারপরও অপরাধী হাতেনাতে ধরা পড়ে দোষ স্বীকারের পরও নির্যাতিত নারীরা সবসময় যে বিচার পায় না, তার সংখ্যা কম নয়।

প্রশাসন, ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ আন্তরিক থাকার পরও এবং নারী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ভিকটিমের জবানবন্দি নেয়ার পরও আইনের মারপ্যাঁচ, অর্থের লোভ এবং নারীর প্রতি সংবেদনশীল ও মানবিক না হওয়ার কারণে অনেক সময় নির্যাতিত নারী ও শিশুরা এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের সঠিক কিংবা আদৌ বিচার পায় না।

যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে কঠোর নির্দেশনা না দিতেন, তাহলে নুসরাতের মামলার যে অগ্রগতি হয়েছে তা আদৌ হতো কিনা সন্দেহ আছে। আমরা চাই, মূল অভিযুক্ত সিরাজউদ্দৌলাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক যা দেখে অন্যায়কারীরা ভয় পাবে।

প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ করার সময় আমি অনেক নির্যাতিত মেয়ের জবানবন্দি নিয়েছি, তাদের কষ্টের কথা শুনেছি। আসলে মেয়েরা অন্য মেয়েদের শরীর ও মনের কষ্ট এবং মনের অনুভূতিগুলোকে যেভাবে বোঝে, পুরুষরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা সেভাবে বোঝে না। যেসব নির্যাতিত মেয়ের জবানবন্দি নিয়েছি তার মধ্যে সব ঘটনা যে সত্যি ছিল তা নয়; তবে বেশিরভাগই সত্যি ছিল।

কিন্তু বিচার পেয়েছে খুব কমজন। ভিকটিমের পক্ষে সব সাক্ষ্য-প্রমাণ সুস্পষ্টভাবে থাকার এবং অভিযুক্তদের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পরও কিভাবে বিচারের বাণী নীরবে-নিভৃতে গুমরিয়ে কেঁদেছে, সে বিষয়ে একটি ঘটনা সম্পর্কে এখানে তুলে ধরব।

একটি ঘটনা ১৯৯৫ সালের। আমি তখন বড় একটি জেলায় কর্মরত ছিলাম। সম্ভবত আগস্ট মাসের এক সন্ধ্যারাতে এক গ্রামের গৃহবধূ স্বামীর সঙ্গে কোথাও যাচ্ছিল। ৬/৭ জন নরপিশাচ তাদের পথরোধ করে স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে বধূটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনাস্থলেই পুলিশ তিনজনকে আটক করে। এ তিনজনের একজন ছিল একটি বাহিনীর সদস্য, তাকে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হয়।

পরদিন ভিকটিম ও হাতেনাতে আটক দু’জন অভিযুক্তকে আদালতে আনা হলে নারী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আমি ভিকটিমের আর একই সময়ে দু’জন পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেট পৃথক পৃথক কক্ষে অভিযুক্ত দু’জনের দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করি। একই সময়ে পৃথক পৃথক কক্ষে লিপিবদ্ধকৃত তিনজনের বক্তব্য হুবহু এক ছিল।

অর্থাৎ মেয়েটি বলেছে কিভাবে তার প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে, আর অভিযুক্ত দু’জন বলেছে তারা কিভাবে মেয়েটির ওপর পাশবিক নির্যাতন করেছে। তিনজনের বক্তব্যের মধ্যে কোনো গরমিল ছিল না। মেয়েটি বক্তব্য দেয়ার সময় খুবই ভীত ছিল।

তাকে অনেক বুঝিয়ে কারা কিভাবে তাকে অত্যাচার করেছে তা নির্ভয়ে বলার জন্য অনুরোধ করলে সে বলেছিল, আমি মহিলা বলেই তার সঙ্গে কি ধরনের অত্যাচার করা হয়েছে তা সে বলতে পারছে, পুরুষ হলে সে তা কোনোভাবেই বলতে পারত না।

সে সময় এ ধরনের গণধর্ষণের কথা সচরাচর শোনা যেত না। আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ ঘটনার পর মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দু’জন মহিলা কর্মকর্তা সেখানে যান ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে কারাগারে নিরাপদ হেফাজতে অবস্থানকৃত ভিকটিম মেয়েটির সঙ্গে দেখা করেন।

স্বামী তার নিরাপত্তা দিতে পারবে না বলে তাকে জেলহাজতে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয় এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়া কারও সঙ্গে তার দেখা করায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। তার সঙ্গে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাক্ষাতের সময় সঙ্গী ছিলাম আমি। আমাকে দেখে ও আমার আশ্বাসে মেয়েটির মুখে বিষণ্ণ হাসি ফুটে ওঠে এবং সে উল্লেখিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়।

স্থানীয় পর্যায়ে মেয়েটির নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকায় তাকে অধিকতর নিরাপত্তা দেয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় বিজ্ঞ জেলা জজের অনুমতিক্রমে পুলিশ এসকোর্টের মাধ্যমে তাকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ঢাকাস্থ বিশেষ নিরাপত্তা হোমে পাঠান।

এখানেও নারী কর্মকর্তা হিসেবে মেয়েটিকে ঢাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে তাকে সহযোগিতার জন্য আমাকেই নিয়োজিত করা হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় মেয়েটির ওপর করা অমানুষিক নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচারের জন্য খুবই আন্তরিক ছিলেন।

যেহেতু অভিযুক্তরা হাতেনাতে ঘটনাস্থলেই ধরা পড়ে, সেহেতু সাজার ভয়ে তারা মামলাটি অন্য খাতে নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। আর এ ক্ষেত্রে যা হয় তা হল মেয়েটির চরিত্র ভালো না মর্মে অপবাদ দেয়া হয়, যেন চরিত্র খারাপ বললেই তাকে সবার ধর্ষণের অধিকার জন্মায়!

এরপর একজন অতিরিক্ত জেলা জজের আদালতে মামলাটির বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে আমি তার আদালতে সাক্ষ্য দিই ও সাক্ষ্য শেষে তার অনুরোধে তার অফিসকক্ষে দেখা করি। তিনি আমার এবং আমার সহকর্মীদের খুবই শ্রদ্ধার মানুষ ছিলেন। এখন তিনি আরও অনেক বড় পর্যায়ে কর্মরত আছেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই নামটি বললাম না।

তিনি আমাকে বলেন, সাত পাতায় লেখা এই জঘন্যতম লোমহর্ষক নির্যাতনের কথা আমি কিভাবে লিখলাম। তবে তিনি এ কথাও বলেন, এ ধরনের ঘটনা না ঘটলে একটি লেখাপড়া না জানা গ্রামের মেয়ে মনের মাধুরী মিশিয়ে এসব কথা বলতে যেমন পারে না, তেমনি এ ধরনের কোনো ঘটনা কেউ না বললে কারও পক্ষে তা নিজে নিজে বানিয়ে লেখা কখনও সম্ভব না।

তিনি আরও বলেন, তিনি জেনেছেন আসামিপক্ষ চেষ্টা করছে মেয়েটিকে দিয়ে মিথ্যা কথা বলানোর। যেমন- জবানবন্দিতে সে যেসব ঘটনা বলেছে সেসব ঘটনা আসলে ঘটেনি, সবই তাকে দিয়ে বলানো হয়েছে মর্মে আদালতে বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা চলছে, ওকে সেফ হোম থেকে বের করার ষড়যন্ত্র চলছে। আমি বলি, ওকে তো জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়া কারও সঙ্গে দেখা করতেও নিষেধ আছে।

তিনি হেসে বলেন, কে দেখতে যাবে অনুমতির বিষয়! তিনি বলেছিলেন, মেয়েটি বিবাহিত এবং নির্যাতনের পর সে গোছল করলেও চিকিৎসকের রিপোর্টে তার শরীরে নির্যাতনের যেসব চিহ্ন পাওয়ার কথা উল্লেখ আছে তা মামলা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট, আর কিছু লাগে না; সর্বোপরি ভিকটিম ও অভিযুক্তদের জবানবন্দির বক্তব্যের মধ্যে কোনো গরমিল নেই। তিনি বলেছিলেন তার আদালতে থাকলে অভিযুক্তরা সাজা পাবেই।

এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে মামলাটি বিচারের জন্য উক্ত আদালতে প্রেরণ করা হয়। স্পেশাল পিপি মহোদয় আমার সঙ্গে দেখা হলেই বলতেন, ওই মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবেই। কিন্তু একদিন সকালে স্থানীয় সব খবরের কাগজে বড় বড় হেডিংয়ে লেখা দেখলাম মামলার অভিযুক্তরা সবাই বেকসুর খালাস পেয়েছে।

এই গণধর্ষণের ঘটনাটি তখন যেমন দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তেমনি অভিযুক্তদের খালাসের খবরে মানুষ একাধারে বিস্মিত হয় এবং তেমনি তা আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। সাধারণ মানুষসহ সব পর্যায়ের মানুষের বিশ্বাস ছিল, এ মামলায় অভিযুক্তরা কোনোভাবেই ছাড়া পাবে না। কারণ, অন্য প্রমাণ বাদেও অভিযুক্তরা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিল, তা সবাই জানত।

এরকম একটি জঘন্যতম ঘটনার নায়কদের সাজা না হওয়ার মনোকষ্ট লাঘব করার জন্য আমি আমার সাক্ষ্যগ্রহণকারী অতিরিক্ত জেলা জজের সঙ্গে দেখা করি। তিনিও রায় জানার পর বেশ ভারাক্রান্ত ছিলেন। তিনি জানালেন, আসামিপক্ষ একজন মহিলাকে মেয়েটির বোন সাজিয়ে তাকে ঢাকার সেফ হোম থেকে বের করে আনে এবং তাকে দিয়ে আদালতে সব ঘটনা মিথ্যা ও সাজানো মর্মে সাক্ষ্য দেয়ায়, এ কারণেই রায়ে সবাই বেকসুর খালাস পেয়েছে।

আমি বলি- তাহলে আমার লেখা সাত পাতার সেই বর্বরোচিত নির্যাতনের বর্ণনা যা মেয়েটি না বললে কল্পনা করে লেখা সম্ভব না, কিংবা ভিকটিমের জবানবন্দি আর দু’জন আসামির দোষ স্বীকারোক্তি যে হুবহু একই ছিল; তারও কি কোনো মূল্য নেই? মূল্য নেই মেয়েটির চোখের জলের বা তার জীবনের?

ঘটনাটি এতই জঘন্য ছিল যে, একজন সিনিয়র আইনজীবী নৈতিকতা ও মানবতার স্বার্থে এ মামলায় আসামিদের পক্ষে মামলা পরিচালনায় রাজি হননি সে সময়। কিন্তু যিনি বা যারা আসামি পক্ষের হয়ে লড়েছিলেন, তারাই মামলাটির ঘটনা মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য অন্য একজন নারীকে বোন সাজিয়ে ভিকটিমকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সেফ হোম থেকে বের করে আনেন।

অথচ ঐ কর্তৃপক্ষকে বলা ছিল জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মতামত বা অনুমোদন ছাড়া ভিকটিমকে কারও নিকট দেয়া যাবে না। কিন্তু তারা তা মানেনি। নারী বা মেয়েদের প্রতি সমাজের কিছু মানুষের সংকীর্ণ তুচ্ছ কূট মানসিকতা এবং কিছু মানুষের অর্থ লালসা ও দায়িত্বহীনতার কারণে আলোচ্য ভিকটিম মেয়েটি কোনো বিচার পেল না। একটি মেয়ের সম্ভ্রমের থেকে যাদের কাছে অর্থই অনেক বড়, সমাজে তারাই সংখ্যায় বেশি। এদের কাছে মেয়েরা মানুষ নয়, পণ্য মাত্র।

ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ করার সময় এ ধরনের কত ঘটনার যে সাক্ষী হতে হয়েছে! আর দেখেছি কিভাবে অর্থলোভ ও প্রভাবশালীদের কারণে কত মানুষ, বিশেষত নারী-শিশু বিচার পায়নি, যার সাজা হয়ে কারাগারে থাকার কথা সে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছে; অন্যদিকে অন্যায়ের সঠিক বিচার না পেয়ে নির্যাতিত নারী বা ভিকটিম বা ভুক্তভোগী বুকচাপা কান্না নিয়ে অসহায় দৃষ্টিতে চেয়ে থেকেছে।

নুসরাতের মৃত্যুর পরও ধর্ষণ থেমে নেই একদিনও। চলন্ত বাস-ট্রেন-প্রাইভেট কার, বাসাবাড়ি- কোথায় হচ্ছে না ধর্ষণ! ভয়ে খবরের কাগজ খুলতে ইচ্ছা করে না, খবর দেখতে পারি না। সমাজবিজ্ঞানী, মনস্তত্ত্ববিদগণসহ বিজ্ঞজনরা মহামারীর মতো রূপ নেয়া ধর্ষণের কারণ ও তা প্রতিরোধের জন্য নানারকম আলোচনা ও প্রতিকারের কথা বলছেন, কেউ নতুন আইনের কথা বলছেন।

আমি মনে করি, নতুন আইনের থেকে বেশি দরকার আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন আর বিচার দ্রুত করা। যে এ ধরনের অন্যায় করবে তাকে যদি কেউ কোনোরকম প্রশ্রয় না দেয়, নিজ সন্তান হলেও যদি তাকে বিচারের আওতায় সোপর্দ করে, সমাজ যদি তাকে ধিক্কার দেয়, আইনজীবীগণ যদি কেবল টাকার জন্য তাদের পক্ষে মামলা পরিচালনা না করেন; তাহলে এর একটি প্রভাব সমাজে পড়বেই।

যে যত রকম বিরুদ্ধাচরণই করুন, ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে। শিক্ষিত-অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত-অল্প বয়সী কিশোর-তরুণদের হাতেহাতে মোবাইল ফোন, তাতে তারা ইচ্ছা হলেই ডাউনলোড করে ও দেখে নানারকম অশ্লীল ভিডিও। এসব ভিডিওর মূল চরিত্র নারী। এসব অশ্লীল কুরুচিকর ছবি-ভিডিও কিশোর-তরুণ-যুবকদের অনৈতিক কাজে উৎসাহ দিয়ে থাকে।

ইউটিউবে যার যা ইচ্ছা বিচিত্র ধরনের অশ্লীল ও কুরুচিকর নানা বিষয় ছেড়ে দেয়, যা দেখার ও শোনার অযোগ্য। এগুলোর নিয়ন্ত্রণ অতি জরুরি। এরপর আছে মোবাইল কোম্পানিদের রাত জেগে থাকার নানারকম অফার। এসব অফারে প্রলুব্ধ হয়ে রাত জেগে কথা বলার সময়ও নানা প্রকার অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জডিয়ে পড়ে কিশোর-তরুণ ও যুবসমাজের অনেকেই।

এগুলো রোধ করার প্রধান দায়িত্ব সরকারের হলেও কেবল সরকারের একার পক্ষে সেটি সম্ভব নয়। সমাজের প্রতিটি মানুষকে রুখে দাঁড়াতে হবে। মেয়েদের পণ্য নয়, ভোগের সামগ্রী নয়; মানুষ ভাবতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কি প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্দেশনা দিতে হবে? আমরা কি এসব অন্যায়-অনাচারের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হতে পারি না? করতে হবে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন।

নীতি-নৈতিকতা বোধ, মানবতা জাগরণের জন্য প্রথম শ্রেণী থেকে পাঠ্য বইয়ে এ ধরনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করতে হবে। আমাদের সময়ে মূল্যবোধ সম্পর্কিত নানারকম গল্প পড়ানো হতো যা এখন হয় না।

অভিভাবকদের কেবল সন্তানের ভালো ফলাফলের পিছনে না ছুটে তারা ভালো মানুষ হচ্ছে কিনা সে দিকে নজর দিতে হবে। ভালো মানুষ না হলে সে তো কেবল মেয়েদের নয়, কোনো মানুষকেই সন্মান দিতে শিখবে না। সবাই যদি জেগে ওঠেন, তাহলে সমাজ ও মানুষের ভেতর পরিবর্তন আসবেই।

সৈয়দা আফরোজা বেগম : সাবেক অতিরিক্ত সচিব

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×