সংখ্যালঘু নেত্রীর ভয়ংকর অভিযোগ

  এ কে এম শামসুদ্দিন ২৩ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ
ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ। ফাইল ছবি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও লিংকে দেখা গেছে, একজন মহিলা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন বলে পরিচয় দিয়ে চরম মুসলিমবিদ্বেষী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান গুম হয়ে গেছে বলে এক ভয়ংকর অভিযোগ করছেন।

ভদ্রমহিলা নির্দ্বিধায় বাংলাদেশবিরোধী আরও কতগুলো অভিযোগ করেন যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বদৌলতে ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রচার হয়ে গেছে। অভিযোগকারী মহিলার পরিচয় জানা যায়, তিনি ‘বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’-এর একজন প্রভাবশালী নেত্রী, নাম প্রিয়া সাহা।

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ছাড়াও তিনি বেশ কয়েকটি সংখ্যালঘু সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি ‘শাড়ি’ নামক একটি এনজিও পরিচালনা করেন। কথিত সংখ্যালঘু নেত্রী প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন বলে নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে ৩৭ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান গুম হয়ে গেছে।

আমরা দেশেই থাকতে চাই। এখনও সেখানে ১৮ মিলিয়ন (১ কোটি ৮০ লাখ) সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বাস করছে। আমার অনুরোধ দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু থাকার জন্য সাহায্য করুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি, তারা আমার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে, আমার জমি দখল করেছে; কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।’ প্রিয়া সাহার অভিযোগ শুনে ট্রাম্প জানতে চান কারা তার বাড়ি ও জমি দখল করে নিয়েছে। উত্তরে তিনি বলেন, ‘মৌলবাদী মুসলিমরা, এরা (মৌলবাদী মুসলিম) সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে থাকে।’

১৬ জুলাই মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর আয়োজিত ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ওভাল অফিসে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ১৯ দেশের ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে প্রিয়া সাহা বাংলাদেশ থেকে গিয়ে ওই অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

এ অনুষ্ঠানের খবর সম্প্রচার করে মার্কিন টিভি চ্যানেল এবিসি নেটওয়ার্কের চ্যানেল এবিসি ফোর ইউটাহ। এ চ্যানেলের মাধ্যমেই ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার বিভিন্ন দেশের ব্যক্তিদের বক্তব্য বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রিয়া সাহার বক্তব্যটি এবিসি চ্যানেল থেকে সংগ্রহ করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলে অনুমান করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রিয়া সাহার বিতর্কিত বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর ভারত এবং বাংলাদেশের মানুষের ভেতর প্রতিবাদ-পাল্টা প্রতিবাদ শুরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশিদের ভেতর প্রিয়া সাহার বক্তব্য মনঃক্ষুণ্ণের কারণ হয়েছে। তবে এ কথা সত্য, তার এ বক্তব্য বেশকিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

তার বক্তব্যের সারসংক্ষেপ যদি আমরা পর্যালোচনা করি তাহলে হয়তো এর কারণ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছুটা ধারণা করা যাবে। তার বক্তব্যের মূল কথা হল- ১. দেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু গুম হয়ে গেছে।

২. এখনও ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বাংলাদেশে বসবাস করছে। তারা সবাই বাংলাদেশে থাকতে চান। তারা যাতে বাংলাদেশে থাকতে পারেন সে জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য দরকার।

৩. প্রিয়া সাহার নিজ বাড়ি ও জমি মৌলবাদী মুসলিমরা দখল করে নিয়েছে এবং এসব মৌলবাদী মুসলিম সবসময় রাজনৈতিক প্রশ্রয় পেয়ে থাকেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ওভাল অফিসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রিয়া সাহার ‘যোগদান’ এবং সেখানে তার বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে তার উত্তর জানা দরকার।

প্রথমত, তার বক্তব্য অনুযায়ী ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ আদৌ কি গুম হয়েছে? যদি গুম হয়ে থাকে, তাহলে কে কে, কবে, কোথা থেকে এসব মানুষ গুম হয়েছে? প্রিয়া সাহার কাছে সে হিসাব এবং তালিকা কি আছে? তার বক্তব্য যদি সত্য বলে ধরে নিতে হয়, তাহলে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তার কাছে সে তালিকা চাওয়া উচিত।

আর যদি তার এ বক্তব্য মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয় তাহলে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে দেশের বিরুদ্ধে এমন ভয়ংকর অভিযোগের জন্য সংবিধানে উল্লিখিত বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কি গ্রহণ করা উচিত নয়? এ কথা সত্য, প্রিয়া সাহার এহেন বক্তব্য এবং উদ্যোগ বাংলাদেশ সরকার এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে ভূলুণ্ঠিত করেছে।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে এখনও যে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বসবাস করে, তাদের এ দেশে বসবাসের জন্য কি তিনি নিরাপদ মনে করছেন না? তারা যাতে সবাই বাংলাদেশে থাকতে পারেন সে জন্যই কি তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সাহায্য চেয়েছেন?

তার এ বক্তব্য যদি সত্য বলে ধরে নিতে হয়, তাহলে এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে কি, সংখ্যালঘু মানুষের নিরাপদে বসবাস করার জন্য বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর প্রিয়া সাহার বিন্দুমাত্র কোনো বিশ্বাস এবং আস্থা নেই?

আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে প্রিয়া সাহার সে বিশ্বাস এবং আস্থা নেই। তা না হলে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ধরণা দিতে যাবেন কেন?

তৃতীয়ত, প্রিয়া সাহার নিজ বাড়ি ও জমি মৌলবাদী মুসলিমরা দখল করে নিয়েছে। অনুমান করা যায়, তিনি তার বাড়ি ও জমি দখল করার ঘটনা উল্লেখ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পদ লুণ্ঠনের কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।

কারণ সংখ্যালঘু মানুষের গুম হয়ে যাওয়া এবং বর্তমানে সংখ্যালঘু সবার পক্ষে নিরাপদে বাংলাদেশে বসবাসের ব্যাপারে তিনি ট্রাম্পের সাহায্য কামনা করেছেন। যদিও প্রিয়া সাহার আদৌ কোনো বাড়ি কিংবা জমি অপদখল হয়েছে কি না আমার জানা নেই।

বাংলাদেশের অতীত ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করলে তার এ বক্তব্যের আংশিক সত্যতা অস্বীকার করা যায় না। অতীতে সংখ্যালঘুদের সম্পদ লুণ্ঠনের ঘটনা যে ঘটেছে এ কথা সত্য। সব রাজনৈতিক সরকারের আমলেই সংখ্যালঘুদের সম্পদ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান সরকারের আমলেও সিরাজগঞ্জ এবং গাইবান্ধার ঘটনা বেশ আলোচনার খোরাক জুগিয়েছিল। এখন প্রশ্ন হল, বাংলাদেশে এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনায় কি শুধু মৌলবাদী মুসলিমরাই জড়িত ছিল? ইতিহাস কিন্তু তা বলে না।

তাহলে প্রিয়া সাহা একজন ক্ষমতাধর মুসলিমবিদ্বেষী ট্রাম্পের কাছে শুধু মৌলবাদী মুসলিমদের কথা উল্লেখ করলেন কেন? এর পেছনে নিশ্চয়ই অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে? তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, এসব মুসলিম লুণ্ঠনকারীর বিরুদ্ধে তিনি বিচার চেয়ে বিচার পাননি।

এরা রাজনৈতিক প্রশ্রয় পেয়ে থাকে। যোগাযোগ মাধ্যমে এ পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তাহলে কি ধরে নিতে হবে যে, বর্তমান সরকার এসব লুটপাটকারী মুসলিম মৌলবাদীদের সহায়ক?

চতুর্থত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ওভাল অফিসে এমন একটি খোলামেলা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হল যেখানে বলা হচ্ছে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ১৯ দেশের ২৭ নাগরিক যোগ দিয়েছেন।

এরকম একটি স্পর্শকাতর বিষয়ের আয়োজন এবং ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের একটি সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রভাবশালী নেত্রী যোগদান করছেন, এ তথ্য কি বাংলাদেশ সরকারের জানা ছিল না? সরকার যদি না জেনে থাকেন, তাহলে কি ধরে নিতে হবে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ মিশন এ ব্যাপারে সরকারকে সঠিক তথ্য দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশ মিশন কেন এ ব্যাপারে ব্যর্থ হল তার অনুসন্ধান কি হওয়া উচিত নয়? তবে এমন একটি স্পর্শকাতর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের একজন উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘু নেত্রী যোগদান করবেন তা আমাদের মিশন জানবে না তা সহজে বিশ্বাস করতে মনে চাইছে না।

বিদেশি যে কোনো নাগরিকের ওভাল অফিস কিংবা হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া এত সহজ নয়। এ জন্য অনেক প্রটোকল এবং দাফতরিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়।

তবে এ কথা ভেবে আশ্চর্য হয়েছি যখন জেনেছি, কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি হিউবার্ট গোমেজের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছুই জানেন না বলে যখন জানিয়েছেন, একই বিষয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্তের কাছে জানতে চাইলে তিনিও বলেন, ‘প্রিয়া সাহা যে বক্তব্য প্রদান করেছেন তা তার একান্তই ব্যক্তিগত মতামত।

এ বিষয়ে তিনিই ভালো ব্যাখা দিতে পারবেন।’ অর্থাৎ প্রিয়া সাহা ঐক্য পরিষদের একজন অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক হয়ে ওভাল অফিসে যে বক্তব্য দিয়েছেন অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত এখন আর তা তাদের সংগঠনের বক্তব্য বলে স্বীকার করতে চাচ্ছেন না।

প্রিয়া সাহার আমেরিকা যাওয়া ও ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাক্ষাতের বিষয়টি তিনি জানেন না বলেও জানান। ‘ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার’ এমন একটি বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার জন্য ঐক্য পরিষদের একজন অন্যতম সদস্য সে দেশে যাচ্ছেন, আর সে তথ্য ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জানবেন না, এ কথা বিশ্বাস করতে কেমন যেন খটকা লাগে।

প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে ঐক্য পরিষদের বক্তব্য নয় বলে অস্বীকার করলেও অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত হয়তো ভুলে যাননি, তিনি নিজেও ঐক্য পরিষদের ব্যানারে দেশ এবং বিদেশের মাটিতে একইভাবে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য দিয়ে সাহায্য চেয়েছিলেন যা তখনকার সব সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়েছিল।

দেশে-বিদেশে ঐক্য পরিষদের নেতারা কর্তৃক মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব এবং বক্তৃতা ও বিবৃতি দেয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু চিন্তার বিষয়, মোদি সরকারের পুনরায় ক্ষমতা দখলের পর ভারতে যেভাবে মুসলমানদের ওপর অনাচার, অত্যাচার ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড চলছে, বাংলাদেশে এ ইস্যুকে নিয়ে তেমন কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত না হলেও এ ধরনের বক্তব্য বা বিবৃতি সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বজায় রাখার জন্য হুমকিস্বরূপ যা অতীতে আমাদের দেশে লক্ষ করা গেছে।

বিশেষ করে এরশাদের আমলে এরকম ঘটনার কথা স্মরণ করা যেতে পারে। ভারতে এমনকি খোদ পশ্চিমবঙ্গে, যেখানে বিগত কয়েক যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সদভাব ছিল, সেখানে এখন জোরজবরদস্তি করে হিন্দু ধর্মের দেবতাদের নাম অর্থাৎ ‘জয় শ্রীরাম’, ‘জয় হনুমান’ মুখে উচ্চারণ করানোর পরও শুধু মুসলমান হওয়ার কারণে নিরীহ মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে।

সে পরিপ্রেক্ষিতে, অতীতে আমাদের এখানে সম্পদ লুটপাটের ঘটনা ঘটলেও মুসলমানদের নবী-রাসূলদের কিংবা আল্লাহর নাম হিন্দুধর্মাবলম্বী মানুষের মুখে জোর করে উচ্চারণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভারতে এতকিছু হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া যা কিছু হচ্ছে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ আছে।

তবে ভারতের পরিস্থিতি যে দিকে মোড় নিচ্ছে তাতে সেখানকার, বিশেষ করে কলকাতার প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী মহল তাদের বিভিন্ন লেখা ও বক্তব্যে ভারতে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সে তুলনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

কিন্তু সেখানকার ধর্মীয় উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড জাস্টিফাই বা গ্রহণযোগ্য করার জন্য আশপাশের পরিবেশকে ঘোলা করার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। বাংলাদেশ সে হিসেবে যে ‘সফট টার্গেট’ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি এবং সংস্থাগুলো আমাদের দেশে যে সক্রিয় নয় তা কে বলতে পারে?

এ ধরনের সংস্থা তাদের কার্যপ্রণালির প্রথা অনুযায়ী কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য নিজস্ব বেতনভুক সদস্য বা এজেন্টদের ওপর সবসময় নির্ভর করে না। এ ব্যাপারে তারা অধিকাংশ সময়ে টার্গেট এরিয়ায় ‘ট্যালেন্ট স্পটিং’ করে থাকে। এ স্পটিংয়ের জন্য এরা বেছে নেয় টার্গেট এরিয়ার মেধাসম্পন্ন, রাষ্ট্র ও সমাজে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের।

অর্থাৎ বুদ্ধিজীবী মহল, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতারা, সরকারি সংস্থার পদস্থ ব্যক্তি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা, কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের ব্যক্তি এবং কোনো কোনো বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ও সংস্থার সদস্য, যাদের বক্তব্য এবং বিবৃতি সমাজ বা সাধারণ মানুষের ভেতর প্রভাব ফেলতে পারে এবং সহজেই তা গ্রহণ ও মান্য করে থাকে এমন ব্যক্তিদের বাছাই করাকে ‘ট্যালেন্ট স্পটিং’ বলা হয়।

এসব ট্যালেন্টের মাধ্যমে তাদের সাজানো বক্তব্য কিংবা বিবৃতি প্রচার করে টার্গেট এরিয়ায় সংস্থাগুলো নিজেদের উদ্দেশ্য সাধন করে থাকে। তারা এ জন্য দেশ-বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, আলোচনা সভা কিংবা টকশো’-এ অংশগ্রহণের জন্য এসব ট্যালেন্টকে সুযোগ করে দেয়, যাতে এদের মাধ্যমে তারা তাদের ইপ্সিত লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারে।

এভাবেই এসব ট্যালেন্ট কখন যে ওইসব সংস্থার এজেন্টে পরিণত হয় তা হয়তো তারা অনেকেই বুঝতে পারেন না। এসব ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা কঠিন কাজ। তারা সমাজের পরিচিত মহলের অন্যতম ব্যক্তি হয়ে থাকেন যারা সমাজে এমন ইমেজ তৈরি করেন, এমন কার্যকলাপে তারা জড়িত থাকতে পারেন সে কথা সবার পক্ষে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তাদের চিনতে হলে, অনেক উপায়ের মধ্যে অন্যতম উপায় হল, এসব ব্যক্তির প্রচুর অর্থ ও বৈভবের মালিক বনে যাওয়া। কারণ তারা কাজের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের পেমেন্ট পেয়ে থাকেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব পেমেন্ট তারা সরাসরি পান না। কোনো-না-কোনো বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা সংগঠনের ছায়াতলে এ ধরনের পেমেন্ট হয়ে থাকে।

আমাদের দেশেও যে এমন অনেক দুষ্ট সংগঠন নেই তা বলা যায় না। এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যারা হরহামেশাই যে বিদেশি সংস্থাগুলোর ক্রীড়নকের ভূমিকায় অবতীর্ণ নন তা কে জানে?

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

ঘটনাপ্রবাহ : ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×