বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট হোক মহাকাশ গবেষণার অনুপ্রেরণা

  সালাহ্উদ্দিন নাগরী ২৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে বাংলাদেশ মহাকাশ জয় করেছে। ২০১৮ সালের ১১ মে রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-কে বহনকারী রকেট ফ্যালকন-৯ উৎক্ষেপণের মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যে মহাকাশে পৌঁছে দেয়।

নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী ৫৭তম দেশ হিসেবে তালিকায় যুক্ত হল বাংলাদেশ। জাতি হিসেবে বিষয়টি আমাদের জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি এর মধ্য দিয়ে স্যাটেলাইট টিভি, ইন্টারনেট সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় অগ্রগতি এবং মহাকাশ গবেষণার পথ সুগম হয়েছে।

১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ অগ্রযাত্রায় নতুন অধ্যায়ের সূত্রপাত হয়। ১৯৬৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিন নভোচারীর চন্দ্র জয় মহাকাশ অগ্রযাত্রায় ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করে। পরবর্তী সময়ে ওই ৩ নভোচারীর বাংলাদেশে আগমন বিজয়ের এ উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় সরকার কর্তৃক প্রাকৃতিক সম্পদ জরিপ, পরিবেশ, দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় মহাকাশ প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ইআরটিএস প্রোগ্রাম নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

১৯৮০ সালে বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) প্রতিষ্ঠা, ১৯৭৫ সালে স্থাপিত বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে উন্নত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় উত্তরণ, ২০০৮ সালে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি কর্তৃক কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাণ বিষয়ে কমিটি গঠন ও ২০০৯ সালে জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালায় কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্তি যেন মহাকাশ জয়ের পূর্ব প্রস্তুতি।

কৃত্রিম উপগ্রহের নকশা তৈরির জন্য ২০১২ সালের মার্চে প্রকল্পের মূল পরামর্শক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল’কে নিয়োগ দেয়া হয়। স্যাটেলাইট সিস্টেম কিনতে ফ্রান্সের কোম্পানি ‘থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস ও ২০১৫ সালে রাশিয়ার একটি কোম্পানির কাছ থেকে অরবিটাল স্লট কেনার জন্য বিটিআরসির আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন ও ২০১৭ সালে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি সংস্থা গঠন করা হয়।

কৃত্রিম উপগ্রহ পরিচালনার জন্য গাজীপুর ও বেতবুনিয়ার গ্রাউন্ড স্টেশন প্রস্তুত করা হয়। তাছাড়া ইন্দোনোশিয়া ও ফিলিপাইনে দুটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। ৩ হাজার ৫০০ কেজি ওজনের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর অবস্থান ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমার কক্ষপথে। এর কাভারেজ এরিয়া ইন্দোনেশিয়া থেকে তাজিকিস্তান পর্র্যন্ত বিস্তৃত।

এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের পার্বত্য, হাওর ও প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট সুবিধা, ব্যাংকিং সেবা, টেলিমেডিসিন ও দূরনিয়ন্ত্রিত শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা যাবে। বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়লে এর মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় যোগাযোগ চালু রাখা ও অপটিক্যাল ক্যাবল বা সাবমেরিন ক্যাবলের সুবিধাহীন এলাকায় ইন্টারনেট সেবা প্রদান সম্ভব হবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশি টিভি চ্যানেলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। ৪০টি ট্রান্সপন্ডার সক্ষমতাসম্পন্ন এ স্যাটেলাইটের ২০টি ব্যবহৃত হবে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে এবং বাকি ২০টি অন্য রাষ্ট্রের কাছে ভাড়া হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

আমরা জানি মহাকাশ নিয়ে কৌতূহল ও গবেষণা একেবারে হাল আমলের নয়। জ্যোতির্বিজ্ঞান পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো প্রাকৃতিক বিজ্ঞান। প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই এর সঙ্গে ধর্মীয়, পৌরাণিক ও মহাজাগতিক বিশ্বাস এবং আচার-অনুষ্ঠান জড়িয়ে আছে। প্রাচীন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গ্রহ ও নক্ষত্রের পার্থক্য বুঝতে পারতেন।

পাশ্চাত্য জ্যোতির্বিজ্ঞানের উৎস পাওয়া যায় টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী মেসোপটেমীয় এলাকায়। এখানেই সুমেরীয়, আসারীয় ও ব্যবিলনীয় রাজত্ব ও সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল।

গ্রিক ও হেলেনেস্টিক সভ্যতায় জ্যোতির্বিজ্ঞানের উচ্চমার্গীয় অগ্রগতি সাধিত হয়, তখন এটি অঙ্কশাস্ত্রের শাখা হিসেবে বিবেচিত হতো। ভারত উপমহাদেশের সিন্ধু উপত্যকায় খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ সালের দিকে পঞ্জিকা ব্যবহৃত হতো। বিখ্যাত ভারতীয় বিজ্ঞানী আর্যভট্ট (৪৭৬-৫৫০) চন্দ্র-সূর্য গ্রহণ, চন্দ্রের গতি, জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিভিন্ন ধ্রুবক নির্ণয়ে অবদান রেখেছেন।

৫০০ সালের দিকে রোমান সাম্রাজ্যের পতন থেকে ১৬ শতকে ইউরোপের রেনেসাঁ পর্যন্ত সময়টিকে ‘অন্ধকার যুগ’ আখ্যায়িত করে আধুনিক বিশ্বসমাজ এ সময়টিকে পাশ কাটিয়ে যেতে চায়।

কিন্তু এ মধ্যযুগে জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতিতে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল। যেটাকে ইসলামের স্বর্ণযুগ বলা হয়। এ সময় মুসলমান স্কলার, বিজ্ঞানীরা মহাকাশ গবেষণায় অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছিল, যার সব হয়তো আমরা জানিই না।

আসুন সেগুলোতে একবার চোখ বুলিয়ে দেখি : আন্দালুসিয়ার (স্পেন) বিখ্যাত চিকিৎসক, রসায়নবিদ, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক আব্বাস ইবনে ফিরনাস (৮১০-৮৭৭) পুরো শরীর পালকে আচ্ছাদিত করে হাতের সঙ্গে দুটি কৃত্রিম পাখা লাগিয়ে শহরের মসজিদের সবচেয়ে উঁচু মিনার থেকে লাফিয়ে পাখির মতো ভেসে বেড়াতে চেয়েছিলেন।

পৃথিবীর প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আকাশে উড়ার অদম্য বাসনা নিয়ে জাম্প দেয়ার স্বীকৃতি হিসেবে চাঁদের একটি গহ্বর (Crater), বাগদাদের একটি এয়ারপোর্ট ও স্পেনের কর্ডোবায় গুয়াদালকিউভির নদীর একটি ব্রিজ তার নামে রাখা হয়েছে।

মহাপবিত্র গ্রন্থ আল-কোরআনে চন্দ্র-সূর্য, অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্র ও এদের ঘূর্ণন, শূন্য থেকে সবকিছু সৃষ্টি ইত্যাদি উল্লেখসহ মহাকাশকে জানা ও গবেষণার জন্য অসংখ্যবার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

১০ নং সুরা ইউনুস-এর ৫ নং আয়াতে বলা হচ্ছে- তিনি সূর্যকে করেছেন তেজোদীপ্ত, আর চন্দ্রকে করেছেন আলোকময় আর তার ( হ্রাস-বৃদ্ধির) মনজিলগুলো সঠিকভাবে নির্ধারণ করেছেন যাতে তোমরা বছর গুনে (সময়ের) হিসাব রাখতে পার।

আল্লাহ এটা অনর্থক সৃষ্টি করেননি। তিনি নিদর্শনগুলোকে বিশদভাবে বর্ণনা করেন জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য। একই সুরার ৬ নং আয়াতে বলা হচ্ছে নিশ্চয়ই রাত ও দিনের আবর্তনে, আর আকাশমণ্ডলীর ও পৃথিবীর মাঝে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তাতে মুত্তাকি সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় ও পৃথিবীর দেশে দেশে কেবলা নির্ধারণ, মাস-দিন-বছর গণনা, সমুদ্র যাত্রা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে ভূগোল, মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা মুসলমানদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

তারই ফলশ্রুতিতে মধ্যযুগে, বিশেষত ৯ থেকে ১৩ শতক পর্র্যন্ত ইসলামের স্বর্ণযুগে অ্যাস্ট্রোনমির ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়। এ ব্যাপারে Encyclopedia Britannica বলছে : In the early Middle Ages the leading language of astronomical learning was Arabic, as Greek had Been before. Astronomers in Islamic lands mastered what the Greeks had accomplished and soon added to it. The European astronomers drwe first on Greek astronomy, as translated from Arabic.

আমাদের নক্ষত্র পল্লীর সবচেয়ে নিকটবর্তী ও বড় নক্ষত্র পল্লী Andromeda Nebula সম্পর্কে বলা হচ্ছে It was mentioned as early as 965 CE in the Book of Fixed Stars by the Islamic astronomer al-Sufi, and rediscovered in 1612, shortly after the invention of Telescope. অর্থাৎ টেলিস্কোপ আবিষ্কারের প্রায় ৭শ’ বছর পূর্বেই বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী আল সুফি অ্যানড্রোমেডা গ্যালাক্সি সম্পর্কে তার বইয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করে গেছেন।

একই মহাকোষ আরও বলছে : Ptolemy's Almagest was translated on at least four occasions into Arabic. Much of the translation activity centered on the Baghdad Caliph at of the Abbasid (750-1258). With the pure geometrical form of Greek planetary theory nwo available. Arabic astronomers worked to master it and then to improve upon it.

মহাশূন্যের আধুনিক গবেষণার সূচনাকারী ও প্রাণপুরুষ প্রখ্যাত বৈজ্ঞানিক নিকোলাস কপারনিকাস সম্পর্কে Encyclopedia Britannica বলছে : In the 16th century Nicolaus Copernicus used models identical to those of Ibn Al Shatter and the Maragheh school. How he come by them is unknown. দুর্ভাগ্য, সেই ইবনে শাতির নামটি বিজ্ঞানমনস্ক গবেষণাকারীরা তাদের লেখনীতে আনেনই না।

মহাকাশ গবেষণায় মানমন্দিরের (অবজারভেটরি) গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের দেশও মহাকাশ যাত্রায় শামিল হয়েছে, তৎপ্রেক্ষিতে, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা ও ২৩.৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশের ছেদ বিন্দুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানমন্দির স্থাপনের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা আমাদের মহাকাশ গবেষণাকে ত্বরান্বিত করবে।

মধ্যযুগেও মুসলিম দেশগুলোতে মহাকাশ চর্চায় মানমন্দির অভূতপূর্ব অবদান রেখেছিল। যে মানমন্দির যত বেশি সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন হতো, সেখানে গবেষণা এবং পর্যবেক্ষণও তত উন্নত মানের হতো।

এ ব্যাপারে Encyclopedia Britannica বলছে : The true predecessors of the modern observatory were those established in the Islamic World. Observatories were built at Damascus and Baghdad as early as the 9th-10th century. A splendid one was built at maragheh (nwo in Iran) about 1260 CE, and substantial modifications in Ptolemaic astronomy were introduced there.

পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইসলামিক অ্যাস্ট্রোনমির প্রায় ১০ হাজার পাণ্ডুলিপি অধিকাংশই এখনও পড়া ও তালিকাভুক্তই করা হয়নি। এ বিষয়ে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর এগিয়ে আসা দরকার।

হয়তো ওইসব পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যেতে পারে মহাকাশের অনেক অজানা রহস্যের উৎস। মহাকাশ গবেষণা ও কার্যক্রমে ভারত, চীন এবং মধ্যযুগে সমগ্র আরব বিশ্ব অভূতপূর্ব সাফল্য প্রদর্শন করেছিল।

মহাকাশ গবেষণায় মুসলমানদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৬৫টি নক্ষত্র ও চাঁদের ২৫টি গহ্বর তাদের নামে নামকরণ করা হয়েছে। ইসলামের স্বর্ণযুগে রচিত বিভিন্ন ট্রিটি, পাণ্ডুলিপি ও বইপুস্তকের ওপর ভর করে আধুনিক ইউরোপ ও আমেরিকায় মহাশূন্য গবেষণার সূত্রপাত।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সম্পর্কে প্রণিধানযোগ্য বিষয়গুলো হল : আমাদের এ স্যাটেলাইট তৈরি করেছে ফ্রান্সের অ্যালেনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটি। ভূমি ও মহাকাশে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ভূস্তরে দুটি স্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব এ প্রতিষ্ঠানটির।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মার্কিন রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এ স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করে। স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’নিয়ে উড়ে যায় রকেট ‘ফ্যালকন-৯’।

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও তা কক্ষপথে রাখার জন্য রাশিয়ার ইন্টার স্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনা হয়। ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে ১৫ বছরের জন্য এ কক্ষপথ কেনা হয়।

প্রথম ৩ বছর থ্যালাস অ্যালেনিয়ার সহায়তায় এটির দেখভাল করবে বাংলাদেশ। এ কৃত্রিম উপগ্রহের মালিক হওয়া থেকে শুরু করে মহাকাশে প্রেরণের সব ধরনের আয়োজন দেশের বাইরে সম্পন্ন হয়েছে।

মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ আমাদের দৃষ্টিসীমাকে প্রসারিত ও মহাকাশ গবেষণায় তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাদের মধ্যে নব উদ্যমের যে সূচনা ঘটেছে সেটাকে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের দেশে মহাকাশ নিয়ে লেখাপড়ার সুযোগ এখনও সৃষ্টি করা যায়নি।

অনেক ছাত্রছাত্রী মহাকাশ সম্পর্কে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী। সবার পক্ষে দেশের বাইরে লেখাপড়া করা সম্ভব নয়। তাই আমাদের বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মহাকাশ গবেষণার বিষয়টি চালু করা যেতে পারে।

মহাকাশে আমাদের উপস্থিতি আরও সুদৃঢ় করতে নিজেদের বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, গবেষণা কেন্দ্র, স্পেস সেন্টার, মহাকাশ যান তৈরির উদ্যোগ এখনই শুরু করতে হবে। আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও মহাকাশ গবেষণার অতীত নজির আছে।

অবশ্যই আমাদের ভূ-ভাগ আবারও মহাকাশ গবেষণার অন্যতম অঞ্চলে পরিণত হতে পারবে। সেদিনটি অতি নিকটে না হলেও হয়তো খুব একটা দূরে নয়। প্রবাদ আছে- A thousand miles journey starts with a single step. আমরাও হাঁটিহাঁটি পা-পা করে একদিন হয়তো পৌঁছে যাব সেই কাক্সিক্ষত গন্তব্যে।

সালাহ্উদ্দিন নাগরী : সরকারি চাকরিজীবী

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×