চেতনাই বাঁচিয়ে রাখবে বাঙালি সংস্কৃতি

  মেজর (অব.) সুধীর সাহা ০৯ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাঙালি সংস্কৃতি

আমাদের সামাজিক জীবনে একটা পরিবর্তন এসেছে ধীরে ধীরে। কিন্তু যখন আমরা এ পরিবর্তনকে স্পষ্টভাবে দেখতে পেলাম, তখন সত্যি অনেক দেরি হয়ে গেছে। বাঙালি সমাজ এমনটা ছিল না।

বাঙালির আছে হাজার বছরের ঐতিহ্য, ইতিহাস আর নিজস্ব পরিচিতি। কিন্তু এখন টের পাচ্ছি আমরা যেন কোথায় একটু ভুল করেছিলাম। একটু একটু করে আমাদের সেই চেনা ঐতিহ্য, ইতিহাস যেন পাল্টে গেছে।

সংস্কৃতি মানুষকে বিকশিত করে এবং মানুষের চলার পথকে বেগবান করে। দুর্বল সংস্কৃতি সবল কোনো শক্তির ভেতর হারিয়ে গিয়ে অস্তিত্ব বিপন্ন করে তোলে। বাঙালির সংস্কৃতি কখনও দুর্বল ছিল না। এর বিকাশের দীর্ঘ পটভূমি আছে। বাঙালি মননে ও দর্শনে তাই বহুকাল ধরেই শক্তিমান ঐতিহ্য ধারণ করে আছে। তবে ধাক্কা খেয়েছে আজ সেই সংস্কৃতি। বাঙালির ঐতিহ্য বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র নতুন নয়, প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালির ঐতিহ্য বহিঃপ্রকাশের মূল অস্ত্র ভাষার ওপর আঘাত এসেছে বারবার। বর্তমানের আঘাতও অভিন্ন। ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য সবসময়ই এক- বাংলা ভাষাকে দুর্বল করে বাঙালি সংস্কৃতিকে বিনষ্ট করা। কিন্তু আমরা যারা সংস্কৃতিকে ধারণ করতে বদ্ধপরিকর, তারা সম্ভবত ভালোভাবে খেয়াল করার আগেই অনেক সহজ-সরল মানুষকে এ ব্যাপারে কাদা ছোড়াছুড়ি করার সুযোগ করে দিয়েছে।

পাল শাসনামল, তুর্কি মুসলিম শাসনামল, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামল কোনোটাই বাঙালি সংস্কৃতি চর্চায় খুব বড় আঘাত হানেনি বাংলার এ অংশে। বাঙালি সংস্কৃতির ওপর বড় আঘাত বুঝি এসেছিল পাকিস্তান শাসকদের হাত ধরে প্রথম এ বাংলায়। রবীন্দ্রনাথকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বাঙালি সংস্কৃতিপ্রেমীরা এ আঘাত মেনে নেয়নি। প্রতিবাদে একদিন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ছায়ানটের। সিদ্ধান্ত হয়েছিল, প্রতি নববর্ষ পালনে সূচনা গান হবে রবীন্দ্রসংগীত- ‘এসো হে বৈশাখ’। প্রথমে বলধা গার্ডেনে, পরে রমনার বটমূলে চলতে থাকে বাংলা নববর্ষের প্রভাতি উদ্বোধন। বাঙালিকে আরও পরীক্ষা দিতে হয়েছিল তার সংস্কৃতির জন্য, ভাষার জন্য। শুধু প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ ছিল না, প্রাণ দিয়েও বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে গেছে বাঙালি। স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়ে আমরা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিলাম। এই তো আমার বাংলাদেশ- আমার বাংলা ভাষা, আমার বাঙালি সংস্কৃতি। কয়েকটি বছর কাটল ভালোভাবেই। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা তো ঘুমিয়ে থাকতে পারে না। তারপরও এসব পাশ কাটিয়ে সংস্কৃতিচর্চা চলতে থাকল। যুক্ত হল পহেলা বৈশাখের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রা। অলক্ষ্যে বসে যারা বুদ্ধি আঁটছিল, তারা ব্যাকুল হল। জঙ্গি হামলা হল রমনার বটমূলে। যশোরের উদীচীর অনুষ্ঠানেও রক্ত ঝরল। কিন্তু সংস্কৃতি নতজানু হয়নি কখনও। বৈরী অবস্থাতেও নববর্ষ পালন থেমে থাকল না।

সম্মুখযুদ্ধে খুব বেশি সুবিধা করা যাবে না ভেবে এবার বুঝি ভিন্নপথ ধরল ষড়যন্ত্রকারীরা। ছড়িয়ে দিল বিষবাষ্প। ধর্মচিন্তা থেকে বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ভুল ব্যাখ্যা দেয়া শুরু হল নিপুণ হাতে। বাঙালি সংস্কৃতিতে অমিল খুঁজে পেল ধর্মীয় সংস্কৃতির। সরলমতি বাঙালি মুসলমানকে বিভ্রান্ত করতে চাইল ধর্ম ব্যবসায়ী একটি গোষ্ঠী। মঙ্গল শোভাযাত্রাকে আখ্যা দেয়া হল হিন্দু অনুষ্ঠান বলে। পহেলা বৈশাখ হিন্দুদের অনুষ্ঠান ও দিন বলে চালিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করা হল চারদিকে। গ্রামের সহজ-সরল মুসলমান জনগোষ্ঠী দ্বিধায় পড়ে গেল। হাজার বছর ধরে যা করছি, তা কি তাহলে ভুল ছিল? তাদের মনে হল- ধর্ম বুঝি সে কথাই বলে। বাঙালি সংস্কৃতি কি বাঙালিদের, না হিন্দুদের সংস্কৃতি- এমন দ্বিধা-দ্বন্দ্বের প্রশ্নের মুখে পড়ে ধীরে ধীরে পাল্টে যেতে থাকল বাঙালি সমাজ। একসময় গ্রাস করতে চাইল যেন আমাদের পরিচয়কে। ভেতরে ভেতরে যারা এ বিভাজনের কাজটুকু করছিল, তারা সুকৌশলে ধর্মের বাহনে নিজেদের আড়াল করে রাখল। একসময় অনেকেই যেন বিশ্বাস করতে শুরু করল তাদের কথা। যে সমাজ ছিল একেবারেই লেটেপেটে থাকা- তার বিভাজন হয়ে গেল। বিভাজন এলো চলনে-বলনে, পোশাকে, ব্যবহারে। যে চেনা প্রতিবেশী পাশের মানুষটার জন্য একসঙ্গে কাঁদতে পারত, তারা যেন হঠাৎ অচেনা হয়ে গেল।

এ দেশে তো হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সবসময়ই ছিল। মুসলমানের ঈদ আনন্দে শুধু মুসলমানই নয়; হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সবাই শামিল হতো। ঈদের নামাজ শেষে গ্রামের মসজিদ ত্যাগ করে বাড়ি যাওয়ার পথে বন্ধু আজাদ তো প্রতি বছরই ডেকে নিয়ে যেত বন্ধু সুধীরকে। হিন্দু-মুসলমান সবাই ঈদের সেমাই ভাগ করে খেত। গ্রামের বাড়ির বাজারের মাঝখানে দুর্গাপূজার রমরমা আয়োজনে আরতি দেখতে ভিড় করত সব হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে। দুর্গা মন্দিরের সামনে পূজার দিনগুলোতে আনন্দঘন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গ্রামের মানুষ প্রাণভরে উপভোগ করত। কে খুঁজত তাতে ক’জন হিন্দু, ক’জন মুসলিম আছে! অহিংস মানবতার কল্যাণে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকেরা আকাশে যে বেলুন উড়াত, তাতে হাত লাগাত আশপাশের সব মানুষই। কে খুঁজত সেখানে বৌদ্ধ নয় এমন কে কে আছে! এসবই তো আমাদের পূর্বপুরুষের ধারা বহন করেছে। আমরা তো সেখানেই ছিলাম। হঠাৎ এখন যেন আর তেমনটা হয় না। পূজার আনন্দ যেন শুধুই হিন্দুর, সেখানে যাওয়াটাও যেন পাপ করার শামিল। মসজিদ, আল্লাহ্ আর মুসলমান- এর বাইরের দুনিয়া অন্যদের। তারা আমার ভাই নয়, বন্ধু নয়, আত্মীয় নয়। এ নতুন অনুভূতি কখন যে আমাদের সমাজে প্রবেশ করেছে, তা টের পাওয়ার আগেই অনেক মানুষ হয়তো এর প্রভাবে বদলে গেছে। কেউ কেউ যেন নাড়ু-মুড়ি খাওয়াও হঠাৎ করে ভুলে গেছে।

এ অনুভূতির কথা কেন বলছি জানি না। মনে হয় অভিমানে বলছি, লজ্জায় বলছি, কষ্টে বলছি। এমনভাবে বদলে যাওয়া সমাজকে মেনে নিতে পারছি না বলেই হয়তো বলছি। মন হয়তো এখনও খুঁজে চৈত্রের শেষদুপুরে গরুর দৌড়, বৈশাখের প্রথম দ্বিপ্রহরে হালখাতার মিষ্টি-নিমকি। কে যেন ফুৎ করে কুপির বাতিটি নিভিয়ে দিল। এখন যখন দেখছি কোথাও আলো জ্বলছে না, তখন মনটা হু হু করে কেঁদে মরে। কাকে দোষ দেব? কপালের দোষই হয়তো! এমনটা যারা করিয়েছে, তারা তো তাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থই করেছে। যাদের দিয়ে করাতে পেরেছে, তাদের তো আমরা সময়মতো সাবধান করতে পারিনি। তখন আমরা ব্যস্ত ছিলাম নিজের জীবন বাঁচাতে। চোখ বুজে ছিল আপনা আপনিই। বেখেয়ালের চাদর ছাপিয়ে কখন যে অশুভ শক্তি জানালার শিক দিয়ে প্রবেশ করেছে টেরই পাইনি। আমাদের ছিল রুমীর মা জাহানারা ইমামের মতো মা, যার ঘরে ছিল শত সন্তানের আশ্রয়। সেই মায়েরা কেউ কেউ বুঝতে পেরেছিলেন। তারা আমাদের জাগানোর চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু বিষধর সাপ তো সামনের দরজা দিয়ে আসেনি, এসেছিল অন্যরূপে জানালার কাচ গলে। তাই আমরা অনেকেই বুঝতে পারিনি। সময়মতো সাবধান হতে পারিনি। আমাদের ছিল ঐতিহ্যগত পাড়া-সংস্কৃতি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া ছেলের বন্ধুরা ভরে থাকত মায়ের ড্রইংরুমে। বন্ধুর মা হয়ে উঠতেন অনেকের মা। গ্রামীণ সম্পর্ক তো আরও ঘনিষ্ঠ। ধর্মীয় সামাজিক উৎসব-পার্বণে সবার বাড়িতে যাওয়া ছিল অনিবার্য এক ঘটনা। গ্রামের এ চিত্রের কিছুটা অভাব থাকলেও পাড়া-সংস্কৃতির মানবিক বন্ধনেই ছিল শহুরে জীবনের মূল সমাজ। বহুতল অট্টালিকায় চাপা পড়ে গেল যেন আমাদের অতীত সংস্কৃতি-সামাজিকতা। সামষ্টিক সামাজিকতার বলয় যেন একটু একটু করে খসে পড়ল আমাদের চোখের সামনেই। একেবারে যেন ঘুরে গেল সামাজিক জীবনের ধারা। এ নির্মম ব্যবস্থা শুধু পাড়া-সংস্কৃতিই নির্মূল করেছে তা নয়, এটি নির্মূল করেছে পরিজনদের মধ্যকার সম্পর্ক-সম্প্রীতিকেও। সমাজ থেকে একে একে বিদায় নিয়েছে খেলাধুলা, নাটকচর্চা, কবিতা আবৃত্তির আসর, যাত্রা, পুতুলনাচ, কবিগান, জারিগান, নৌকাবাইচ, ফুটবল-ক্রিকেট- সবকিছু। সিনেমা হলগুলোও এখন গুদাম, মার্কেট, গ্যারেজে রূপান্তরিত হয়েছে।

কীভাবে হল এত সবকিছু? অনেকে হয়তো বুঝতেই পারেনি এ বিশাল পরিবর্তন কখন-কীভাবে ঘটে গেছে। সবার নিশ্চয়ই মনে আছে- বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর মতিউর রহমান নিজামী প্রথমে কৃষিমন্ত্রী এবং পরে শিল্পমন্ত্রী ছিলেন। একই সময়ে জামায়াতে ইসলামীর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। জামায়াতে ইসলামী বেছে বেছে সেই মন্ত্রণালয় নিয়েছিল, যেগুলোতে সামাজিক মানুষের কাছে যাওয়ার এবং গ্রামের মানুষ ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাছে যাওয়ার সুযোগ ছিল। এছাড়া ধর্মের আড়ালে বাঙালি সংস্কৃতিবিরোধী কর্মকাণ্ড তো তাদের ছিলই। সব মিলিয়ে এসব লোক বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে মিথ্যা কুৎসা রটনা ছড়াতে ছড়াতে একসময় কিছু ধর্মপ্রাণ মানুষকে তাদের পথে নিয়ে গিয়েছিল। পরিবর্তিত এসব মানুষ মনে করেছিল, তারা বুঝি ধর্মের পথেই যাচ্ছে; কিন্তু তারা কখন যে ধর্মের পথে চলতে চলতে আবহমান বাংলার চিরচেনা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে চলে গেছে, তা তারা বোধহয় টেরই পায়নি। যখন তা বুঝল, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাদের সবচেয়ে বড় টার্গেট ছিল পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান। বাঙালিদের নববর্ষ যেন তারা মেনে নিতেই পারেনি। পহেলা বৈশাখ যে বছরের প্রথম দিন এটা তারা মেনে নিতে পারেনি। তাই পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠানকেই তারা আখ্যা দিয়ে দিল হিন্দুদের অনুষ্ঠান বলে। বাঙালির দীর্ঘদিনের লোকজ উৎসবের সৌন্দর্যকে ধর্মের নামে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তারা বিভ্রান্ত করে যাচ্ছে সরলমতি মানুষদের। এখন পহেলা বৈশাখ পালন করার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তার বলয় পার হয়ে যেতে হয়। নিরাপত্তার কারণে আজ বাঙালি তার ইচ্ছামতো যতক্ষণ খুশি নিজস্ব উৎসব পালন করতে পারছে না, সাজগোজ করতে পারছে না, গান গাইতে পারছে না, নাচ করতে পারছে না, বাঁশি-বেহালা বাজাতে পারছে না, ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারছে না। কী কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে তাহলে আমরা দিন যাপন করছি!

কেন এমনটা হয়ে গেল? একটি দেশের স্বকীয়তা বজায় রাখার জন্য উদারভাবে তার নিজস্ব সংস্কৃতি, কৃষ্টি, সাহিত্য, ইতিহাস- এ সবকিছুর চর্চা করার অধিকার থাকতে হয়। কারণ এসবের মাধ্যমেই তার চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। চেতনার থেকে বড় শক্তি আর কিছুই হতে পারে না। তাই আমি বিশ্বাস করি- অপশক্তি যতই চেষ্টা করুক, নিরাপত্তা যতই বেড়াজাল সৃষ্টি করুক, আমাদের চেতনাই একদিন আমাদের আবার সেই পুরনো স্বর্ণযুগে নিয়ে যাবে। আমি আশা করতে চাই- আবার আমরা হাসব, খেলব; একাকার হয়ে যাব আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির বলয়ে। যতই তারা ভয় দেখাক, জয় আমাদের নিশ্চিত।

মেজর (অব.) সুধীর সাহা : কলাম লেখক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×