আইনের আওতায় যেভাবে কমানো যায় করের বোঝা

  মোহাম্মদ ইমাম হোসেন ১৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেটের মাস জুন মাস। এই মাসে বাজেট পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাক্ট পাস হবে এবং এর মধ্য দিয়ে ২০১৯-২০২০ কর নির্ধারণী বছরের কর নির্ধারণ হবে। সব ধরনের কর প্রদানকারীরা এ সময় করের হার ও করের বোঝা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। কিভাবে করের বোঝা কমানো যায় সে বিষয়ে পরামর্শ পাওয়ার জন্য আগ্রহী থাকেন। আয়কর আইন অনুযায়ী, খুব সহজেই আইনের সীমার মধ্যে করের বোঝা কমানো সম্ভব। সহজভাবে বলতে গেলে, ২০১৮-২০১৯ আয় বছরের নিট করযোগ্য আয়ের সর্বোচ্চ ২৫% এই ৩০ জুনের মধ্যে নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগ করলে একজন করদাতা সর্বোচ্চ ১৫% পর্যন্ত কর অব্যাহতি বা ট্যাক্স রিবেট পেতে পারেন।

আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ধারা ৪৪-এর উপধারা (২)-এর বিদ্যমান দফা (বি) ও ৬ষ্ঠ তফসিল অনুযায়ী একজন করদাতার বিনিয়োগ ও দানের সম্ভাব্য খাতগুলো নিরূপণ করা হয়। আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী একজন করদাতার বিনিয়োগের খাতগুলো হচ্ছে- ক. জীবন বীমার প্রিমিয়াম; খ. সরকারি কর্মকর্তার প্রভিডেন্ট ফান্ডে চাঁদা; গ. স্বীকৃত ভবিষ্যৎ তহবিলে নিয়োগকর্তা ও করদাতার চাঁদা; ঘ. কল্যাণ তহবিল ও গোষ্ঠী বীমা তহবিলে চাঁদা; ঙ. সুপার এনুয়েশন ফান্ডে প্রদত্ত চাঁদা; চ. যে কোনো তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডিপোজিট পেনশন স্কিমে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা বিনিয়োগ; ছ. সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে বিনিয়োগ; জ. বাংলাদেশের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, স্টক, মিউচ্যুয়াল ফান্ড বা ডিবেঞ্চারে বিনিযোগ; ঝ. বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ এবং ঞ. নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ক্রয়ে বিনিয়োগ।

এ ছাড়া আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী একজন করদাতার দানের খাতগুলো হচ্ছে- ক. জাতির জনকের স্মৃতি রক্ষার্থে নিয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে অনুদান; খ. জাকাত তহবিলে দান; গ. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত কোনো দাতব্য হাসপাতালে দান; ঘ. প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে স্থাপিত প্রতিষ্ঠানে দান; ঙ. মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রদত্ত দান; চ. আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কে দান; ছ. আহছানিয়া ক্যান্সার হাসপাতালে দান; জ. আইসিডিডিআর’বিতে প্রদত্ত দান; ঝ. সিআরপি, সাভারে প্রদত্ত দান; ঞ. সরকার কর্তৃক অনুমোদিত জনকল্যাণমূলক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দান; ট. এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলাদেশে দান; ঠ. ঢাকা আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে দান; এবং ড. মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে নিয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের কোনো প্রতিষ্ঠানে দান।

আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ধারা ৪৪-এর উপধারা (২)-এর বিদ্যমান দফা (বি) এবং দফা (সি) অনুযায়ী নিবাসী বা অনিবাসী বাংলাদেশি করদাতার বিনিয়োগজনিত আয়কর রেয়াতের পরিমাণ বা হার সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে যেমন- ক) মোট আয় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত, সে ক্ষেত্রে কর রেয়াতের পরিমাণ অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount)-এর ১৫%; খ) মোট আয় ১০ লাখ টাকার অধিক কিন্তু ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত, সে ক্ষেত্রে কর রেয়াতের পরিমাণ ১. অনুমোদনযোগ্য অঙ্কের প্রথম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ১৫%, ২. অনুমোদনযোগ্য অঙ্কের অবশিষ্ট অংশের ১২%; এবং মোট আয় ৩০ লাখ টাকার অধিক, সে ক্ষেত্রে কর রেয়াতের পরিমাণ ১. অনুমোদনযোগ্য অঙ্কের প্রথম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ১৫%; ২. অনুমোদনযোগ্য অঙ্কের পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ১২% এবং ৩. অনুমোদনযোগ্য অঙ্কের অবশিষ্ট অংশের ১০%।

আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী একজন করদাতার অসীম অংক বিনিয়োগ করে অসীম অংকের কর রেয়াত বা ট্যাক্স রিবেট পাওয়ার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে একজন করদাতা নির্দিষ্ট সীমার অধিক বিনিয়োগ করলেও উক্ত সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগসীমা পর্যন্ত কর রেয়াত বা ট্যাক্স রিবেট পাবেন। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ধারা ৪৪-এর উপধারা (২)-এর বিদ্যমান দফা (বি) এবং দফা (সি) অনুযায়ী নিবাসী বা অনিবাসী বাংলাদেশি করদাতার বিনিয়োগজনিত আয়কর রেয়াতের পরিমাণ বা হার, ৪৪-এর উপধারা (৩) অনুযায়ী সর্বোচ্চ অঙ্ক হবে- ১. ষষ্ঠ তফসিলের পার্ট বি-এর অনুচ্ছেদ ১৫ এবং এ অনুচ্ছেদ ব্যতীত অন্য সব অনুচ্ছেদে উল্লেখিত খাতে বিনিয়োগ/দানের অঙ্কের সমষ্টি; ২. ধারা ৪৪-এর উপধারা (৪) অনুযায়ী কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা হ্রাস করহারে করারোপযোগ্য আয় এবং ধারা ৮২সি-এর উপধারা (২)-এর দফা (এ)-এর আওতাভুক্ত ন্যূনতম কর সংশ্লিষ্ট কোনো উৎস হতে অর্জিত আয় ব্যতীত করদাতার অন্যান্য করযোগ্য আয়ের ২৫% এবং ৩. এক কোটি ৫০ লাখ টাকা- এ তিনটির মধ্যে যেটি কম, সে অঙ্ক। করদাতা কোনো কোম্পানি হলে সিএসআরের আওতায় বিনিয়োগে রেয়াত পেতে পারে, সে ক্ষেত্রে কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানি কর্তৃক বিনিয়োগকৃত প্রকৃত অর্থের বা খরচের ১০% হারে আয়কর রেয়াত পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোম্পানির মোট আয়ের সর্বোচ্চ ২০% বা ৮ কোটি টাকার মধ্যে যেটি কম সে পরিমাণ অংক বিনিয়োগ বা অনুদান প্রদান করতে পারবে।

মোহাম্মদ ইমাম হোসেন : সদস্য, ঢাকা ট্যাক্সেস বার এবং অ্যাডভোকেট; বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×