নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি

ব্যাংকিং খাত নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে

  ড. আর এম দেবনাথ ২২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ব্যাংক

‘ব্যাংকিং কমিশন’ গঠনের ‘আশ্বাস’ দিয়ে নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এই খাতের ওপর যেসব যুগান্তকরী পদক্ষেপ নিয়েছেন তার ফলাফল কী হতে পারে? দ্বিতীয়ত বিশ্বায়ন ও বাজার অর্থনীতির এই যুগে এমন সাহস তিনি কোথায় পেলেন যে, এত সব ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিলেন? তবে কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য সংঘাত, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বায়ন ও বাজার অর্থনীতিবিরোধী অবস্থানই অর্থমন্ত্রীকে সাহস জুগিয়েছে? প্রথমেই দেখা যাক ব্যাংকিং খাতের মূল সমস্যা খেলাপি ঋণের ওপর তিনি কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। পুনঃতফসিল সুবিধা হবে ১০ বছরের জন্য। ‘ডাউন পেমেন্ট’ দিতে হবে মাত্র ২ শতাংশ। ‘গ্রেইস পিরিয়ড’ এক বছরের। অনারোপিত সুদ ও ইন্টারেস্ট সাসপেন্সের টাকা পুরোপুরি মওকুফ। সুদ মওকুফের পর ঋণের ওপর সুদের হার ‘কস্ট অব ফান্ড প্লাস’ ৩ শতাংশ। কিন্তু তা ৯ শতাংশের বেশি হবে না। বড় কথা পুনঃতফসিলের পর গ্রাহকরা নতুনভাবে ঋণ পাবেন। স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত খেলাপিরা এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। অধিকন্তু করা হচ্ছে গ্রাহকদের বিদায়ের ব্যবস্থা। এর জন্য আইন করতে হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ হবে ৮১-৮২ হাজার কোটি টাকা।

বলা বাহুল্য এসব খুবই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত। বলা যায় ব্যবসায়ী শিল্পপতিরা যা চেয়েছিলেন তার চেয়ে বেশিই পেয়েছেন। ‘মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি’। কেউ কেউ বলছেন এসব সিদ্ধান্তে খেলাপি সংস্কৃতি উৎসাহিত হবে।

আবার কেউ কেউ বলছেন এতে ব্যাংকিং খাতের জমাকৃত ‘আবর্জনা’ দূর হবে। বড় বড় ব্যবসা ও শিল্প প্রাণ ফিরে পাবে। এতদিন ঋণ পুনঃতফসিলের সাধারণ কতগুলো সুবিধা ছিল। নানা কঠোর শর্ত মেনে ব্যাংক পুনঃতফসিল করতে পারত দুই-এক বছরের জন্য। সুদের হার পরিবর্তিত হতো না। সুদের কিছু অংশ মাফ হতো।

একবার-দুইবার-তিনবার অবস্থা ভেদে ঋণ পুনঃতফসিল হতো। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। অনেকেই চারবার, পাঁচবার, সাত-আটবারও পুনঃতফসিল করিয়ে নিতেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ইচ্ছা-অনিচ্ছায় তা করে দিত। অভিজ্ঞতায় দেখা গেল, এই সুবিধা ব্যবসায়ীদের কোনো কাজে আসছে না। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের কথা বলছি না। ব্যবসায়িক কারণে যারা খেলাপি, তাদের কাছে ওই সুবিধা কোনো সুবিধাই ছিল না। অবশ্য বড়দের অসুবিধা ছিল অনেক বেশি। দুই-এক বছরের পুনঃতফসিল সুবিধায় তারা কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না। অনেকেরই প্রয়োজনীয় ‘ক্যাশ জেনারেট’ হতো না। পুনঃতফসিলের সাধারণ সুবিধাটি অকেজো হয়ে যায় অতি ব্যবহারের কারণে। বড়দের জন্য করা হয় ঋণ পুনঃকাঠামোকরণ সুবিধা।

দেখা গেল এতেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। কেউ কেউ টাকা অন্যত্র ‘ডাইভার্ট’ করেছেন, কেউ কেউ জমি কিনেছেন, কেউ কেউ শিল্পের ‘ক্যাপাসিটি’ বেশি করে ফেলেছেন। সব মিলিয়ে তারা ব্যবসা করে বিপুল কিস্তির টাকা দিতে পারছিলেন না। অর্থাৎ পুনঃতফসিলের ব্যবস্থাটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। অথচ ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখা দরকার। আমদানি-রফতানি চালু থাকা দরকার। কারণ এর সঙ্গে কর্মসংস্থানের বিষয়টি জড়িত। এমতাবস্থায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় সবাই। আবেগতাড়িত যারা হয়েছেন তারা খেলাপিদের বিচার চান। এদের দেশের ‘শত্রু’ মনে করেন তারা। আবার যারা বাস্তবতা মানেন তাদের বিবেচনা আলাদা। অর্থনীতিতে এখন নতুন নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যবসা-শিল্প চালু রাখতে হলে কী করণীয়? সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

আমার ধারণা, বর্ণিত এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য অর্থমন্ত্রী বিদ্যমান বিশ্ব পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছেন। মুরুব্বি দেশগুলোর আগের মতো অবস্থা থাকলে অর্থমন্ত্রী এরকম ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না, বিশেষ করে বিরূপ জনমতের আশঙ্কা থেকে। জনমতের কথা বাদ দিলেও নীতিগত কথা আছে। আমরা বিশ্বায়নের নীতি মেনে কাজ করছি। বাজার অর্থনীতির অন্ধ সমর্থক আমরা। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যা চায় তা চাওয়ার আগেই আমরা তা কার্যকর করছি। ‘মানি লন্ডারিং প্রিভেনশন আইন’ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করছি, যখন পৃথিবীর বহু দেশ ‘কালো টাকা’কে সাদরে গ্রহণ করছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাতকে কী করে সরকার বাজার অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে? সুদের হার ঠিক করবে বাজার। সার্ভিস চার্জ ঠিক করবে বাজার। ব্যাংকার-কাস্টমার সম্পর্কের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে। এমতাবস্থায় কী করে বলা হয় যে সুদনীতি হবে ‘নয়ছয়’ পদ্ধতিতে। সরকার তা ঠিক করে দিচ্ছে। ব্যাংক, অনেক ব্যাংক তা মানতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী এসব সমস্যার মধ্যেই দেখতে পেরেছেন যারা ‘বাজার অর্থনীতির’ নেতা তারাই বাজার অর্থনীতি মানে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের আমদানির ওপর শুল্ক বসাচ্ছে। চীন-ভারত এতে ক্ষতিগ্রস্ত।

খোলা সীমান্তকে তারা বন্ধ করে দিচ্ছে। বিশ্ব জলবায়ু ফান্ড থেকে তারা বেরিয়ে গেছে। বহুজাতিক ব্যবসায়িক চুক্তি থেকে তারা বেরিয়ে যাচ্ছে। এটা নতুন বিশ্ব বাণিজ্য ও আর্থিক পরিস্থিতি। এতদিন চলেছে একটা নীতিতে। কী সেই নীতি? সারা বিশ্বে ‘এক নীতি’ চলবে। ব্যাংক-বীমা ব্যবসা, পরিবহন ব্যবসা, আমদানি-রফতানি ব্যবসা, বিনিয়োগ ইত্যাদির জন্য হবে ‘এক নীতি’।

দেশের বিবেচনা এখানে নেই। ঋণের কী অবস্থা হলে তা খেলাপি হবে, খেলাপি হলে ‘প্রভিশন’ কীভাবে রাখা হবে, পর্যাপ্ত পুঁজি কীভাবে রক্ষিত হবে, জামানতের মূল্যায়ন কীভাবে হবে, কোন সম্পদের মূল্য কী হবে- ইত্যাদি সবই এক নীতিতে চলবে। অথচ বিভিন্ন দেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন স্তরে আছে।

শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমাজ, সঞ্চয়-বিনিয়োগ ইত্যাদি একেক দেশে একেক রকম। এর কোনো মূল্য ছিল না। নীরবে অনেকেই এসব সহ্য করছিলেন। দেখা গেল ২০০৮-০৯ সালের আর্থিক সঙ্কটের পর চীন তার অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখার জন্য সরকারি ব্যাংক থেকে ছোট-মাঝারি-বড় ব্যবসাকে ‘ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন’ (লক্ষ কোটি) ডলার ঋণ দিয়েছে। এতে অর্থনীতি সুফল পেয়েছে। কিন্তু এখন চীনের ব্যাংকিং খাত প্রশ্নের সম্মুখীন।

ভারতে ‘নন-পারফরমিং অ্যাসেট’ ১১-১২ শতাংশ যা আমাদের কাছাকাছি। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে ভারতীয় ব্যাংক কাজ করে এখন পড়েছে মহাবিপদে। ‘রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া’র বিধিনিষেধের ফলে দুই বছর যাবত ছোট ও মাঝারি গ্রাহকরা কোনো ঋণ পাচ্ছে না। বড় গ্রাহকদের অনেকেই হয়েছে দেউলিয়া। নতুন আইন করে বকেয়া টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে তারা। বহু ধনী লোক ভারত ছেড়ে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু আর্থিক খাতের কোনো সুদিন ফিরছে না। এমতাবস্থায় পৃথিবীর সব দেশে ‘এক ব্যাংকিং নীতির’ বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হচ্ছে। ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা’র (ডব্লিউটিও) নিয়মাবলীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন স্বয়ং ট্রাম্প।

তার সাফ কথা, বাজার অর্থনীতির সুযোগ নিয়ে চীন-ভারতের মতো দেশগুলো ফায়দা লুটছে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পড়ছে পেছনে। শ্বেতাঙ্গদের চাকরি নেই। এমন প্রচার করে তিনি বেশ জনপ্রিয়। অথচ তার বিরুদ্ধে মিডিয়া, মার্কিনি অনেক মানুষ। কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্য মার্কিনিদের বড় একটা অংশ মেনে নিচ্ছে। বাজার অর্থনীতির কিছু দিক অবশ্যই পুনঃবিবেচনা করা উচিত। যেমন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কার্যকর নীতিগুলো। মার্কিনিদের ব্যাংকিং ব্যবস্থা, আর আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থা এক নয়। তাদের কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেই। আমানত গ্রহণের জন্য রয়েছে ছোট ব্যাংক।

উন্নত বিশ্বের বড় বড় ব্যাংকগুলো আমানত গ্রহণের চেয়ে অন্য ব্যবসা করে বেশি। তারা ঋণ নেয়, বিনিয়োগ করে, মার্জার-এমালগেমেশন তদারকি করে। আর আমাদের ব্যাংকগুলো ‘আমানত’ নেয় এবং এর বিপরীতে ঋণ দেয়। আমাদের সাধারণ মানুষ সঞ্চয়ী। আমাদের পরিবার আছে। এটা প্রচারকৃত ‘দাদা-দাদি’ বাদ দেয়া পরিবার নয়। ‘বাবা-মা’, দাদা-দাদি, ভাইবোন, এমনকি বিধবা আত্মীয়-স্বজন নিয়ে আমাদের পরিবার। মার্কিনিরা পরিবার ধ্বংস করেছে। রাষ্ট্র নিয়ে নিয়েছে সব দায়িত্ব। বাবা-মা, ছেলেমেয়ে সব আলাদা। সবই চুক্তির অধীন। পিতৃহীন সমাজে পরিণত হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো। সেখানে ব্যক্তির স্বাধীনতা চূড়ান্ত। সামাজিক দায়িত্ব নেই। আমাদের সমাজে সামাজিক দায়িত্ব, পারিবারিক দায়িত্ব অপরিসীম। সঞ্চয় সেখানে বড় ভূমিকা পালন করে।

মানুষ আবার টাকা নিয়ে শেয়ারবাজারে যেতে চায় না। এত বিরূপ সমালোচনার পরেও মানুষ ব্যাংকেই যায় ‘আমানত’ রাখতে। তাই আমরা ‘ব্যাংক ফিন্যান্স লেড’ উন্নতির পথেই হাঁটছি যদিও নতুন অর্থমন্ত্রী চান ব্যবসায়ীরা শেয়ারবাজারে যান। কিন্তু শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থা দেখে সেটি হওয়ার লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা ‘লোনের’ জন্য ব্যাংকে যাচ্ছেন।

ব্যাংকে পর্যাপ্ত টাকা নেই বলে নানারকম প্রশ্ন তুলছেন। বলা বাহুল্য আজকের যে উন্নতি দেখা যাচ্ছে তা ব্যাংকেরই অবদান। এখানে ভালো গ্রাহক খারাপ গ্রাহক সবই আছে। ভালোটাকে ভালো বলা উচিত, খারাপকে খারাপ। এটা সত্যি কথা ‘ব্যাংক ফিন্যান্স লেড গ্রোথের’ অন্যতম ফসল খেলাপি ঋণ। অথচ আমাদের বিকল্প কী ছিল? পুঁজি কোথায়? মর্টগেজ দেয়ার মতো সম্পত্তি কোথায় ছিল আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগে। এই সুযোগেই ব্যাংক এসেছে শিল্পায়নে। মানুষের সঞ্চয় এতে উৎসাহ জুগিয়েছে। আমাদের ‘আমানত’ আগের মতো নেই। আগে তলবি আমানত ছিল ৮০-৯০ শতাংশ। এখন ‘মেয়াদি আমানত’ ৮০-৯০ শতাংশ। মানুষ ব্যাংকে টাকা জমায়, তুলে না। এ কারণেই ব্যাংক নিয়েছে মেয়াদি ঋণে।

মর্টগেজ দেয়ার ক্ষমতা নেই, বড় গ্রাহকদের জন্য ব্যাংক তাই কর্পোরেট গ্যারান্টি; ‘পার্সোনাল গ্যারান্টির’ ব্যবস্থা করেছে। এখন এসবকে ভুল বলা যায়। কিন্তু পুঁজির অনুপস্থিতিতে, উদ্যোক্তার অনুপস্থিতিতে, মর্টগেজ দেয়ার মতো প্রোপার্টির অনুপস্থিতিতে ব্যাংকের কাছে আর কী বিকল্প ছিল? এসব সমস্যা ইউরোপীয় দেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোর নেই। এমন কী এসব সমস্যা ভারত ও চীনেরও নেই। এখন অজানা একটা পথে চলতে গিয়ে বহু ভুল হয়েছে। অপাত্রেও টাকা গেছে, পাত্রেও টাকা গেছে।

৪৭-৪৮ বছর পর এখন দেখা যাচ্ছে মিল-ফ্যাক্টরি আছে, আমদানি-রফতানি আছে, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ আছে রেমিটেন্স আছে- কিন্তু ব্যাংকগুলোর অবস্থা ভালো নয়। করণীয় কী? এ ব্যাপারে বুদ্ধি দেয়ার মতো ক্ষমতা আমার নেই। তবে বিশ্বে একটা বড় পরিবর্তন সূচিত হতে যাচ্ছে বলে আমার ধারণা। এশিয়া অর্থনীতি ও ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে।

২০০-২৫০ বছর আগের মতো চীন ও ভারত সম্মিলিতভাবে বিশ্ব জিডিপির ৫০-৬০ শতাংশের মালিক আবার হতে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় অর্থনীতি ও ব্যাংকিংয়ে পশ্চিমাদের অন্ধ অনুকরণ না করে এশীয় মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনা দরকার। আমাদের এই অঞ্চলে ‘গ্রাহক-মহাজন’ একটা নিবিড় সম্পর্ক ছিল। গ্রাহক বিপদে পড়লে মহাজন ঝাঁপিয়ে পড়ত সাহায্য করতে। ওই নীতি ফিরিয়ে আনা দরকার। ইচ্ছাকৃত খেলাপি যারা তাদের কথা ভিন্ন। মিউনিসিপ্যালিটির ট্যাক্স না দিলে যা করা হয় ইচ্ছাকৃত খেলাপির বিরুদ্ধে তাই করা উচিত। বাকি ক্ষেত্রে আবেগের বশবর্তী না হয়ে বাস্তবতা মেনে নেয়া দরকার।

এক্ষেত্রে ‘হলমার্ক’-এর কথা উল্লেখ করা যায়। এই গ্রুপের মালিক জেলে, কিন্তু কোনো টাকা আদায় হয়নি, কারখানাও বন্ধ। আবেগের জয় হল, কিন্তু ব্যাংকের টাকা ফেরত এলো না। কাজেই কোন নীতি অনুসরণ করা হবে, তা এখনই নির্ধারণ করতে হবে। নির্মোহভাবে।

বিশেষ করে এখন উন্নত দেশগুলোর নেতারা যখন বলছেন ‘একনীতি সব দেশ’ এটা বাস্তবসম্মত নয়। একেক দেশ তার সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য মেনে ব্যবস্থা নেবে। অতএব এখন ভাবার সময়। সাপ মরবে, লাঠিও ঠিক থাকবে। আরেকটি উদাহরণ দিয়ে শেষ করব। ২০০৮-০৯ এর আর্থিক সংকটের সময় ‘বাজার অর্থনীতির’ নেতা দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্যাংকগুলোকে বাঁচানোর জন্য ‘ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন’ ডলার সাহায্য দিয়েছিল। এসবই কিন্তু বাজার অর্থনীতিবিরোধী পদক্ষেপ। বাঁচার জন্য, স্থিতিশীলতার জন্য অনেক সময় নীতিগত অবস্থানও ত্যাগ করা যায়।

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক, সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×