মোদি যে কারণে আবারও

  জয়ন্ত ঘোষাল ২৭ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মোদি যে কারণে আবারও
ছবি: এএফপি

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফের ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলেন নরেন্দ্র মোদি। পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও মোদির পক্ষে যে এতটা সমর্থন থাকবে, তা ভারতের বিরোধী দলগুলোর ভাবনার অতীত ছিল। বিজেপি একাই যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল, তাতে প্রশ্ন উঠছে, এবার মোদির দ্বিতীয় অধ্যায়ে এনডিএ শরিকদের গুরুত্বই থাকল কি? অনেকের ধারণা ছিল, মোদি জিতলেও আসন সংখ্যা ২০১৪ সালের ২৮২’র তুলনায় কম হবে, সেক্ষেত্রে শরিকদের গুরুত্ব বাড়বে। কিন্তু সেটাও হল না।

আবার অন্য আঞ্চলিক দলগুলোর অবস্থাও যে খুব ভালো, তাও নয়। মোদিবিরোধী আঞ্চলিক দলগুলোও ধাক্কা খেয়েছে। যেমন মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস ধাক্কা খেল। পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে বিজেপি আসন পেল ১৮টি। অন্ধ্র প্রদেশে তেলুগু দেশম কিছুই করতে পারল না। চন্দ্রবাবু নাইডুর জায়গায় জগনমোহন রেড্ডি দখল করলেন রাজনৈতিক পরিসর।

কিন্তু কীভাবে এ ফলাফল হল? রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, বিরোধী দল যেভাবে ‘মোদি হটাও’ অভিযানে নামে, তাতে পুরো নির্বাচনটা মোদিকেন্দ্রিক হয়ে যায়- বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোনো ফেডারেল ফ্রন্ট গঠন করতে পারেনি, উল্টো মোদি সুকৌশলে ‘মোদি হটাও’-কেই ভোটের প্রচারের হাতিয়ার করে দিলেন। কর্মহীনতা, কৃষকদের সমস্যা, রাহুল গান্ধীর তোলা ‘ন্যায়’-এর বিষয়, সব গুরুত্ব হারাল। দেখা যাচ্ছে, যেসব রাজ্যে মোদিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, সেসব রাজ্যেই মোদি ভোট পেয়েছেন বেশি। এবারের ভোট তাই অনেকটাই আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো হয়েছে।

মোদি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কী থাকবেন না, সেটা নিয়েই গোটা দেশে ভোট হয়ে গেল। বিরোধী শিবিরে মোদির কোনো একজন বিকল্প খুঁজে পাওয়া গেল না। ২০১৪ সালের তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পর মোদির বিরুদ্ধে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল, কিন্তু মোদি এবং অমিত শাহ এমন এক কৌশল রচনা করলেন যে এই অসন্তোষ নির্মূল হয়ে গেল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বালাকোট আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও বদলে দিল। মোদির ‘ব্র্যান্ড ইকুইটি’র সঙ্গে মিশে গেল হিন্দু রাষ্ট্রবাদ। মানুষ এক শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন।

কংগ্রেস নেতা পৃথ্বীরাজ চৌহানের বক্তব্য, মোদি এবং বিজেপি ধর্মের নামে মেরুকরণ করে তার ফায়দাও পেয়েছে, কিন্তু কংগ্রেস একথা বললেও বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্যেও সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টির বোঝাপড়া হয়েছিল জাতপাতের ভিত্তিতে যাতে ভোট হয় তা নিশ্চিত করার জন্য। দলিত, মুসলিম, যাদব, জাট সব ভোট যাতে একত্রিত হয়ে যায়, কিন্তু সেটা হয়নি। এত বছর ধরে জাতপাতের ভিত্তিতে যে ভোট হয়েছে, তার অনেকটারই ভাঙন হয়েছে। মোদির ভাবমূর্তির কাছে এই জাতপাতের ভোট রাজনীতি পরাস্ত হয়েছে।

রাহুল গান্ধী নিজে কেরালা থেকে জিতলেও আমেথি থেকে হেরে গেছেন। তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে মোদিকে অভিনন্দন জানালেন। এমনকি ভোটের ফল বেরোবার আগেই আমেথির জন্য রাহুল স্মৃতি ইরানিকে অভিনন্দন জানালেন। সেটা রাজনৈতিক দিক থেকে রুচির পরিচায়ক, কিন্তু কংগ্রেসের এই হাল কেন হল, তারও বিচার-বিশ্লেষণ প্রয়োজন। শতাধিক বছরের প্রাচীন এই দলটি ৭০ বছর ধরে দেশ শাসন করেছে। কোথায় গেল কামরাজের তামিলনাড়ু, কোথায় গেল বিজুবাবু থেকে জেবি পাটনায়কের ওড়িশা, কোথায় গেল বিধান রায়ের বাংলা।

এবার মোদির জয়যাত্রার পেছনে তাই একদিকে যেমন আছে মোদি নামক ব্যক্তির ‘ব্র্যান্ড ইকুইটি’, অন্যদিকে তেমনি আছে রাহুল গান্ধীর জোট না করার মানসিকতা। মোদির বিরুদ্ধে কোনো জোট জাতীয় স্তরে গঠন হল না। কোনো সমন্বয় কমিটি গঠন হল না। কোনো আহ্বায়ক হল না। শুধু মোদি হটাও স্লোগান তোলা হল, আর সব বিরোধী নেতাই ভাবতে লাগলেন যে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন, কিন্তু কোনো বিকল্প কর্মসূচি নেই। এভাবে মোদি মোকাবিলা হয়?

উত্তর ভারতে শুধু পাকিস্তান নয়, মোদির বিভিন্ন প্রকল্পের যে সুযোগ-সুবিধা মানুষ পেয়েছেন, সেটা নিয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। উত্তরপ্রদেশে যেভাবে মেয়েদের জন্য শৌচালয় হয়েছে, যেভাবে মানুষ ঋণ পেয়েছেন, যেভাবে ঘর পেয়েছেন, তারও একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিজেপির পক্ষে। একটা কথা মনে রাখা দরকার, নির্বাচনে জয়-পরাজয় ভারতের মতো বৃহত্তম গণতন্ত্রে কোনো একটা কারণে হয় না। জয়ের পেছনে অনেক কারণ থাকে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে

জয়ন্ত ঘোষাল : ভারতীয় সাংবাদিক

ঘটনাপ্রবাহ : ভারতের জাতীয় নির্বাচন-২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×